খুঁজুন
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

“প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশায় মুখর জনপদ”।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
“প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশায় মুখর জনপদ”।

প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশায় মুখর জনপদ।

এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী

 

সরকার গঠনের পর আগামীকাল প্রথমবারের মতো এক দিনের সফরে পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরকে ঘিরে পুরো জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার।

 

শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত এই জনপদে প্রধানমন্ত্রীর আগমন কেবল একটি রাজনৈতিক সফর নয়, বরং এটি কক্সবাজারের সামগ্রিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের এক নতুন দিগন্তের সূচনা। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের আকাশ-বাতাস মুখরিত, মানুষের হৃদয়ে তৈরি হয়েছে নতুন স্বপ্নের দোলাচল।

 

এই জনপদের প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও পরিবর্তনের পর, রাষ্ট্রনায়ক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কক্সবাজার আগমন এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এক ঐতিহাসিক ঘটনা।

 

রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তারেক রহমান তার পিতার আদর্শ ও উন্নয়নের সেই ধারাবাহিকতাকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন তার এই প্রথম আনুষ্ঠানিক সফরে সরাসরি পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন, তখন তা শহীদ জিয়ার স্মৃতি ও আদর্শের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে প্রতিফলিত হবে । আমি একজন জনপ্রতিনিধি তথা আমজনতার দীর্ঘদিনের নির্বাচিত খাদেম হিসাবে মাননীয় প্রধনমন্ত্রী বরাবর কক্সবাজারবাসীর প্রধান সমস্যা সমুহ সদয় বিবেচনার জন্য আজকের লেখায় আলোকপাত করছি।

 

১. কক্সবাজারবাসীর প্রধান সমস্যা হলো রোহিঙ্গা সংকট

 

ক. নিরাপদ প্রত্যাবাসন: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।

 

খ. নিরাপদ প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার ও আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধিঃওআইসিভুক্ত দেশ, আসিয়ানের মতো আঞ্চলিক সংস্থা এবং তুরস্কের মতো বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে আর্থিক ও রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে চাপ বৃদ্ধি করা।

 

গ. স্থানীয়দের সুরক্ষায় রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা কারাগার নির্মাণ ও রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণ বন্ধ চাই।

 

ঘ নাফ নদীর মোহনা হতে অস্ত্র ধারী ও ইয়াবা কারবারী রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করতে হবে।

 

ঙ. রোহিঙ্গাদের শ্রমও ব্যবসা বন্ধ করতে হবে।

 

চ. রোহিঙ্গাদের বরাদ্দের ২৫% রোহিঙ্গা বসবাস রত উখিয়া টেকনাফের বাইরে দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

 

ছ. উখিয়া টেকনাফের জনগণের জন্য আরো ৫০ হাজার ভিজিডি (মাসিক ৩০ কেজি চাউল) ভিডব্লিউবি বরাদ্দ চাই।

 

জ. রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার চাই।

 

ঝ. রোহিঙ্গা বর্জ্যে দিয়ে উখিয়া টেকনাফের ভরাট কৃত খাল পুনঃ খনন ও সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবসা চাই।

 

ঞ. রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্তানরত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য রোহিঙ্গাদের দেওয়া বরাদ্ধের সমপরিমান ত্রান চাই।

 

ক্রমবর্ধনশীল দেশি-বিদেশি পর্যটকদের চাপ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উন্নত নাগরিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করার দাবি দীর্ঘদিন ধরে চলে

 

২. কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশন করার জোর দাবী

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ই”ছায় ও সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনায় বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের এই পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারকে একটি পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক ‘স্মার্ট সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার রূপরেখা তৈরি করে, এবং দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো হিসেবে সিটি করপোরেশন গঠন করা সর্বাধিক কার্যকর।

 

অবিলম্বে কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশনে রূপান্তর এর মাধ্যমে এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্যটন নগরীতে পনিত করার জোর দাবী জানাচ্ছি”।

 

৩. পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন

 

ক. পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও সুরক্ষা: কক্সবাজার সৈকত এবং মেরিন ড্রাইভের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সৈকতের ভাঙন রোধে স্থাযী প্রকল্প গ্রহণ।

 

খ. আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন জোন: কক্সবাজারকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে রূপান্তর করতে সুনির্দিষ্ট মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

 

গ. পর্যটক নিরাপত্তা ও বিনোদন: সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আধুনিক বিনোদন ব্যবসার সম্প্রসারণ।

 

ঘ. সেন্টমার্টিনের পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত লক্ষাধিক মানুষের রুটি-রুজির কথা বিবেচনা করে, পরিবেশ ধ্বংস না করে, বরং পরিবেশবান্ধব নিয়মকানুন কঠোরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত ও রাত্রিযাপনের আগের নিয়মটি পুনর্বহাল করতে হবে।

 

৪. অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবসার আধুনিকায়ন

 

ক. সড়ক ও রেল যোগাযোগ: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী করা।

 

৫. আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরাসরি ফ্লাইট চালু করা।

 

৬. মহেশখালী-চকরিয়াতে আদালত আছে, উখিয়া-টেকনাফে আদালত চাই।

 

৭. টেকনাফ হতে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম পযর্ন্ত রাস্তা সড়ককে ৬ লাইনে উন্নত করা।

 

৮.স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি

 

ক. ট্যাক্স ফ্রি অর্থনৈতিক জোন: পর্যটন ও স্থানীয় পণ্যের বাজার প্রসারে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন বা শুল্কমুক্ত বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে তোলা।

 

খ. কোটা ব্যবস্থা: কক্সবাজারে চলমান মেগা প্রকল্প এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্থানীয় শিক্ষিত বেকারদের অগ্রাধিকার দেওয়া।

 

৯. সুপেয় পানি ও পরিবেশ সংরক্ষণ

 

ক. সুপেয় পানির সংকট নিরসন: দীর্ঘদিনের ভূগর্ভ¯’ পানির সংকট দূর করতে কেন্দ্রীয় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আধুনিক করা।

 

খ. পরিবেশ রক্ষা: মেরিন ড্রাইভসহ পাহাড়ি ও উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধ করা।

 

১০. স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন

 

ক. কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: স্থানীয় ও পর্যটকদের উন্নত চিকিৎসাসেবা দিতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিকীকরণ করা।

 

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ২৫০ থেকে ৫০০-তে উন্নীত করার জন্যজোরালো দাবি জানাচ্ছি” । প্রায় ৪৫ লাখ মানুষের (স্থানীয় বাসিন্দা, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা ও পর্যটক) জন্য এই শয্যা সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল।

 

১১. শিক্ষা খাতের উন্নয়ন

 

ক.উচচশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ: কক্সবাজারে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের। পর্যটন ও অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ এই জেলায় উ”চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের জন্য সরকারের কাছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন।

 

খ.উখিয়া বাসীর প্রানের দাবী উখিয়া কলেজ সরকারী করন করা।

 

১২. লবণ ও শুঁটকি শিল্পের বিকাশ

 

ক. কৃষকদের ন্যায্যমূল্য: দেশীয় লবণ চাষিদের সুরক্ষায় বিদেশ থেকে লবণ আমদানি বন্ধ করা এবং চাষিদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান।

 

খ. শুঁটকি রপ্তানি: ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি শিল্পকে আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি।

 

১৩. নীল অর্থনীতির বঙ্গোপসাগরের বিশাল সম্পদকে টেকসই উন্নয়নের আওতায় আনতে হবে

 

ক. গভীর সমুদ্রবন্দর ও মেরিন ড্রাইভ: মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ চালু করা এবং মেরিন ড্রাইভ সড়ককে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্লু-ইকোনমি করিডোর গড়ে তোলা।

 

খ. সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ: আধুনিক ট্রলার এবং মৎস্য আহরণ প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো, সাগরে অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে কঠোর নজরদারি এবং সাগরে হারিয়ে যাওয়া জেলেদের উদ্ধারে দ্রুতগতির উদ্ধারকারী জাহাজ মোতায়েন করা।

 

গ. জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত শিল্প : কক্সবাজারের উপকূলবর্তী এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের শিপ রিসাইক্লিং ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং জোন গড়ে তোলা, যা সুনীল অর্থনীতিতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

 

ঘ. বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ঊত): সামুদ্রিক পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য কক্সবাজার ও মহেশখালী এলাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা। সুনীল অর্থনীতির এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা শুধু কক্সবাজার নয়, সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক নতুন উ”চতায় নিয়ে যাবে।

 

১৪. মহেশখালী-কক্সবাজার সেতু বাস্তবায়নের দাবি

 

