খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

গ্রামীণ উন্নয়নের প্রতিকৃত শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়া।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ
গ্রামীণ উন্নয়নের প্রতিকৃত শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়া।

গ্রামীণ উন্নয়নের প্রতিকৃত শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়া।

এম গফুর উদ্দিন চৌধুর:

 

বাংলাদেশ মূলত একটি গ্রামপ্রধান দেশ। “গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে” এই চিরন্তন সত্যকে ধারণ করে যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এদেশের গ্রামীণ জনপদের ভাগ্য উন্নয়নে সবচেয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল, তার সুতিকাগার হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন যে, রাজধানী-কেন্দ্রিক উন্নয়ন দিয়ে একটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক মুক্তি সম্ভব নয়। পরবর্তীতে তাঁরই আদর্শের ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গ্রামীণ নারী শিক্ষা, কৃষি এবং স্থানীয় সরকার কাঠামোকে তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, বর্তমান রাষ্ট্রনায়ক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে গড়ে তোলার রূপরেখা প্রণয়ন করছেন।

 

২. গ্রামীণ উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (১৯৭৭-১৯৮১) ঐতিহাসিক অবদান: শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন দূরদর্শী এবং মাটির কাছাকাছি থাকা একজন রাষ্ট্রনায়ক। ১৯৭৫ পরবর্তী ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্ভিক্ষ-পীড়িত বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করতে তিনি ‘নব্য অর্থনৈতিক ও গ্রামীণ বিপ্লব’ এর সূচনা করেন।

 

খাল খনন কর্মসূচি ও কৃষি বিপ্লব: শহীদ জিয়ার সবচেয়ে যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ‘স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি’। তিনি নিজে কোদাল হাতে নিয়ে জনমানুষের সাথে খাল খননে নেমেছিলেন। এর ফলে হাজার হাজার মাইল নতুন ও পুনখননকৃত খালের মাধ্যমে ফসলি জমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছায়। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো খাদ্য ঘাটতি কাটিয়ে চাল রপ্তানির গৌরব অর্জন করে।

 

পল্লী বিদ্যুৎায়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা: গ্রামের অন্ধকার দূর করতে এবং গ্রামীণ কুটির শিল্প ও কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ আনতে ১৯৭৭ সালে তিনি পল্লী বিদ্যুৎায়ন বোর্ড গঠন করেন। এটি ছিল গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করার ম্যাজিক টুল।

 

সবুজ বিপ্লব ও সার-বীজ বিতরণ: কৃষকদের মাঝে নামমাত্র মূল্যে এবং বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ, সার ও কীটনাশক বিতরণের এক অভূতপূর্ব চেইন তৈরি করেন তিনি। কৃষি ঋণ প্রাপ্তি সহজ করতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে গ্রামের দোরগোড়ায় নিয়ে যান।

 

হাঁস-মুরগি ও মৎস্য চাষের আধুনিকায়ন: গ্রামীণ যুবসমাজকে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করতে পোল্ট্রি ও মৎস্য চাষে সরকারি প্রণোদনা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন।

 

৩. স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণে শহীদ জিয়ার বৈপ্লবিক পদক্ষেপ: জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে গ্রামের সাধারণ মানুষ। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে স্থানীয় মানুষের হাতে শাসনভার তুলে দিতে তিনি স্থানীয় সরকারকে পুনর্গঠন করেন।

 

স্বনির্ভর গ্রাম সরকার গঠন: ১৯৮০ সালে শহীদ জিয়া ‘গ্রাম সরকার’ আইন প্রবর্তন করেন। প্রতিটি গ্রামে স্থানীয় মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে ১১ সদস্যের গ্রাম সরকার গঠিত হতো। এর মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামের বিরোধ গ্রামে মীমাংসা করা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায় থেকে সরাসরি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা।

 

থানা উন্নয়ন কমিটি: স্থানীয় সরকারের মধ্যবর্তী স্তর হিসেবে থানা পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে উন্নয়ন কমিটি গঠন করা হয়, যা পরবর্তীতে উপজেলা ব্যবস্থার প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল।

 

