খুঁজুন
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

অনলাইন জুয়া-বেটিং দমনে নতুন আইন, ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা জরিমানা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
অনলাইন জুয়া-বেটিং দমনে নতুন আইন, ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা জরিমানা।

অনলাইন জুয়া-বেটিং দমনে নতুন আইন, ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা জরিমানা।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

দেশে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরিচালিত জুয়ার বিস্তার রোধে যুগোপযোগী নতুন আইন প্রণয়ন করেছে সরকার। প্রায় ১৫৯ বছর আগে প্রণীত (পাবলিক গামবলিংগ এ্যাকট ১৮৬৭) রহিত করে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ নামে নতুন আইন কার্যকর করা হয়েছে।

 

রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর বুধবার (১ জুলাই) আইনটি জারি করে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই আইনটি কার্যকর হয়েছে।

 

নতুন আইনে প্রথমবারের মতো অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল বেটিং, ফ্যান্টাসি বেটিং, ই-স্পোর্টস বেটিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল ওয়ালেট, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ম্যাচ ফিক্সিং এবং স্পট ফিক্সিংয়ের মতো ডিজিটাল অপরাধের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এসব কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থাকাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

 

আইন অনুযায়ী ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামো, ভিপিএন বা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত মাধ্যম ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা, বেটিং পরিচালনা, অ্যাকাউন্ট খোলা বা ব্যবহার, জুয়ার অর্থ জমা, উত্তোলন কিংবা স্থানান্তর করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

 

বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি, এজেন্ট বা সহযোগী হিসেবেও কাজ করা যাবে না। আইনে সাধারণ জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড অথবা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা ১ কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে।

 

অনলাইন বেটিং, বুকমেকার হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা, ভিপিএন বা মিরর সাইট ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা কিংবা ডিজিটাল অবকাঠামোর মাধ্যমে জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

 

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আদালত দোষী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অথবা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে অযোগ্যও ঘোষণা করতে পারবেন।

 

জুয়ার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জুয়ার প্রসারে অংশ নিলে গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড় কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড অথবা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

 

ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট অথবা অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে সংঘবদ্ধভাবে অথবা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে।

 

আইনে জুয়ার অর্থ ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওলা, হুন্ডি কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে স্থানান্তর, গোপন বা বৈধ করার চেষ্টাকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সম্পৃক্ত অপরাধ( পেডিকেট ওফেন্স) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এ ধরনের অপরাধে সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনও বিচার করা হবে।

 

নতুন আইনে আদালতকে অপরাধে ব্যবহৃত বা অপরাধলব্ধ ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ডিভাইসসহ সংশ্লিষ্ট সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। জুয়ার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত ভবন, অফিস, কল সেন্টার, সার্ভার অবকাঠামো বা অন্য কোনো সম্পত্তিও আদালতের আদেশে বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

 

কোনো কোম্পানি, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং প্রোভাইডার বা পেমেন্ট গেটওয়ে এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, ব্যবস্থাপক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়ী করা যাবে। পাশাপাশি আদালত ওই প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত কিংবা বাতিলের নির্দেশ দিতে পারবেন। আইনে বলা হয়েছে, অনলাইন জুয়া ও সাইবার স্পেস ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনালে হবে। অন্যান্য অপরাধের বিচার হবে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী।

 

এসব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন, এমন পুলিশ কর্মকর্তা এসব অপরাধ তদন্ত করবেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট বা ক্রিপ্টো ওয়ালেট সাময়িকভাবে ফ্রিজ করতে পারবেন।

 

আইনে সরকারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিপ প্যাকেট ইনস্পেকশন (ডিপিআই), ট্রানজ্যাকশন মনিটরিং সিস্টেম, ডেটা অ্যানালিটিক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া শনাক্ত ও প্রতিরোধের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ, এনআইডি-সিম-এমএফএস লিংকিং সিস্টেম, বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন এবং ফেসিয়াল রিকগনিশনভিত্তিক যাচাই ব্যবস্থা চালুর সুযোগ রাখা হয়েছে।

 

আইন বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), নির্বাচন কমিশন, সিআইডি, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণা, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনারও বিধান রাখা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত পাবলিক গ্যামলিং এ্যাক্ট, ১৮৬৭ আনুষ্ঠানিকভাবে রহিত হলো। তবে পূর্ববর্তী আইনের অধীনে চলমান মামলা ও কার্যক্রম নতুন আইন অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে।

সেনেগালে যুব অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
সেনেগালে যুব অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

সেনেগালে যুব অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে সেনেগালের রাজধানী ডাকারে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের চতুর্থ যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন বান্দরবানের উদীয়মান তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা। দেশের হয়ে এমন ঐতিহাসিক এক আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর এই অংশগ্রহণের খবরে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানসহ সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ ও উদীয়মান তরুণদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

 

বাংলাদেশ বক্সিং দলের হয়ে বিশ্বমানের এই ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ নয়ন ত্রিপুরার ক্রীড়াজীবনে এক অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দেশসেরা ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বিকেএসপি (BKSP)-র সঙ্গে যুক্ত এই তরুণ বক্সার নিজের অদম্য মেধা, শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার এই গৌরব অর্জন করেছেন।

 

যুব অলিম্পিকের টিকিট পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা বলেন, “যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম বড় একটি স্বপ্ন পূরণ। বিকেএসপির কোচ ও সংশ্লিষ্ট সকলের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং আমার কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজ আমি এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি। পাহাড়ি এলাকার সীমিত সুযোগ-সুবিধাকে পেছনে ফেলে আমি দেশের লাল-সবুজের পতাকা বিশ্বমঞ্চে উড্ডীন করতে চাই। সবার কাছে দোয়া ও আশির্বাদ প্রার্থী, যেন রিংয়ে নিজের সেরাটা দিয়ে দেশের জন্য একটি সম্মানজনক পদক উপহার দিতে পারি।”

 

পাহাড়ঘেরা বান্দরবান কেবল রূপসী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্যই পরিচিত নয়, বরং অদম্য সম্ভাবনাময় ক্রীড়া প্রতিভার এক অপার আধার হিসেবেও নিজের পরিচয় গড়ে তুলছে। নানা প্রতিকূলতা ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাস্বচ্ছতার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এ অঞ্চলের তরুণেরা খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বারবার নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। সুশীল সমাজ ও স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, নয়ন ত্রিপুরার এই আন্তর্জাতিক যাত্রা পার্বত্য অঞ্চলের উদীয়মান ক্রীড়াবিদদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং পাহাড়ি এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় আসার ক্ষেত্রে বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

 

যুব অলিম্পিকের মতো বৈশ্বিক মর্যাদাপূর্ণ আসরে অংশগ্রহণ একজন ক্রীড়াবিদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা অর্জনের সেরা সুযোগ। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে নয়নের উপস্থিতি দেশের উদীয়মান বক্সিং অঙ্গনকে এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে পেশাদার খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।

 

নয়ন ত্রিপুরার এই অর্জন বান্দরবানবাসীকে গর্বিত করেছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা—আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি নিজের সর্বসেরাটা উজাড় করে দিয়ে দেশের সম্মান ও লাল-সবুজের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবেন। তাঁর এই বৈশ্বিক যাত্রা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত বা বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সাফল্য নয়, বরং পুরো বান্দরবান ও পার্বত্য অঞ্চলের তরুণ সমাজের জন্য এক দারুণ উদ্দীপনার উদাহরণ।

 

বিশ্বমঞ্চে নয়ন ত্রিপুরার হাত ধরে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা আরও উঁচুতে উড্ডীন হোক এবং শুভকামনা রইল যেন তিনি দেশের জন্য গৌরবময় সাফল্য বয়ে নিয়ে আসতে পারেন—এমনটাই প্রত্যাশা বান্দরবানসহ সমগ্র দেশবাসীর।

সেনেগালে যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বান্দরবানের তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
সেনেগালে যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বান্দরবানের তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

সেনেগালে যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বান্দরবানের তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে সেনেগালে ডাকার অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের চতুর্থ যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন বান্দরবানের তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা। তাঁর এই অংশগ্রহণের খবর বান্দরবানসহ পার্বত্য অঞ্চলের ক্রীড়াপ্রেমী ও তরুণদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

 

বাংলাদেশ বক্সিং দলের হয়ে আন্তর্জাতিক এই ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ নয়ন ত্রিপুরার ক্রীড়াজীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বিকেএসপির সঙ্গে যুক্ত এই তরুণ বক্সার নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন।

 

পাহাড়ঘেরা বান্দরবান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির পাশাপাশি সম্ভাবনাময় তরুণদের জন্যও পরিচিত। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এ অঞ্চলের তরুণেরা খেলাধুলা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। নয়ন ত্রিপুরার এই আন্তর্জাতিক যাত্রা পার্বত্য অঞ্চলের তরুণ ক্রীড়াবিদদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

 

যুব অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণ একজন ক্রীড়াবিদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একই সঙ্গে এ ধরনের অংশগ্রহণ দেশের বক্সিং অঙ্গনকে এগিয়ে নেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

 

নয়ন ত্রিপুরার এই অর্জনকে ঘিরে বলেন , বান্দরবানবাসীর প্রত্যাশা—আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি নিজের সেরাটা তুলে ধরবেন এবং দেশের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখবেন। তাঁর এই যাত্রা সফল হলে তা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবেই নয়, বরং বান্দরবান ও পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে।

 

বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নয়ন ত্রিপুরার এই যাত্রা সফল হোক—এমনটাই প্রত্যাশা সবার। তাঁর হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল হোক বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা, গৌরবান্বিত হোক বান্দরবান।

 

নয়ন ত্রিপুরা ও বাংলাদেশ বক্সিং দলের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।

বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে মন্ত্রীর মতবিনিময়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে মন্ত্রীর মতবিনিময়

বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে মন্ত্রীর মতবিনিময়

মো. আরিফ, বান্দরবান প্রতিনিধি;

বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, খেলাধুলার প্রসার এবং স্থানীয় ক্রীড়াবিদদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী।

 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টায় বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বান্দরবান হিল রানার্সসহ ফুটবল, ক্রিকেট, কারাতে, বক্সিং, উশু, দাবা, কাবাডি ও হকির সঙ্গে যুক্ত ক্রীড়াবিদ ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম।

 

সভায় মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার, নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করতে সরকার কাজ করছে। বান্দরবানে স্টেডিয়াম সংস্কার ও নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ক্রীড়াবিদেরা যাতে সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

তিনি আরও বলেন, স্টেডিয়ামগুলোর উন্নয়ন হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বাড়বে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।

 

জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা বলেন, জেলার বিভিন্ন খেলার উন্নয়ন, ক্রীড়াবিদদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং খেলাধুলার পরিবেশ উন্নত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

 

সভায় বান্দরবান হিল রানার্সের সভাপতি ডা. শান্তনু দাশ বলেন, কিশোর-তরুণসহ সব বয়সী মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে হিল রানার্স কাজ করছে। তিনি সবাইকে নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।

 

তিনি আরও জানান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দুটি ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বান্দরবান হিল রানার্সের ১০ থেকে ১২ জন সদস্য।

 

বান্দরবান ফুটবল রেফারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিমুল দাশ বলেন, রেফারিদের কাজের সুবিধার জন্য বান্দরবানে একটি পৃথক কক্ষ প্রয়োজন। এ ছাড়া স্থানীয় রেফারিদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ ও সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।

 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবর রশিদ ও সা শৈ প্রু, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য (ক্রীড়া) কাজী নিরুতাজ বেগম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সিনিয়র সহসভাপতি উম্মে কুলসুম লীনা, বান্দরবান হিল রানার্সের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ, বান্দরবান বক্সিং একাডেমির চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুর রশিদ বাচ্চু, জেলা ফুটবলের সিনিয়র কোচ মো. শহীদুল রহমান (সোহেল) এবং বান্দরবান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের সদস্যরা।

 

এ সময় ক্রীড়াবিদ ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।