চট্টগ্রামে বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি: শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষা নিয়ে পুনর্বিবেচনার দাবি।
মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম চট্টগ্রাম বাঁশখালী প্রতিনিধি:
টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা সম্প্রতি বন্যা ও জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। বৃষ্টিপাত কমে আসায় ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পানি সরে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এখনও সময় লাগছে। বিশেষ করে শিক্ষা খাতের ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।
বন্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থীর বই-পুস্তক, খাতা, শিক্ষা উপকরণ এবং বিদ্যালয়ের সামগ্রী নষ্ট হয়েছে। অনেক পরিবার এখনও ঘরবাড়ি পরিষ্কার, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা এবং দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিক করার সংগ্রামে ব্যস্ত। ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থীর পক্ষে পরীক্ষার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মনে করছেন, চট্টগ্রাম বিভাগের পরীক্ষাগুলো বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হলে শিক্ষার্থীরা সমান সুযোগে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
অন্যদিকে, দেশের যেসব বিভাগ বা অঞ্চলে বৃষ্টির প্রভাব সীমিত এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে, সেখানে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ অব্যাহত রাখা যেতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অপ্রয়োজনীয়ভাবে সব অঞ্চলের পরীক্ষা স্থগিত করলে শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দুর্যোগকালীন সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অঞ্চলভিত্তিক বাস্তবতা, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা জরুরি। এতে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে, তেমনি শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতাও বজায় থাকবে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের স্বার্থে নিয়মিত পাঠদান, সময়মতো পরীক্ষা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। অনেকের মতে, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের প্রধান মনোযোগ হওয়া উচিত পড়াশোনা, নৈতিক শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের দিকে, যাতে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষম হয়ে উঠতে পারে।
এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়ায় মোশাররফ হোসেন, আহ্বায়ক, বাঁশখালী পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দল এবং সাবেক সভাপতি, বাঁশখালী পৌরসভা ছাত্রদল বলেন,
“বর্তমান দুর্যোগ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরীক্ষা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে আমি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই, পরীক্ষা নিয়ে অযথা আন্দোলন বা সংঘাতের পথে না গিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী হতে এবং নিয়মিত বিদ্যালয়মুখী হতে। শিক্ষাই একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি। তাই যেকোনো দাবি-দাওয়া শান্তিপূর্ণ ও যৌক্তিক উপায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করাই অধিক ফলপ্রসূ।”
সচেতন মহলের প্রত্যাশা, শিক্ষা প্রশাসন বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে সময়োপযোগী ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬ । ৭:০২ অপরাহ্ণ