বান্দরবানের পাহাড় থেকে জুডোর ফাইনালের মঞ্চে: চ্যাম্পিয়ন য়ুং পাও মুরং।
বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে পাহাড়ের মেয়েরা নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন নিয়মিত। এরই ধারাবাহিকতায় জুডো খেলার নারী ইভেন্টে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বান্দরবানের পাহাড়ের কৃতি সন্তান য়ুং পাও মুরং। দুর্গম পাহাড়ের প্রতিকূলতাকে জয় করে তার এই ফাইনাল জয় ও স্বর্ণ মেডেল অর্জন দেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-এর ১ম আসরে নারী জুডো ইভেন্টে এই তরুণী জুডোকা প্রমাণ করেছেন যে, সুযোগ পেলে পাহাড়ের বুক থেকেও বেরিয়ে আসতে পারে বিশ্বমানের প্রতিভা।
প্রতিকূলতা পেরিয়ে সাফল্যের সিঁড়িতে
বান্দরবানের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা য়ুং পাও মুরংয়ের জুডো খেলার যাত্রাটা মোটেও সহজ ছিল না। যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, অনুশীলনের আধুনিক সরঞ্জামের অভাব এবং নানা অর্থনৈতিক সংকট—সবকিছু পেছনে ফেলে তিনি এগিয়ে গেছেন কেবল নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর লক্ষ্যের জোরে।
নিবিড় ও কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি ধাপে ধাপে নিজেকে প্রস্তুত করেন প্রতিযোগিতামূলক আসরের জন্য। আঞ্চলিক পর্যায় পেরিয়ে ফাইনালে দুর্দান্ত লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে তিনি যখন চ্যাম্পিয়নের স্বর্ণ মেডেল উঁচিয়ে ধরেন, তখন গর্জে ওঠে পুরো গ্যালারি।
পাহাড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার
য়ুং পাও মুরংয়ের এই ঐতিহাসিক জয়ে কেবল তার পরিবার বা সংগঠন নয়, আনন্দের জোয়ার বইছে বান্দরবানের পুরো পাহাড়ি জনপদে।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও তরুণরা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।পাহাড়ি এলাকার অন্যান্য নারীদের কাছেও তিনি এখন এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা।
ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে পদক জয়ের স্বপ্ন দেখছেন য়ুং পাও মুরং।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যদি এই প্রতিভাবান জুডোকার পাশে আরও সুনির্দিষ্ট পৃষ্ঠপোষকতা থাকে, তবে তিনি দেশের জন্য আরও বড় গৌরব বয়ে আনতে সক্ষম হবেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬ । ১২:৪৭ অপরাহ্ণ