খুঁজুন
শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

“লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ৭ ক্রীড়াবিদ পেলেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি”।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
“লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ৭ ক্রীড়াবিদ পেলেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি”।

লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ৭ ক্রীড়াবিদ পেলেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।

বান্দরবান প্রতিনিধি :

 

“ক্রীড়া হলে পেশা,পরিবার পাবে ভরসা”এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৩০ মার্চ ২০২৬ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। প্রথম ধাপে তিনি ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন, যার মাধ্যমে র‍্যাংকিং এর ভিত্তিতে কার্ডধারী ক্রীড়াবিদরা মাসে এক লক্ষ টাকা ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন। দ্বিতীয় ধাপে ১৯ এপ্রিল ২০২৬ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) অডিটোরিয়ামে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক আরও ১৭১ জন খেলোয়াড়ের হাতে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা তুলে দেন। দুই ধাপে এ সুবিধার আওতায় এসেছেন ৩০০ ক্রীড়াবিদ, যাদের মধ্যে রয়েছেন বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে গড়ে ওঠা শিক্ষায়তন কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ৭ জন।

 

“অলিম্পিকে সোনা আমরা জিতবই”এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০১২ সালে বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সহযোগিতায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে শুরু হয় “আমরা পারি জিমন্যাস্টিকস”কার্যক্রম।প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সহায়তায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোচদের তত্ত্বাবধানে এই প্রতিষ্ঠানের জিমন্যাস্টরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আসছেন। গত এক যুগে জাতীয়ভাবে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় প্রশংসনীয় দক্ষতা ও পারদর্শিতা প্রদর্শন করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২১৮টি স্বর্ণসহ মোট ৫৫৬টি পদক জিতে দেশের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে কোয়ান্টাম।

 

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম থানচি এলাকার জুমচাষি পরিবারের সন্তান উহাইমং মার্মা ২০১১ সালে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে ভর্তি হন। এ প্রতিষ্ঠানের জিমনেসিয়ামে ২০১৩ থেকে শুরু করেন জিমন্যাস্টিকস চর্চা। বর্তমানে তিনি এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং জাতীয় জিমন্যাস্টিকস দলের একজন চৌকস জিমন্যাস্ট।২০১০ সালে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের সূচনা শ্রেণিতে ভর্তি হন রাজীব চাকমা। ২০১২ সালে এখানেই জিমন্যাস্টিকসে হাতেখড়ি হয় তার। ২০২৪ সালে কোয়ান্টাম থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এখন তিনি পড়ছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। শৈশবের সেই বিদ্যাপীঠের টিনের ঘরে সীমিত সুবিধার মাঝে জিমন্যাস্টিকস চর্চা শুরু করে এখন তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের জিমন্যাস্ট, অংশ নিয়েছেন অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়।

 

রাঙামাটির নানিয়ার চর ইউনিয়নের গলাছড়ি গ্রামের নিঝুম খীসা ২০১০ সালে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের সূচনা শ্রেণিতে ভর্তি হন। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৪ বছর লেখাপড়া করার পর এখান থেকেই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ২০২৪ সালে। জিমন্যাস্টিকসে তার পথচলা শুরু হয় স্কুলে পড়ার সময়েই। কোয়ান্টামের হয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন তিনি।

 

সাংখেঅং খুমী কিতং বাবার হাত ধরে ২০০৫ সালে মাত্র ৩ বছর বয়সে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে শিশু শ্রেণিতে ভর্তি হন। এখানকার জিমনেসিয়ামে তার জিমন্যাস্টিকস অনুশীলন শুরু হয়। সে-সময় থেকেই বিভিন্ন আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জিমন্যাস্টিকসে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ২০২০ সালে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন কিতং।

 

৩০ মার্চ ২০২৬ উহাইমং মার্মা ও রাজীব চাকমার হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া নিঝুম খীসা ও সাংখেয়ং খুমী ১৯ এপ্রিল ২০২৬ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের কাছ থেকে ক্রীড়া কার্ড গ্রহণ করেন।প্রাণবন্ত পদচারণা টেবিল টেনিসেও ৩০ আগস্ট ২০২৫ কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের টেবিল টেনিস একাডেমি ভবন উদ্বোধন করা হয়। এ খেলায় আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের রয়েছে অসাধারণ সাফল্য। ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় টেবিল টেনিসে দ্বৈত (বালক) ইভেন্টে ধারাবাহিক চ্যাম্পিয়নশিপ অক্ষুণ্ণ রাখে কোয়ান্টাম। ২০২০, ২০২২ ও ২০২৩ সালে টেবিল টেনিসে দ্বৈত (বালিকা) ইভেন্টে এবং ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে একক (বালিকা) ইভেন্টে টানা চ্যাম্পিয়ন হয়ে দুটিতেই অর্জন করে হ্যাট্রিক শিরোপা।

 

রাঙামাটির রাজস্থলীর দুর্গম চুশাক পাড়ার খই খই সাই মার্মা বর্তমানে দেশের অন্যতম সেরা টেবিল টেনিস তারকা। ২০১৫ সালে ৮ বছর বয়সে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে ২য় শ্রেণিতে ভর্তি হন খই খই। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর তিনি বিকেএসপি-তে স্থানান্তরিত হন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি জেলা, উপজেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে শুরু করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্য অনন্য সম্মান বয়ে আনা এই তারকা খেলোয়াড় বর্তমানে র‍্যাংকিং-এ এক নম্বর অবস্থানে রয়েছেন। ৩০ মার্চ ২০২৬ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে মাসিক এক লক্ষ টাকার ক্রীড়া কার্ড গ্রহণ করেছেন তিনি।

 

২০০৮ সালে নিজ বাড়ি থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরের কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে মাত্র ৩ বছর বয়সে সূচনা শ্রেণিতে রামহিমলিয়ান বমকে ভর্তি করে দেন তার বাবা। ২০১২ সালে শিক্ষার্থীদের টেবিল টেনিস শেখানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে কোয়ান্টাম। তখন থেকেই তিনি আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করতে থাকেন। ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের কাছ থেকে ভাতা ও কার্ড গ্রহণ করেন রামহিম।

 

ছেলে ও মেয়েদের ভলিবল অনুশীলনের জন্য এ শিক্ষাঙ্গনে রয়েছে পৃথক ভলিবল মাঠ। ইতোমধ্যে কোয়ান্টামের ভলিবল খেলোয়াড়রা অর্জন করেছেন আঞ্চলিক ও জাতীয় সাফল্য। মৌমৌ খই মার্মা তাদের একজন। ২০১৬ সালে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে ২য় শ্রেণিতে ভর্তি হন পিতৃহারা মৌমৌ খই। এখান থেকেই মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ২০২৫ সালে। জাতীয় নারী ভলিবল দলের এই কৃতী সদস্যকে ৩০ মার্চ ২০২৬ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

 

 

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন শিক্ষাসেবা কার্যক্রমের ইনচার্জ ছালেহ আহমেদ বলেন, “জাতিগতভাবে অলিম্পিকে স্বর্ণ জয়ের লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে ‘অলিম্পিকে সোনা আমরা জিতবই’- বাক্যটিকে জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রিয় করে তোলে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন।

 

তিনি আরো জানান,কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ক্রীড়াবিদেরাও এই বাক্যটিকে নিজেদের স্বপ্ন হিসেবে লালন করছেন দীর্ঘদিন ধরে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ক্রীড়াবিদদের পেশাগত স্বীকৃতি, ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদানের এই মহতী উদ্যোগে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে ও ক্রীড়াবিদদের মধ্যে যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে, যে আত্মবিশ্বাস ক্রীড়াবিদদের মধ্যে তৈরি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশও অলিম্পিকে স্বর্ণ জিতবে ইনশাআল্লাহ।”

“বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে নওমুসলিম পাড়ায় স্মাইল বাংলাদেশের কোরবানি আয়োজন”।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
“বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে নওমুসলিম পাড়ায় স্মাইল বাংলাদেশের কোরবানি আয়োজন”।

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে নওমুসলিম পাড়ায় স্মাইল বাংলাদেশের কোরবানি আয়োজন।

মো.আরিফ, বান্দরবান প্রতিনিধি;

 

কোরবানির ঈদের আনন্দ এবার ভাগাভাগি হলো বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত নওমুসলিম পাড়ার ৫৫টি পরিবারের সঙ্গে। মানবিক সংগঠন “স্মাইল বাংলাদেশ”-এর উদ্যোগে সেখানে একটি গরু কোরবানি করে মাংস বিতরণ করা হয়।

 

শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর ১২টায় এ কোরবানি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছরের মতো এ বছরও সংগঠনটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করে।

 

পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই নওমুসলিম পাড়ার পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকট ও দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সাধারণভাবে কোরবানির আয়োজন থেকে বঞ্চিত থাকে। ফলে ঈদের দিনও তাদের জীবনযাপন প্রায় অন্যান্য সাধারণ দিনের মতোই কাটে।

 

এমন বাস্তবতায় স্মাইল বাংলাদেশের এই মানবিক উদ্যোগে প্রতিটি পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস পৌঁছে দেওয়া হলে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। ঈদের আনন্দে যুক্ত হয় সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর মুখে তৃপ্তি ও সন্তোষের হাসি।

 

স্থানীয়রা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এমন উদ্যোগ তাদের ঈদের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে। মানবিক এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতাকারী সকল ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

 

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় মানুষদের ঈদের আনন্দ আরও বিস্তৃত হবে।

“ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ করতে সাতকানিয়ায় ২ দিনব্যাপী ঈদ পুনর্মিলনী: ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন”।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
“ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ করতে সাতকানিয়ায় ২ দিনব্যাপী ঈদ পুনর্মিলনী: ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন”।

ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ করতে সাতকানিয়ায় ২ দিনব্যাপী ঈদ পুনর্মিলনী: ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন।

সাতকানিয়া চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

 

ঈদের অনাবিল আনন্দ ও উৎসবের আমেজকে আরও দ্বিগুণ করতে ঐতিহ্যবাহী সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বন্ধন ও গরিবারঝিল ছোট-ঢেমশা সমাজ পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে ২ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে টুর্নামেন্টের আকর্ষণীয় ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার রাতে অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক,ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আফসার উদ্দিন,ফরিদুল আলম,আইয়ুব আলী, ব্যাংকার এনামুল হক,গরিবারঝীল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে এই মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জার্সি-ট্রফি উন্মোচন করেন। দুই দিনব্যাপী এই ঈদ পুনর্মিলনী উৎসবের মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে জমজমাট বিভিন্ন খেলাধুলা, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং বর্ণিল প্রীতিভোজ।

 

এ সময় বক্তারা বলেন “ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে তরুণ ও প্রবীণদের এই মেলবন্ধন সত্যিই প্রশংসনীয়। বর্তমান সময়ে যখন যুবসমাজ স্মার্টফোনের আসক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে, ঠিক তখন এমন আয়োজন অত্যন্ত সময়োপযোগী। মাঠের খেলাধুলা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকার যুবসমাজ সব ধরনের অপরাধমূলক কাজ, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো পথভ্রষ্টতা থেকে দূরে থাকবে। সুস্থ ধারার বিনোদনই পারে একটি সুন্দর ও আদর্শ সমাজ উপহার দিতে।”

 

আয়োজকমিটির প্রতিনিধিরা বলেন “আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু উৎসব করা নয়; বরং বন্ধন ও গরিবারঝিল ছোট-ঢেমশা সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও একতা বজায় রাখা। ঈদের এই আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেই আমরা খেলাধুলার পাশাপাশি ‘ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প’ এর ব্যবস্থা করেছি, যাতে এলাকার সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন। আমরা বিশ্বাস করি, এলাকার তরুণদের হাত ধরেই এই সমাজ আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এই আয়োজনকে সফল করতে আমরা এলাকাবাসী সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।”

 

দুই দিনব্যাপী এই উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশেষ করে তরুণদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ট্রফি ও জার্সি উন্মোচনের মধ্য দিয়েই মূলত শুরু হয়েছে আগামীকাল ঈদের দ্বিতীয় শুক্রবার খেলাধুলা ও তৃতীয় দিন শনিবার ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে।

“রুহিয়ায় ঐতিহ্যবাহী চোঙ্গাখাতা ঈদগাহ্ ময়দানে নামাজ আদায়”।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
“রুহিয়ায় ঐতিহ্যবাহী চোঙ্গাখাতা ঈদগাহ্ ময়দানে নামাজ আদায়”।

রুহিয়ায় ঐতিহ্যবাহী চোঙ্গাখাতা ঈদগাহ্ ময়দানে নামাজ আদায়।

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও:

 

উৎসবমুখর আর আনন্দঘন পরিবেশে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার ৩ নং রাজাগাঁও ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায়, টাঙ্গন নদীর তীরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা ঐতিহ্যবাহী চোঙ্গাখাতা জাতীয় ঈদগাহ্ ময়দানে ঢল নামে হাজারো মুসল্লির। প্রায় ছয়শত বছরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক এই ময়দানে প্রতি বছরের মতো এবারও আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকাসহ দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

 

তবে ঈদের এই আনন্দের মাঝেও বিষাদ ছড়াচ্ছে যাতায়াতের চরম অব্যবস্থাপনা। ঈদগাহ্ ময়দানে আসার সুব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবারই শিশু ও বৃদ্ধসহ হাজার হাজার মানুষকে পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে।

 

এদিকে, ঐতিহাসিক এই ঈদগাহ্ ময়দানকে আরও দৃষ্টিনন্দন করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে এলাকাবাসী। ঠাকুরগাঁও জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় ও আধুনিক ডিজাইনের একটি মিনার নির্মাণের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে এই বিশাল কাজ শুরু করলেও এর সফল সমাপ্তির জন্য প্রয়োজন সকলের সহযোগিতা।

 

আমরা এলাকাবাসী মিলে উদ্যোগ নিয়েছি এই মিনারটি ঠাকুরগাঁও জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং আধুনিক ডিজাইনে তৈরি করার। আমাদের কাজ চলমান আছে। যদি কোনো সহৃদয়বান ব্যক্তি এই উন্নয়ন কাজে শরিক হতে চান, তবে তিনি শরিক হতে পারেন