“চাল, ডিম ও পেঁয়াজের বাজারে ঊর্ধ্বগতি, কমেছে মুরগি-সবজির দাম”।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ । ১:০২ অপরাহ্ণ

চাল, ডিম ও পেঁয়াজের বাজারে ঊর্ধ্বগতি, কমেছে মুরগি-সবজির দাম।

নিউজ ডেস্ক:

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চাল, চিনি, ডিম ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। তবে আগে বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় সোনালি মুরগি ও মৌসুমি কিছু সবজির দর এখন কিছুটা কমেছে। এতে সীমিত আয়ের ক্রেতারা বাড়তি চাপে পড়েছেন।

 

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে আগে থেকেই পরিবহন খরচ বাড়ছিল। এর মধ্যে নতুন করে তেলের দাম বাড়ায় পণ্যের দামে প্রভাব পড়েছে।

 

খুচরা বাজারে এখনো বোতলজাত ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে খোলা তেল কিনছেন, যা তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার ডিজেলের ভাড়া সামান্য বাড়ালেও পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া বাস্তবে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে করে সরবরাহ ব্যয় বেড়ে পণ্যের দামও বাড়ছে।

 

গত এক সপ্তাহে মাঝারি মানের চাল—যেমন বিআর-২৮ ও পায়জাম—প্রতি কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে এসব চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৫৩ থেকে ৬০ টাকা। মোটা চাল (স্বর্ণা ও চায়না ইরি) ও সরু চাল (মিনিকেট)-এর দামও কোথাও কোথাও ১-২ টাকা বেশি। মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা এবং সরু চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 

এক বিক্রেতা জানান, বাজারে নতুন আমন চাল রয়েছে, পাশাপাশি ভারত থেকেও আমদানি হচ্ছে এবং বোরো ধান কাটাও শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় চালের দাম বাড়ার কথা না থাকলেও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দাম বাড়ছে।

 

চিনির দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ৫ টাকা। খোলা চিনি এখন ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। প্যাকেট চিনি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১১০ টাকায়।

 

পেঁয়াজের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এক সপ্তাহ আগে ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও এখন প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা।

 

ডিমের বাজারেও অস্থিরতা রয়েছে। আগে প্রতি ডজন ডিম ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা হয়েছে। কিছু এলাকায় হালি ডিম ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা ডজনপ্রতি প্রায় ১৫০ টাকার সমান।

 

অন্যদিকে, মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজিতে এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগে সোনালি মুরগির দাম ছিল ৩৮০ থেকে ৪১০ টাকা, যা এর আগে আরও বেশি ছিল।

 

সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরেছে কিছুটা। বেশিরভাগ সবজি এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। করলা, বেগুন, পটোল, ঢ্যাঁড়স ও বরবটির দাম কমেছে। তবে চিচিঙ্গা, সজনে ডাটা, কাকরোল ও ধুন্দলের দাম তুলনামূলক বেশি।

 

এক সবজি বিক্রেতা জানান, বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

সম্পাদক : মো আসমত হোসেন , নির্বাহী সম্পাদক : শহিদুজ্জামান হক ।  কপিরাইট © দৈনিক বাংলা নিউজ ,সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন