বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে দুদকের অভিযান: এবার কি থামবে অনিয়মের রাজত্ব?
বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশেষে অভিযানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই অভিযানকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি এই জনপদে সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে—তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললেও কি সবকিছু আগের মতোই চলবে, না-কি সত্যিকার অর্থে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান পার্বত্য জেলার সাতটি উপজেলা, দুই পৌরসভা এবং চৌত্রিশটি ইউনিয়নের নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার নামে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও পাহাড়ি জনপদের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কাগজে-কলমে বড় অংকের বরাদ্দ দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তদারকির অভাবকে কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদার হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।
এরই ধারাবাহিকতায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি বিশেষ দল অধিদপ্তরে অভিযানে নেমে বিভিন্ন নথিপত্র ও প্রকল্পের হিসাবপত্র যাচাই-বাছাই করছেন। দুদক সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক অভিযোগের সত্যতা ও সুনির্দিষ্ট অনিয়মের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে সচেতন মহলের আশঙ্কা, অতীতে অনেক দুর্নীতির তদন্ত শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায় না। ফলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এই দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কি না, নাকি এটিও ধামাচাপা পড়ে যাবে—তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে স্থানীয়রা।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, দুদকের এই জোরালো পদক্ষেপই প্রমাণ করবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান কতটা ফলপ্রসূ। পাহাড়ের সাধারণ মানুষের সুপেয় পানির অধিকার নিশ্চিত করতে এবং সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার দেখতে তারা নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ৪:১৬ অপরাহ্ণ