খুঁজুন
বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি ভাতা যেন সম্মানজনক হয়।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি ভাতা যেন সম্মানজনক হয়।

তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি ভাতা যেন সম্মানজনক হয়।

এম গফুর উদ্দিন চৌধুরীঃ-

 

তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা হলেন রাষ্ট্রের ভিত্তিপ্রস্তর। ভিত্তি দুর্বল হলে যেমন বহুতল ভবন ধসে পড়ে, তেমনি স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা অবহেলিত ও আর্থিক সংকটে থাকলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্থানীয় সরকার হলো জনগণের সবচেয়ে কাছের শাসন স্তর। একটি কল্যাণকামী ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য (মেম্বার), উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা সরাসরি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন। তারা সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন এবং স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করেন।

 

তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, এই বিশাল দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা যে আর্থিক সম্মানি বা ভাতা পেয়ে থাকেন, তা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত অপ্রতুল। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং তাদের কাজের পরিধির তুলনায় এই সম্মানি কোনোভাবেই সম্মানজনক নয়। মাঠ পর্যায়ের এই নিবেদিতপ্রাণ প্রতিনিধিদের মর্যাদা রক্ষা, দুর্নীতিমুক্ত স্থানীয় প্রশাসন গঠন এবং জনসেবায় গতিশীলতা আনতে তাদের সম্মানি ভাতা পরিশ্রমানুযায়ী পুনর্র্নিধারণ করা সময়ের দাবি। তাদের দেওয়া সম্মানি কেবল কিছু টাকা নয়, এটি তাদের পরিশ্রমের স্বীকৃতি এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের দেওয়া সামাজিক সম্মান।

 

২. তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের কাজের পরিধি ও পরিশ্রমের স্বরূপ:

 

স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে না। সরকারি চাকরিজীবীদের মতো ৯টা-৫টা ডিউটির পরিধিতে তাদের বাঁধা যায় না। গভীর রাতে কোনো গ্রামে মারামারি হলে বা ভোরে কোনো অসহায় দুস্থ মানুষ সাহায্যের জন্য এলে প্রথমে মেম্বার বা চেয়ারম্যানের দরজায় কড়া নাড়েন। ইউনিয়ন পরিষদ হলো গ্রামীণ বাংলাদেশের মূল প্রশাসনিক ভিত্তি। একজন চেয়ারম্যান ও ৯ জন সাধারণ সদস্য এবং ৩ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য মিলে একটি পরিষদ গঠিত হয়।

 

তাদের কাজের পরিধি বিশাল:

 

উন্নয়নমূলক কাজ: গ্রামীণ রাস্তাঘাট নির্মাণ, সংস্কার, কালভার্ট তৈরি, সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী: ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতার সঠিক তালিকা প্রণয়ন ও বিতরণ। বিচারিক দায়িত্ব (গ্রাম আদালত): গ্রামীণ ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালত পরিচালনা করা।

 

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা: বন্যা, খরা, মহামারী বা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ বিতরণ এবং পুনর্বাসন কাজ পরিচালনা।

 

সনদপত্র প্রদান: নাগরিকত্ব, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, চারিত্রিক সনদ, উত্তরাধিকার সনদসহ অসংখ্য প্রয়োজনীয় দলিল প্রদান। পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর পৌর এলাকার নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব তাদের।

 

নাগরিক সুবিধা: রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্ট্রিট লাইটের ব্যবস্থা করা।

 

পরিকল্পিত নগরায়ণ: আবাসন, পার্ক, বাজার এবং বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

 

বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্য: বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মশা নিধনসহ জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা।

 

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান: উপজেলা পরিষদ হলো- গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকার সমন্বয়ে গঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্তর। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের পুরো উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার উন্নয়ন কাজের সমন্বয় করতে হয়। সরকারের ১৭টি হস্তান্তরিত বিভাগের কাজের তদারকি ও ত্বরান্বিত করার দায়িত্ব তাদের ওপর ন্যস্ত। প্রতিদিন শত শত মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা তাদের প্রধান পরিশ্রমের ক্ষেত্র।

 

৩. বর্তমান সম্মানি ভাতার চিত্র; একটি হতাশাজনক বাস্তবতা:

 

বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের বর্তমান সম্মানি ভাতা অত্যন্ত নামমাত্র। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, একজন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার বা চেয়ারম্যান যে ভাতা পান, তা দিয়ে তাদের যাতায়াত এবং মোবাইল খরচও মেটানো সম্ভব হয় না।

 

বর্তমানে এই ভাতার একটি অংশ আসে সরকারি তহবিল (রাজস্ব) থেকে এবং বাকি অংশ মেটাতে হয় পরিষদের নিজস্ব আয় থেকে। অনেক দুর্বল ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব আয় না থাকায় জনপ্রতিনিধিরা মাসের পর মাস তাদের প্রাপ্য সামান্য ভাতাটুকুও পান না। বর্তমান উচ্চমূল্যের বাজারে এই সামান্য অর্থ দিয়ে একটি পরিবারের ন্যূনতম ভরণপোষণ চালানো অসম্ভব। এর ফলে জনপ্রতিনিধিরা এক ধরণের তীব্র মানসিক ও সামাজিক চাপের মধ্যে দিনাতিপাত করেন।

 

পরিশ্রমানুযায়ী সম্মানি কেন ‘অসম্মানজনক’ (সমস্যা ও সংকট)

 

বর্তমান সম্মানি কাঠামো কেন ত্রুটিপূর্ণ এবং এটি কী ধরণের সংকট তৈরি করছে, তা নিচে আলোচনা করা হলো-

 

বাজারদরের সাথে অসামঞ্জস্যতা: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেখানে প্রতিনিয়ত বাড়ছে, সেখানে জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি বছরের পর বছর প্রায় একই জায়গায় স্থবির হয়ে আছে।

 

সামাজিক মর্যাদার সংকট: একজন জনপ্রতিনিধি সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি। প্রতিদিন তার বাড়িতে ১০-২০ জন অতিথি বা সাহায্যপ্রার্থী আসেন। তাদের আপ্যায়ন করা বা ন্যূনতম চা-বিস্কুট খাওয়ানোর খরচও বর্তমান সম্মানি দিয়ে সম্ভব নয়।

 

পেশাদারিত্বের অভাব: সম্মানি সম্মানজনক না হওয়ায় অনেকে জনপ্রতিনিধিত্বকে পূর্ণকালীন পেশা হিসেবে নিতে পারেন না। জীবিকার তাগিদে তাদের অন্য ব্যবসা বা কৃষিকাজে সময় দিতে হয়। ফলে জনসেবা ব্যাহত হয়।

 

দুর্নীতির ঝুঁকি বৃদ্ধি: একজন মানুষের মৌলিক চাহিদা যখন পূরণ হয় না, অথচ তার হাত দিয়ে কোটি কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ পার হয়, তখন সেখানে দুর্নীতির একটি কাঠামোগত ঝুঁকি তৈরি হয়। সৎ জনপ্রতিনিধিরাও অনেক সময় টিকে থাকতে হিমশিম খান।

 

৪. সম্মানজনক ভাতার প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা

 

তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি ভাতা বৃদ্ধি করা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ। এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক দিকগুলো নিম্নরূপ:

 

ক) মেধা ও সততার বিকাশ: যদি স্থানীয় সরকারের পদগুলোতে সম্মানজনক ভাতার ব্যবস্থা থাকে, তবে শিক্ষিত, সৎ ও তরুণ সমাজ রাজনীতি ও সমাজসেবায় এগিয়ে আসবে। মেধাবীরা যখন জানবেন যে এখানে কাজ করে সম্মানজনকভাবে জীবন ধারণ করা সম্ভব, তখন স্থানীয় সরকারে একটি বড় গুণগত পরিবর্তন আসবে।

 

