খুঁজুন
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

বাংলা এমন একটি বিভাগ, যেখানে তোমরা মরে গিয়েও বেঁচে থাকতে পারবে’ : অধ্যাপক সাদেক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
বাংলা এমন একটি বিভাগ, যেখানে তোমরা মরে গিয়েও বেঁচে থাকতে পারবে’ : অধ্যাপক সাদেক

‘বাংলা এমন একটি বিভাগ, যেখানে তোমরা মরে গিয়েও বেঁচে থাকতে পারবে’ : অধ্যাপক সাদেক

নিউজ ডেস্ক:

 

বাংলা এমন একটি বিভাগ, যেখানে তোমরা মরে গিয়েও বেঁচে থাকতে পারবে’—এমন মন্তব্য করেছেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক।

 

তিনি বলেছেন, মাতৃভাষা বাংলার প্রতি ভালোবাসা থেকেই এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের যাত্রার শুরু থেকেই বাংলা বিভাগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলা শুধু একটি বিষয় নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতার অন্যতম ভিত্তি।

 

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আশুলিয়া নিজস্ব ক্যাম্পাসের আয়েশা মেমোরিয়াল হলে বাংলা বিভাগের অ্যালামনাই, নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

অধ্যাপক ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক বলেন, ‘মাতৃভাষা বাংলা। এই বাংলাকে আমি ভালোবাসি। আর সেই ভালোবাসা থেকেই এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের যাত্রার শুরু থেকেই বাংলা বিভাগকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি।’

 

নিজের দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমি যখন বাংলাদেশে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করি, তখন দেশে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনগত ভিত্তিই তৈরি হয়নি। আমি ১৯৮৮ সাল থেকে এ বিষয়ে চেষ্টা করেছি। পরে ১৯৯২ সালে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়।’

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ফাইল যখন তৈরি করছি, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার অনেক সহকর্মী আমাকে বলেছিলেন—আপনার মাথা কি খারাপ হয়েছে? আপনি কি পাগল হয়েছেন?’

 

‘আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেন? তারা বললেন, আপনি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় করতে চান, আবার সেখানে বাংলা বিভাগও রাখতে চান! এই দুটো কি একসঙ্গে যায়?’

 

অধ্যাপক সাদেক বলেন, ‘আমি বললাম, কেন যাবে না? তখন তারা বলেছিলেন, বাংলা বিভাগে তো তারাই পড়ে, যারা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় না। বাংলা পড়বে গরিব মানুষ।’

 

এই ধারণার সঙ্গে তিনি একমত হননি উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি তাদের সঙ্গে একমত হইনি। আমি বাংলা বিভাগকে কখনো সেভাবে দেখিনি। আমি মনে করি, বাংলায় তারাই পড়বে, যাদের যোগ্যতা আছে, যাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি আছে, যারা নিজেদের চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতাকে ধরে রাখার চেষ্টা করে, যাদের সাহস আছে নিজের স্বপ্নকে অনুসরণ করার।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলেছিলাম—বাংলা হলো সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিভাগ। আমি যদি পাগল হই, পাগলই হব। আপনারা আমাকে পাগল বলতে পারেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম, বাংলা বিভাগ ছাড়া এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ হবে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন থেকেই এখানে বাংলা বিভাগ আছে এবং থাকবে।’

 

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলা বিভাগ এমন একটি জায়গা, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু একটি একাডেমিক ডিগ্রি অর্জন করবে না; বরং নিজেদের চিন্তা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাবে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে একজন মানুষ তার শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে এবং নিজের সৃষ্টির মাধ্যমে দীর্ঘদিন মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে পারে।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেন এবং বিভাগের শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

 

বাংলা ভাষা শুধু কথার বাহন নয়, বাঙালির আত্মপরিচয়েরও অনিবার্য ঠিকানা—এই চেতনাকে সামনে রেখে আয়োজন করা হয় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বাংলা বিভাগের অ্যালামনাই, নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান।

 

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, প্রফেসর ড. এ. এস. এম. ইকবাল হুসাইন এবং অ্যালামনাই অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর হানিফ হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রিটা আশরাফ।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ঘোষণা করা হয় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বাংলা বিভাগের অ্যালামনাই কমিটি। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন প্রাক্তন ছাত্র ও সাংবাদিক রনজক রিজভী, সহসভাপতি শাহীন আলম, সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আহমেদ রিপন, সহ-সাধারণ সম্পাদক কুলসুমা আক্তার ও মাহমুদুল হাসান।

