শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা: আত্মশুদ্ধি ও মৈত্রীর বাণীতে উদ্ভাসিত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব
শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা: আত্মশুদ্ধি ও মৈত্রীর বাণীতে উদ্ভাসিত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব
বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা
যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ উদযাপিত হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা’। বৌদ্ধ প্রবারণা পূর্ণিমা মানেই আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং মৈত্রী ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার দিন। বৌদ্ধ পঞ্জিকা অনুসারে আশ্বিনী পূর্ণিমার এই তিথিতে বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের তিন মাসব্যাপী বর্ষাব্রত সমাপ্ত হয়।
আজ দিনব্যাপী দেশের প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে নানা ধর্মীয় কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বুদ্ধ পূজা, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান এবং পঞ্চশীল, অষ্ঠশীল ও প্রবারণা প্রার্থনা। বৌদ্ধ বিহারগুলোতে বুদ্ধের বাণী প্রচার এবং বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রর্থনা করা হচ্ছে।
পৌরাণিক ও ধর্মীয় ইতিহাস থেকে জানা যায়, মহামানব গৌতম বুদ্ধ প্রবারণা পূর্ণিমার এই তিথিতেই তিন মাস বর্ষাব্রত সমাপ্ত করে স্বর্গরাজ্যে প্রবাসিত মাতৃদেবী ও দেবকুলকে ধর্মাভিষেকের পর মর্ত্যধামে সাংকিষ্যা নগরে অবতরণ করেছিলেন। এছাড়া, বর্ষাব্রত সমাপ্তির পর ভিক্ষুসংঘ যাতে নিজেদের ত্রুটি-বিচ্যুতি একে অপরের কাছে প্রকাশ ও সংশোধনের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে পারেন, সেটির জন্য বুদ্ধ এই প্রবারণার বিধান প্রবর্তন করেছিলেন। ‘প্রবারণা’ শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো বারণ করা, নিবারণ করা বা সন্তুষ্ট করা; যার মূল লক্ষ্য হলো আত্মোপলব্ধি ও পরিশুদ্ধ জীবনযাপন।
প্রবারণা পূর্ণিমার সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং মনোমুগ্ধকর দিক হলো উৎসবের সমাপ্তিতে রাতের আকাশ আলোকিত করে ফানুস ওড়ানো। আজ (রবিবার) এবং আগামী কাল (সোমবার) রাতে বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ অধ্যুষিত এলাকা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামসহ দেশের নানা প্রান্তের বৌদ্ধ বিহারগুলোতে শত শত রঙিন ফানুস ও প্রদীপ আকাশে উড়িয়ে আনন্দ উদযাপন করা হবে। শত শত প্রদীপের আলোয় আলোকিত হবে চারপাশ, যা অশুভ শক্তি ও অন্ধকার দূর করে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবারণা পূর্ণিমা কেবল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং মেলবন্ধন দৃঢ় করার অনন্য এক সুযোগ। উৎসবকে কেন্দ্র করে সব বয়সের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উৎসবের এই পবিত্র লগ্নে দেশের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীসহ সকল স্তরের মানুষ যেন একে অপরের প্রতি মৈত্রী, দয়া ও সহমর্মিতা বজায় রেখে একটি শান্তিময় ও সুন্দর সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন—এটাই আজকের দিনে সকলের প্রত্যাশা।


আপনার মতামত লিখুন
Array