খুঁজুন
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

গ্রামীণ উন্নয়নের প্রতিকৃত শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়া।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ
গ্রামীণ উন্নয়নের প্রতিকৃত শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়া।

গ্রামীণ উন্নয়নের প্রতিকৃত শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়া।

এম গফুর উদ্দিন চৌধুর:

 

বাংলাদেশ মূলত একটি গ্রামপ্রধান দেশ। “গ্রাম বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে” এই চিরন্তন সত্যকে ধারণ করে যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এদেশের গ্রামীণ জনপদের ভাগ্য উন্নয়নে সবচেয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল, তার সুতিকাগার হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন যে, রাজধানী-কেন্দ্রিক উন্নয়ন দিয়ে একটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক মুক্তি সম্ভব নয়। পরবর্তীতে তাঁরই আদর্শের ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গ্রামীণ নারী শিক্ষা, কৃষি এবং স্থানীয় সরকার কাঠামোকে তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, বর্তমান রাষ্ট্রনায়ক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে গড়ে তোলার রূপরেখা প্রণয়ন করছেন।

 

২. গ্রামীণ উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (১৯৭৭-১৯৮১) ঐতিহাসিক অবদান: শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন দূরদর্শী এবং মাটির কাছাকাছি থাকা একজন রাষ্ট্রনায়ক। ১৯৭৫ পরবর্তী ভঙ্গুর অর্থনীতি ও দুর্ভিক্ষ-পীড়িত বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করতে তিনি ‘নব্য অর্থনৈতিক ও গ্রামীণ বিপ্লব’ এর সূচনা করেন।

 

খাল খনন কর্মসূচি ও কৃষি বিপ্লব: শহীদ জিয়ার সবচেয়ে যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ‘স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি’। তিনি নিজে কোদাল হাতে নিয়ে জনমানুষের সাথে খাল খননে নেমেছিলেন। এর ফলে হাজার হাজার মাইল নতুন ও পুনখননকৃত খালের মাধ্যমে ফসলি জমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছায়। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো খাদ্য ঘাটতি কাটিয়ে চাল রপ্তানির গৌরব অর্জন করে।

 

পল্লী বিদ্যুৎায়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা: গ্রামের অন্ধকার দূর করতে এবং গ্রামীণ কুটির শিল্প ও কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ আনতে ১৯৭৭ সালে তিনি পল্লী বিদ্যুৎায়ন বোর্ড গঠন করেন। এটি ছিল গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করার ম্যাজিক টুল।

 

সবুজ বিপ্লব ও সার-বীজ বিতরণ: কৃষকদের মাঝে নামমাত্র মূল্যে এবং বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ, সার ও কীটনাশক বিতরণের এক অভূতপূর্ব চেইন তৈরি করেন তিনি। কৃষি ঋণ প্রাপ্তি সহজ করতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে গ্রামের দোরগোড়ায় নিয়ে যান।

 

হাঁস-মুরগি ও মৎস্য চাষের আধুনিকায়ন: গ্রামীণ যুবসমাজকে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করতে পোল্ট্রি ও মৎস্য চাষে সরকারি প্রণোদনা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন।

 

৩. স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণে শহীদ জিয়ার বৈপ্লবিক পদক্ষেপ: জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে গ্রামের সাধারণ মানুষ। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে স্থানীয় মানুষের হাতে শাসনভার তুলে দিতে তিনি স্থানীয় সরকারকে পুনর্গঠন করেন।

 

স্বনির্ভর গ্রাম সরকার গঠন: ১৯৮০ সালে শহীদ জিয়া ‘গ্রাম সরকার’ আইন প্রবর্তন করেন। প্রতিটি গ্রামে স্থানীয় মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে ১১ সদস্যের গ্রাম সরকার গঠিত হতো। এর মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামের বিরোধ গ্রামে মীমাংসা করা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায় থেকে সরাসরি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করা।

 

থানা উন্নয়ন কমিটি: স্থানীয় সরকারের মধ্যবর্তী স্তর হিসেবে থানা পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে উন্নয়ন কমিটি গঠন করা হয়, যা পরবর্তীতে উপজেলা ব্যবস্থার প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল।

 

পল্লী পুলিশ ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ঠউচ): গ্রামীণ জনপদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চুরি-ডাকাতি রোধে তিনি গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) গঠন করেন। এর মাধ্যমে গ্রামের মানুষ নিজেরাই নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হয়।

 

৪. গ্রামীণ ও স্থানীয় সরকার উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার (১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬) অবদান: শহীদ জিয়ার শাহাদাত বরণের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিন মেয়াদে সরকার পরিচালনা কালীন গ্রামীণ উন্নয়ন ধারাকে আরও বেগবান ও আধুনিক রূপ দান করেন। নারী শিক্ষার প্রসার ও উপবৃত্তি চালু: গ্রামীণ নারী সমাজকে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করতে বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং উপবৃত্তি চালু করেন। এই একটি মাত্র সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের গ্রামীণ সামাজিক কাঠামো এবং অর্থনীতিতে নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে দেয়।

 

উপজেলা পরিষদ ব্যবস্থার কার্যকারিতা: ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর তিনি স্থানীয় সরকারকে আরও গণতান্ত্রিক করতে আইনি সংস্কার করেন। পরবর্তীতে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে উপজেলা পরিষদকে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হয়।

 

কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও ভিজিডি : গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের জন্য, বিশেষ করে কর্মহীন মৌসুমে, কাবিখা ও টেস্ট রিলিফের মাধ্যমে গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। দুস্থ ও বিধবা মহিলাদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনতে ব্যাপকভাবে ভিজিডি ও ভিজিএফ কার্ড প্রবর্তন করা হয়।

 

গ্রামীণ সড়ক ও এলজিইডি এর বিকাশ: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (খএঊউ)-কে শক্তিশালী করে দেশের প্রতিটি গ্রামকে পাকা রাস্তার নেটওয়ার্কের আওতায় আনার মেগা প্রজেক্ট তাঁর আমলেই গতি পায়। এর ফলে গ্রামীণ হাট-বাজারের সাথে শহরের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়, যা কৃষকের পণ্যের সঠিক মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করে।

 

৫. আধুনিক প্রেক্ষাপট: বর্তমান গ্রামীণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সংকট: বর্তমানে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চরম রাজনৈতিক দলীয়করণ, আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং অতি-কেন্দ্রীকরণের ফলে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদগুলো আজ ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে।

 

অর্থনৈতিক পরনির্ভরশীলতা: স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আয়ের উৎস সীমিত এবং তারা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় বাজেটের অনুদানের ওপর নির্ভরশীল।

 

আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ: নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ওপরে আমলা বা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (টঘঙ) অতিরিক্ত কর্তৃত্ব স্থানীয় সরকারের মূল চেতনাকে ধ্বংস করছে।

 

দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার অভাব: গ্রামীণ অবকাঠামো খাতের বরাদ্দ হরিলুট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ না থাকায় জবাবদিহিতা শূন্যের কোঠায় নেমেছে।

 

৬. আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের করনীয় ও রূপরেখা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ‘৩১ দফা’ রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। তাঁর এই রূপরেখায় গ্রামীণ উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী দিনে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

 

ক) স্থানীয় সরকারের প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ ও ক্ষমতায়ন: দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ও স্থানীয় ক্ষমতার ভারসাম্য: কেন্দ্রে ক্ষমতার স্বৈরাচারী মনোভাব দূর করতে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারকে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দিতে হবে।

 

আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করা: উপজেলা ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের নির্বাহী ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। ইউএনও বা ডিসি থাকবেন নির্বাচিত পরিষদের সহযোগী বা সচিব হিসেবে, নিয়ন্ত্রক হিসেবে নয়।

 

খ) অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও বাজেট বরাদ্দ; আলাদা স্থানীয় সরকার বাজেট: জাতীয় বাজেটের একটি নির্দিষ্ট বড় অংশ (কমপক্ষে ৩০-৪০%) সরাসরি স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর (ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ) অনুকূলে বরাদ্দ দিতে হবে।

 

নিজস্ব রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা: স্থানীয় পরিষদগুলোকে আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে নিজস্ব আয়ের উৎস (যেমন- হাটবাজার ইজারা, স্থানীয় কর, ল্যান্ড ট্যাক্সের অংশ) বৃদ্ধির স্বাধীনতা দিতে হবে যাতে তারা কেন্দ্রের দিকে চেয়ে না থাকে।

 

গ) গ্রামীণ অর্থনীতিতে ‘স্মার্ট’ ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার: ডিজিটাল গ্রামীণ হাব (উরমরঃধষ জঁৎধষ ঐঁন): তারেক রহমানের ‘তারুণ্যের শক্তি’ ধারণাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে একটি করে আধুনিক ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তুলতে হবে। এর ফলে গ্রামীণ যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকা বা বিদেশমুখী হতে হবে না।

 

কৃষি-প্রযুক্তি ও কোল্ড স্টোরেজ চেইন: প্রতি উপজেলা পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অর্থায়নে কোল্ড স্টোরেজ (হিমাগার) স্থাপন করতে হবে। কৃষকরা যাতে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফসলের সঠিক দাম জানতে পারে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কম হয়, তার প্রযুক্তিগত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। [১]

 

ঘ) জবাবদিহিতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ: উন্মুক্ত বাজেট ও অডিট: ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট প্রণয়নে গ্রামের সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ মতামতের জন্য ‘ওয়ার্ড সভা’ পুনরায় কার্যকর করতে হবে। প্রতিটি খরচের হিসাব ডিজিটাল পোর্টালে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হবে।

 

দলীয়করণের অবসান: স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে হবে। দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে উন্মুক্ত নির্বাচনের ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে, যা স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য ও সর্বজনগ্রাহ্য নেতৃত্ব তৈরিতে সাহায্য করবে।

 

ঙ) গ্রামীণ অবকাঠামো ও পরিবেশ রক্ষা: শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছানো: তারেক রহমানের অন্যতম ভিশন হলো পরিবেশ রক্ষা করে গ্রামীণ জনপদে উন্নত স্যানিটেশন, নিরাপদ সুপেয় পানি, আধুনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

 

নদী ও জলাশয় উদ্ধার: শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচির আধুনিক সংস্করণ হিসেবে দেশের মৃতপ্রায় নদী ও খালগুলো ড্রেজিংয়ের আওতায় এনে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পৃষ্ঠভাগের পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। ৫ মাসের এই সংক্ষিপ্ত সময়ে বর্তমান সরকার শহরমূখী উন্নয়নের ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে গ্রাম ও পল্লী জনপদকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত করার কাঠামোগত ভিত্তি স্থাপন করেছে।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পাঁচ মাসে গ্রামীণ উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণের মূল অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫৪টি জেলায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন কাজ শুরু, ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ, এবং উপজেলা হাসপাতালগুলোকে আইসিইউ সুবিধাসহ ১০১ শয্যায় উন্নীত করার মাধ্যমে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ।

 

শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার গ্রামীণ উন্নয়ন নীতি ছিল জনমুখী ও বাস্তবসম্মত। তাঁরা ধনিক শ্রেণীর পরিবর্তে প্রান্তিক মানুষকে উন্নয়নের অংশীদার করেছিলেন। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে, তারেক রহমানের ওপর দায়িত্ব এসেছে সেই ঐতিহ্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী না করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ না করে কোনো রাষ্ট্র উন্নত হতে পারে না। জনগণের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের যুগোপযোগী ও বিজ্ঞানমনস্ক নেতৃত্বই পারবে শহীদ জিয়ার ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ এর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করতে এবং দেশের প্রতিটি গ্রামকে একেকটি অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউজে পরিণত করতে।

 

লেখক: সিনিয়র সহ-সভাপতি বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম, মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটি ও চেয়ারম্যান পালংখালী ইউনিয়ন, পরিষদ, উখিয়া, কক্সবাজার।

বন্দরে জাকির হত্যা মামলা: তিন বছরেও নেই অগ্রগতি, প্রধান আসামি জেলে থাকলেও বহাল তবিয়তে সহযোগীরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
বন্দরে জাকির হত্যা মামলা: তিন বছরেও নেই অগ্রগতি, প্রধান আসামি জেলে থাকলেও বহাল তবিয়তে সহযোগীরা

বন্দরে জাকির হত্যা মামলা: তিন বছরেও নেই অগ্রগতি, প্রধান আসামি জেলে থাকলেও বহাল তবিয়তে সহযোগীরা

ক্রাইম রিপোটার

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে চাঞ্চল্যকর ১৯ বছর বয়সী তরুণ মোঃ জাকির হোসেন হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পার হতে চললেও মামলার দৃশমান কোনো অগ্রগতি নেই। মূল আসামিদের একজন কারাগারে থাকলেও অন্য আসামিরা অধরা থাকায় চরম হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে নিহতের অসচ্ছল পরিবার। এর পাশাপাশি অর্থাভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কায় বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নিহতের দরিদ্র পিতা।

 

মামলার এজাহার ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত জাকির হোসেনের বাবা মোঃ আলম বাদশা পেশায় একজন ব্যাটারিচালিত মিশুকচালক। মূল বাড়ি লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার দীঘলটারী এলাকায় হলেও পরিবার নিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন কদমরসূল কলেজ মাঠ এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

 

২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে জাকির তাঁর বাবার ব্যাটারিচালিত মিশুকটি নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। স্বজনরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি এবং মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর, ১১ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে বন্দর থানার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের মোহনপুর এলাকার একটি ছোট ডোবার পানিতে স্থানীয়রা একটি মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলম বাদশা নিজের ছেলের নিথর দেহ শনাক্ত করেন।

 

নিহতের গলার বাঁ পাশে, বাঁ চোখে এবং ডান গালে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশ গিয়ে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। ছেলেকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ বাবার।

 

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল আমলি আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর: ১১)। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— ১. সুমন কুমার সূত্রধর (৩৬): পিতা- হরিপদ চন্দ্র সূত্রধর, সাং- একরামপুর বাজার (সালাম মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া), বন্দর, নারায়ণগঞ্জ। (বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন) ২. মোঃ শাহিন (২১): পিতা- মোঃ আজিজুল, সাং- একরামপুর ইস্পাহানি, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ। ৩. মোঃ সিয়াম রহমান (২৬): পিতা- মৃত হাবিবুর রহমান, সাং- ৩৬৫ নং শাহসুজা রোড (পাইকপাড়া), নারায়ণগঞ্জ। এছাড়াও মামলায় আরও ৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

 

পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, মামলার ২ নম্বর আসামি সুমন কুমার সূত্রধর বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে রয়েছেন। তবে মামলার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অন্য এজাহারভুক্ত আসামি- মোঃ শাহিন ও মোঃ সিয়াম রহমানসহ অজ্ঞাত সহযোগীরা এখনো অধরা। আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় এবং তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় মামলার বিচার প্রক্রিয়া থমকে গেছে।

 

একজন সাধারণ মিশুকচালক হিসেবে নিহতের বাবা আলম বাদশার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে মামলার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, “পোলাটারে নির্মমভাবে কুপাইয়া মাইরা ফেললো। এক আসামি জেলে থাকলেও বাকিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ, টাকা-পয়সার অভাবে ঠিকমতো আইনি লড়াই চালাতে পারছি না। তার ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিচার বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

 

নিহত জাকির হোসেনের পরিবার বিন্দুমাত্র রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়ার আকুতি জানিয়েছেন। অর্থাভাবে জর্জরিত পরিবারটির একটাই দাবি- মামলার বর্তমান অবস্থা ও অগ্রগতি সম্পর্কে বাদিপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করা হোক। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।অসহায় পরিবারটিকে সরকারি আইনগত সহায়তা (লিগ্যাল এইডের) আওতাভুক্ত করে বিনামূল্যে আইনি সুবিধা প্রদান করা হোক।

 

নিঃস্ব এই বাবা-মায়ের একটাই চাওয়া-টাকার অভাব কিংবা প্রভাবশালীদের প্রভাবে যেন ১৯ বছরের তরুণ জাকির হত্যার বিচার ভেস্তে না যায়, তারা আদালতের মাধ্যমে ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

বান্দরবানে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
বান্দরবানে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

filter: 0; jpegRotation: 0; fileterIntensity: 0.000000; filterMask: 0; module:1facing:0; hw-remosaic: 0; touch: (-1.0, -1.0); modeInfo: ; sceneMode: Night; cct_value: 0; AI_Scene: (-1, -1); aec_lux: 75.0; hist255: 0.0; hist252~255: 0.0; hist0~15: 0.0;

বান্দরবানে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা

‘যুব, ঐক্য ও প্রগতি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য রেলি ও যুব সমাবেশের মধ্য দিয়ে বান্দরবানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৯শে অক্টোবর) বিকেলে জেলা শহরের প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে বান্দরবান জেলা যুবদলের উদ্যোগে এ যুব সমাবেশ ও বর্ষপূর্তি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরি এমপি।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ আব্দুল মাবুদ এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য মশিউর রহমান মিটন। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আবু বক্কর, মোঃ হারুনুর রশিদ, মোঃ নেজাম উদ্দীন চৌধুরী ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী।

