সাতকানিয়ায় পানি কমছে, তবে কাটছে না দুর্ভোগ; বেরিয়ে আসছে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬ । ৭:২৩ অপরাহ্ণ

সাতকানিয়ায় পানি কমছে, তবে কাটছে না দুর্ভোগ; বেরিয়ে আসছে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র।

সাতকানিয়া চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

 

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার নিম্নাঞ্চল থেকে পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। তবে পানি কমলেও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কমেনি, বরং পরিস্থিতির উন্নতির সাথে সাথে ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র এখন প্রকট হয়ে উঠছে।

 

উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এখনো উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত রয়েছে। পানি কমলেও অনেক এলাকায় এখনো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে আছে। ফলে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজ ঘরে ফেরা এখনো অনিশ্চিত প্রায় চার লাখ পানিবন্দি মানুষের জন্য।

 

বন্যার পানি সরে যাওয়ার সাথে সাথে এলাকায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় ঘরবাড়ি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও মোবাইল নেটওয়ার্ক অনেক জায়গায় এখনো সচল হয়নি। বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালানো যাচ্ছে না, যার ফলে দেখা দিয়েছে তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকট। অনেক পরিবার গত কয়েকদিন ধরে পর্যাপ্ত খাবার ও প্রয়োজনীয় শুকনো সামগ্রীর অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এখনো অনেক দুর্গম এলাকায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা পুরোপুরি পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

পানি কমতেই ভেসে উঠছে বন্যার ক্ষতচিহ্ন। উপজেলার গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে, অনেক সড়ক পানির তোড়ে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। কৃষি ও মৎস্য খাতে নেমে এসেছে বিপর্যয়। বিস্তীর্ণ এলাকার আমনের বীজতলা, সবজিখেত ও মাছের ঘের পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, মৎস্য ও কৃষিখাতে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

বন্যার ভয়াবহতায় শুধু জীবিতরাই নয়, মৃতদের দাফন নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম বিড়ম্বনা। অনেক এলাকায় কবরস্থান পানির নিচে তলিয়ে থাকায় মরদেহ দাফনের মতো নূন্যতম সুযোগটুকুও পাচ্ছেন না শোকাহত পরিবারগুলো। এটি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগকে এক নতুন ও মর্মান্তিক মাত্রা দিয়েছে।

 

সেনাবাহিনীর সহায়তায় উদ্ধার কার্যক্রম চললেও পানির প্রবল স্রোত এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল দুর্গত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা, বিশুদ্ধ পানি এবং শুকনো খাবারের সরবরাহ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

পানি নামার সাথে সাথে পানিবাহিত রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাই দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্পাদক : মো আসমত হোসেন , নির্বাহী সম্পাদক : শহিদুজ্জামান হক ।  কপিরাইট © দৈনিক বাংলা নিউজ ,সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন