খুঁজুন
বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

গ্রামীণ উন্নয়নের প্রতিকৃত শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়া।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ
গ্রামীণ উন্নয়নের প্রতিকৃত শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়া।

গ্রামীণ উন্নয়নের প্রতিকৃত শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়া।

এম গফুর উদ্দিন চৌধুর:

 

বাংলাদেশ মূলত একটি গ্রামপ্রধান দেশ। “গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে” এই চিরন্তন সত্যকে ধারণ করে যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এদেশের গ্রামীণ জনপদের ভাগ্য উন্নয়নে সবচেয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল, তার সুতিকাগার হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন যে, রাজধানী-কেন্দ্রিক উন্নয়ন দিয়ে একটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক মুক্তি সম্ভব নয়। পরবর্তীতে তাঁরই আদর্শের ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গ্রামীণ নারী শিক্ষা, কৃষি এবং স্থানীয় সরকার কাঠামোকে তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, বর্তমান রাষ্ট্রনায়ক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে গড়ে তোলার রূপরেখা প্রণয়ন করছেন।

 

২. গ্রামীণ উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (১৯৭৭-১৯৮১) ঐতিহাসিক অবদান: শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন দূরদর্শী এবং মাটির কাছাকাছি থাকা একজন রাষ্ট্রনায়ক। ১৯৭৫ পরবর্তী ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্ভিক্ষ-পীড়িত বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করতে তিনি ‘নব্য অর্থনৈতিক ও গ্রামীণ বিপ্লব’ এর সূচনা করেন।

 

খাল খনন কর্মসূচি ও কৃষি বিপ্লব: শহীদ জিয়ার সবচেয়ে যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ‘স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি’। তিনি নিজে কোদাল হাতে নিয়ে জনমানুষের সাথে খাল খননে নেমেছিলেন। এর ফলে হাজার হাজার মাইল নতুন ও পুনখননকৃত খালের মাধ্যমে ফসলি জমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছায়। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো খাদ্য ঘাটতি কাটিয়ে চাল রপ্তানির গৌরব অর্জন করে।

 

পল্লী বিদ্যুৎায়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা: গ্রামের অন্ধকার দূর করতে এবং গ্রামীণ কুটির শিল্প ও কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ আনতে ১৯৭৭ সালে তিনি পল্লী বিদ্যুৎায়ন বোর্ড গঠন করেন। এটি ছিল গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করার ম্যাজিক টুল।

 

সবুজ বিপ্লব ও সার-বীজ বিতরণ: কৃষকদের মাঝে নামমাত্র মূল্যে এবং বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ, সার ও কীটনাশক বিতরণের এক অভূতপূর্ব চেইন তৈরি করেন তিনি। কৃষি ঋণ প্রাপ্তি সহজ করতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে গ্রামের দোরগোড়ায় নিয়ে যান।

 

হাঁস-মুরগি ও মৎস্য চাষের আধুনিকায়ন: গ্রামীণ যুবসমাজকে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করতে পোল্ট্রি ও মৎস্য চাষে সরকারি প্রণোদনা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন।

 

৩. স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণে শহীদ জিয়ার বৈপ্লবিক পদক্ষেপ: জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে গ্রামের সাধারণ মানুষ। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে স্থানীয় মানুষের হাতে শাসনভার তুলে দিতে তিনি স্থানীয় সরকারকে পুনর্গঠন করেন।

 

স্বনির্ভর গ্রাম সরকার গঠন: ১৯৮০ সালে শহীদ জিয়া ‘গ্রাম সরকার’ আইন প্রবর্তন করেন। প্রতিটি গ্রামে স্থানীয় মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে ১১ সদস্যের গ্রাম সরকার গঠিত হতো। এর মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামের বিরোধ গ্রামে মীমাংসা করা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায় থেকে সরাসরি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা।

 

থানা উন্নয়ন কমিটি: স্থানীয় সরকারের মধ্যবর্তী স্তর হিসেবে থানা পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে উন্নয়ন কমিটি গঠন করা হয়, যা পরবর্তীতে উপজেলা ব্যবস্থার প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল।

 