জেলা যুবদলের সভাপতি জহির উদ্দিন মাসুমের সভাপতিত্বে এবং মোঃ আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই যুব সমাবেশে বান্দরবানের ৭টি উপজেলা, ৩৪টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থক সুশৃঙ্খলভাবে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাচিং প্রু জেরি বলেন, দেশ ও জাতির প্রতিটি রাজনৈতিক সংকটে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আগামীতেও যুব, ঐক্য ও প্রগতির ধারা অব্যাহত রেখে দলকে সুসংগঠিত করা এবং দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য: ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের যুবসমাজকে সুসংগঠিত করা, উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান মূল দল বিএনপি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এর সহযোগী সংগঠন হিসেবে ‘যুবদল’ গঠন করেন। দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র রক্ষা এবং যুবসমাজকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা থেকে এই সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করে।

সেনেগালে যুব অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
সেনেগালে যুব অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

সেনেগালে যুব অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে সেনেগালের রাজধানী ডাকারে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের চতুর্থ যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন বান্দরবানের উদীয়মান তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা। দেশের হয়ে এমন ঐতিহাসিক এক আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর এই অংশগ্রহণের খবরে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানসহ সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ ও উদীয়মান তরুণদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

 

বাংলাদেশ বক্সিং দলের হয়ে বিশ্বমানের এই ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ নয়ন ত্রিপুরার ক্রীড়াজীবনে এক অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দেশসেরা ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বিকেএসপি (BKSP)-র সঙ্গে যুক্ত এই তরুণ বক্সার নিজের অদম্য মেধা, শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার এই গৌরব অর্জন করেছেন।

 

যুব অলিম্পিকের টিকিট পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা বলেন, “যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম বড় একটি স্বপ্ন পূরণ। বিকেএসপির কোচ ও সংশ্লিষ্ট সকলের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং আমার কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজ আমি এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি। পাহাড়ি এলাকার সীমিত সুযোগ-সুবিধাকে পেছনে ফেলে আমি দেশের লাল-সবুজের পতাকা বিশ্বমঞ্চে উড্ডীন করতে চাই। সবার কাছে দোয়া ও আশির্বাদ প্রার্থী, যেন রিংয়ে নিজের সেরাটা দিয়ে দেশের জন্য একটি সম্মানজনক পদক উপহার দিতে পারি।”

 

পাহাড়ঘেরা বান্দরবান কেবল রূপসী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্যই পরিচিত নয়, বরং অদম্য সম্ভাবনাময় ক্রীড়া প্রতিভার এক অপার আধার হিসেবেও নিজের পরিচয় গড়ে তুলছে। নানা প্রতিকূলতা ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাস্বচ্ছতার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এ অঞ্চলের তরুণেরা খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বারবার নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। সুশীল সমাজ ও স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, নয়ন ত্রিপুরার এই আন্তর্জাতিক যাত্রা পার্বত্য অঞ্চলের উদীয়মান ক্রীড়াবিদদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং পাহাড়ি এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় আসার ক্ষেত্রে বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

 

যুব অলিম্পিকের মতো বৈশ্বিক মর্যাদাপূর্ণ আসরে অংশগ্রহণ একজন ক্রীড়াবিদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা অর্জনের সেরা সুযোগ। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে নয়নের উপস্থিতি দেশের উদীয়মান বক্সিং অঙ্গনকে এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে পেশাদার খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।

 

নয়ন ত্রিপুরার এই অর্জন বান্দরবানবাসীকে গর্বিত করেছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা—আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি নিজের সর্বসেরাটা উজাড় করে দিয়ে দেশের সম্মান ও লাল-সবুজের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবেন। তাঁর এই বৈশ্বিক যাত্রা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত বা বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সাফল্য নয়, বরং পুরো বান্দরবান ও পার্বত্য অঞ্চলের তরুণ সমাজের জন্য এক দারুণ উদ্দীপনার উদাহরণ।

 

বিশ্বমঞ্চে নয়ন ত্রিপুরার হাত ধরে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা আরও উঁচুতে উড্ডীন হোক এবং শুভকামনা রইল যেন তিনি দেশের জন্য গৌরবময় সাফল্য বয়ে নিয়ে আসতে পারেন—এমনটাই প্রত্যাশা বান্দরবানসহ সমগ্র দেশবাসীর।