খ) দুর্নীতি ও অনিয়ম হ্রাস: সম্মানি বৃদ্ধি পেলে জনপ্রতিনিধিদের পরনির্ভরশীলতা কমবে। প্রকল্প থেকে ‘পার্সেন্টেজ’ নেওয়া বা টিআর-কাবিখা চালের ওপরে অনৈতিক নজর দেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এটি প্রশাসনকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সাহায্য করবে। [১]

 

গ) কাজের গতিশীলতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি: একটি উপযুক্ত বেতন বা ভাতা জনপ্রতিনিধিদের কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়াবে। তারা পূর্ণকালীন সময় ইউনিয়ন বা পৌরসভায় দিতে পারবেন। সরকারও তখন তাদের কাছ থেকে শতভাগ কাজের হিসাব ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে পারবে।

 

ঘ) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও মর্যাদা: বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে, এমনকি পার্শ্ববর্তী অনেক দেশেও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের ভালো মানের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়, যাতে তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারেন। বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে হলে এই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা জরুরি।

 

৬. কেমন হওয়া উচিত একটি সম্মানজনক ও বাস্তবমুখী কাঠামো?

 

পরিশ্রম এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে একটি প্রস্তাবিত সম্মানি কাঠামো নিচে তুলে ধরা হলো, যা সরকারি রাজস্ব তহবিল থেকে সরাসরি প্রদান করা উচিত:

 

১. ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার): একজন মেম্বারের পরিশ্রম অনুযায়ী তার মাসিক সম্মানি বর্তমানের চেয়ে অন্তত তিনগুণ বৃদ্ধি করা উচিত, যা দিয়ে তিনি তার পরিবার চালাতে পারেন এবং নির্বাচনী এলাকার মানুষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে পারেন।

 

২. ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান: একটি ইউনিয়নের মূল অভিভাবক হিসেবে তার সম্মানি একজন প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তার প্রারম্ভিক বেতনের সমকক্ষ বা কাছাকাছি হওয়া যৌক্তিক।

 

৩. উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র: তাদের কাজের পরিধি ও বিশালত্ব বিবেচনা করে তাদের সম্মানি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা (যেমন: চিকিৎসা ভাতা, আবাসন বা গাড়ি সুবিধা) আরও আকর্ষণীয় ও মর্যাদাপূর্ণ করা উচিত।

 

৪. উৎসব ভাতা ও চিকিৎসা সুবিধা: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তাদের জন্যও বছরে দুটি উৎসব বোনাস, বৈশাখী ভাতা এবং আপদকালীন চিকিৎসা ভাতার ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

 

৭. অর্থায়নের উৎস ও বাস্তবায়ন কৌশল: প্রশ্ন উঠতে পারে, রাষ্ট্র এই বিশাল অর্থ কোথা থেকে জোগাড় করবে? এর কিছু বাস্তবসম্মত সমাধান রয়েছে: রাজস্ব খাত থেকে শতভাগ প্রদান: পরিষদের নিজস্ব আয়ের ওপর নির্ভরতা পুরোপুরি বাতিল করে শতভাগ সম্মানি রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দেওয়া উচিত।

 

স্থানীয় পর্যায়ে কর আদায় ব্যবস্থার আধুনিকায়ন: ইউনিয়ন ও পৌরসভার হোল্ডিং ট্যাক্স এবং লাইসেন্স ফি আদায়ের প্রক্রিয়া ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করলে স্থানীয় সরকারের আয় বহুগুণ বাড়বে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবে। অনাবশ্যক ব্যয় সংকোচন: বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অপচয় ও অনাবশ্যক খাতের ব্যয় কমিয়ে জনপ্রতিনিধিদের ভাতার পেছনে বরাদ্দ বাড়ানো সম্ভব। বর্তমান যুগে লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের বাজারে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিদ্যমান ভাতা অত্যন্ত অপ্রতুল। সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে এই খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ ভাতা পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। দেখা গেছে, একজন ইউপি সদস্যকে তার নিজ এলাকার মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কাজ করতে হয়। কিন্তু মাসিক সম্মানি হিসেবে তারা যে সামান্য ভাতা পান, তা দিয়ে তাদের দৈনন্দিন যাতায়াত ও আপ্যায়ন খরচই মেটানো কঠিন। পর্যাপ্ত আয়ের অভাব এবং সামাজিক মর্যাদা রক্ষার চাপে অনেকেই আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েন।

 

জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। তৃণমূলে সুশাসন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় নেতাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দেওয়া অপরিহার্য। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি পুনর্র্নিধারণ ও বাজেটে বরাদ্দের প্রস্তাব চেয়েছে। এখন প্রয়োজন বাস্তবসম্মতভাবে এই সম্মানি বৃদ্ধি করা। এটি শুধুমাত্র কোনো আর্থিক সুবিধা নয়, বরং প্রান্তিক পর্যায়ের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার একটি কার্যকর পদক্ষেপ। তাই, “স্মার্ট বাংলাদেশ” ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের স্বার্থে অনতিবিলম্বে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠন করে তৃণমূলের চেয়ারম্যান, মেম্বার, মেয়র, কাউন্সিলর এবং উপজেলা চেয়ারম্যানদের কাজের পরিধি ও পরিশ্রম মূল্যায়ন করা উচিত। তাদের জন্য একটি যুগোপযোগী, যুগান্তকারী এবং সম্মানজনক সম্মানি কাঠামো ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি। এর মাধ্যমেই স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হবে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রকৃত সুশাসন পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

 

লেখক: সিনিয়র সহ-সভাপতি বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম, মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটি ও চেয়ারম্যান পালং খালী ইউপি, উখিয়া, কক্সবাজার।

লামায় ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
লামায় ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ।

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

লামায় ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ।

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

 

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের ‘তথ্য সংগ্রহকারী’ ও ‘সুপারভাইজার’ পদের নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম, স্থগিত নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের অগ্রাধিকার প্রদান এবং একই পরিবার থেকে একাধিক সদস্যকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করার অভিযোগ উঠেছে।

 

বুধবার(২৯ জুলাই) এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফল স্থগিতের দাবি জানিয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। লামা উপজেলার সাধারণ বাসিন্দাদের পক্ষে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তথ্য সংগ্রহকারী ও ছাত্রদল নেতা ইমন শরীফ এ অভিযোগপত্রটি জমা দেন।

 

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির আলোকে ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে উক্ত পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার পর ইউএনও কার্যালয় থেকে প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একাধিক নেতাকর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

প্রকাশিত তালিকায় অর্ধেকেরও বেশি সদস্য আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সাথে সরাসরি যুক্ত বা তাদের পরিবারের সদস্য।

চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া বিতর্কিত ব্যক্তিবর্গ বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপি ও ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে অপপ্রচার চালিয়েছিল এবং বিরোধিতা করেছিল। এ ধরনের বিতর্কিত নিয়োগের খবরে লামার স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় বইছে।

 

অভিযোগকারী ইমন শরীফ প্রকাশিত বিতর্কিত নিয়োগ তালিকাটি অবিলম্বে স্থগিত করার জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, “বিতর্কিত ও একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে বাদ দিয়ে মেধাবী ও ফ্যামিলি কার্ডের যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া জরুরি।”

উক্ত লিখিত অভিযোগ পত্রটির অনুলিপি প্রয়োজনীয় অবগতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা/মন্ত্রী, ৩০০ নং বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য জনাব সাচিং প্রু জেরী এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।

 

লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)অতিরিক্ত দায়িত্ব মনজুর আলম জানান,অভিযোগের বিষয়ে আমি এখনো অবগত নই,অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে শুক নদীকে ঘিরে ভুমিহীন রবিউলের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ে শুক নদীকে ঘিরে ভুমিহীন রবিউলের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন।

ঠাকুরগাঁওয়ে শুক নদীকে ঘিরে ভুমিহীন রবিউলের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন।