পল্লী পুলিশ ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ঠউচ): গ্রামীণ জনপদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চুরি-ডাকাতি রোধে তিনি গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) গঠন করেন। এর মাধ্যমে গ্রামের মানুষ নিজেরাই নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হয়।

 

৪. গ্রামীণ ও স্থানীয় সরকার উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার (১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬) অবদান: শহীদ জিয়ার শাহাদাত বরণের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিন মেয়াদে সরকার পরিচালনা কালীন গ্রামীণ উন্নয়ন ধারাকে আরও বেগবান ও আধুনিক রূপ দান করেন। নারী শিক্ষার প্রসার ও উপবৃত্তি চালু: গ্রামীণ নারী সমাজকে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করতে বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং উপবৃত্তি চালু করেন। এই একটি মাত্র সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের গ্রামীণ সামাজিক কাঠামো এবং অর্থনীতিতে নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে দেয়।

 

উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থার কার্যকারিতা: ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর তিনি স্থানীয় সরকারকে আরও গণতান্ত্রিক করতে আইনি সংস্কার করেন। পরবর্তীতে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে উপজেলা পরিষদকে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হয়।

 

কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও ভিজিডি : গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের জন্য, বিশেষ করে কর্মহীন মৌসুমে, কাবিখা ও টেস্ট রিলিফের মাধ্যমে গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। দুস্থ ও বিধবা মহিলাদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনতে ব্যাপকভাবে ভিজিডি ও ভিজিএফ কার্ড প্রবর্তন করা হয়।

 

গ্রামীণ সড়ক ও এলজিইডি এর বিকাশ: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (খএঊউ)-কে শক্তিশালী করে দেশের প্রতিটি গ্রামকে পাকা রাস্তার নেটওয়ার্কের আওতায় আনার মেগা প্রজেক্ট তাঁর আমলেই গতি পায়। এর ফলে গ্রামীণ হাট-বাজারের সাথে শহরের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়, যা কৃষকের পণ্যের সঠিক মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করে।

 

৫. আধুনিক প্রেক্ষাপট: বর্তমান গ্রামীণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সংকট: বর্তমানে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চরম রাজনৈতিক দলীয়করণ, আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং অতি-কেন্দ্রীকরণের ফলে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদগুলো আজ ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে।

 

অর্থনৈতিক পরনির্ভরশীলতা: স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আয়ের উৎস সীমিত এবং তারা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় বাজেটের অনুদানের ওপর নির্ভরশীল।

 

আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ: নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপরে আমলা বা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (টঘঙ) অতিরিক্ত কর্তৃত্ব স্থানীয় সরকারের মূল চেতনাকে ধ্বংস করছে।

 

দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার অভাব: গ্রামীণ অবকাঠামো খাতের বরাদ্দ হরিলুট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ না থাকায় জবাবদিহিতা শূন্যের কোঠায় নেমেছে।

 

৬. আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের করনীয় ও রূপরেখা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ‘৩১ দফা’ রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। তাঁর এই রূপরেখায় গ্রামীণ উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী দিনে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

 

ক) স্থানীয় সরকারের প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ ও ক্ষমতায়ন: দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ও স্থানীয় ক্ষমতার ভারসাম্য: কেন্দ্রে ক্ষমতার স্বৈরাচারী মনোভাব দূর করতে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারকে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে।

 

আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করা: উপজেলা ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের নির্বাহী ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। ইউএনও বা ডিসি থাকবেন নির্বাচিত পরিষদের সহযোগী বা সচিব হিসেবে, নিয়ন্ত্রক হিসেবে নয়।

 

খ) অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও বাজেট বরাদ্দ; আলাদা স্থানীয় সরকার বাজেট: জাতীয় বাজেটের একটি নির্দিষ্ট বড় অংশ (কমপক্ষে ৩০-৪০%) সরাসরি স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর (ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ) অনুকূলে বরাদ্দ দিতে হবে।

 

নিজস্ব রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা: স্থানীয় পরিষদগুলোকে আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে নিজস্ব আয়ের উৎস (যেমন- হাটবাজার ইজারা, স্থানীয় কর, ল্যান্ড ট্যাক্সের অংশ) বৃদ্ধির স্বাধীনতা দিতে হবে যাতে তারা কেন্দ্রের দিকে চেয়ে না থাকে।

