খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

টেকনাফের গহীন পাহাড়ে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান: মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৪ তরুণ উদ্ধার।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
টেকনাফের গহীন পাহাড়ে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান: মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৪ তরুণ উদ্ধার।

টেকনাফের গহীন পাহাড়ে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান: মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ৪ তরুণ উদ্ধার।

 

নিজস্ব প্রতিনিধি

 

 

“বাংলাদেশ আমার অহংকার”-এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ যাত্রা শুরু করে এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, উগ্রবাদ দমন, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং দুর্র্ধষ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব এক অনন্য ও নির্ভরযোগ্য নাম। বিশেষ করে কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম ভূখণ্ডে জঘন্য অপরাধী চক্র, অপহরকারী ও মুক্তিপণবাজদের শিকড় উপড়ে ফেলতে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৫ সবসময় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে আপসহীন। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক হিসেবে র‌্যাব তার পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে প্রতিনিয়ত। এরই ধারাবাহিকতায় টেকনাফের হাড় কাঁপানো গহীন অরণ্যে পরিচালিত হলো আরও একটি সফল এবং রোমহর্ষক উদ্ধার অভিযান।

 

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ জুন ২০২৬ ইং তারিখ রাতে। ফেনী থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন হ্নীলা এলাকায় এসে হঠাৎ নিখোঁজ হন এমাম হোসেন জিসান বয়স ২৩ এবং তহিদুল ইসলাম তামিম বয়স ১৯ নামের দুই তরুণ। পরিবারের আকুল আবেদনে ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে ফেনীর দাগনভূঞা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি জিডি নং-১২২১ করা হয়। ঘটনার গভীরতা অনুধাবন করে র‌্যাব-১৫, সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্প-এর একটি চৌকস গোয়েন্দা ও আভিযানিক দল তাৎক্ষণিক মাঠে নামে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, নিখোঁজ তরুণরা কোনো সাধারণ নিখোঁজ নন, বরং তারা টেকনাফের একটি কুখ্যাত পাহাড়ি অপহরণকারী চক্রের জালে বন্দি।

 

আজ ৩০ জুন ২০২৬ ইং তারিখ দুপুর ২:৩০ ঘটিকায় গোয়েন্দা তথ্যের নিখুঁত বিশ্লেষণের পর র‌্যাব-১৫, সিপিসি-১ এবং টেকনাফ থানা পুলিশ একযোগে টেকনাফের হ্নীলা ইউপির ০৭ নং ওয়ার্ডের রঙ্গীখালী জুম্মাপাড়া এলাকার চরম দুর্গম ও খাড়া পাহাড়ে প্রবেশ করে। চারপাশ থেকে পাহাড় ঘেরাও করে যখন যৌথ বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে, তখন অপরাধীরা মরণপণ প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও এলিট ফোর্সের রণকৌশলের সামনে টিকতে না পেরে জঙ্গল ও খাড়া পাহাড়ের ভেতরে পালিয়ে যায়। এরপর পাহাড়ি আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৪ জন ভিকটিমকে।

 

উদ্ধারকৃতরা হলেন এমাম হোসেন জিসান বয়স ২৩, পিতা- আব্দুল করিম, সাং- গনিপুর, থানা- দাগনভূঞা, জেলা- ফেনী। তহিদুল ইসলাম তামিম বয়স ১৯, পিতা- মোঃ সেলিম, সাং- পশ্চিম রামপুর, ফেনী পৌরসভা, জেলা- ফেনী। মোঃ এমাম হোসেন বয়স ১৮, পিতা- মোঃ নিজাম উদ্দিন, সাং- গনিপুর, থানা- দাগনভূঞা, জেলা- ফেনী। সুমন মিয়া প্রকাশ হোসাইন বয়স ২২, পিতা- জজ মিয়া, সাং- নোয়াঐ, থানা- বাহুবল, জেলা- হবিগঞ্জ।

 

উদ্ধারের পর ভিকটিমদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অপহরণকারী চক্রটি তাদের গহীন পাহাড়ের আস্তানায় হাত-পা বেঁধে আটকে রেখেছিল। এরপর পরিবারের কাছে ফোন করে জনপ্রতি পাঁচ লক্ষ টাকা করে মোট ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা দিতে দেরি হওয়ায় ভিকটিমদের ওপর চালানো হতো মধ্যযুগীয় বর্বর শারীরিক নির্যাতন। উদ্ধার না হলে যেকোনো সময় তাদের বড় ধরনের জীবনহানির আশঙ্কা ছিল।

 

উদ্ধারকৃত ভিকটিমদের উদ্ধার পরবর্তী প্রাথমিক পরিচর্যা শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই নৃশংস অপহরণ চক্রের মূল হোতা এবং তার সহযোগীদের সমূলে উপড়ে ফেলতে র‌্যাব ও পুলিশের চিরুনি অভিযান দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এখনও অব্যাহত রয়েছে।

থানচিতে ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিস বিতরণ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
থানচিতে ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিস বিতরণ।

থানচিতে ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিস বিতরণ।

রেমবো ত্রিপুরা,থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

 

ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিস (CRS) এর সহযোগিতায়, বান্দরবান পার্বত্য জেলা থানচি উপজেলার সদর ও বলিপাড়া ইউনিয়নে অতি বৃষ্টি, পাহাড়ী ঢল ও পাহাড় ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ প‌রিবারকে খাদ্য সহায়তা চাল, মুসর ডাল, লবণ, তেল, আলু, বিস্কুট ও পানি বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ কার্যক্রম আয়োজন করেন, কারিতাস বাংলাদেশ চট্টগ্রাম অঞ্চল।

 

সোমবার থানচি উপজেলার সদরের ৭৭ ও বলিপাড়া ইউনিয়নের ১৬৩ পরিবারে মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, থানচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অং প্রু ম্রো, বলিপাড়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী আসনে ১,২,৩ ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার গোপাদেবী চাকমা, বাগান পাড়ার কারবারি উশিমং মারমাসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

বন্যা পরবর্তী সময়ে এ সকল নিত্য প্রয়োজণীয় উপকরণ পেয়ে উপকারভোগীরা স্বস্তি বোধ করেন এবং কারিতাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। খাদ্য সহায়তা বিতরণকালে আরো উপস্থিত ছিলেন, কারিতাস বাংলাদেশ চট্টগ্রাম অঞ্চল থানচি উপজেলার মাঠ কর্মকর্তা ক্লেমেন্ট লিংকন গমেজ ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

বন্যাকবলিত কাথরিয়া ইউনিয়নে প্রাণিখাদ্য ও ভেটেরিনারি ওষুধ বিতরণ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
বন্যাকবলিত কাথরিয়া ইউনিয়নে প্রাণিখাদ্য ও ভেটেরিনারি ওষুধ বিতরণ।

বন্যাকবলিত কাথরিয়া ইউনিয়নে প্রাণিখাদ্য ও ভেটেরিনারি ওষুধ বিতরণ।

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম।

 

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কাথরিয়া ইউনিয়নের খামারি ও গবাদিপশু পালনকারীদের সহায়তায় প্রাণিখাদ্য ও ভেটেরিনারি ওষুধ বিতরণ করেছে বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল।

 

দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে গবাদিপশুর খাদ্যসংকট এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় এ সহায়তা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার খামারি ও পশুপালকরা প্রয়োজনীয় প্রাণিখাদ্য এবং পশুর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করেন।

 

প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বন্যার কারণে অনেক খামার ও গবাদিপশুর খাদ্য মজুদ নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকার কারণে পশুর বিভিন্ন সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের পাশে দাঁড়াতে এ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

 

এ সময় খামারিদের গবাদিপশুর সঠিক পরিচর্যা, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পরামর্শও প্রদান করেন প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি কোনো পশু অসুস্থ হলে দ্রুত উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়।

 

স্থানীয় উপকারভোগীরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বন্যার কারণে গবাদিপশু রক্ষা ও খাদ্য জোগান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ ধরনের সহায়তা তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল জানিয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি নির্দেশনা ও বরাদ্দের আওতায় সহায়তা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে।

বন্যার দুর্দিনে সাধনপুরের অসহায় মানুষের পাশে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হারুনুর রশিদ মোল্লা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
বন্যার দুর্দিনে সাধনপুরের অসহায় মানুষের পাশে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হারুনুর রশিদ মোল্লা।

বন্যার দুর্দিনে সাধনপুরের অসহায় মানুষের পাশে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হারুনুর রশিদ মোল্লা।

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার, (চট্টগ্রাম):

 

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ২নং সাধনপুর ইউনিয়নের অসহায় ও দুর্গত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জনাব হারুনুর রশিদ মোল্লা। তাঁর পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত বিভিন্ন পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা হিসেবে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

 

বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি, সহায়-সম্বল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমন কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘবের উদ্দেশ্যে এই সহায়তা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উপহার সামগ্রী হাতে পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলোর মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে।

 

সহায়তা বিতরণকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবিকতার পরিচয়। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল মানুষ এভাবে এগিয়ে এলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পাবে।

 

হারুনুর রশিদ মোল্লার পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা তাঁর নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। বন্যাদুর্গত মানুষের এই সংকটময় সময়ে সামান্য সহায়তার মাধ্যমে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের যেকোনো দুর্যোগ ও প্রয়োজনের সময়ে মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

 

সহায়তা পাওয়া কয়েকজন উপকারভোগী জানান, বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন সময়ে পাওয়া এই সহায়তা তাদের জন্য অনেকটাই স্বস্তির এবং এটি তাদের কঠিন সময় মোকাবিলায় কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।

 

স্থানীয়দের মতে, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সচেতন ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এমন মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।