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার ৪নং ঢোলার হাট ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ‘শুক নদী’। নদীর বুকে সমন্বিত হাঁস ও সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন ভূমিহীন কৃষক রবিউল ইসলাম (৪৮)। রবিউল ইসলাম ৪নং ঢোলার হাট ইউনিয়নের উত্তর বোয়ালিয়া গ্রামের একজন স্থায়ী বাসিন্দা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রবিউল ইসলাম শুক নদীর কোল ঘেঁষে ২ বিঘা জমি বর্গা নিয়েছেন। সেখানে তিনি ধুন্দুল, বাঁধাকপি, ফুলকপি, করলা ও কলাসহ বিভিন্ন ধরণের সবজির চাষ করেছেন। পাশাপাশি নদীর তীরেই গড়ে তুলেছেন একটি হাঁসের খামার। জানা গেছে, নিজস্ব সঞ্চয় ও কিছু ধারদেনা মিলিয়ে এই উদ্যোগে রবিউলের সর্বসাকুল্যে খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। তাঁর আশা, বছর শেষে এই হাঁসের খামার ও সবজি বাগান থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় হবে। নিজের এই উদ্যোগ সম্পর্কে রবিউল ইসলাম বলেন, “নদী শুকিয়ে গেলে অনেকেই হতাশ হন, কিন্তু আমি একে একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছি। ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০টি হাঁসের বাচ্চা নিয়ে আমার এই যাত্রা শুরু করি। নদীর স্বাভাবিক পানি ব্যবহার করায় হাঁস পালনের খরচ যেমন কম হয়, তেমনি পলিযুক্ত উর্বর বালুমাটিতে সবজির ফলনও মেলে চমৎকার।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা কৃষি বিভাগের পরামর্শ না পেলেও, ভবিষ্যতে নদীর ওপর ভাসমান শেড তৈরি করে বৃহৎ পরিসরে হাঁস পালনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, শুক নদীকে কাজে লাগিয়ে রবিউল যেভাবে নিজের ভাগ্য বদলানোর চেষ্টা করছেন, তা আশপাশের অনেক বেকার যুবকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। নদীর বুকে গড়ে তোলা এই সমন্বিত কৃষি উদ্যোগ কেবল তাঁর নিজের সংসারেই সচ্ছলতা আনবে না, বরং স্থানীয় বাজারে শাকসবজির চাহিদাও অনেকাংশে মেটাবে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের টেকসই পরামর্শ পেলে রবিউল ইসলামের এই উদ্যোগ ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাসিরুল আলম বলেন, “বর্তমানে অনেক বেকার যুবককে চাকরির পেছনে হন্যে হয়ে ঘুরতে দেখা যায়। আমরা তাঁদের চাকরির পেছনে সময় নষ্ট না করে একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে রবিউল ইসলাম একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারেন। তাছাড়া আমাদের মাননীয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিবও এ বিষয়ে যুবকদের স্বাবলম্বী হতে নিরন্তর উৎসাহ জুগিয়ে যাচ্ছেন।

টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর অভিযানে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ
টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর অভিযানে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার।

টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর অভিযানে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান এবং পরোয়ানাভুক্ত পলাতক অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’ এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে র‌্যাব অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

 

এরই ধারাবাহিকতায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প)-এর একটি চৌকস দল কক্সবাজার জেলার টেকনাফ মডেল থানাধীন হ্নীলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডস্থ মোচনী বাজার এলাকায় গত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ১৬:৪০ ঘটিকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ১ জন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।

 

গ্রেপ্তারকৃত আসামি নুরুল হাকিম (৩৮)। সে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রংগীখালী গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেন এর ছেলে।

 

গ্রেপ্তারকৃত আসামি নুরুল হাকিম চট্টগ্রাম জেলার লোহাগড়া থানার মাদকদ্রব্য মামলার এজাহারনামীয় আসামি। উক্ত অপরাধে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক তাকে ০৫ (পাঁচ) বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ০৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই সে আসামি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিল।

 

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

অপরাধ দমন ও এলাকাকে নিরাপদ রাখতে র‌্যাব-১৫ এর এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।