খুঁজুন
বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি ভাতা যেন সম্মানজনক হয়।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি ভাতা যেন সম্মানজনক হয়।

তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি ভাতা যেন সম্মানজনক হয়।

এম গফুর উদ্দিন চৌধুরীঃ-

 

তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা হলেন রাষ্ট্রের ভিত্তিপ্রস্তর। ভিত্তি দুর্বল হলে যেমন বহুতল ভবন ধসে পড়ে, তেমনি স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা অবহেলিত ও আর্থিক সংকটে থাকলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্থানীয় সরকার হলো জনগণের সবচেয়ে কাছের শাসন স্তর। একটি কল্যাণকামী ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য (মেম্বার), উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা সরাসরি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন। তারা সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন এবং স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করেন।

 

তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, এই বিশাল দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা যে আর্থিক সম্মানি বা ভাতা পেয়ে থাকেন, তা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত অপ্রতুল। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং তাদের কাজের পরিধির তুলনায় এই সম্মানি কোনোভাবেই সম্মানজনক নয়। মাঠ পর্যায়ের এই নিবেদিতপ্রাণ প্রতিনিধিদের মর্যাদা রক্ষা, দুর্নীতিমুক্ত স্থানীয় প্রশাসন গঠন এবং জনসেবায় গতিশীলতা আনতে তাদের সম্মানি ভাতা পরিশ্রমানুযায়ী পুনর্র্নিধারণ করা সময়ের দাবি। তাদের দেওয়া সম্মানি কেবল কিছু টাকা নয়, এটি তাদের পরিশ্রমের স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের দেওয়া সামাজিক সম্মান।

 

২. তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের কাজের পরিধি ও পরিশ্রমের স্বরূপ:

 

স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে না। সরকারি চাকরিজীবীদের মতো ৯টা-৫টা ডিউটির পরিধিতে তাদের বাঁধা যায় না। গভীর রাতে কোনো গ্রামে মারামারি হলে বা ভোরে কোনো অসহায় দুস্থ মানুষ সাহায্যের জন্য এলে প্রথমে মেম্বার বা চেয়ারম্যানের দরজায় কড়া নাড়েন। ইউনিয়ন পরিষদ হলো গ্রামীণ বাংলাদেশের মূল প্রশাসনিক ভিত্তি। একজন চেয়ারম্যান ও ৯ জন সাধারণ সদস্য এবং ৩ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য মিলে একটি পরিষদ গঠিত হয়।

 

তাদের কাজের পরিধি বিশাল:

 

উন্নয়নমূলক কাজ: গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণ, সংস্কার, কালভার্ট তৈরি, সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী: ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতার সঠিক তালিকা প্রণয়ন ও বিতরণ। বিচারিক দায়িত্ব (গ্রাম আদালত): গ্রামীণ ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালত পরিচালনা করা।

 

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা: বন্যা, খরা, মহামারী বা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ এবং পুনর্বাসন কাজ পরিচালনা।

 

সনদপত্র প্রদান: নাগরিকত্ব, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, চারিত্রিক সনদ, উত্তরাধিকার সনদসহ অসংখ্য প্রয়োজনীয় দলিল প্রদান। পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর পৌর এলাকার নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব তাদের।

 

নাগরিক সুবিধা: রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্ট্রিট লাইটের ব্যবস্থা করা।

 

পরিকল্পিত নগরায়ণ: আবাসন, পার্ক, বাজার এবং বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

 

বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্য: বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মশা নিধনসহ জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা।

 

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান: উপজেলা পরিষদ হলো- গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকার সমন্বয়ে গঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তর। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের পুরো উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার উন্নয়ন কাজের সমন্বয় করতে হয়। সরকারের ১৭টি হস্তান্তরিত বিভাগের কাজের তদারকি ও ত্বরান্বিত করার দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যস্ত। প্রতিদিন শত শত মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা তাদের প্রধান পরিশ্রমের ক্ষেত্র।

 

৩. বর্তমান সম্মানি ভাতার চিত্র; একটি হতাশাজনক বাস্তবতা:

 

বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের বর্তমান সম্মানি ভাতা অত্যন্ত নামমাত্র। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, একজন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার বা চেয়ারম্যান যে ভাতা পান, তা দিয়ে তাদের যাতায়াত এবং মোবাইল খরচও মেটানো সম্ভব হয় না।

 

বর্তমানে এই ভাতার একটি অংশ আসে সরকারি তহবিল (রাজস্ব) থেকে এবং বাকি অংশ মেটাতে হয় পরিষদের নিজস্ব আয় থেকে। অনেক দুর্বল ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় না থাকায় জনপ্রতিনিধিরা মাসের পর মাস তাদের প্রাপ্য সামান্য ভাতাটুকুও পান না। বর্তমান উচ্চমূল্যের বাজারে এই সামান্য অর্থ দিয়ে একটি পরিবারের ন্যূনতম ভরণপোষণ চালানো অসম্ভব। এর ফলে জনপ্রতিনিধিরা এক ধরণের তীব্র মানসিক ও সামাজিক চাপের মধ্যে দিনাতিপাত করেন।

 

পরিশ্রমানুযায়ী সম্মানি কেন ‘অসম্মানজনক’ (সমস্যা ও সংকট)

 

বর্তমান সম্মানি কাঠামো কেন ত্রুটিপূর্ণ এবং এটি কী ধরণের সংকট তৈরি করছে, তা নিচে আলোচনা করা হলো-

 

বাজারদরের সাথে অসামঞ্জস্যতা: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেখানে প্রতিনিয়ত বাড়ছে, সেখানে জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি বছরের পর বছর প্রায় একই জায়গায় স্থবির হয়ে আছে।

 

সামাজিক মর্যাদার সংকট: একজন জনপ্রতিনিধি সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি। প্রতিদিন তার বাড়িতে ১০-২০ জন অতিথি বা সাহায্যপ্রার্থী আসেন। তাদের আপ্যায়ন করা বা ন্যূনতম চা-বিস্কুট খাওয়ানোর খরচও বর্তমান সম্মানি দিয়ে সম্ভব নয়।

 

পেশাদারিত্বের অভাব: সম্মানি সম্মানজনক না হওয়ায় অনেকে জনপ্রতিনিধিত্বকে পূর্ণকালীন পেশা হিসেবে নিতে পারেন না। জীবিকার তাগিদে তাদের অন্য ব্যবসা বা কৃষিকাজে সময় দিতে হয়। ফলে জনসেবা ব্যাহত হয়।

 

দুর্নীতির ঝুঁকি বৃদ্ধি: একজন মানুষের মৌলিক চাহিদা যখন পূরণ হয় না, অথচ তার হাত দিয়ে কোটি কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ পার হয়, তখন সেখানে দুর্নীতির একটি কাঠামোগত ঝুঁকি তৈরি হয়। সৎ জনপ্রতিনিধিরাও অনেক সময় টিকে থাকতে হিমশিম খান।

 

৪. সম্মানজনক ভাতার প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা

 

তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি ভাতা বৃদ্ধি করা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ। এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক দিকগুলো নিম্নরূপ:

 

ক) মেধা ও সততার বিকাশ: যদি স্থানীয় সরকারের পদগুলোতে সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থা থাকে, তবে শিক্ষিত, সৎ ও তরুণ সমাজ রাজনীতি ও সমাজসেবায় এগিয়ে আসবে। মেধাবীরা যখন জানবেন যে এখানে কাজ করে সম্মানজনকভাবে জীবন ধারণ করা সম্ভব, তখন স্থানীয় সরকারে একটি বড় গুণগত পরিবর্তন আসবে।

 