পল্লী পুলিশ ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ঠউচ): গ্রামীণ জনপদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চুরি-ডাকাতি রোধে তিনি গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) গঠন করেন। এর মাধ্যমে গ্রামের মানুষ নিজেরাই নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হয়।

 

৪. গ্রামীণ ও স্থানীয় সরকার উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার (১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬) অবদান: শহীদ জিয়ার শাহাদাত বরণের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিন মেয়াদে সরকার পরিচালনা কালীন গ্রামীণ উন্নয়ন ধারাকে আরও বেগবান ও আধুনিক রূপ দান করেন। নারী শিক্ষার প্রসার ও উপবৃত্তি চালু: গ্রামীণ নারী সমাজকে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করতে বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং উপবৃত্তি চালু করেন। এই একটি মাত্র সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের গ্রামীণ সামাজিক কাঠামো এবং অর্থনীতিতে নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে দেয়।

 

উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থার কার্যকারিতা: ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর তিনি স্থানীয় সরকারকে আরও গণতান্ত্রিক করতে আইনি সংস্কার করেন। পরবর্তীতে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে উপজেলা পরিষদকে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হয়।

 

কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও ভিজিডি : গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের জন্য, বিশেষ করে কর্মহীন মৌসুমে, কাবিখা ও টেস্ট রিলিফের মাধ্যমে গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। দুস্থ ও বিধবা মহিলাদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনতে ব্যাপকভাবে ভিজিডি ও ভিজিএফ কার্ড প্রবর্তন করা হয়।

 

গ্রামীণ সড়ক ও এলজিইডি এর বিকাশ: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (খএঊউ)-কে শক্তিশালী করে দেশের প্রতিটি গ্রামকে পাকা রাস্তার নেটওয়ার্কের আওতায় আনার মেগা প্রজেক্ট তাঁর আমলেই গতি পায়। এর ফলে গ্রামীণ হাট-বাজারের সাথে শহরের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়, যা কৃষকের পণ্যের সঠিক মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করে।

 

৫. আধুনিক প্রেক্ষাপট: বর্তমান গ্রামীণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সংকট: বর্তমানে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চরম রাজনৈতিক দলীয়করণ, আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং অতি-কেন্দ্রীকরণের ফলে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদগুলো আজ ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে।

 

অর্থনৈতিক পরনির্ভরশীলতা: স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আয়ের উৎস সীমিত এবং তারা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় বাজেটের অনুদানের ওপর নির্ভরশীল।

 

আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ: নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপরে আমলা বা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (টঘঙ) অতিরিক্ত কর্তৃত্ব স্থানীয় সরকারের মূল চেতনাকে ধ্বংস করছে।

 

দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার অভাব: গ্রামীণ অবকাঠামো খাতের বরাদ্দ হরিলুট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ না থাকায় জবাবদিহিতা শূন্যের কোঠায় নেমেছে।

 

৬. আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের করনীয় ও রূপরেখা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ‘৩১ দফা’ রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। তাঁর এই রূপরেখায় গ্রামীণ উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী দিনে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

 

ক) স্থানীয় সরকারের প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ ও ক্ষমতায়ন: দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ও স্থানীয় ক্ষমতার ভারসাম্য: কেন্দ্রে ক্ষমতার স্বৈরাচারী মনোভাব দূর করতে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারকে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে।

 

আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করা: উপজেলা ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের নির্বাহী ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। ইউএনও বা ডিসি থাকবেন নির্বাচিত পরিষদের সহযোগী বা সচিব হিসেবে, নিয়ন্ত্রক হিসেবে নয়।

 

খ) অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও বাজেট বরাদ্দ; আলাদা স্থানীয় সরকার বাজেট: জাতীয় বাজেটের একটি নির্দিষ্ট বড় অংশ (কমপক্ষে ৩০-৪০%) সরাসরি স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর (ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ) অনুকূলে বরাদ্দ দিতে হবে।

 

নিজস্ব রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা: স্থানীয় পরিষদগুলোকে আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে নিজস্ব আয়ের উৎস (যেমন- হাটবাজার ইজারা, স্থানীয় কর, ল্যান্ড ট্যাক্সের অংশ) বৃদ্ধির স্বাধীনতা দিতে হবে যাতে তারা কেন্দ্রের দিকে চেয়ে না থাকে।

