খুঁজুন
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

টক অব দ্য টাউন রোয়াংছড়ির পিআইও মিলটন দস্তিদার: অনিয়ম ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ
টক অব দ্য টাউন রোয়াংছড়ির পিআইও মিলটন দস্তিদার: অনিয়ম ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ।

টক অব দ্য টাউন রোয়াংছড়ির পিআইও মিলটন দস্তিদার: অনিয়ম ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ।

রোয়াংছড়ি, বান্দরবান প্রতিনিধি: চিংনুমং মারমা।

 

বিতর্ক ও সমালোচনা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা আলোচিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও মিলটন দস্তিদারের। ক্ষমতার অপব্যবহার, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে স্থানীয় জনমানসে তীব্র সমালোচনার কেন্দ্রে— তথা ‘টক অব দ্য টাউন’-এ পরিণত হয়েছেন।

 

সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান সদর উপজেলার নিয়মিত পিআইও মিলটন দস্তিদার গত ৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে রোয়াংছড়ি উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একচ্ছত্র অনিয়ম ও দুর্নীতির এক দুর্ভেদ্য দুর্গ গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ উঠেছে, ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবৎসরের দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতাধীন টিআর, কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পের সিংহভাগ বরাদ্দ তিনি নামে-বেনামে ভুয়া প্রকল্প সাজিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের সরলমনা ইউপি সদস্যদের প্রলুব্ধ করে কৌশলে বিভিন্ন ভুয়া প্রকল্পের সভাপতি মনোনীত করা হতো। পরবর্তীতে উক্ত নামসর্বস্ব সভাপতিদের নামমাত্র লভ্যাংশ বা পার্সেন্টেজ প্রদান করে বরাদ্দের অবশিষ্ট সিংহভাগ অর্থ পিআইও দস্তিদার নিজস্ব তহবিলে কুক্ষিগত করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

 

স্থানীয় মহলে তীব্র গুঞ্জন রয়েছে যে, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে কর্মস্থলে থাকাকালীন তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতাদের সাথে যোগসাজশে পিআইও দস্তিদার এক অঘোষিত সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। তদানীন্তন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবৈধ অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রকল্পের অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করাতেন তিনি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি মূলত পূর্বতন সরকারের নিবেদিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন এবং বর্তমান জনবান্ধব সরকারের সদিচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন বলে স্থানীয় চা-দোকান থেকে শুরু করে পরিবহন স্টেশনগুলোতে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা চলছে। যোগদানের পর থেকেই তিনি প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে ১৬ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন গ্রহণের এক নতুন কুপ্রথার প্রচলন করেছেন।

 

অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধানে ২নং তারাছা ইউনিয়নের ৬নং ও ৫নং ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী অংতং পাড়া হতে ছাংকিং পাড়া সংযোগ সড়কে সরেজমিনে গিয়ে এক নজিরবিহীন দুর্নীতির চিত্র পরিলক্ষিত হয়। ২০২৫-২০২৬ অর্থবৎসরের দ্বিতীয় ধাপে খাদ্যশস্য খাত থেকে সাড়ে ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের মাধ্যমে উক্ত সড়কটি মাটি দ্বারা পুনর্নির্মাণের একটি প্রকল্প নথিভুক্ত করা হয়। যার আর্থিক মূল্যমান প্রায় ৩ লক্ষ টাকা।

 

উক্ত প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের নাম ব্যবহার করা হলেও, বাস্তবে কোনো প্রকার সংস্কার কাজ না করেই সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, উক্ত সড়কটি বহু পূর্বে গ্রামবাসী নিজস্ব অর্থায়নে যাতায়াতের উপযোগী করেছিলেন। অথচ সরকারি খাতায় সেই সড়ক দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা লোপাট করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সভাপতি পিআইও-র সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জানান, কর্মকর্তার নির্দেশেই তিনি কেবল নাম ধার দিয়েছিলেন, বিস্তারিত পিআইও-ই বলতে পারবেন।

 

এ বিষয়ে অংতং পাড়া ও ছাংকিং পাড়ার দুই কারবারী নালং খুমি ও রিওনাং খুমির সন্তান লিংনাং খুমি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

 

“আমাদের দুই পাড়ায় জেলা, উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সড়ক সংস্কার, মাটি কাটা কিংবা জঙ্গল পরিষ্কারের কোনো কাজ আজ পর্যন্ত করা হয়নি। আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমরা অবিলম্বে এই অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি এবং জনসাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রকৃত সড়ক নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

 

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন তহবিল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধকোটি টাকা সুকৌশলে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

 

কেবল আর্থিক দুর্নীতিই নয়, পিআইও মিলটন দস্তিদারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ ও ঔদ্ধত্যের নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে অসদাচরণ, বাদানুবাদ এবং একাধিকবার মারমুখী ও চড়াও হওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এই ঘুষখোর ও দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাকে দ্রুত অপসারণ করা না হলে অচিরেই প্রশাসনিক চত্বরে আইনশৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলাজনিত বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কর্মচারীরা।

 

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে পিআইও মিলটন দস্তিদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

এ প্রসঙ্গে রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও তাজমিন আলম তুলি জানান, অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত পিআইও-র পরিবর্তে উপজেলায় একজন স্থায়ী পিআইও অত্যন্ত জরুরি; কারণ সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে উপস্থিতি ব্যতীত সুচারুভাবে দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন করা দূরূহ।

 

প্রকল্পে ঘুষ ও কমিশন গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন:

 

“ঘুষ বা কমিশনের বিষয়ে কিছু গুঞ্জন আমি শুনেছি, তবে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট বা লিখিত কোনো অভিযোগ এখনো আমার দপ্তরে আসেনি। সামগ্রিক বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পূর্বেই অবহিত করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নের স্বার্থে এই দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাকে অনতিবিলম্বে অপসারণপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকা থেকে কিশোরী নিখোঁজ, থানায় জিডি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকা থেকে কিশোরী নিখোঁজ, থানায় জিডি

চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকা থেকে কিশোরী নিখোঁজ, থানায় জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানাধীন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের ২নং মাইলের মাথা এলাকা থেকে কৃষ্ণা দে (১৫) নামে এক কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর (সোমবার) বিকাল ৩টার দিকে সে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার মা মেঘনা রাণী দাশ বন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ১৫৫৫, তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০২৬) করেছেন।

 

জিডি সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণা দে রাজকুমার দে ও মেঘনা রাণী দাশের মেয়ে। সে একজন শিক্ষার্থী ও অবিবাহিত। পরিবারের স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের হিন্দুপাড়া। বর্তমানে তারা চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকায় বসবাস করছেন।

 

নিখোঁজ কিশোরীর বিবরণ:

 

– নাম: কৃষ্ণা দে

 

– বয়স: আনুমানিক ১৫ বছর

 

– উচ্চতা: ৪ ফুট ৬ ইঞ্চি

 

– ওজন: ৪৫ কেজি

 

– গায়ের রং: শ্যামলা

 

– চুল: ছোট

 

– নাক: লম্বা

 

– চোখ:কালো

 

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষ্ণার সন্ধান পেলে বা তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে অনুগ্রহ করে নিকটস্থ থানা বা বন্দর থানা, সিএমপি, চট্টগ্রামে যোগাযোগ করতে হবে। এ বিষয়ে পুলিশ ও পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। নিখোঁজ কিশোরীর সন্ধান পেলে তথ্য জানাতে পারেন নিম্নোক্ত হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে- 01863247759

টেকনাফে সড়কের ব্রিজ বন্ধ করে দিয়ে দোকান নির্মাণ বর্ষামৌসুমে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার আশংকা জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
টেকনাফে সড়কের ব্রিজ বন্ধ করে দিয়ে দোকান নির্মাণ বর্ষামৌসুমে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার আশংকা জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

টেকনাফে সড়কের ব্রিজ বন্ধ করে দিয়ে দোকান নির্মাণ বর্ষামৌসুমে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার আশংকা জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

 নিউজ ডেস্ক:

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা আলী খালী রাস্তার মাথায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ সংযোগ সড়কে নির্মাণ করা একটি ব্রিজের ৩ টি মিনি ব্রিজের মধ্য থেকে ১ টি মিনি ব্রিজের  মুখ বন্ধ করে দিয়ে তার উপরে ঢালাই দিয়ে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

 

