খুঁজুন
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

“কালিয়াকৈরে ৮৪ কোটির টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাইটেক পার্ক স্টেশন এখন মাদকসেবীদের দখলে”।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
“কালিয়াকৈরে ৮৪ কোটির টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাইটেক পার্ক স্টেশন এখন মাদকসেবীদের দখলে”।

কালিয়াকৈরে ৮৪ কোটির টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাইটেক পার্ক স্টেশন এখন মাদকসেবীদের দখলে।

 শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ

 

গাজীপুর কালিয়াকৈরে ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গাজীপুরের হাইটেক পার্ক রেলওয়ে স্টেশন এখন সরকারের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী, উন্নত প্ল্যাটফর্ম ও লুপ লাইন থাকলেও যাত্রীর অভাবে স্টেশনটি কার্যত পরিত্যক্ত। ১২ জন স্টাফ থাকার কথা থাকলেও দায়িত্বে আছেন মাত্র ৬ জন। দিনে ১৬ জোড়া অর্থাৎ ৩২টি ট্রেন চলাচল করলেও যাত্রাবিরতি দেয় শুধু একটি লোকাল ট্রেন। স্টেশন পরিচালনায় মাসে খরচ হয় প্রায় ৪ লাখ টাকা, অথচ টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয় মাত্র ১ লাখ ২০-৩০হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি মাসে ২ লাখ ৫০-৭০ হাজার টাকার বেশি লোকসান গুনছে রেলওয়ে।

 

রেলওয়ে সূত্র জানায়, হাইটেক পার্ক স্টেশনে স্টেশন মাস্টার, বুকিং সহকারী, পয়েন্টসম্যান, নিরাপত্তা প্রহরীসহ ১২টি অনুমোদিত পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। এর মধ্যে স্টেশন মাস্টার ও নিরাপত্তা প্রহরীর পদ শূন্য। বুকিং সহকারীকে একই সাথে টিকিট বিক্রি, সিগন্যাল ও পরিষ্কারের কাজ করতে হয়। জনবল সংকটে ভিআইপি লাউঞ্জ, ওয়েটিং রুম, টয়লেটসহ বেশিরভাগ অংশ তালাবদ্ধ থাকে। অযত্নে নষ্ট হচ্ছে এসি, ফ্যান ও আসবাবপত্র।

 

সন্ধ্যার পর স্টেশন এলাকা অন্ধকার ও জনশূন্য হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। নিরাপত্তাহীনতার কারণে দায়িত্বরত স্টাফরাও জানমালের ভয়ে ঘরে তালা মেরে বসে থাকেন। স্টেশন সহকারী মাস্টার খায়রুল ইসলাম বলেন,-১২ জন স্টাফের জায়গায় আছি ৬ জন। স্টেশন মাস্টার নাই, নিরাপত্তা প্রহরী নাই। সন্ধ্যার পর আমরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকি। তালা লাগিয়ে বসে থাকতে হয়। ৪০টা ট্রেন যায় হাইটেক সিটি হয়ে, থামে মাএ ১ টি। বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ বিলসহ মাসে খরচ ৪ লাখের বেশি। আয় হয় ১ লাখ ২০-৩০ হাজার। পুরাই লোকসানি প্রকল্প। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছি, কাজ হয় না।

 

২০১৬ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে স্টেশনটি উদ্বোধন করা হয়। সাভার ও গাজীপুর শিল্পাঞ্চল এবং বাংলাদেশ হাইটেক সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি সংলগ্ন হওয়ায় প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার যাত্রীকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্য ছিল। হাইটেক পার্কে কর্মরত ১৫ হাজারের বেশি তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী, শিল্পাঞ্চলের লক্ষাধিক শ্রমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সারাদিন ফাঁকা পড়ে থাকে প্ল্যাটফর্ম।

 

বর্তমানে শুধু সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি এখানে এক মিনিটের যাত্রাবিরতি দেয়। টিকিট বরাদ্দ থাকে মাত্র ৭০ থেকে ৮০টি। কোনো আন্তঃনগর ট্রেন থামে না। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-উত্তরবঙ্গ রুটের কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না স্থানীয়রা।

 

ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি বাংলাদেশের শিক্ষার্থী রেজওয়ান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে এত সুন্দর স্টেশন, কিন্তু আন্তঃনগর থামে না। বাধ্য হয়ে বাসে ৮০ টাকা ভাড়া দিয়ে ঢাকায় যাই। জ্যামে ৩ ঘণ্টা নষ্ট হয়। পরীক্ষার সময় খুব সমস্যা হয়। জামাল হোসেন নামে এক গার্মেন্টস কর্মী বলেন,কালিয়াকৈর, সফিপুর, মৌচাকের হাজারো গার্মেন্টস কর্মী ও হাইটেক পার্কের কর্মীরা এই স্টেশন ব্যবহার করতে পারতেন। ভোর ৫টায় বাইর হই, রাইত ১০টায় বাসায় ফিরি।১-২টি ট্রেন থামলে কত উপকার হইত। এখন রাস্তায় জ্যাম আর ভাড়ার জ্বালায় জীবন শেষ।

 

হাইটেক পার্কের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বলেন,আমরা বিদেশি ক্লায়েন্টদের নিয়ে আসি। স্টেশন দেখাই,কিন্তু ট্রেন থামে না বলতে লজ্জা লাগে। ৮৪ কোটি টাকার স্টেশন, অথচ কোনো কাজে আসে না।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ,পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও জিআরপি পুলিশ না থাকায় স্টেশনটি মাদকসেবী, ছিনতাইকারী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। দিনে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা এসে টিকটক, রিলস বানায়। ফাঁকা প্ল্যাটফর্ম আর আধুনিক ভবন তাদের ভিডিওর লোকেশন। আর সন্ধ্যার পর স্টেশনের অন্ধকার জায়গাগুলোতে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ মাদকের আসর বসে। নেশাগ্রস্তরা রেললাইনের ওপরেই পড়ে থাকে। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা সন্ধ্যার পর এখানে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে গভীর রাতে বাসায় ফেরে। রাত ৮টা-৯টার পর এই রেলস্টেশনটি ভূতের বাড়িতে পরিণত হয়। মানুষের চলাচল একেবারেই নেই। যা দু-একটা থাকে, তারা ছিনতাই, রাহাজানি ও মাদকসেবী বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে। নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না।

 

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম ফখরুল হোসাইন বলেন,এই রুটে ১০-১২ হাজার যাত্রী আছে। হাইটেক পার্ক, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পাঞ্চল— সব মিলিয়ে যাত্রী চাহিদা অনেক। বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজীপুর-১ আসনের মজিবুর রহমানকে জানানো হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তব চাহিদা যাচাই না করে ৮৪ কোটি টাকা খরচ করা হলেও সেবা নিশ্চিত হয়নি।

 

এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উদ্যোগ নিলে এবং গাজীপুর-১ আসনের এমপি মোঃমজিবুর রহমান যদি রেল মন্ত্রণালয়কে বলেন যে প্রতিদিন এখানে ৫টি ট্রেন থামাতে হবে, তবে রেল মন্ত্রণালয় দিতে বাধ্য থাকবে।

 

অবিলম্বে টাঙ্গাইল কমিউটার, সিল্কসিটি, একতা, দ্রুতযান ও সুন্দরবন এক্সপ্রেসসহ অন্তত ৪/৫টি ট্রেনের যাত্রাবিরতি,শূন্য পদে জনবল নিয়োগ এবং জিআরপি পুলিশের টহল দাবি করেছেন তারা। অন্যথায় ৮৪ কোটি টাকার এই স্টেশনটি পুরোপুরি মাদকসেবী ও অপরাধীদের দখলে চলে যাবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকা থেকে কিশোরী নিখোঁজ, থানায় জিডি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকা থেকে কিশোরী নিখোঁজ, থানায় জিডি

চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকা থেকে কিশোরী নিখোঁজ, থানায় জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানাধীন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের ২নং মাইলের মাথা এলাকা থেকে কৃষ্ণা দে (১৫) নামে এক কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর (সোমবার) বিকাল ৩টার দিকে সে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার মা মেঘনা রাণী দাশ বন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ১৫৫৫, তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০২৬) করেছেন।

 

জিডি সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণা দে রাজকুমার দে ও মেঘনা রাণী দাশের মেয়ে। সে একজন শিক্ষার্থী ও অবিবাহিত। পরিবারের স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের হিন্দুপাড়া। বর্তমানে তারা চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকায় বসবাস করছেন।

 

নিখোঁজ কিশোরীর বিবরণ:

 

– নাম: কৃষ্ণা দে

 

– বয়স: আনুমানিক ১৫ বছর

 

– উচ্চতা: ৪ ফুট ৬ ইঞ্চি

 

– ওজন: ৪৫ কেজি

 

– গায়ের রং: শ্যামলা

 

– চুল: ছোট

 

– নাক: লম্বা

 

– চোখ:কালো

 

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষ্ণার সন্ধান পেলে বা তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে অনুগ্রহ করে নিকটস্থ থানা বা বন্দর থানা, সিএমপি, চট্টগ্রামে যোগাযোগ করতে হবে। এ বিষয়ে পুলিশ ও পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। নিখোঁজ কিশোরীর সন্ধান পেলে তথ্য জানাতে পারেন নিম্নোক্ত হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে- 01863247759

টেকনাফে সড়কের ব্রিজ বন্ধ করে দিয়ে দোকান নির্মাণ বর্ষামৌসুমে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার আশংকা জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
টেকনাফে সড়কের ব্রিজ বন্ধ করে দিয়ে দোকান নির্মাণ বর্ষামৌসুমে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার আশংকা জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

টেকনাফে সড়কের ব্রিজ বন্ধ করে দিয়ে দোকান নির্মাণ বর্ষামৌসুমে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার আশংকা জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

 নিউজ ডেস্ক:

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা আলী খালী রাস্তার মাথায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ সংযোগ সড়কে নির্মাণ করা একটি ব্রিজের ৩ টি মিনি ব্রিজের মধ্য থেকে ১ টি মিনি ব্রিজের  মুখ বন্ধ করে দিয়ে তার উপরে ঢালাই দিয়ে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

 

সরেজমিন গিয়ে দেখাযায় আলীখালী রোডের প্রবেশদ্বার সড়কের ব্রিজটিকে বর্ষা মৌসুমের প্রবল বর্ষনের পানি চলাচলের উপযোগী করে ৩ টি মিনি ব্রিজ দিয়ে  নির্মাণ করেছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জনাগেছে স্থানীয় জাফর আলমের ছেলে  প্রভাবশালী আবুল হোছাইন রাতের অন্ধকারে একটি মিনি ব্রিজের মূখ ঢালাই দিয়ে বন্ধ করে ব্রিজটির উপর দোকান নির্মাণ কাজ প্রক্রিয়াধীন রেখেছে।

 

এতে করে আসন্ন  বর্ষা মৌসুমে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতাসৃষ্টি করে জন দূর্ভোগ তৈরির আশংকা রয়েছে । বর্ষা মৌসুমে প্রবল বর্ষনে পাহাড়ী ঢলের পানি যথাযথ চলাচল করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশংকা প্রকাশ করছে ভুক্তভোগীরা।

 

এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

 

একটি বাস্তবমূখী ব্রিজের মূখ বন্ধ করে দিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কের পাশে দোকান নির্মাণ কতটুকু যুক্তিযুক্ত এনিয়ে ভাবিয়ে তুলেছে সচেতন মহল কে। এই বিষয়ে তদন্ত পূর্বক  দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

এব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রুকুনুজ্জামান বলেছেন এ বিষয়টি দেখার জন্য আগামীকাল অফিস থেকে লোক যাবে যদি কোন অসঙ্গতি দেখা যায় তাহলে যারা একাজের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

অভিযুক্ত আবুল হোছাইনের সাথে  যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে ব্রিজের মূখ বন্ধ করে নাই বলে জানালে ও পরে  যদি বন্ধ হয়ে থাকে তাহলে খুলেদেয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান।###

বান্দরবানের থানচিতে মহিলা ফুটবল দলের সংবর্ধনা: মাদক ও অবক্ষয় রোধে খেলাধুলার বিকল্প নেই—পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
বান্দরবানের থানচিতে মহিলা ফুটবল দলের সংবর্ধনা: মাদক ও অবক্ষয় রোধে খেলাধুলার বিকল্প নেই—পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু

বান্দরবানের থানচিতে মহিলা ফুটবল দলের সংবর্ধনা: মাদক ও অবক্ষয় রোধে খেলাধুলার বিকল্প নেই—পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, এমপি বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের মাদকের নেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলার প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহ যুগাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের বিদ্যালয়গুলোতে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন বাড়িয়ে ছেলেমেয়েদের সুস্থতা রক্ষায় পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করছেন। মন্ত্রী বলেন, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে খেলাধুলার বিকল্প নেই।

 

আজ সন্ধ্যায় বান্দরবানের দুর্গম অঞ্চল থানচি উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামে বলিপাড়া বিজিবি ৩৮ ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে ‘থানচি মহিলা ফুটবল দলের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী আরও বলেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গণে তরুণদের পাশাপাশি মহিলা খেলোয়াড়রাও দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনছে। মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মহিলা ক্রীড়াবিদরা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও ফুটবল খেলায় তাদের দারুন পারফরম্যান্স প্রদর্শন করছে। মন্ত্রী সাচিং প্রু আরও বলেন, তরুণসমাজকে মাদক ও নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। স্কুল পর্যায় থেকে যদি নিয়মিত ক্রীড়াচর্চার সুযোগ নিশ্চিত করা যায়, তবে এই নারী খেলোয়াড়দের মধ্যে নেতৃত্ব গুণাবলী, শৃঙ্খলাপরায়ণতা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির মানসিকতা গড়ে উঠবে। এভাবেই দেশের মহিলা ক্রীড়াবিদদের খেলাধুলায় আরও দক্ষ করে গড়ে তুলে বাংলাদেশের কৃতিত্ব অর্জনের পথকে আরও সুগম করতে হবে।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে থানচি মহিলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের উষ্ণ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। মন্ত্রী সাচিং প্রু বিজয়ী খেলোয়াড়দের সংবর্ধিত করেন এবং তাদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন। সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী পর্ব শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় একটি জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন মন্ত্রী।

 

উক্ত অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সহধর্মিনী মমচিং, থানচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল রুবায়েত জামিল, বলিপাড়া বিজিবি ৩৮ ব্যাটালিয়ান এর সিও ইয়াসিন আরাফাত, রুমা বিজিবির অধিনায়ক হাসান শাহরিয়ার, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বীর মুক্তিযোদ্ধা মংশৈহ্লা চৌধুরী, সাবেক থানচি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খামলাই ম্রোসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।