খুঁজুন
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

টক অব দ্য টাউন রোয়াংছড়ির পিআইও মিলটন দস্তিদার: অনিয়ম ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ
টক অব দ্য টাউন রোয়াংছড়ির পিআইও মিলটন দস্তিদার: অনিয়ম ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ।

টক অব দ্য টাউন রোয়াংছড়ির পিআইও মিলটন দস্তিদার: অনিয়ম ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ।

রোয়াংছড়ি, বান্দরবান প্রতিনিধি: চিংনুমং মারমা।

 

বিতর্ক ও সমালোচনা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা আলোচিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও মিলটন দস্তিদারের। ক্ষমতার অপব্যবহার, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে স্থানীয় জনমানসে তীব্র সমালোচনার কেন্দ্রে— তথা ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছেন।

 

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান সদর উপজেলার নিয়মিত পিআইও মিলটন দস্তিদার গত ৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে রোয়াংছড়ি উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একচ্ছত্র অনিয়ম ও দুর্নীতির এক দুর্ভেদ্য দুর্গ গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ উঠেছে, ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবৎসরের দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতাধীন টিআর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পের সিংহভাগ বরাদ্দ তিনি নামে-বেনামে ভুয়া প্রকল্প সাজিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের সরলমনা ইউপি সদস্যদের প্রলুব্ধ করে কৌশলে বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্পের সভাপতি মনোনীত করা হতো। পরবর্তীতে উক্ত নামসর্বস্ব সভাপতিদের নামমাত্র লভ্যাংশ বা পার্সেন্টেজ প্রদান করে বরাদ্দের অবশিষ্ট সিংহভাগ অর্থ পিআইও দস্তিদার নিজস্ব তহবিলে কুক্ষিগত করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

 

স্থানীয় মহলে তীব্র গুঞ্জন রয়েছে যে, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে কর্মস্থলে থাকাকালীন তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতাদের সাথে যোগসাজশে পিআইও দস্তিদার এক অঘোষিত সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। তদানীন্তন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবৈধ অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রকল্পের অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করাতেন তিনি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি মূলত পূর্বতন সরকারের নিবেদিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন এবং বর্তমান জনবান্ধব সরকারের সদিচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন বলে স্থানীয় চা-দোকান থেকে শুরু করে পরিবহন স্টেশনগুলোতে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা চলছে। যোগদানের পর থেকেই তিনি প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে ১৬ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন গ্রহণের এক নতুন কুপ্রথার প্রচলন করেছেন।

 

অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানে ২নং তারাছা ইউনিয়নের ৬নং ও ৫নং ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী অংতং পাড়া হতে ছাংকিং পাড়া সংযোগ সড়কে সরেজমিনে গিয়ে এক নজিরবিহীন দুর্নীতির চিত্র পরিলক্ষিত হয়। ২০২৫-২০২৬ অর্থবৎসরের দ্বিতীয় ধাপে খাদ্যশস্য খাত থেকে সাড়ে ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের মাধ্যমে উক্ত সড়কটি মাটি দ্বারা পুনর্নির্মাণের একটি প্রকল্প নথিভুক্ত করা হয়। যার আর্থিক মূল্যমান প্রায় ৩ লক্ষ টাকা।

 

উক্ত প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের নাম ব্যবহার করা হলেও, বাস্তবে কোনো প্রকার সংস্কার কাজ না করেই সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, উক্ত সড়কটি বহু পূর্বে গ্রামবাসী নিজস্ব অর্থায়নে যাতায়াতের উপযোগী করেছিলেন। অথচ সরকারি খাতায় সেই সড়ক দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা লোপাট করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সভাপতি পিআইও-র সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জানান, কর্মকর্তার নির্দেশেই তিনি কেবল নাম ধার দিয়েছিলেন, বিস্তারিত পিআইও-ই বলতে পারবেন।

 

এ বিষয়ে অংতং পাড়া ও ছাংকিং পাড়ার দুই কারবারী নালং খুমি ও রিওনাং খুমির সন্তান লিংনাং খুমি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

 

“আমাদের দুই পাড়ায় জেলা, উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সড়ক সংস্কার, মাটি কাটা কিংবা জঙ্গল পরিষ্কারের কোনো কাজ আজ পর্যন্ত করা হয়নি। আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমরা অবিলম্বে এই অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি এবং জনসাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রকৃত সড়ক নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

 

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন তহবিল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধকোটি টাকা সুকৌশলে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

 

কেবল আর্থিক দুর্নীতিই নয়, পিআইও মিলটন দস্তিদারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ ও ঔদ্ধত্যের নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে অসদাচরণ, বাদানুবাদ এবং একাধিকবার মারমুখী ও চড়াও হওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এই ঘুষখোর ও দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাকে দ্রুত অপসারণ করা না হলে অচিরেই প্রশাসনিক চত্বরে আইনশৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলাজনিত বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কর্মচারীরা।

 

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে পিআইও মিলটন দস্তিদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

এ প্রসঙ্গে রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও তাজমিন আলম তুলি জানান, অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত পিআইও-র পরিবর্তে উপজেলায় একজন স্থায়ী পিআইও অত্যন্ত জরুরি; কারণ সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে উপস্থিতি ব্যতীত সুচারুভাবে দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন করা দূরূহ।

 

প্রকল্পে ঘুষ ও কমিশন গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন:

 

“ঘুষ বা কমিশনের বিষয়ে কিছু গুঞ্জন আমি শুনেছি, তবে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট বা লিখিত কোনো অভিযোগ এখনো আমার দপ্তরে আসেনি। সামগ্রিক বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পূর্বেই অবহিত করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নের স্বার্থে এই দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাকে অনতিবিলম্বে অপসারণপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।

সেনেগালে যুব অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
সেনেগালে যুব অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

সেনেগালে যুব অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে সেনেগালের রাজধানী ডাকারে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের চতুর্থ যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন বান্দরবানের উদীয়মান তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা। দেশের হয়ে এমন ঐতিহাসিক এক আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর এই অংশগ্রহণের খবরে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানসহ সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ ও উদীয়মান তরুণদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

 

বাংলাদেশ বক্সিং দলের হয়ে বিশ্বমানের এই ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ নয়ন ত্রিপুরার ক্রীড়াজীবনে এক অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দেশসেরা ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বিকেএসপি (BKSP)-র সঙ্গে যুক্ত এই তরুণ বক্সার নিজের অদম্য মেধা, শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার এই গৌরব অর্জন করেছেন।

 

যুব অলিম্পিকের টিকিট পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা বলেন, “যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম বড় একটি স্বপ্ন পূরণ। বিকেএসপির কোচ ও সংশ্লিষ্ট সকলের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং আমার কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজ আমি এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি। পাহাড়ি এলাকার সীমিত সুযোগ-সুবিধাকে পেছনে ফেলে আমি দেশের লাল-সবুজের পতাকা বিশ্বমঞ্চে উড্ডীন করতে চাই। সবার কাছে দোয়া ও আশির্বাদ প্রার্থী, যেন রিংয়ে নিজের সেরাটা দিয়ে দেশের জন্য একটি সম্মানজনক পদক উপহার দিতে পারি।”

 

পাহাড়ঘেরা বান্দরবান কেবল রূপসী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্যই পরিচিত নয়, বরং অদম্য সম্ভাবনাময় ক্রীড়া প্রতিভার এক অপার আধার হিসেবেও নিজের পরিচয় গড়ে তুলছে। নানা প্রতিকূলতা ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাস্বচ্ছতার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এ অঞ্চলের তরুণেরা খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বারবার নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। সুশীল সমাজ ও স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, নয়ন ত্রিপুরার এই আন্তর্জাতিক যাত্রা পার্বত্য অঞ্চলের উদীয়মান ক্রীড়াবিদদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং পাহাড়ি এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় আসার ক্ষেত্রে বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

 

যুব অলিম্পিকের মতো বৈশ্বিক মর্যাদাপূর্ণ আসরে অংশগ্রহণ একজন ক্রীড়াবিদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা অর্জনের সেরা সুযোগ। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে নয়নের উপস্থিতি দেশের উদীয়মান বক্সিং অঙ্গনকে এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে পেশাদার খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।

 

নয়ন ত্রিপুরার এই অর্জন বান্দরবানবাসীকে গর্বিত করেছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা—আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি নিজের সর্বসেরাটা উজাড় করে দিয়ে দেশের সম্মান ও লাল-সবুজের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবেন। তাঁর এই বৈশ্বিক যাত্রা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত বা বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সাফল্য নয়, বরং পুরো বান্দরবান ও পার্বত্য অঞ্চলের তরুণ সমাজের জন্য এক দারুণ উদ্দীপনার উদাহরণ।

 

