লামার ফাঁসিয়াখালীতে অবৈধ ইটভাটা মালিক এমরান-এর কালো টাকার কাছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসন কি ম্যানেজ।
বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামার ৩নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড রঙ্গারঝিরি এলাকায় মসজিদের পাশেই উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাহাড় নিধন এবং বন উজাড়ের মহোৎসবে মেতেছে অবৈধ ইটভাটা মালিক এমরান হোসেন।
এই ইটভাটার মালিক এমরান এর বিরুদ্ধে টিনের চিম্মি ব্যবহার পরিবেশ ধ্বংস,অবৈধ জ্বালানি হিসেবে লাকড়ি পোড়ানো সহ শিশুশ্রমের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই তিনি এসব অপকর্ম চালাচ্ছেন বলে দম্ভোক্তি করেছেন এই অবৈধ ইটভাটা মালিকের কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়,ইটভাটার জ্বালানির চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঠ আশপাশের সীমান্ত এলাকা সাঙ্গু ও ইয়াংছা মৌজার বনভূমি থেকে নির্বিচারে কাঠ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে পাহাড়ি বনাঞ্চল । কয়লার পরিবর্তে বনের কাঠ পোড়ানোর ফলে ওই এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়রা এই প্রতিবেদক আরো জানান,রঙ্গারঝিরি ছোট ছোট নদীর তীরের কৃষি জমি থেকে মাঠি কেটে সাবাড় করে এই ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে প্রশাসনের চোখের সামনে কিন্তু প্রশাসন চুপচাপ নীরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে…?? রক্ষক যখন বক্ষক হয়..!!
এই ইটভাটা মালিকের কাছে প্রশাসনিক বৈধতা ও বন উজাড়ের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার বৈধতার কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। উল্টো দম্ভের সাথে তারা জানান:”প্রশাসনিক বিষয়গুলোকে আমরা ম্যানেজ করেই কাজ করছি।” কর্তৃপক্ষের এমন বক্তব্যে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে,পরিবেশ আইন লঙ্ঘন হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন কেন নিরব ভূমিকা পালন করছে? অভিযোগ রয়েছে এই অবৈধ ইটভাটা মালিক এমরানের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইন ও পাহাড়ের মাটি কাটা আইনে এখনো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর।
স্থানীয়দের অভিযোগ অবৈধ কালো টাকার জুড়ে এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের গোপন তদবিরের রহস্যজনক কারণে এই অবৈধ ইটভাটা মালিক এমরান হোসেন এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে নির্বিঘ্নে বন উজাড় ও জমি এবং পাহাড় কাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এখন স্থানীদের প্রশ্ন মতে?? কালো টাকা বড় নাকি প্রশাসনিক আইন বড় দেখার অপেক্ষায় লামার ৩ নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডবাসী.??
পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি এই ইটভাটায় ছোট ছোট বাচ্চা শিশুদের দিয়ে ও কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে,যা শিশুশ্রম আইনে বিদ্যামানে শামিল। এতে একদিকে শিশুদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে আশেপাশে গ্রামের মানুষগুলোর জনজীবনে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিচ্ছে।
ভবিষ্যতে পরিবেশের ভারসাম্য জৈব বিচিত্র রক্ষা এবং জনজীবন রক্ষার্থে অবিলম্বে এই ইটভাটায় অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সচেতন পরিবেশ বাদী সংগঠন ও স্থানীয় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সুশীল সমাজিক সংগঠনগুলো।পাহাড় কাটা, জ্বালানি হিসেবে লাকড়ি পোড়ানো বন্ধে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং এই অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান স্থানীয়রা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬ । ৩:৪৩ অপরাহ্ণ