খ) দুর্নীতি ও অনিয়ম হ্রাস: সম্মানি বৃদ্ধি পেলে জনপ্রতিনিধিদের পরনির্ভরশীলতা কমবে। প্রকল্প থেকে ‘পার্সেন্টেজ’ নেওয়া বা টিআর-কাবিখা চালের ওপরে অনৈতিক নজর দেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এটি প্রশাসনকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সাহায্য করবে। [১]

 

গ) কাজের গতিশীলতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি: একটি উপযুক্ত বেতন বা ভাতা জনপ্রতিনিধিদের কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়াবে। তারা পূর্ণকালীন সময় ইউনিয়ন বা পৌরসভায় দিতে পারবেন। সরকারও তখন তাদের কাছ থেকে শতভাগ কাজের হিসাব ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে পারবে।

 

ঘ) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও মর্যাদা: বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে, এমনকি পার্শ্ববর্তী অনেক দেশেও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের ভালো মানের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়, যাতে তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারেন। বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে হলে এই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা জরুরি।

 

৬. কেমন হওয়া উচিত একটি সম্মানজনক ও বাস্তবমুখী কাঠামো?

 

পরিশ্রম এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে একটি প্রস্তাবিত সম্মানি কাঠামো নিচে তুলে ধরা হলো, যা সরকারি রাজস্ব তহবিল থেকে সরাসরি প্রদান করা উচিত:

 

১. ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার): একজন মেম্বারের পরিশ্রম অনুযায়ী তার মাসিক সম্মানি বর্তমানের চেয়ে অন্তত তিনগুণ বৃদ্ধি করা উচিত, যা দিয়ে তিনি তার পরিবার চালাতে পারেন এবং নির্বাচনী এলাকার মানুষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে পারেন।

 

২. ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান: একটি ইউনিয়নের মূল অভিভাবক হিসেবে তার সম্মানি একজন প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তার প্রারম্ভিক বেতনের সমকক্ষ বা কাছাকাছি হওয়া যৌক্তিক।

 

৩. উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র: তাদের কাজের পরিধি ও বিশালত্ব বিবেচনা করে তাদের সম্মানি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা (যেমন: চিকিৎসা ভাতা, আবাসন বা গাড়ি সুবিধা) আরও আকর্ষণীয় ও মর্যাদাপূর্ণ করা উচিত।

 

৪. উৎসব ভাতা ও চিকিৎসা সুবিধা: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তাদের জন্যও বছরে দুটি উৎসব বোনাস, বৈশাখী ভাতা এবং আপদকালীন চিকিৎসা ভাতার ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

 

৭. অর্থায়নের উৎস ও বাস্তবায়ন কৌশল: প্রশ্ন উঠতে পারে, রাষ্ট্র এই বিশাল অর্থ কোথা থেকে জোগাড় করবে? এর কিছু বাস্তবসম্মত সমাধান রয়েছে: রাজস্ব খাত থেকে শতভাগ প্রদান: পরিষদের নিজস্ব আয়ের ওপর নির্ভরতা পুরোপুরি বাতিল করে শতভাগ সম্মানি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দেওয়া উচিত।

 

স্থানীয় পর্যায়ে কর আদায় ব্যবস্থার আধুনিকায়ন: ইউনিয়ন ও পৌরসভার হোল্ডিং ট্যাক্স এবং লাইসেন্স ফি আদায়ের প্রক্রিয়া ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করলে স্থানীয় সরকারের আয় বহুগুণ বাড়বে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবে। অনাবশ্যক ব্যয় সংকোচন: বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অপচয় ও অনাবশ্যক খাতের ব্যয় কমিয়ে জনপ্রতিনিধিদের ভাতার পেছনে বরাদ্দ বাড়ানো সম্ভব। বর্তমান যুগে লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের বাজারে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিদ্যমান ভাতা অত্যন্ত অপ্রতুল। সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে এই খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ ভাতা পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। দেখা গেছে, একজন ইউপি সদস্যকে তার নিজ এলাকার মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কাজ করতে হয়। কিন্তু মাসিক সম্মানি হিসেবে তারা যে সামান্য ভাতা পান, তা দিয়ে তাদের দৈনন্দিন যাতায়াত ও আপ্যায়ন খরচই মেটানো কঠিন। পর্যাপ্ত আয়ের অভাব এবং সামাজিক মর্যাদা রক্ষার চাপে অনেকেই আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েন।

 

জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। তৃণমূলে সুশাসন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় নেতাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দেওয়া অপরিহার্য। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি পুনর্র্নিধারণ ও বাজেটে বরাদ্দের প্রস্তাব চেয়েছে। এখন প্রয়োজন বাস্তবসম্মতভাবে এই সম্মানি বৃদ্ধি করা। এটি শুধুমাত্র কোনো আর্থিক সুবিধা নয়, বরং প্রান্তিক পর্যায়ের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার একটি কার্যকর পদক্ষেপ। তাই, “স্মার্ট বাংলাদেশ” ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের স্বার্থে অনতিবিলম্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠন করে তৃণমূলের চেয়ারম্যান, মেম্বার, মেয়র, কাউন্সিলর এবং উপজেলা চেয়ারম্যানদের কাজের পরিধি ও পরিশ্রম মূল্যায়ন করা উচিত। তাদের জন্য একটি যুগোপযোগী, যুগান্তকারী এবং সম্মানজনক সম্মানি কাঠামো ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি। এর মাধ্যমেই স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হবে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রকৃত সুশাসন পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

 

লেখক: সিনিয়র সহ-সভাপতি বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম, মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটি ও চেয়ারম্যান পালং খালী ইউপি, উখিয়া, কক্সবাজার।

সাতকানিয়ায় সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ: নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ কৃষকদের।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
সাতকানিয়ায় সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ: নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ কৃষকদের।

সাতকানিয়ায় সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ: নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ কৃষকদের।

 সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থান গড়লাখালের একাংশে একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো কৃষক ও সাধারণ মানুষ। বছরের পর বছর ধরে সাঁতার কেটে বা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে তাদের।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, কেঁওচিয়া ইউনিয়নের গড়লাখালের ওপারে কৃষকদের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি রয়েছে। প্রতিদিন চাষাবাদ ও কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার জন্য কৃষকদের এই খাল পার হতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেতু না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে গাছ ও বাঁশ দিয়ে একটি নড়বড়ে সেতু তৈরি করে যাতায়াত করতেন। কিন্তু চলতি মৌসুমের পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় সেই অস্থায়ী সেতুটিও পানিতে তলিয়ে যায় এবং পুরোপুরি ভেসে যায়। ফলে কৃষকদের চলাচলের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

 

স্থানীয় কৃষকরা জানান, কেঁওচিয়া ১ ও ২নং ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থানের একটি বড় পরিসরে সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। সেতুর জন্য তাঁরা জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে বহুবার ঘুরেছেন, ধরনা দিয়েছেন। কিন্তু কেউ তাঁদের দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসেনি। চলতি বছর বন্যায় তাঁদের তৈরি করা পুরোনো সেতুটি ভেসে যাওয়ার পর চরম বিপাকে পড়েন তাঁরা। বাধ্য হয়ে কৃষকরা ফের নিজেদের পকেটের টাকা ও স্বেচ্ছাশ্রমে নতুন করে এই বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন। ফসল ঘরে তোলার সময় এই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহন করতে গিয়ে তাঁদের নাভিশ্বাস ওঠে।

 

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেতু নির্মাণের জায়গা পরিদর্শন করেছেন কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মহসিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য রফিক উদ্দীন লাভলু, আবদু রহিমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণ।

 

পরিদর্শনকালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মহসিন বলেন, “এলাকার কৃষকদের যাতায়াত ও চাষাবাদের চরম দুর্ভোগের বিষয়টি আমি স্বচক্ষে দেখেছি। কৃষকদের এই দুর্দশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। গড়লাখালের এই অংশে কৃষকদের সুবিধার্থে একটি স্থায়ী বা ছোট সেতু নির্মাণের জন্য আমি আমার জায়গা থেকে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