মহেশখালীতে চলমান গভীর সমুদ্র বন্দর এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য মেগা প্রকল্পের কারণে এই অঞ্চলের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে মূল ভূখণ্ডের সাথে বিচিছন্নতার কারণে দ্বীপবাসীর যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় ।

 

১৫. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ না করে বরং মহেশখালীতে অবাধে প্যারাবন ধ্বংসের মহোৎসব কারীদের কঠোর শাস্তির জোর দাবী।

 

কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের ঘটিভাঙ্গা এলাকায় চিংড়ি ঘের, লবনের মাঠ ও জমি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক ঢাল হিসাবে খ্যাত প্যারাবন কেটে ও আগুন লাগিয়ে বিরান ভূমিতে পরিণত করা হচেছ।

 

প্যারাবন নিধনকারী অপরাধীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করা ও বনভূমি ধ্বংসের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্যারাবনগুলো সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা।

 

লেখক: মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটি,সিনিয়র সহ সভাপতি বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম ও চেয়ারম্যান পালং খালী ইউপি, উখিয়া, কক্সবাজার।

সেনেগালে যুব অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
সেনেগালে যুব অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

সেনেগালে যুব অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে সেনেগালের রাজধানী ডাকারে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের চতুর্থ যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন বান্দরবানের উদীয়মান তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা। দেশের হয়ে এমন ঐতিহাসিক এক আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর এই অংশগ্রহণের খবরে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানসহ সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ ও উদীয়মান তরুণদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

 

বাংলাদেশ বক্সিং দলের হয়ে বিশ্বমানের এই ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ নয়ন ত্রিপুরার ক্রীড়াজীবনে এক অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দেশসেরা ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বিকেএসপি (BKSP)-র সঙ্গে যুক্ত এই তরুণ বক্সার নিজের অদম্য মেধা, শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার এই গৌরব অর্জন করেছেন।

 

যুব অলিম্পিকের টিকিট পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা বলেন, “যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম বড় একটি স্বপ্ন পূরণ। বিকেএসপির কোচ ও সংশ্লিষ্ট সকলের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং আমার কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজ আমি এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি। পাহাড়ি এলাকার সীমিত সুযোগ-সুবিধাকে পেছনে ফেলে আমি দেশের লাল-সবুজের পতাকা বিশ্বমঞ্চে উড্ডীন করতে চাই। সবার কাছে দোয়া ও আশির্বাদ প্রার্থী, যেন রিংয়ে নিজের সেরাটা দিয়ে দেশের জন্য একটি সম্মানজনক পদক উপহার দিতে পারি।”

 

পাহাড়ঘেরা বান্দরবান কেবল রূপসী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্যই পরিচিত নয়, বরং অদম্য সম্ভাবনাময় ক্রীড়া প্রতিভার এক অপার আধার হিসেবেও নিজের পরিচয় গড়ে তুলছে। নানা প্রতিকূলতা ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাস্বচ্ছতার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এ অঞ্চলের তরুণেরা খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বারবার নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। সুশীল সমাজ ও স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, নয়ন ত্রিপুরার এই আন্তর্জাতিক যাত্রা পার্বত্য অঞ্চলের উদীয়মান ক্রীড়াবিদদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং পাহাড়ি এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় আসার ক্ষেত্রে বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

 

যুব অলিম্পিকের মতো বৈশ্বিক মর্যাদাপূর্ণ আসরে অংশগ্রহণ একজন ক্রীড়াবিদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা অর্জনের সেরা সুযোগ। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে নয়নের উপস্থিতি দেশের উদীয়মান বক্সিং অঙ্গনকে এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে পেশাদার খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।

 

নয়ন ত্রিপুরার এই অর্জন বান্দরবানবাসীকে গর্বিত করেছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা—আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি নিজের সর্বসেরাটা উজাড় করে দিয়ে দেশের সম্মান ও লাল-সবুজের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবেন। তাঁর এই বৈশ্বিক যাত্রা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত বা বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সাফল্য নয়, বরং পুরো বান্দরবান ও পার্বত্য অঞ্চলের তরুণ সমাজের জন্য এক দারুণ উদ্দীপনার উদাহরণ।

 

বিশ্বমঞ্চে নয়ন ত্রিপুরার হাত ধরে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা আরও উঁচুতে উড্ডীন হোক এবং শুভকামনা রইল যেন তিনি দেশের জন্য গৌরবময় সাফল্য বয়ে নিয়ে আসতে পারেন—এমনটাই প্রত্যাশা বান্দরবানসহ সমগ্র দেশবাসীর।