 

গ) গ্রামীণ অর্থনীতিতে ‘স্মার্ট’ ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার: ডিজিটাল গ্রামীণ হাব (উরমরঃধষ জঁৎধষ ঐঁন): তারেক রহমানের ‘তারুণ্যের শক্তি’ ধারণাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে একটি করে আধুনিক ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তুলতে হবে। এর ফলে গ্রামীণ যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকা বা বিদেশমুখী হতে হবে না।

 

কৃষি-প্রযুক্তি ও কোল্ড স্টোরেজ চেইন: প্রতি উপজেলা পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অর্থায়নে কোল্ড স্টোরেজ (হিমাগার) স্থাপন করতে হবে। কৃষকরা যাতে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফসলের সঠিক দাম জানতে পারে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কম হয়, তার প্রযুক্তিগত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। [১]

 

ঘ) জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ: উন্মুক্ত বাজেট ও অডিট: ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট প্রণয়নে গ্রামের সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ মতামতের জন্য ‘ওয়ার্ড সভা’ পুনরায় কার্যকর করতে হবে। প্রতিটি খরচের হিসাব ডিজিটাল পোর্টালে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হবে।

 

দলীয়করণের অবসান: স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে হবে। দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে উন্মুক্ত নির্বাচনের ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে, যা স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য ও সর্বজনগ্রাহ্য নেতৃত্ব তৈরিতে সাহায্য করবে।

 

ঙ) গ্রামীণ অবকাঠামো ও পরিবেশ রক্ষা: শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছানো: তারেক রহমানের অন্যতম ভিশন হলো পরিবেশ রক্ষা করে গ্রামীণ জনপদে উন্নত স্যানিটেশন, নিরাপদ সুপেয় পানি, আধুনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

 

নদী ও জলাশয় উদ্ধার: শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচির আধুনিক সংস্করণ হিসেবে দেশের মৃতপ্রায় নদী ও খালগুলো ড্রেজিংয়ের আওতায় এনে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পৃষ্ঠভাগের পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। ৫ মাসের এই সংক্ষিপ্ত সময়ে বর্তমান সরকার শহরমূখী উন্নয়নের ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে গ্রাম ও পল্লী জনপদকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত করার কাঠামোগত ভিত্তি স্থাপন করেছে।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পাঁচ মাসে গ্রামীণ উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণের মূল অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫৪টি জেলায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন কাজ শুরু, ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, এবং উপজেলা হাসপাতালগুলোকে আইসিইউ সুবিধাসহ ১০১ শয্যায় উন্নীত করার মাধ্যমে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ।

 

শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার গ্রামীণ উন্নয়ন নীতি ছিল জনমুখী ও বাস্তবসম্মত। তাঁরা ধনিক শ্রেণীর পরিবর্তে প্রান্তিক মানুষকে উন্নয়নের অংশীদার করেছিলেন। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে, তারেক রহমানের ওপর দায়িত্ব এসেছে সেই ঐতিহ্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী না করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ না করে কোনো রাষ্ট্র উন্নত হতে পারে না। জনগণের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের যুগোপযোগী ও বিজ্ঞানমনস্ক নেতৃত্বই পারবে শহীদ জিয়ার ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ এর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করতে এবং দেশের প্রতিটি গ্রামকে একেকটি অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউজে পরিণত করতে।

 

লেখক: সিনিয়র সহ-সভাপতি বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম, মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটি ও চেয়ারম্যান পালংখালী ইউনিয়ন, পরিষদ, উখিয়া, কক্সবাজার।

রুহিয়ায় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
রুহিয়ায় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার।