 

এছাড়া রোকেয়া খাতুন কোষাধ্যক্ষ, তানিয়া আক্তার প্রচার সম্পাদক এবং জামিলুর রহমান সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। কমিটির সদস্যরা হলেন হোসাইন আহমেদ, এম. এ. হাবিব পলাশ ও সাদ্দাম হোসেন রুবেল।

 

নতুন কমিটির মাধ্যমে বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ আরও দৃঢ় করা এবং বাংলা বিভাগের শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অ্যালামনাইদের সম্পৃক্ত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে অ্যালামনাইদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন নবনির্বাচিত সভাপতি রনজক রিজভী। পরে অতিথিরাও বক্তব্য রাখেন। বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রিটা আশরাফ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য, অ্যালামনাই কার্যক্রম এবং নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

 

এ পর্বে অ্যালামনাই সদস্যদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। প্রাক্তনদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়ার মুহূর্তে বর্তমানের সঙ্গে অতীতের এক অদৃশ্য সেতুবন্ধন যেন আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।

 

মধ্যাহ্ন বিরতির পর শুরু হয় নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান। নৃত্য, গান, কবিতা ও অভিনয়ের নানা পরিবেশনায় শিক্ষার্থীরা তুলে ধরেন বাঙালির হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বহুমাত্রিক রূপ।

 

চর্যাপদের প্রাচীন সুর থেকে লোকজ সংস্কৃতি, বাঙালির জীবন ও মাটির গন্ধ—সবকিছুই উঠে আসে বিভিন্ন পরিবেশনায়। কখনও গান, কখনও নৃত্য, কখনও কবিতার ছন্দে মঞ্চ হয়ে ওঠে বাংলার মানুষের চিরচেনা উঠোন।

 

অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক ভাষায় পল্লীকবির কবিতা আবৃত্তিও ছিল বিশেষ আকর্ষণ। আঞ্চলিক ভাষার সহজ-সরল উচ্চারণে যেন বাংলার মাটির নিজস্ব গন্ধ মিশে যায় পুরো আয়োজনের আবহে।

 

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক তাজুল ইসলাম। কখনও তিনি আবির্ভূত হন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বেশে, কখনও বাউল, কখনও ফোক গানের শিল্পী, আবার কখনও রক গায়কের ভূমিকায়।

 

এছাড়া সুর, কণ্ঠ, অঙ্গভঙ্গি ও অভিনয়ের বৈচিত্র্যে তিনি তুলে ধরেন চরমোনাইয়ের ওয়াজ মাহফিল, ওয়াজের পরিবেশনা এবং হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষের পরিবেশনার স্বতন্ত্র ভঙ্গিও। একই কবিতা ও কথাকে ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আঙ্গিকে উপস্থাপন করে তিনি দর্শকদের যেমন আনন্দ দেন, তেমনি ভাবিয়েও তোলেন।

 

একটি কবিতা পরিবেশক, সুর, উচ্চারণ ও উপস্থাপনার ভঙ্গি বদলে কীভাবে ভিন্ন মাত্রা পেতে পারে—তাজুল ইসলামের এই পরিবেশনা যেন তারই জীবন্ত উদাহরণ হয়ে ওঠে। মুহূর্তে মুহূর্তে বদলে যায় মঞ্চের রং, অথচ অটুট থাকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির মূল সুর।

 

পুরো আয়োজনেই ছিল গতানুগতিকতার বাইরে যাওয়ার প্রয়াস। নবীন বরণ মানেই শুধু ফুল দিয়ে বরণ, আর বিদায় মানেই কেবল আবেগঘন বক্তব্য—এমন চেনা ছকের বাইরে গিয়ে বাংলা বিভাগ আয়োজনটিকে সাজিয়েছে সাহিত্য, সংস্কৃতি, অভিনয় ও সৃজনশীলতার বহুমাত্রিক সমন্বয়ে।

 

ফলে পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই ছিল বৈচিত্র্য। কখনও হাসি, কখনও আবেগ, কখনও বিস্ময়, আবার কখনও শেকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার অনুভূতি—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে বাংলা বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের এক মিলনমেলা।

 

অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রিটা আশরাফ। আয়োজন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বাংলা বিভাগের প্রভাষক তাজুল ইসলাম, প্রভাষক নিয়াম ঠাকুর ও প্রভাষক সিনথিয়া জাহান বিথুন।

 

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রভাষক তাজুল ইসলাম ও প্রভাষক সিনথিয়া জাহান বিথুন।

 

সবশেষে সমবেত সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় জমকালো এই আয়োজন। গান থেমে যায়, মঞ্চের আলো নিভে আসে; কিন্তু থেকে যায় কিছু মুখ, কিছু স্মৃতি, কিছু উচ্চারণ।

 

বাংলা বিভাগের এই আয়োজন যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়—ভাষা কেবল পাঠ্যবিষয় নয়; ভাষা মানুষকে তার শেকড়ের কাছে ফিরিয়ে নেয়, প্রজন্মকে প্রজন্মের সঙ্গে যুক্ত করে। আর সেই শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত থেকেই মানুষ তার চিন্তা, সৃষ্টিশীলতা ও কর্মের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে।

বান্দরবান জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
বান্দরবান জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

বান্দরবান জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

তৃণমূল পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জনবান্ধব করার লক্ষ্য নিয়ে বান্দরবানে অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভা। একই সাথে বান্দরবান মা ও শিশু হাসপাতালের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা ও সংকট দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা।

 

আজ: ৪ঠা নভেম্বর (বুধবার) জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক ডা. লেনিন তালুকদারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আহ্বায়ক উঃ চ নু মং মারমা। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (পরিবার পরিকল্পনা) আবু সালেহ মো. ফোরকান উদ্দীন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উঃ চ নু মং মারমা বলেন, “তৃণমূল পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জনবান্ধব করে তুলতে হবে। আমাদের মাতৃমঙ্গল কেন্দ্রগুলোকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। মা ও শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

 

সভায় জেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি বান্দরবান মা ও শিশু হাসপাতালের বিদ্যমান নানা সংকট নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা আরও গতিশীল করতে অবিলম্বে আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সংযোজন, চিকিৎসক সংকট নিরসন এবং বদলিসংক্রান্ত জটিলতা দূর করার জোর দাবি তোলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

উত্থাপিত এসব সমস্যা ও সংকট সমাধানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এবং বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিসেস ম্যামাচিং মারমার সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বস্ত করেন প্রধান অতিথি উঃ চ নু মং মারমা।

 

উক্ত সমন্বয় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান মা ও শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. কামরুল মনির রিবন, জেএসআই প্রকল্পের কনসালটেন্ট ডা. অংচালু, সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং লামা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রবুজ বড়ুয়াসহ বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিবৃন্দ।

ইটভাটা বন্ধ বান্দরবানে, উন্নয়ন ব্যাহত; ইট কিনতে বাড়তি টাকা গুনছেন বান্দরবানবাসী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৫৩ অপরাহ্ণ
ইটভাটা বন্ধ বান্দরবানে, উন্নয়ন ব্যাহত; ইট কিনতে বাড়তি টাকা গুনছেন বান্দরবানবাসী

ইটভাটা বন্ধ বান্দরবানে, উন্নয়ন ব্যাহত; ইট কিনতে বাড়তি টাকা গুনছেন বান্দরবানবাসী

বান্দরবান প্রতিনিধি:

পাহাড়, বন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত পার্বত্য জেলা বান্দরবান। পর্যটন, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অপার সম্ভাবনা থাকলেও নির্মাণসামগ্রীর সংকট, বাড়তি ব্যয় এবং কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে জেলায় ইটভাটা স্থাপনের অনুমতি না থাকায় উন্নয়ন ও নির্মাণকাজে এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন, দেশের অন্যান্য জেলায় ইটভাটা থাকলেও বান্দরবানে কেন থাকবে না? পরিবেশ সংরক্ষণ অবশ্যই জরুরি। কিন্তু পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে নির্দিষ্ট নিয়মনীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ইটভাটা স্থাপনের সুযোগ কি তৈরি করা সম্ভব নয়?

 

অভিযোগ রয়েছে, বান্দরবান সদর উপজেলার সোয়ালক, মাঝেরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাহাড়ের মাটি ও গাছ সংগ্রহ করে পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, কেরানীহাটসহ বিভিন্ন এলাকার ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বান্দরবানের পাহাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। অথচ সেই এলাকার উৎপাদিত ইটই আবার বেশি দামে কিনে বান্দরবানে আনতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

 

এতে প্রশ্ন উঠছে বান্দরবানে ইটভাটা না থাকার ফলে পরিবেশের প্রকৃত সুরক্ষা কতটুকু নিশ্চিত হচ্ছে? যদি পাহাড়ের মাটি ও গাছ অন্য জেলায় গিয়ে ব্যবহৃত হয়, তাহলে এই নিষেধাজ্ঞার সুফল পাচ্ছে কারা, আর ক্ষতির বোঝা বহন করছে কারা?

 

বান্দরবান সদর থেকে শুরু করে রুমা, থানচি, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামা জেলার প্রতিটি উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত বাড়িঘর নির্মাণে ইটের প্রয়োজন রয়েছে।

 

কিন্তু স্থানীয়ভাবে ইট উৎপাদনের ব্যবস্থা না থাকায় বাইরের জেলা থেকে ইট সংগ্রহ করতে হচ্ছে। পরিবহন ব্যয়, সরবরাহ সংকট ও বাজারমূল্যের কারণে নির্মাণকাজে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এতে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বাড়িঘর নির্মাণ কিংবা সংস্কার করা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

 

স্থানীয়দের মতে, বান্দরবানের ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে বাইরে থেকে নির্মাণসামগ্রী পরিবহন করাও ব্যয়বহুল। এ অবস্থায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিনির্ভর স্থানীয় ইট উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে নির্মাণ খরচ কমানোর পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

 

ইটভাটা শুধু ইট উৎপাদনের জায়গা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য মানুষের জীবিকা। শ্রমিক, পরিবহনশ্রমিক, মাটি সরবরাহকারী, গাড়িচালক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয় এই খাতকে ঘিরে।

 

স্থানীয়ভাবে ইটভাটা না থাকায় এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। একসময় যারা এ ধরনের কাজে যুক্ত ছিলেন, তাদের অনেকেই বেকার সময় পার করছে না হয় অনৈতিক কাজের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

 

তাদের মতে, বান্দরবানের প্রতিটি উপজেলায় পরিকল্পিতভাবে শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। পরিবেশের ক্ষতি না করে নিয়ন্ত্রিত ইট উৎপাদনব্যবস্থা চালু করা গেলে স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের দ্বার খুলতে পারে।

 

লামা উপজেলার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, “নিজের বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে বাইরে থেকে ইট আনতে হয়। ইটের দাম, গাড়িভাড়া ও শ্রমিকের খরচ মিলিয়ে নির্মাণব্যয় অনেক বেড়ে যায়। বান্দরবানে যদি পরিবেশের ক্ষতি না করে নিয়ম মেনে ইট উৎপাদনের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।”

 

শ্রমিক বজলুল রশিদ বলেন, “কাজের সুযোগ থাকলে এলাকার মানুষকে বাইরে গিয়ে কাজ করতে হতো না। ইটভাটা চালু হলে শ্রমিক, গাড়িচালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট অনেক মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো কাজ আমরা চাই না।”

 

রুমা উপজেলার মংক্যাচিং মারমার ভাষ্য, “আমাদের এলাকায় উন্নয়নকাজের পাশাপাশি মানুষের ঘরবাড়ি নির্মাণেও ইটের প্রয়োজন হয়। দূর থেকে ইট আনতে গিয়ে বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়। পরিবেশ রক্ষা করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ব্যবস্থা করা গেলে পাহাড়ি এলাকার মানুষের জন্য ভালো হতো।”

 

বান্দরবানের স্থানীয় ব্যবসায়ী নোমান বলেন, “বান্দরবানে নির্মাণকাজের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু ইটের জন্য বাইরের জেলার ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে সরবরাহ ও দামের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে।”

 

বান্দরবানের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে একদিকে যেমন পরিবেশ সংরক্ষণ জরুরি, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান, নির্মাণসামগ্রীর সহজলভ্যতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।

 

এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। জেলার কোন এলাকায় পরিবেশগত ঝুঁকি কম, কোথায় শিল্প স্থাপন করা সম্ভব এবং কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে—এসব বিষয় বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

 

