ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় চড়া দামে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রির অভিযোগ।
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় চড়া দামে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রির অভিযোগ।
শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও:
বাংলাদেশের বর্তমান কৃষি আমোন মৌসুমে যখন কৃষক মাঠে কাজে ব্যস্ত ঠিক তখনই সরকারি নিয়মনীতি ও নির্ধারিত দামকে তোয়াক্কা না করে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার ৩ নং রাজাগাঁও ইউনিয়নের পাটিয়াডাঙ্গী বাজারে সারা ট্রেডার্স মিনি পাম্পে চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও ডিজেল। পাম্পগুলোর কৃত্রিম সংকট এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে জ্বালানি তেল কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতা, চালক ও কৃষকদের। এতে রুহিয়ার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও কৃষিকাজে চরম ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি নিয়মনীতি ও নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার ৩ নং রাজাগাঁও ইউনিয়নের পাটিয়াডাঙ্গী ও এর আশেপাশের খুচরা বাজারগুলোতে চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও ডিজেল। পাম্পগুলোর কৃত্রিম সংকট এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে খোলা জ্বালানি তেল কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতা, চালক ও কৃষকদের। এতে রুহিয়ার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও কৃষিকাজে চরম ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
খোলা বাজারে ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা
সরেজমিনে দেখা যায়, রুহিয়া উপজেলার ৩ নং রাজাগাঁও ইউনিয়নের পাটিয়াডাঙ্গী বাজারে মেসার্স সারা ট্রেডার্স এর মালিক শাহীন আলম সরকার এর ডিপোতে সরকার নির্ধারিত জ্বালানি তেলের দামের চেয়ে প্রতি লিটারে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে গিয়ে খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছেন। সাধারণ গ্রাহকরা প্রতিবাদ করতে গেলে তেলের সরবরাহ নেই কিংবা ‘বেশি দামে কেনা’র অযুহাত দেখাচ্ছেন তারা।
রুহিয়া এলাকা মূলত কৃষিপ্রধান। বর্তমানে আমণ মৌসুম এবং ট্রাক্টর-পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি প্রস্তুতের কাজে ডিজেলের চাহিদা প্রচুর। অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনতে বাধ্য হওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষক আব্দুল খালেক জানান, “জমিতে পানি দেওয়া আর চাষ দেওয়ার জন্য তেল কিনতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। দোকানে গেলে বলে তেল নেই, আর বেশি টাকা দিলে ঠিকই ডিজেল বা পেট্রোল বের করে দেয়।”
অন্যদিকে, ট্রাক্টর, পাওয়ার ট্রিলার, নসিমন, করিমন, মোটরসাইকেল ও সিএনজি চালকরা পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে তারা বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের ওপর।
মনিটরিংয়ের অভাবকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাজার তদারকি বা প্রশাসনের সঠিক মনিটরিং না থাকার কারণেই অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ নিচ্ছেন। পেট্রোল পাম্প থেকে ড্রাম বা বোতলে তেল বিক্রি বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও তা অমান্য করে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জরুরি ভিত্তিতে রুহিয়া উপজেলার সকল বাজারসহ পার্শ্ববর্তী খুচরা তেলের দোকানগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তেলের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না করলে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এবং কৃষকদের দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছাবে।


আপনার মতামত লিখুন
Array