সরেজমিন গিয়ে দেখাযায় আলীখালী রোডের প্রবেশদ্বার সড়কের ব্রিজটিকে বর্ষা মৌসুমের প্রবল বর্ষনের পানি চলাচলের উপযোগী করে ৩ টি মিনি ব্রিজ দিয়ে  নির্মাণ করেছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জনাগেছে স্থানীয় জাফর আলমের ছেলে  প্রভাবশালী আবুল হোছাইন রাতের অন্ধকারে একটি মিনি ব্রিজের মূখ ঢালাই দিয়ে বন্ধ করে ব্রিজটির উপর দোকান নির্মাণ কাজ প্রক্রিয়াধীন রেখেছে।

 

এতে করে আসন্ন  বর্ষা মৌসুমে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতাসৃষ্টি করে জন দূর্ভোগ তৈরির আশংকা রয়েছে । বর্ষা মৌসুমে প্রবল বর্ষনে পাহাড়ী ঢলের পানি যথাযথ চলাচল করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশংকা প্রকাশ করছে ভুক্তভোগীরা।

 

এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

 

একটি বাস্তবমূখী ব্রিজের মূখ বন্ধ করে দিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কের পাশে দোকান নির্মাণ কতটুকু যুক্তিযুক্ত এনিয়ে ভাবিয়ে তুলেছে সচেতন মহল কে। এই বিষয়ে তদন্ত পূর্বক  দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

এব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রুকুনুজ্জামান বলেছেন এ বিষয়টি দেখার জন্য আগামীকাল অফিস থেকে লোক যাবে যদি কোন অসঙ্গতি দেখা যায় তাহলে যারা একাজের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

অভিযুক্ত আবুল হোছাইনের সাথে  যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে ব্রিজের মূখ বন্ধ করে নাই বলে জানালে ও পরে  যদি বন্ধ হয়ে থাকে তাহলে খুলেদেয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান।###

বান্দরবানের থানচিতে মহিলা ফুটবল দলের সংবর্ধনা: মাদক ও অবক্ষয় রোধে খেলাধুলার বিকল্প নেই—পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
বান্দরবানের থানচিতে মহিলা ফুটবল দলের সংবর্ধনা: মাদক ও অবক্ষয় রোধে খেলাধুলার বিকল্প নেই—পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু

বান্দরবানের থানচিতে মহিলা ফুটবল দলের সংবর্ধনা: মাদক ও অবক্ষয় রোধে খেলাধুলার বিকল্প নেই—পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, এমপি বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের মাদকের নেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলার প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহ যুগাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের বিদ্যালয়গুলোতে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন বাড়িয়ে ছেলেমেয়েদের সুস্থতা রক্ষায় পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করছেন। মন্ত্রী বলেন, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে খেলাধুলার বিকল্প নেই।

 

আজ সন্ধ্যায় বান্দরবানের দুর্গম অঞ্চল থানচি উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামে বলিপাড়া বিজিবি ৩৮ ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে ‘থানচি মহিলা ফুটবল দলের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী আরও বলেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গণে তরুণদের পাশাপাশি মহিলা খেলোয়াড়রাও দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনছে। মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মহিলা ক্রীড়াবিদরা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও ফুটবল খেলায় তাদের দারুন পারফরম্যান্স প্রদর্শন করছে। মন্ত্রী সাচিং প্রু আরও বলেন, তরুণসমাজকে মাদক ও নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। স্কুল পর্যায় থেকে যদি নিয়মিত ক্রীড়াচর্চার সুযোগ নিশ্চিত করা যায়, তবে এই নারী খেলোয়াড়দের মধ্যে নেতৃত্ব গুণাবলী, শৃঙ্খলাপরায়ণতা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির মানসিকতা গড়ে উঠবে। এভাবেই দেশের মহিলা ক্রীড়াবিদদের খেলাধুলায় আরও দক্ষ করে গড়ে তুলে বাংলাদেশের কৃতিত্ব অর্জনের পথকে আরও সুগম করতে হবে।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে থানচি মহিলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের উষ্ণ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। মন্ত্রী সাচিং প্রু বিজয়ী খেলোয়াড়দের সংবর্ধিত করেন এবং তাদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন। সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী পর্ব শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় একটি জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন মন্ত্রী।

 

উক্ত অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সহধর্মিনী মমচিং, থানচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল রুবায়েত জামিল, বলিপাড়া বিজিবি ৩৮ ব্যাটালিয়ান এর সিও ইয়াসিন আরাফাত, রুমা বিজিবির অধিনায়ক হাসান শাহরিয়ার, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বীর মুক্তিযোদ্ধা মংশৈহ্লা চৌধুরী, সাবেক থানচি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খামলাই ম্রোসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।