সেনেগালে যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বান্দরবানের তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
সেনেগালে যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বান্দরবানের তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

সেনেগালে যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বান্দরবানের তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে সেনেগালে ডাকার অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের চতুর্থ যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন বান্দরবানের তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা। তাঁর এই অংশগ্রহণের খবর বান্দরবানসহ পার্বত্য অঞ্চলের ক্রীড়াপ্রেমী ও তরুণদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

 

বাংলাদেশ বক্সিং দলের হয়ে আন্তর্জাতিক এই ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ নয়ন ত্রিপুরার ক্রীড়াজীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বিকেএসপির সঙ্গে যুক্ত এই তরুণ বক্সার নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন।

 

পাহাড়ঘেরা বান্দরবান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির পাশাপাশি সম্ভাবনাময় তরুণদের জন্যও পরিচিত। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এ অঞ্চলের তরুণেরা খেলাধুলা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। নয়ন ত্রিপুরার এই আন্তর্জাতিক যাত্রা পার্বত্য অঞ্চলের তরুণ ক্রীড়াবিদদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

 

যুব অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণ একজন ক্রীড়াবিদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একই সঙ্গে এ ধরনের অংশগ্রহণ দেশের বক্সিং অঙ্গনকে এগিয়ে নেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

 

নয়ন ত্রিপুরার এই অর্জনকে ঘিরে বলেন , বান্দরবানবাসীর প্রত্যাশা—আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি নিজের সেরাটা তুলে ধরবেন এবং দেশের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখবেন। তাঁর এই যাত্রা সফল হলে তা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবেই নয়, বরং বান্দরবান ও পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে।

 

বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নয়ন ত্রিপুরার এই যাত্রা সফল হোক—এমনটাই প্রত্যাশা সবার। তাঁর হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল হোক বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা, গৌরবান্বিত হোক বান্দরবান।

 

নয়ন ত্রিপুরা ও বাংলাদেশ বক্সিং দলের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।

বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে মন্ত্রীর মতবিনিময়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে মন্ত্রীর মতবিনিময়

বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে মন্ত্রীর মতবিনিময়

মো. আরিফ, বান্দরবান প্রতিনিধি;

বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, খেলাধুলার প্রসার এবং স্থানীয় ক্রীড়াবিদদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী।

 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টায় বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বান্দরবান হিল রানার্সসহ ফুটবল, ক্রিকেট, কারাতে, বক্সিং, উশু, দাবা, কাবাডি ও হকির সঙ্গে যুক্ত ক্রীড়াবিদ ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম।

 

সভায় মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার, নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করতে সরকার কাজ করছে। বান্দরবানে স্টেডিয়াম সংস্কার ও নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ক্রীড়াবিদেরা যাতে সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

তিনি আরও বলেন, স্টেডিয়ামগুলোর উন্নয়ন হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বাড়বে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।

 

জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা বলেন, জেলার বিভিন্ন খেলার উন্নয়ন, ক্রীড়াবিদদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং খেলাধুলার পরিবেশ উন্নত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

 

সভায় বান্দরবান হিল রানার্সের সভাপতি ডা. শান্তনু দাশ বলেন, কিশোর-তরুণসহ সব বয়সী মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে হিল রানার্স কাজ করছে। তিনি সবাইকে নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।

 

তিনি আরও জানান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দুটি ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বান্দরবান হিল রানার্সের ১০ থেকে ১২ জন সদস্য।

 

বান্দরবান ফুটবল রেফারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিমুল দাশ বলেন, রেফারিদের কাজের সুবিধার জন্য বান্দরবানে একটি পৃথক কক্ষ প্রয়োজন। এ ছাড়া স্থানীয় রেফারিদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ ও সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।

 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবর রশিদ ও সা শৈ প্রু, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য (ক্রীড়া) কাজী নিরুতাজ বেগম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সিনিয়র সহসভাপতি উম্মে কুলসুম লীনা, বান্দরবান হিল রানার্সের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ, বান্দরবান বক্সিং একাডেমির চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুর রশিদ বাচ্চু, জেলা ফুটবলের সিনিয়র কোচ মো. শহীদুল রহমান (সোহেল) এবং বান্দরবান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের সদস্যরা।

 

এ সময় ক্রীড়াবিদ ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।