খুঁজুন
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

রোয়াংছড়িতে পিআইও’র বিরুদ্ধে কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা লোপাটের অভিযোগ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
রোয়াংছড়িতে পিআইও’র বিরুদ্ধে কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা লোপাটের অভিযোগ।

রোয়াংছড়িতে পিআইও’র বিরুদ্ধে কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা লোপাটের অভিযোগ।

 

​রোয়াংছড়ি প্রতিনিধি:চিংনুমং মারমা।

 

বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও কাবিটাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করেই সরকারি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিলটন দস্তিদারের বিরুদ্ধে। ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের বরাদ্দে এই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠেছে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ২নং তারাছা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড এলাকায় প্রথম ধাপে কাবিটা (নগদ অর্থ) প্রকল্পের আওতায় ‘লেগ্রীব্রাং হতে কমদমপ্রু পাড়া যাওয়ার রাস্তা মাটি দ্বারা পুনঃনির্মাণ’ নামে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন উমংসিং মারমা। একইভাবে ৪নং ওয়ার্ডের একটি প্রকল্পে সভাপতি করা হয়েছে অংপ্রুহ্লা মারমাকে।

​অন্যদিকে, দ্বিতীয় ধাপে ৫নং ওয়ার্ডের ‘অংতং পাড়া হতে ছাংকিং পাড়া যাওয়ার রাস্তা মাটি দ্বারা পুনঃসংস্কার’ নামে ৫.৩০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেখানো হয়, যার সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য মংক্যথোয়াই মারমা। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই সড়কটি অনেক আগেই এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে সংস্কার করেছিলেন। পিআইও মিলটন দস্তিদার প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটারের এই পুরোনো রাস্তাকেই নতুন প্রকল্প দেখিয়ে সম্পূর্ণ টাকা ও খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করেছেন। সরেজমিনে গিয়েও সেখানে নতুন কোনো সংস্কার কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন:

​”ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি প্রকল্পের কাজ করতে গেলে প্রতিটি বিল উত্তোলনের আগে পিআইও-কে ১৬ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম কমিশন দিতে হয়। কমিশন না দিলে বিল আটকে রেখে চরম হয়রানি করা হয়। অনেক সময় ইউপি সদস্যদের নামমাত্র সভাপতি বানিয়ে, সামান্য কাজ দেখিয়ে সিংহভাগ টাকাই পিআইও নিজের পকেটে ভরেন।”

​স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি রোয়াংছড়িতে অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পিআইও মিলটন দস্তিদার সিন্ডিকেট তৈরি করে এই অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জিম্মি করে কমিশন আদায়ের পর তবেই বিল ছাড় করা হয়। ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের টিআর বরাদ্দের একটি বড় অংশ তিনি শুরুতেই নিজের ভাগে নিয়ে নিয়েছেন বলে এলাকায় তীব্র সমালোচনা চলছে।

​৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি মংক্যথোয়াই মারমা পিআইও’র এই অনিয়মের কথা স্বীকার করে বলেন, “রাস্তার কাজের জন্য ৩ লাখ টাকা সমমূল্যের ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। আমরা আংশিক কাজ করেছি। বাকি টাকা থেকে নিজের পার্সেন্টেজ (পিসি) রেখে অবশিষ্ট টাকা পিআইও-কে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”

​দুর্নীতির এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিলটন দস্তিদার দাবি করেন, “আমাদের দপ্তরের সব কাজ নিয়ম মেনেই ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে, কোনো সমস্যা নেই।” তবে প্রকল্পের অনিয়ম ও অর্থ ফেরত নেওয়ার বিষয়টি তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

​এ বিষয়ে রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজমিন আলম তুলি জানান, “প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ে বা কাজে কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

“বাঁশখালীর কাথরিয়ায় বিএনপির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত”।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
“বাঁশখালীর কাথরিয়ায় বিএনপির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত”।

বাঁশখালীর কাথরিয়ায় বিএনপির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত।

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম বাঁশখালী।

 

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কাথরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) ঐতিহাসিক কাথরিয়া বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে কাথরিয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

 

কাথরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট মিজানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাথরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রাসেল চৌধুরী, উপজেলা ওলামাদলের সদস্য সচিব ফুরকান, বিশিষ্ট ব্যাংকার হামিদুল ইসলাম, কাথরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ওসমান গনী, দক্ষিণ জেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সুমি সিকদার, আবু তাহেরসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতা-কর্মী।

 

সভায় বক্তারা আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয়ভাবে সম্ভাব্য প্রার্থী ও নির্বাচন করতে আগ্রহী নেতা-কর্মীদের একটি তালিকা প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে দলীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “আমি দলের ঊর্ধ্বে নই। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কিংবা উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আমি প্রস্তুত আছি। দলের সিদ্ধান্তই আমার কাছে চূড়ান্ত।”

 

বর্ধিত সভাটি নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এতে কাথরিয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

“প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশায় মুখর জনপদ”।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
“প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশায় মুখর জনপদ”।

প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশায় মুখর জনপদ।

এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী

 

সরকার গঠনের পর আগামীকাল প্রথমবারের মতো এক দিনের সফরে পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরকে ঘিরে পুরো জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার।

 

শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত এই জনপদে প্রধানমন্ত্রীর আগমন কেবল একটি রাজনৈতিক সফর নয়, বরং এটি কক্সবাজারের সামগ্রিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের এক নতুন দিগন্তের সূচনা। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের আকাশ-বাতাস মুখরিত, মানুষের হৃদয়ে তৈরি হয়েছে নতুন স্বপ্নের দোলাচল।

 

এই জনপদের প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও পরিবর্তনের পর, রাষ্ট্রনায়ক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কক্সবাজার আগমন এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এক ঐতিহাসিক ঘটনা।

 

রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তারেক রহমান তার পিতার আদর্শ ও উন্নয়নের সেই ধারাবাহিকতাকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন তার এই প্রথম আনুষ্ঠানিক সফরে সরাসরি পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন, তখন তা শহীদ জিয়ার স্মৃতি ও আদর্শের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে প্রতিফলিত হবে । আমি একজন জনপ্রতিনিধি তথা আমজনতার দীর্ঘদিনের নির্বাচিত খাদেম হিসাবে মাননীয় প্রধনমন্ত্রী বরাবর কক্সবাজারবাসীর প্রধান সমস্যা সমুহ সদয় বিবেচনার জন্য আজকের লেখায় আলোকপাত করছি।

 

১. কক্সবাজারবাসীর প্রধান সমস্যা হলো রোহিঙ্গা সংকট

 

ক. নিরাপদ প্রত্যাবাসন: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।

 

খ. নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার ও আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধিঃওআইসিভুক্ত দেশ, আসিয়ানের মতো আঞ্চলিক সংস্থা এবং তুরস্কের মতো বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে আর্থিক ও রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে চাপ বৃদ্ধি করা।

 

গ. স্থানীয়দের সুরক্ষায় রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা কারাগার নির্মাণ ও রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণ বন্ধ চাই।

 

ঘ নাফ নদীর মোহনা হতে অস্ত্র ধারী ও ইয়াবা কারবারী রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করতে হবে।

 

ঙ. রোহিঙ্গাদের শ্রমও ব্যবসা বন্ধ করতে হবে।

 

চ. রোহিঙ্গাদের বরাদ্দের ২৫% রোহিঙ্গা বসবাস রত উখিয়া টেকনাফের বাইরে দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

 

ছ. উখিয়া টেকনাফের জনগণের জন্য আরো ৫০ হাজার ভিজিডি (মাসিক ৩০ কেজি চাউল) ভিডব্লিউবি বরাদ্দ চাই।

 

জ. রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার চাই।

 

ঝ. রোহিঙ্গা বর্জ্যে দিয়ে উখিয়া টেকনাফের ভরাট কৃত খাল পুনঃ খনন ও সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবসা চাই।

 

ঞ. রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্তানরত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য রোহিঙ্গাদের দেওয়া বরাদ্ধের সমপরিমান ত্রান চাই।

 

ক্রমবর্ধনশীল দেশি-বিদেশি পর্যটকদের চাপ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উন্নত নাগরিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করার দাবি দীর্ঘদিন ধরে চলে

 

২. কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশন করার জোর দাবী

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ই”ছায় ও সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনায় বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের এই পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারকে একটি পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক ‘স্মার্ট সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার রূপরেখা তৈরি করে, এবং দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো হিসেবে সিটি করপোরেশন গঠন করা সর্বাধিক কার্যকর।

 

অবিলম্বে কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তর এর মাধ্যমে এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্যটন নগরীতে পনিত করার জোর দাবী জানাচ্ছি”।

 

৩. পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন

 

ক. পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও সুরক্ষা: কক্সবাজার সৈকত এবং মেরিন ড্রাইভের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সৈকতের ভাঙন রোধে স্থাযী প্রকল্প গ্রহণ।

 

খ. আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন জোন: কক্সবাজারকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে রূপান্তর করতে সুনির্দিষ্ট মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

 

গ. পর্যটক নিরাপত্তা ও বিনোদন: সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আধুনিক বিনোদন ব্যবসার সম্প্রসারণ।

 

ঘ. সেন্টমার্টিনের পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত লক্ষাধিক মানুষের রুটি-রুজির কথা বিবেচনা করে, পরিবেশ ধ্বংস না করে, বরং পরিবেশবান্ধব নিয়মকানুন কঠোরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত ও রাত্রিযাপনের আগের নিয়মটি পুনর্বহাল করতে হবে।

 

৪. অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবসার আধুনিকায়ন

 

ক. সড়ক ও রেল যোগাযোগ: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী করা।

 

৫. আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরাসরি ফ্লাইট চালু করা।

 

৬. মহেশখালী-চকরিয়াতে আদালত আছে, উখিয়া-টেকনাফে আদালত চাই।

 

৭. টেকনাফ হতে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম পযর্ন্ত রাস্তা সড়ককে ৬ লাইনে উন্নত করা।

 

৮.স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি

 

ক. ট্যাক্স ফ্রি অর্থনৈতিক জোন: পর্যটন ও স্থানীয় পণ্যের বাজার প্রসারে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন বা শুল্কমুক্ত বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে তোলা।

 

খ. কোটা ব্যবস্থা: কক্সবাজারে চলমান মেগা প্রকল্প এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষিত বেকারদের অগ্রাধিকার দেওয়া।

 

৯. সুপেয় পানি ও পরিবেশ সংরক্ষণ

 

ক. সুপেয় পানির সংকট নিরসন: দীর্ঘদিনের ভূগর্ভ¯’ পানির সংকট দূর করতে কেন্দ্রীয় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিক করা।

 

খ. পরিবেশ রক্ষা: মেরিন ড্রাইভসহ পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধ করা।

 

১০. স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন

 

ক. কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: স্থানীয় ও পর্যটকদের উন্নত চিকিৎসাসেবা দিতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিকীকরণ করা।

 

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ২৫০ থেকে ৫০০-তে উন্নীত করার জন্যজোরালো দাবি জানাচ্ছি” । প্রায় ৪৫ লাখ মানুষের (স্থানীয় বাসিন্দা, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা ও পর্যটক) জন্য এই শয্যা সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল।

 

১১. শিক্ষা খাতের উন্নয়ন

 

ক.উচচশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ: কক্সবাজারে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের। পর্যটন ও অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ এই জেলায় উ”চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের জন্য সরকারের কাছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন।

 

খ.উখিয়া বাসীর প্রানের দাবী উখিয়া কলেজ সরকারী করন করা।

 

১২. লবণ ও শুঁটকি শিল্পের বিকাশ

 

ক. কৃষকদের ন্যায্যমূল্য: দেশীয় লবণ চাষিদের সুরক্ষায় বিদেশ থেকে লবণ আমদানি বন্ধ করা এবং চাষিদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান।

 

খ. শুঁটকি রপ্তানি: ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি শিল্পকে আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি।

 

১৩. নীল অর্থনীতির বঙ্গোপসাগরের বিশাল সম্পদকে টেকসই উন্নয়নের আওতায় আনতে হবে

 

ক. গভীর সমুদ্রবন্দর ও মেরিন ড্রাইভ: মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ চালু করা এবং মেরিন ড্রাইভ সড়ককে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্লু-ইকোনমি করিডোর গড়ে তোলা।

 

খ. সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ: আধুনিক ট্রলার এবং মৎস্য আহরণ প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো, সাগরে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে কঠোর নজরদারি এবং সাগরে হারিয়ে যাওয়া জেলেদের উদ্ধারে দ্রুতগতির উদ্ধারকারী জাহাজ মোতায়েন করা।

 

গ. জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত শিল্প : কক্সবাজারের উপকূলবর্তী এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের শিপ রিসাইক্লিং ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং জোন গড়ে তোলা, যা সুনীল অর্থনীতিতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

 

ঘ. বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ঊত): সামুদ্রিক পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য কক্সবাজার ও মহেশখালী এলাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা। সুনীল অর্থনীতির এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু কক্সবাজার নয়, সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক নতুন উ”চতায় নিয়ে যাবে।

 

১৪. মহেশখালী-কক্সবাজার সেতু বাস্তবায়নের দাবি

 

মহেশখালীতে চলমান গভীর সমুদ্র বন্দর এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য মেগা প্রকল্পের কারণে এই অঞ্চলের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে মূল ভূখণ্ডের সাথে বিচিছন্নতার কারণে দ্বীপবাসীর যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় ।

 

১৫. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ না করে বরং মহেশখালীতে অবাধে প্যারাবন ধ্বংসের মহোৎসব কারীদের কঠোর শাস্তির জোর দাবী।

 

কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের ঘটিভাঙ্গা এলাকায় চিংড়ি ঘের, লবনের মাঠ ও জমি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক ঢাল হিসাবে খ্যাত প্যারাবন কেটে ও আগুন লাগিয়ে বিরান ভূমিতে পরিণত করা হচেছ।

 

প্যারাবন নিধনকারী অপরাধীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করা ও বনভূমি ধ্বংসের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্যারাবনগুলো সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা।

 

লেখক: মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটি,সিনিয়র সহ সভাপতি বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম ও চেয়ারম্যান পালং খালী ইউপি, উখিয়া, কক্সবাজার।

“কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে-না, উন্নয়নে চীনের সমর্থন রয়েছে-মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর”।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ
“কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে-না, উন্নয়নে চীনের সমর্থন রয়েছে-মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর”।

কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে-না, উন্নয়নে চীনের সমর্থন রয়েছে-মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও:

 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে-না। কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমেই উন্নত জাতি গড়ে ওঠে। চীনের উন্নয়নের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, চীন নিজেদের প্রচেষ্টা, শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে আজ বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে।

 

শুক্রবার ১২ জুন সকালে ঠাকূরগাঁও শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম-এ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী উদ্যোগে আয়োজিত স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এইচ. ই. ইয়াও ওয়েন।

 

“তরুণ মেধার বিকাশ, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণ” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলার প্রায় ৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুলব্যাগ, খাতা, কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার শিশুদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি তাদের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার উপযোগী করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে।

 

চীনের রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ চীন বিভিন্ন দেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করে আসছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে শিল্পায়নের সম্ভাবনা যাচাই করতে চীন থেকে একটি প্রতিনিধি দল চলতি বছর ও আগামী বছরের মধ্যে সফরে আসবে বলে রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দিয়েছেন।

 

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিতরণ করা শিক্ষা উপকরণ তাদের শিক্ষাজীবনকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

 

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনাময় একটি জেলা। কৃষি উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীন কাজ করতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে একটি প্রতিনিধি দল ঠাকুরগাঁও সফর করবে এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো পরিদর্শন করবে।

 

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, আগামী বছরের মধ্যে ঠাকূরগাঁওয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে চীন সফরের আয়োজন করা হবে। পর্যায়ক্রমে আরও শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

 

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পায়গাম আলী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।