রুহিয়ায় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার।

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় গৃহবধূকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে স্বামী সাদ্দাম হোসেন ৩০ কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। এর আগে নিহতের চাচা আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে নিহতের স্বামীসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে রুহিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি ঘটেছে রুহিয়া থানার ৩ নং রাজাগাঁও ইউনিয়নের রাজাগাঁও (যুগিপুকুর) এলাকায়। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩ বছর আগে উক্ত গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩০) এর সঙ্গে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বৈকুন্ঠপুর গ্রামের মোঃ সাদেকুল ইসলামের মেয়ে আরিফা খাতুন (২১) এর সহিত পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই যৌতুকের জন্য আরিফার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন সাদ্দাম। বাবা-মায়ের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য সাদ্দাম ও তার পরিবারের লোকজন আরিফাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে আরিফা বাবার বাড়িতে চলে যান। পরবর্তীতে উভয় পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতিতে শালিস-বৈঠকের মাধ্যমে আপস-মিমাংসা করে আরিফাকে আবারও স্বামীর সংসারে পাঠানো হয়। তবে সংসার পুনরায় শুরু হলেও সাদ্দাম ও তার পরিবারের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তারা আবারও পূর্বের মতো ২ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে আরিফার ওপর নির্যাতন চালাতে থাকেন। পরবর্তীতে গত ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন আরিফা খাতুন। সাদ্দামের পরিবার বিষয়টিকে নিছক ‘আত্মহত্যা’ দাবি করলেও নিহতের বাবার পরিবারের অভিযোগ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে অথবা আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রুহিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদিউজ্জামান জানান, এ বিষয়ে পেনাল কোডের ৩০৬ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে যার মামলা নম্বর: ১১, তারিখ: ২৯/০৭/২০২৬)। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত স্বামী মোঃ সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বন্যায় ভেঙে বিলীন গোয়াজার পাড়া টু ছৈয়দাবাদ মাদ্রাসা সড়ক: চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাস।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
বন্যায় ভেঙে বিলীন গোয়াজার পাড়া টু ছৈয়দাবাদ মাদ্রাসা সড়ক: চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাস।

বন্যায় ভেঙে বিলীন গোয়াজার পাড়া টু ছৈয়দাবাদ মাদ্রাসা সড়ক: চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাস।

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের গোয়াজার পাড়া থেকে ছৈয়দাবাদ এমদাদুল উলুম দুদু ফকির সিনিয়র মাদ্রাসা পর্যন্ত যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সাম্প্রতিক বন্যায় মারাত্মকভাবে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বেহাল দশায় থাকা এই সড়কটির একটি বড় অংশ পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে ভেঙে পাশের বিলের সাথে মিশে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। ফলে সড়কটি দুই ভাগ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সব ধরনের যান চলাচল ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

 

জানা যায়, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের এটিই একমাত্র প্রধান সড়ক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ছৈয়দাবাদ এমদাদুল উলুম দুদু ফকির সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে সড়কের মাঝখানে বড় অংশ ভেঙে বিলীন হয়ে যাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি বা অসাবধানতায় যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কায় রয়েছে এলাকাবাসী।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না করায় এর আগে থেকেই বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল এবং ইট উঠে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। এর ওপর সাম্প্রতিক বন্যাকবলিত হয়ে সড়কের একাংশ সম্পূর্ণ ধসে যাওয়ায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

 

শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিচ্ছিন্ন করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

হাম উপসর্গে ভর্তি রোগীদের পাশে এমপি সাচিং প্রু জেরী, নগদ অর্থ, সুপেয় পানি ও শুকনো খাবার বিতরণ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
হাম উপসর্গে ভর্তি রোগীদের পাশে এমপি সাচিং প্রু জেরী, নগদ অর্থ, সুপেয় পানি ও শুকনো খাবার বিতরণ।

হাম উপসর্গে ভর্তি রোগীদের পাশে এমপি সাচিং প্রু জেরী, নগদ অর্থ, সুপেয় পানি ও শুকনো খাবার বিতরণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

হামের উপসর্গ নিয়ে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে তিনি চিকিৎসাধীন রোগীদের মাঝে নগদ অর্থ, সুপেয় পানি ও শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে গিয়ে তিনি রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় রোগীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের হাতে নগদ অর্থ, সুপেয় পানি ও শুকনো খাবার তুলে দেন।

সহায়তা বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রশিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, নাছির চৌধুরী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনরা এ মানবিক উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ জানান, দুর্যোগ ও সংকটময় সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।