বান্দরবান সদর, রুমা, থানচি, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামাসহ পুরো জেলার উন্নয়নের স্বার্থে স্থানীয়ভাবে নির্মাণসামগ্রী উৎপাদনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে।

 

পরিবেশ রক্ষার নামে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের সম্ভাবনা যেন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে না যায়, আবার উন্নয়নের নামে পাহাড়-প্রকৃতিও যেন ধ্বংস না হয় এ দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

 

বান্দরবানবাসীর প্রত্যাশা, পাহাড় থাকবে, পরিবেশও বাঁচবে; পাশাপাশি গড়ে উঠবে কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা।

এপেক্স ক্লাব অব বার-আউলিয়ার সভাপতি আফজাল হোসাইন ফারাবী ও সাধারন সম্পাদক শহীদুল ইসলাম সুমন নির্বাচিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
এপেক্স ক্লাব অব বার-আউলিয়ার সভাপতি আফজাল হোসাইন ফারাবী ও সাধারন সম্পাদক শহীদুল ইসলাম সুমন নির্বাচিত

এপেক্স ক্লাব অব বার-আউলিয়ার সভাপতি আফজাল হোসাইন ফারাবী ও সাধারন সম্পাদক শহীদুল ইসলাম সুমন নির্বাচিত

শহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম:

এপেক্স বাংলাদেশের জেলা-৩ এর অন্যতম ক্লাব এপেক্স ক্লাব অব বার আউলিয়ার নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম আগ্রাবাদের একটি মিলনায়তনে এপেক্স ক্লাব অব বার-আউলিয়ার ১০ম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত এজিএমে সদস্যদের ভোটে ২০২৭ বর্ষের সভাপতি হিসেবে এপেক্সিয়ান আফজাল হোসাইন ফারাবী ও এপেক্সিয়ান শহিদুল ইসলাম সুমন সাধারন সম্পাদক এন্ড ডিনার নোটিশ এডিটর নির্বাচিত হয়। পরে নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচিত সভাপতি ও সেক্রেটারির পরামর্শে এপেক্স ক্লাব অব বার-আউলিয়ার ২০২৭ বর্ষের ১১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এপেক্স ক্লাব অব বার-আউলিয়ার অতীত সভাপতি এপেক্সিয়ান শেখ মহিউদ্দিন আলমগীর এবং অপর দুই সদস্য ছিলেন এপেক্সিয়ান মোঃ মাসুদ ও এপেক্সিয়ান আবু তাহের বেলাল।

 

 

 

 

উক্ত ক্লাবের ১০ম এজিএমে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এপেক্স বাংলাদেশের জাতীয় সভাপতি এপে. এম বেলাল হোসেন, লাইফ গভর্নর এপে. ডা. জবিউল, জেলা-৩ এর গভর্নর এপে. গোলাম কবির, ন্যাশনাল অফিশিয়াল এপে. হাবিবুর রহমান, পিডিজি এপে. এটিএম ইমরান, পিডিজি এপে. জাকির হোসেন সহ বিভিন্ন ক্লাব থেকে আগত আরও অনেক এপেক্সিয়ানবৃন্দ। অনুষ্ঠানে ২০২৬ বর্ষের ক্লাব কার্যক্রমের রিপোর্ট উপস্থাপন এবং রিপোর্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে ভোটিংয়ের মাধ্যমে রিপোর্ট পাস করা হয়।

 

 

 

 

এপেক্স ক্লাব অব বার-আউলিয়ার ২০২৭ সালের ক্লাব পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য কর্মকর্তারা হচ্ছেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি এপে. ডা. শহীদুল ইসলাম, জুনিয়র সহ-সভাপতি এপে. শাহজাহান সেলিম, সদ্য অতীত সভাপতি এপে. রবিউল হাসান তানজিম, কোষাধ্যক্ষ এপে. রবিউল ইসলাম রবিন, সার্ভিস ডিরেক্টর এপে. চৌধুরী খালিদ বিন সরওয়ার, মেম্বারশিপ এন্ড এটেনডেন্স ডিরেক্টর

 

এপে. জিয়া উদ্দিন, ফেলোশিপ এন্ড পাবলিক রিলেশন ডিরেক্টর এপে. শহিদুল্লাহ, পাবলিক স্পিকিং এন্ড ডিবেটিং ডিরেক্টর এপে. নেওয়াজ শরীফ আরমান ও সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস এপে. মাইনুল ইসলাম রাফসান।