 

গ) গ্রামীণ অর্থনীতিতে ‘স্মার্ট’ ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার: ডিজিটাল গ্রামীণ হাব (উরমরঃধষ জঁৎধষ ঐঁন): তারেক রহমানের ‘তারুণ্যের শক্তি’ ধারণাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে একটি করে আধুনিক ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তুলতে হবে। এর ফলে গ্রামীণ যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকা বা বিদেশমুখী হতে হবে না।

 

কৃষি-প্রযুক্তি ও কোল্ড স্টোরেজ চেইন: প্রতি উপজেলা পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অর্থায়নে কোল্ড স্টোরেজ (হিমাগার) স্থাপন করতে হবে। কৃষকরা যাতে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফসলের সঠিক দাম জানতে পারে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কম হয়, তার প্রযুক্তিগত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। [১]

 

ঘ) জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ: উন্মুক্ত বাজেট ও অডিট: ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট প্রণয়নে গ্রামের সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ মতামতের জন্য ‘ওয়ার্ড সভা’ পুনরায় কার্যকর করতে হবে। প্রতিটি খরচের হিসাব ডিজিটাল পোর্টালে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হবে।

 

দলীয়করণের অবসান: স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে হবে। দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে উন্মুক্ত নির্বাচনের ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে, যা স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য ও সর্বজনগ্রাহ্য নেতৃত্ব তৈরিতে সাহায্য করবে।

 

ঙ) গ্রামীণ অবকাঠামো ও পরিবেশ রক্ষা: শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছানো: তারেক রহমানের অন্যতম ভিশন হলো পরিবেশ রক্ষা করে গ্রামীণ জনপদে উন্নত স্যানিটেশন, নিরাপদ সুপেয় পানি, আধুনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

 

নদী ও জলাশয় উদ্ধার: শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচির আধুনিক সংস্করণ হিসেবে দেশের মৃতপ্রায় নদী ও খালগুলো ড্রেজিংয়ের আওতায় এনে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পৃষ্ঠভাগের পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। ৫ মাসের এই সংক্ষিপ্ত সময়ে বর্তমান সরকার শহরমূখী উন্নয়নের ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে গ্রাম ও পল্লী জনপদকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত করার কাঠামোগত ভিত্তি স্থাপন করেছে।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পাঁচ মাসে গ্রামীণ উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণের মূল অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫৪টি জেলায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন কাজ শুরু, ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, এবং উপজেলা হাসপাতালগুলোকে আইসিইউ সুবিধাসহ ১০১ শয্যায় উন্নীত করার মাধ্যমে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ।

 

শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার গ্রামীণ উন্নয়ন নীতি ছিল জনমুখী ও বাস্তবসম্মত। তাঁরা ধনিক শ্রেণীর পরিবর্তে প্রান্তিক মানুষকে উন্নয়নের অংশীদার করেছিলেন। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে, তারেক রহমানের ওপর দায়িত্ব এসেছে সেই ঐতিহ্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী না করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ না করে কোনো রাষ্ট্র উন্নত হতে পারে না। জনগণের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের যুগোপযোগী ও বিজ্ঞানমনস্ক নেতৃত্বই পারবে শহীদ জিয়ার ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ এর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করতে এবং দেশের প্রতিটি গ্রামকে একেকটি অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউজে পরিণত করতে।

 

লেখক: সিনিয়র সহ-সভাপতি বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম, মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটি ও চেয়ারম্যান পালংখালী ইউনিয়ন, পরিষদ, উখিয়া, কক্সবাজার।

থানচিতে ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিস বিতরণ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
থানচিতে ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিস বিতরণ।

থানচিতে ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিস বিতরণ।

রেমবো ত্রিপুরা,থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

 

ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিস (CRS) এর সহযোগিতায়, বান্দরবান পার্বত্য জেলা থানচি উপজেলার সদর ও বলিপাড়া ইউনিয়নে অতি বৃষ্টি, পাহাড়ী ঢল ও পাহাড় ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ প‌রিবারকে খাদ্য সহায়তা চাল, মুসর ডাল, লবণ, তেল, আলু, বিস্কুট ও পানি বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ কার্যক্রম আয়োজন করেন, কারিতাস বাংলাদেশ চট্টগ্রাম অঞ্চল।

