দোয়ারাবাজারে হাফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা জালিয়াতির অভিযোগ, মানববন্ধনে সরব স্থানীয়রা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ । ৫:৫৮ অপরাহ্ণ

দোয়ারাবাজারে হাফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা জালিয়াতির অভিযোগ, মানববন্ধনে সরব স্থানীয়রা।

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

 

ইমাম-মুয়াজ্জিনের ভুয়া পরিচয় দিয়ে সরকারি ভাতার অর্থ আত্মসাৎ, বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা এবং সুবিধা অনুযায়ী রূপ বদলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার হাফিজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলা গ্রামের এই বাসিন্দার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও জালিয়াতির সঠিক তদন্তের দাবিতে বাদ জুমা পশ্চিম টেংরাটিলা জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

স্থানীয়রা জানান, পশ্চিম টেংরাটিলা জামে মসজিদের নাম ব্যবহার করে ইসলামী ফাউন্ডেশনের পরিচালিত ‘মসজিদভিত্তিক সহজ কুরআন শিক্ষা’ কার্যক্রমের সরকারি সম্মানী ভাতা নিয়মিত উত্তোলন করছেন হাফিজ উদ্দিন। অথচ বাস্তবে তিনি উক্ত মসজিদে ইমাম বা মুয়াজ্জিন কোনো পদেই দায়িত্বে নেই। প্রকৃত তথ্য গোপন রেখে কীভাবে তিনি এ সুযোগ বাগিয়ে নিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ।

 

মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদানকালে পশ্চিম টেংরাটিলা জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি আসক আলী, সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন ও স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, “মসজিদের নামে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিতে ভুয়া কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রুত এই ভুয়া নিয়োগ বাতিল করে বর্তমানে কর্মরত আসল ইমামকে সেই পদে স্থলাভিষিক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।”

 

এদিকে হাফিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাভেল ব্যবসার আড়ালে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ মিলেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের একজন, ইসলামপুর গ্রামের মো. মুকবুল হোসেন কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, ভালো চাকরির আশায় সম্বল বেঁচে হাফিজের হাতে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিদেশে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত কাজের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল না পেয়ে তিনি এখন চরম আর্থিক ও পারিবারিকভাবে নিঃস্ব অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে আরও জানান, নিজের স্বার্থ হাসিলে হাফিজ উদ্দিন বারবার রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করেন। কিছুদিন আগেও ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে তার উঠবস ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেলেও, পটপরিবর্তনের পর এখন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে তার ঘনিষ্ঠতার ছবি ছড়িয়ে পড়ছে।

 

উত্থাপিত এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাফিজ উদ্দিন জালিয়াতির বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “আমি পশ্চিম টেংরাটিলা জামে মসজিদের নাম দিয়ে উত্তর টেংরাটিলায় পড়াই। আর বিদেশে গিয়ে প্রবাসীরা অনেক কথাই বলে, সব কথা কান দিলে চলে না।” এর বাইরে অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

অভিযোগের বিষয়ে ইসলামী ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক বিচারে মনে হচ্ছে তিনি মিথ্যা তথ্য প্রদান করে যুক্ত হয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মসজিদের ভুয়া পরিচয়, অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রবাস গমনে ইচ্ছুক সাধারণ মানুষকে প্রতারণার বিষয়ে এখন স্থানীয় প্রশাসন ও ইসলামী ফাউন্ডেশন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে টেংরাটিলা গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ।

সম্পাদক : মো আসমত হোসেন , নির্বাহী সম্পাদক : শহিদুজ্জামান হক ।  কপিরাইট © দৈনিক বাংলা নিউজ ,সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন