খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সংবাদ সম্মেলন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সংবাদ সম্মেলন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সংবাদ সম্মেলন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম আমাদের দেশের একটি ভৌগোলিক ও সামাজিকভাবে সংবেদনশীল অঞ্চল। যেখানে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বহুভাষিক ও বৈচিত্র্যময় মানুষ যুগ যুগ ধরে বাস করছে। সাম্প্রতিক সময়ে এখানকার জননিরাপত্তা, সাধারণ মানুষের জীবিকা এবং মানবাধিকার চরম হুমকির মুখে পড়েছে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একপাক্ষিক ও আংশিক তথ্য প্রচার করে প্রকৃত নিরাপত্তাহীনতার চিত্র আড়াল করার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে পার্বত্য অঞ্চলের ভুক্তভোগী মানুষের অভিজ্ঞতা, বস্তুনিষ্ঠ উপাত্ত এবং সঠিক বাস্তবতাকে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতেই আমাদের এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

 

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, এই সময়ে প্রায় ২৪০টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪৭টি অপহরণ এবং ১৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। অপহরণের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, সাধারণ শ্রমিক, চালক, কৃষক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ গ্রামবাসী পর্যন্ত। এ ছাড়া জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ৮টিরও বেশি ঘটনা ঘটেছে। আমাদের অনুসন্ধানের উঠে এসেছে জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস), ইউপিডিএফ(প্রসীত), কেএনএফ নামক পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র ৭০ জনেরও বেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ও তরুণকে জোরপূর্বক সশস্ত্র সংঘাত বা দলীয় কাজে যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে ১৪ জন নারী অপহরণ, প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যা নারী ও শিশুর সুরক্ষা ও নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে।

 

পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রধান আর্থিক উৎসে পরিণত হয়েছে অবৈধ চাঁদাবাজি ও মুক্তিপণ আদায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র গত এক বছরে প্রায় ১,৫২০টি চাঁদাবাজির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, কাঠ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি- জনপ্রতি প্রায় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। প্রতিটি ওষুধ কোম্পানির ক্ষেত্রে এই অংক ২ থেকে ৫ লাখ টাকা এবং পরিবেশক কোম্পানিগুলোর কাছে ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। এমনকি স্থানীয় জিপ, পরিবহন বা যানবাহনের ক্ষেত্রে যানভেদে প্রতি গাড়ি থেকে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

 

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো লক্ষ্য করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। গত ৩১ মার্চ রাঙ্গামাটি শহরের আসামবস্তি এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়নকাজে নিয়োজিত ৫ জন শ্রমিককে মারধর করে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং সাথে থাকা সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৩ এপ্রিল বান্দরবান সদরে একটি ট্রাক আটকে ৫ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। ৮ এপ্রিল বান্দরবানের রেনিখ্যং বাগানপাড়া এলাকায় আম ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করার সময় স্থানীয়রা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিরোধ করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের থেকে ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা বা তারও বেশি পর্যন্ত অর্থ চাদাবাজি ও মুক্তিরপণ হিসেবে আদায় করছে আঞ্চলিক উপজাতি সন্ত্রাসী বাহিনী গুলো।

 

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভূমি দখল ও দখলচেষ্টার ৪টি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। ২৭-৩০ মে ২০২৬ খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার মলঙ্গীপাড়া এলাকায় একজন বাগান মালিকের প্রায় ২০ একর পাহাড়ি জায়গা জবরদখল করে রাতারাতি ঘর নির্মাণ করে ইউপিডিএফ (প্রসীত গ্রুপ)। ২৩ মার্চ ২০২৬ বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা এলাকায় ‘জঙ্গল বিলাস’ নামক রিসোর্ট দখলের উদ্দেশ্যে দলবল নিয়ে হামলা করে জেএসএস (সন্তু গ্রুপ) সদস্যরা। এ সময় রিসোর্টের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও জায়গাটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এক পর্যায়ে অনিক ত্রিপুরা ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে তথ্য পাওয়া যায়।

 

জেএসএস ও ইউপিডএফ এর মতন পাহাড়ের আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠন গুলো সরকার, সেনাবাহিনী ও বাঙালি জনগোষ্ঠীবিরোধী অপতথ্য প্রচারের মাধ্যমে “জুম্মল্যান্ড”নামে একটি পৃথক প্রদেশ এবং রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, বিদেশী সরকার এবং প্রবাসী গোষ্ঠীর সহানুভূতি অর্জনের উদ্দেশ্যে নিজেদের তথাকথিত “নিপীড়িত” হিসেবে উপস্থাপন করছেন। এসব অপতথ্য ছড়িয়ে তারা বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা বা কূটনৈতিক সমর্থন আদায় করছে। একই সঙ্গে নিজেদের চাঁদাবাজি, অস্ত্র চোরাচালান বা অভ্যন্তরীণ সংঘাতের মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে আড়াল করতে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতি দেশের অভ্যন্তরীণ ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সীমান্তবর্তী ভৌগোলিক বাস্তবতা, আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক পরিবহনের অভিযোগ, প্রবাসভিত্তিক সাংগঠনিক তৎপরতা, ভূমি বিরোধ, তথ্যপ্রবাহ এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধার সঙ্গে তা বহুমাত্রিকভাবে সম্পর্কিত। এসব বিষয়ের প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবন, নিরাপত্তা, সম্পত্তি, জীবিকা, চলাচল, যোগাযোগ, তথ্যপ্রাপ্তি এবং উন্নয়নের অধিকারের ওপর এসে পড়ে।