 

সোমবার থানচি উপজেলার সদরের ৭৭ ও বলিপাড়া ইউনিয়নের ১৬৩ পরিবারে মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, থানচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অং প্রু ম্রো, বলিপাড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী আসনে ১,২,৩ ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার গোপাদেবী চাকমা, বাগান পাড়ার কারবারি উশিমং মারমাসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

বন্যা পরবর্তী সময়ে এ সকল নিত্য প্রয়োজণীয় উপকরণ পেয়ে উপকারভোগীরা স্বস্তি বোধ করেন এবং কারিতাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। খাদ্য সহায়তা বিতরণকালে আরো উপস্থিত ছিলেন, কারিতাস বাংলাদেশ চট্টগ্রাম অঞ্চল থানচি উপজেলার মাঠ কর্মকর্তা ক্লেমেন্ট লিংকন গমেজ ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

বন্যাকবলিত কাথরিয়া ইউনিয়নে প্রাণিখাদ্য ও ভেটেরিনারি ওষুধ বিতরণ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
বন্যাকবলিত কাথরিয়া ইউনিয়নে প্রাণিখাদ্য ও ভেটেরিনারি ওষুধ বিতরণ।

বন্যাকবলিত কাথরিয়া ইউনিয়নে প্রাণিখাদ্য ও ভেটেরিনারি ওষুধ বিতরণ।

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম।

 

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কাথরিয়া ইউনিয়নের খামারি ও গবাদিপশু পালনকারীদের সহায়তায় প্রাণিখাদ্য ও ভেটেরিনারি ওষুধ বিতরণ করেছে বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল।

 

দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে গবাদিপশুর খাদ্যসংকট এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় এ সহায়তা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার খামারি ও পশুপালকরা প্রয়োজনীয় প্রাণিখাদ্য এবং পশুর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করেন।

 

প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বন্যার কারণে অনেক খামার ও গবাদিপশুর খাদ্য মজুদ নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকার কারণে পশুর বিভিন্ন সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের পাশে দাঁড়াতে এ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

 

এ সময় খামারিদের গবাদিপশুর সঠিক পরিচর্যা, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পরামর্শও প্রদান করেন প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি কোনো পশু অসুস্থ হলে দ্রুত উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়।

 

স্থানীয় উপকারভোগীরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বন্যার কারণে গবাদিপশু রক্ষা ও খাদ্য জোগান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ ধরনের সহায়তা তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল জানিয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি নির্দেশনা ও বরাদ্দের আওতায় সহায়তা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে।

বন্যার দুর্দিনে সাধনপুরের অসহায় মানুষের পাশে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হারুনুর রশিদ মোল্লা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
বন্যার দুর্দিনে সাধনপুরের অসহায় মানুষের পাশে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হারুনুর রশিদ মোল্লা।

বন্যার দুর্দিনে সাধনপুরের অসহায় মানুষের পাশে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হারুনুর রশিদ মোল্লা।

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার, (চট্টগ্রাম):

 

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ২নং সাধনপুর ইউনিয়নের অসহায় ও দুর্গত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জনাব হারুনুর রশিদ মোল্লা। তাঁর পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত বিভিন্ন পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

 

বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি, সহায়-সম্বল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমন কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘবের উদ্দেশ্যে এই সহায়তা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উপহার সামগ্রী হাতে পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলোর মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে।

 

সহায়তা বিতরণকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবিকতার পরিচয়। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল মানুষ এভাবে এগিয়ে এলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পাবে।

 

হারুনুর রশিদ মোল্লার পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা তাঁর নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। বন্যাদুর্গত মানুষের এই সংকটময় সময়ে সামান্য সহায়তার মাধ্যমে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের যেকোনো দুর্যোগ ও প্রয়োজনের সময়ে মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

 

সহায়তা পাওয়া কয়েকজন উপকারভোগী জানান, বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন সময়ে পাওয়া এই সহায়তা তাদের জন্য অনেকটাই স্বস্তির এবং এটি তাদের কঠিন সময় মোকাবিলায় কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।

 

স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সচেতন ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এমন মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।