 

স্থানীয়রা আশা করছেন, জনপ্রতিনিধিদের সদিচ্ছা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপে গড়লাখালে শীঘ্রই একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে হাজারো কৃষকের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ চিরতরে লাঘব করবে।

রুহিয়ায় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
রুহিয়ায় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার।

রুহিয়ায় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার।

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় গৃহবধূকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে স্বামী সাদ্দাম হোসেন ৩০ কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। এর আগে নিহতের চাচা আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে নিহতের স্বামীসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে রুহিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি ঘটেছে রুহিয়া থানার ৩ নং রাজাগাঁও ইউনিয়নের রাজাগাঁও (যুগিপুকুর) এলাকায়। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩ বছর আগে উক্ত গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩০) এর সঙ্গে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বৈকুন্ঠপুর গ্রামের মোঃ সাদেকুল ইসলামের মেয়ে আরিফা খাতুন (২১) এর সহিত পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই যৌতুকের জন্য আরিফার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন সাদ্দাম। বাবা-মায়ের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য সাদ্দাম ও তার পরিবারের লোকজন আরিফাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে আরিফা বাবার বাড়িতে চলে যান। পরবর্তীতে উভয় পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতিতে শালিস-বৈঠকের মাধ্যমে আপস-মিমাংসা করে আরিফাকে আবারও স্বামীর সংসারে পাঠানো হয়। তবে সংসার পুনরায় শুরু হলেও সাদ্দাম ও তার পরিবারের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তারা আবারও পূর্বের মতো ২ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে আরিফার ওপর নির্যাতন চালাতে থাকেন। পরবর্তীতে গত ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন আরিফা খাতুন। সাদ্দামের পরিবার বিষয়টিকে নিছক ‘আত্মহত্যা’ দাবি করলেও নিহতের বাবার পরিবারের অভিযোগ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে অথবা আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রুহিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদিউজ্জামান জানান, এ বিষয়ে পেনাল কোডের ৩০৬ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে যার মামলা নম্বর: ১১, তারিখ: ২৯/০৭/২০২৬)। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত স্বামী মোঃ সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বন্যায় ভেঙে বিলীন গোয়াজার পাড়া টু ছৈয়দাবাদ মাদ্রাসা সড়ক: চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাস।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
বন্যায় ভেঙে বিলীন গোয়াজার পাড়া টু ছৈয়দাবাদ মাদ্রাসা সড়ক: চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাস।

বন্যায় ভেঙে বিলীন গোয়াজার পাড়া টু ছৈয়দাবাদ মাদ্রাসা সড়ক: চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাস।

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের গোয়াজার পাড়া থেকে ছৈয়দাবাদ এমদাদুল উলুম দুদু ফকির সিনিয়র মাদ্রাসা পর্যন্ত যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সাম্প্রতিক বন্যায় মারাত্মকভাবে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বেহাল দশায় থাকা এই সড়কটির একটি বড় অংশ পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে ভেঙে পাশের বিলের সাথে মিশে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। ফলে সড়কটি দুই ভাগ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সব ধরনের যান চলাচল ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

 

জানা যায়, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের এটিই একমাত্র প্রধান সড়ক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ছৈয়দাবাদ এমদাদুল উলুম দুদু ফকির সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে সড়কের মাঝখানে বড় অংশ ভেঙে বিলীন হয়ে যাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি বা অসাবধানতায় যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কায় রয়েছে এলাকাবাসী।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না করায় এর আগে থেকেই বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল এবং ইট উঠে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। এর ওপর সাম্প্রতিক বন্যাকবলিত হয়ে সড়কের একাংশ সম্পূর্ণ ধসে যাওয়ায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

 

শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিচ্ছিন্ন করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।