 

আন্তঃসীমান্ত নেটওয়ার্ক ও অস্ত্র পাচার-সংক্রান্ত ঘটনাগুলো পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা, সশস্ত্র সহিংসতার ধারাবাহিকতা এবং সংঘাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির ঝুঁকি নির্দেশ করে। প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডে অবস্থান, প্রশিক্ষণ, সাংগঠনিক কার্যালয় পরিচালনা অথবা অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহের যেসব অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলো অত্যন্ত গুরুতর।

 

সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার, মাইন স্থাপন, সশস্ত্র প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় তরুণদের সংঘাতমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ জননিরাপত্তার পাশাপাশি গুরুতর মানবাধিকার উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এসব কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার ফলে তরুণেরা জীবনহানি, আটক, বিচার, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠী বিস্ফোরক, চোরাচালান, সংঘর্ষ এবং প্রতিশোধমূলক সহিংসতার আশঙ্কার মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হতে পারে।

 

এই সামগ্রিক চিত্র প্রমাণ করে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি স্থানীয় সশস্ত্র দলগুলোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবিকা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, শিক্ষা এবং সার্বিক সামাজিক জীবনকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, অর্থ আদায় এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, যা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ওপর দীর্ঘস্থায়ী আর্থিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে।

 

জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৬ সময়কালে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, অপহরণ, জিম্মিকরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যা, সশস্ত্র সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক নিয়োগ, শিশু ও তরুণদের সংঘাতমুখী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার, নারীর প্রতি সহিংসতা, ভূমি দখল, আন্তঃসীমান্ত অস্ত্র ও মাদক পাচারের অভিযোগ, বিভ্রান্তিকর তথ্যপ্রচার এবং সরকারি-বেসরকারি উন্নয়নকাজে বাধা সাধারণ মানুষের জীবন, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, মর্যাদা, সম্পত্তি, শিক্ষা, জীবিকা, যোগাযোগ ও উন্নয়নের অধিকারকে বহুমাত্রিকভাবে প্রভাবিত করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতির টেকসই উন্নয়নে কেবল আইনশৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নয়, বরং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক সুরক্ষা, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত, বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ, নারী ও শিশুর বিশেষ সুরক্ষা, স্বাক্ষী ও অভিযোগকারীর নিরাপত্তা, অবৈধ অস্ত্র ও অপরাধভিত্তিক অর্থনীতির বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ, ভূমি বিরোধের ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল তথ্যপ্রচারের ভারসাম্য এবং নিরাপদ, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

 

সুতরাং আমরা মনে করি, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, আস্থা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা তখনই সম্ভব হবে, যখন সকল নাগরিকের জীবন, মর্যাদা, নিরাপত্তা, সমঅধিকার, উন্নয়নের সুযোগ এবং আইনের সমান সুরক্ষা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা হবে।

 

পরিশেষে, আমরা প্রত্যাশা করি, পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ি ও বাঙালি সকলের মাঝে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমঅধিকারের ভিত্তিতে সম্প্রীতি বিরাজ করবে। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সকলেই হৃদয়ে ধারণ করবে “লাল-সবুজের পতাকা।

সাতকানিয়ায় সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ: নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ কৃষকদের।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
সাতকানিয়ায় সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ: নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ কৃষকদের।

সাতকানিয়ায় সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ: নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ কৃষকদের।

 সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থান গড়লাখালের একাংশে একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো কৃষক ও সাধারণ মানুষ। বছরের পর বছর ধরে সাঁতার কেটে বা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে তাদের।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, কেঁওচিয়া ইউনিয়নের গড়লাখালের ওপারে কৃষকদের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি রয়েছে। প্রতিদিন চাষাবাদ ও কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার জন্য কৃষকদের এই খাল পার হতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেতু না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে গাছ ও বাঁশ দিয়ে একটি নড়বড়ে সেতু তৈরি করে যাতায়াত করতেন। কিন্তু চলতি মৌসুমের পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় সেই অস্থায়ী সেতুটিও পানিতে তলিয়ে যায় এবং পুরোপুরি ভেসে যায়। ফলে কৃষকদের চলাচলের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

 

স্থানীয় কৃষকরা জানান, কেঁওচিয়া ১ ও ২নং ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থানের একটি বড় পরিসরে সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। সেতুর জন্য তাঁরা জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে বহুবার ঘুরেছেন, ধরনা দিয়েছেন। কিন্তু কেউ তাঁদের দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসেনি। চলতি বছর বন্যায় তাঁদের তৈরি করা পুরোনো সেতুটি ভেসে যাওয়ার পর চরম বিপাকে পড়েন তাঁরা। বাধ্য হয়ে কৃষকরা ফের নিজেদের পকেটের টাকা ও স্বেচ্ছাশ্রমে নতুন করে এই বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন। ফসল ঘরে তোলার সময় এই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহন করতে গিয়ে তাঁদের নাভিশ্বাস ওঠে।

 

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেতু নির্মাণের জায়গা পরিদর্শন করেছেন কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মহসিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য রফিক উদ্দীন লাভলু, আবদু রহিমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণ।

 

পরিদর্শনকালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মহসিন বলেন, “এলাকার কৃষকদের যাতায়াত ও চাষাবাদের চরম দুর্ভোগের বিষয়টি আমি স্বচক্ষে দেখেছি। কৃষকদের এই দুর্দশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। গড়লাখালের এই অংশে কৃষকদের সুবিধার্থে একটি স্থায়ী বা ছোট সেতু নির্মাণের জন্য আমি আমার জায়গা থেকে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

 

স্থানীয়রা আশা করছেন, জনপ্রতিনিধিদের সদিচ্ছা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপে গড়লাখালে শীঘ্রই একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে হাজারো কৃষকের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ চিরতরে লাঘব করবে।

রুহিয়ায় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
রুহিয়ায় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার।

রুহিয়ায় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার।

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় গৃহবধূকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে স্বামী সাদ্দাম হোসেন ৩০ কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। এর আগে নিহতের চাচা আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে নিহতের স্বামীসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে রুহিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি ঘটেছে রুহিয়া থানার ৩ নং রাজাগাঁও ইউনিয়নের রাজাগাঁও (যুগিপুকুর) এলাকায়। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩ বছর আগে উক্ত গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩০) এর সঙ্গে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বৈকুন্ঠপুর গ্রামের মোঃ সাদেকুল ইসলামের মেয়ে আরিফা খাতুন (২১) এর সহিত পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই যৌতুকের জন্য আরিফার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন সাদ্দাম। বাবা-মায়ের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য সাদ্দাম ও তার পরিবারের লোকজন আরিফাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে আরিফা বাবার বাড়িতে চলে যান। পরবর্তীতে উভয় পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতিতে শালিস-বৈঠকের মাধ্যমে আপস-মিমাংসা করে আরিফাকে আবারও স্বামীর সংসারে পাঠানো হয়। তবে সংসার পুনরায় শুরু হলেও সাদ্দাম ও তার পরিবারের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তারা আবারও পূর্বের মতো ২ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে আরিফার ওপর নির্যাতন চালাতে থাকেন। পরবর্তীতে গত ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন আরিফা খাতুন। সাদ্দামের পরিবার বিষয়টিকে নিছক ‘আত্মহত্যা’ দাবি করলেও নিহতের বাবার পরিবারের অভিযোগ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে অথবা আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রুহিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদিউজ্জামান জানান, এ বিষয়ে পেনাল কোডের ৩০৬ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে যার মামলা নম্বর: ১১, তারিখ: ২৯/০৭/২০২৬)। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত স্বামী মোঃ সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বন্যায় ভেঙে বিলীন গোয়াজার পাড়া টু ছৈয়দাবাদ মাদ্রাসা সড়ক: চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাস।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
বন্যায় ভেঙে বিলীন গোয়াজার পাড়া টু ছৈয়দাবাদ মাদ্রাসা সড়ক: চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাস।

বন্যায় ভেঙে বিলীন গোয়াজার পাড়া টু ছৈয়দাবাদ মাদ্রাসা সড়ক: চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাস।

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের গোয়াজার পাড়া থেকে ছৈয়দাবাদ এমদাদুল উলুম দুদু ফকির সিনিয়র মাদ্রাসা পর্যন্ত যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সাম্প্রতিক বন্যায় মারাত্মকভাবে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বেহাল দশায় থাকা এই সড়কটির একটি বড় অংশ পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে ভেঙে পাশের বিলের সাথে মিশে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। ফলে সড়কটি দুই ভাগ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সব ধরনের যান চলাচল ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

 

জানা যায়, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের এটিই একমাত্র প্রধান সড়ক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ছৈয়দাবাদ এমদাদুল উলুম দুদু ফকির সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে সড়কের মাঝখানে বড় অংশ ভেঙে বিলীন হয়ে যাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি বা অসাবধানতায় যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কায় রয়েছে এলাকাবাসী।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না করায় এর আগে থেকেই বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল এবং ইট উঠে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। এর ওপর সাম্প্রতিক বন্যাকবলিত হয়ে সড়কের একাংশ সম্পূর্ণ ধসে যাওয়ায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

 

শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিচ্ছিন্ন করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।