বিশ্বমঞ্চে নয়ন ত্রিপুরার হাত ধরে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা আরও উঁচুতে উড্ডীন হোক এবং শুভকামনা রইল যেন তিনি দেশের জন্য গৌরবময় সাফল্য বয়ে নিয়ে আসতে পারেন—এমনটাই প্রত্যাশা বান্দরবানসহ সমগ্র দেশবাসীর।

সেনেগালে যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বান্দরবানের তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
সেনেগালে যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বান্দরবানের তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

সেনেগালে যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বান্দরবানের তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে সেনেগালে ডাকার অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের চতুর্থ যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন বান্দরবানের তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা। তাঁর এই অংশগ্রহণের খবর বান্দরবানসহ পার্বত্য অঞ্চলের ক্রীড়াপ্রেমী ও তরুণদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

 

বাংলাদেশ বক্সিং দলের হয়ে আন্তর্জাতিক এই ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ নয়ন ত্রিপুরার ক্রীড়াজীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বিকেএসপির সঙ্গে যুক্ত এই তরুণ বক্সার নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন।

 

পাহাড়ঘেরা বান্দরবান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির পাশাপাশি সম্ভাবনাময় তরুণদের জন্যও পরিচিত। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এ অঞ্চলের তরুণেরা খেলাধুলা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। নয়ন ত্রিপুরার এই আন্তর্জাতিক যাত্রা পার্বত্য অঞ্চলের তরুণ ক্রীড়াবিদদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

 

যুব অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণ একজন ক্রীড়াবিদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একই সঙ্গে এ ধরনের অংশগ্রহণ দেশের বক্সিং অঙ্গনকে এগিয়ে নেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

 

নয়ন ত্রিপুরার এই অর্জনকে ঘিরে বলেন , বান্দরবানবাসীর প্রত্যাশা—আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি নিজের সেরাটা তুলে ধরবেন এবং দেশের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখবেন। তাঁর এই যাত্রা সফল হলে তা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবেই নয়, বরং বান্দরবান ও পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে।

 

বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নয়ন ত্রিপুরার এই যাত্রা সফল হোক—এমনটাই প্রত্যাশা সবার। তাঁর হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল হোক বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা, গৌরবান্বিত হোক বান্দরবান।

 

নয়ন ত্রিপুরা ও বাংলাদেশ বক্সিং দলের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।

বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে মন্ত্রীর মতবিনিময়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে মন্ত্রীর মতবিনিময়

বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে মন্ত্রীর মতবিনিময়

মো. আরিফ, বান্দরবান প্রতিনিধি;

বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, খেলাধুলার প্রসার এবং স্থানীয় ক্রীড়াবিদদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী।

 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টায় বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বান্দরবান হিল রানার্সসহ ফুটবল, ক্রিকেট, কারাতে, বক্সিং, উশু, দাবা, কাবাডি ও হকির সঙ্গে যুক্ত ক্রীড়াবিদ ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম।

 

সভায় মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার, নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করতে সরকার কাজ করছে। বান্দরবানে স্টেডিয়াম সংস্কার ও নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ক্রীড়াবিদেরা যাতে সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

তিনি আরও বলেন, স্টেডিয়ামগুলোর উন্নয়ন হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বাড়বে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।

 

জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা বলেন, জেলার বিভিন্ন খেলার উন্নয়ন, ক্রীড়াবিদদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং খেলাধুলার পরিবেশ উন্নত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

 

সভায় বান্দরবান হিল রানার্সের সভাপতি ডা. শান্তনু দাশ বলেন, কিশোর-তরুণসহ সব বয়সী মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে হিল রানার্স কাজ করছে। তিনি সবাইকে নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।

 

তিনি আরও জানান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দুটি ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বান্দরবান হিল রানার্সের ১০ থেকে ১২ জন সদস্য।

 

বান্দরবান ফুটবল রেফারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিমুল দাশ বলেন, রেফারিদের কাজের সুবিধার জন্য বান্দরবানে একটি পৃথক কক্ষ প্রয়োজন। এ ছাড়া স্থানীয় রেফারিদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ ও সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।

 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবর রশিদ ও সা শৈ প্রু, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য (ক্রীড়া) কাজী নিরুতাজ বেগম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সিনিয়র সহসভাপতি উম্মে কুলসুম লীনা, বান্দরবান হিল রানার্সের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ, বান্দরবান বক্সিং একাডেমির চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুর রশিদ বাচ্চু, জেলা ফুটবলের সিনিয়র কোচ মো. শহীদুল রহমান (সোহেল) এবং বান্দরবান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের সদস্যরা।

 

এ সময় ক্রীড়াবিদ ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।