খুঁজুন
শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাতের আঁধারে হেড মাঝি নুরকে গলাকেটে হত্যা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ মার্চ, ২০২৫, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাতের আঁধারে হেড মাঝি নুরকে গলাকেটে হত্যা।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাতের আঁধারে হেড মাঝি নুরকে গলাকেটে হত্যা।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাতের আঁধারে হেড মাঝি নুরকে গলাকেটে হত্যা।

কামাল উদ্দিন জয় জেলা প্রতিনিধি।

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শিবিরে মোহাম্মদ নুর (৩০) নামে এক হেড মাঝিকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে মঙ্গলবার (৪ মার্চ) রাতে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ২০ এক্সটেনশন এলাকায়। নিহত মোহাম্মদ নুর উখিয়ার ২০ নম্বর ক্যাম্পের এম ৩২ ব্লকের বাসিন্দা আবু ছৈয়দের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ নুর উখিয়ার ২০ এক্সটেনশনে একটি দোকান থেকে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা নুরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনাটি ঘটার পর স্থানীয় রোহিঙ্গারা পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ, এপিবিএন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২০ এক্সটেনশনে এক হেড মাঝিকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। স্থানীয় এপিবিএন পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি পূর্ববিরোধ বা ব্যক্তিগত শত্রুতার ফল হতে পারে। স্থানীয় রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। হত্যাকারীরা এখনও শনাক্ত হয়নি, তবে পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আবারও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তার দুর্বলতার দিকে ইঙ্গিত করছে। দীর্ঘদিন ধরে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে মাদক ব্যবসা, চুরি, ছিনতাই এবং দুর্বৃত্তদের আক্রমণ নিত্যনতুন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।

রোহিঙ্গা শিবিরে সহিংসতার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন কারণে সংঘর্ষ, হত্যা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গুলি বিনিময়, আক্রমণ, এবং অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা বা শত্রুতার কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটছে। বিশেষত, কিছু সময় ধরে শিবিরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কিছু গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ এবং হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত বছরও এই ধরনের একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটে, যার ফলে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উখিয়া থানা পুলিশ এবং এপিবিএনসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এত বড় পরিসরে রোহিঙ্গাদের বসবাসের কারণে সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর তদন্তের কাজ চলছে এবং দ্রুতই হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে।

এ ঘটনার পর রোহিঙ্গা শিবিরে বসবাসরত মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, এবং অনেকেই নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্ত এবং শিবিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।…

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বান্দরবান জেলা শাখার সংবর্ধনা ও অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বান্দরবান জেলা শাখার সংবর্ধনা ও অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বান্দরবান জেলা শাখার সংবর্ধনা ও অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

 

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বান্দরবান জেলা শাখার আয়োজনে এবং হিলটপ এনজিওর সার্বিক সহযোগিতায় বান্দরবান জেলা শাখার সংবর্ধনা ও অভিষেক অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

 

আজ ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার জেলা সদরের মেম্বার পাড়া এলাকায় এই আয়োজিত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

 

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি মোঃ আলিম উল্লাহ-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বান্দরবান ৩০০নং আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, এমপি,

 

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সদর দপ্তরের বিশেষ প্রতিনিধি ববি নীলিমা আক্তার নীলা, এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মী এবং মানবাধিকার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির সদস্যদের ফুলের শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানানো হয়।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপি বলেন, মানবাধিকার রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মানবাধিকার কমিশনকে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এই সংগঠনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তিনি বান্দরবানের শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের পাশাপাশি মানবাধিকার কমিশনকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

 

প্রধান আলোচক কবি নীলিমা আক্তার নীলা তাঁর বক্তব্যে মানবাধিকার কমিশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, দেশের প্রতিটি কোণায় মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কমিশন বদ্ধপরিকর। তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন।

 

সভাপতির বক্তব্যে মোঃ আলিম উল্লাহ বান্দরবান জেলায় মানবাধিকার সুসংহত করতে এবং সাধারণ মানুষের আইনি সহায়তা ও অধিকার আদায়ে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এগিয়ে চলেছে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহাম্মদ জাকারিয়ার পরিবারের বসতঘরের নির্মাণকাজ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এগিয়ে চলেছে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহাম্মদ জাকারিয়ার পরিবারের বসতঘরের নির্মাণকাজ।

সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এগিয়ে চলেছে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহাম্মদ জাকারিয়ার পরিবারের বসতঘরের নির্মাণকাজ।

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

 

গত বছর অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন ঢেমশা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আব্দুচ সালাম হাজী বাড়ীর কৃতি সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহাম্মদ জাকারিয়া। তাঁর শেষ বিদায়ের মুহূর্তে গার্ড অব অনার প্রদানকালে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাঁর বসতঘরের জরাজীর্ণ ও মানবেতর অবস্থা স্বচক্ষে দেখেন এবং বিষয়টি সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। এরপরই বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন।

 

সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সাতকানিয়ার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মোহাম্মদ জাকারিয়ার পরিবারকে একটি নতুন বসতঘর নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির আলোকে এবং উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহায়তায় ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বর্তমানে ঘরটির নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

 

আজ নির্মাণাধীন বসতঘরের কাজের বর্তমান অগ্রগতি ও গুণগত মান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান,ঢেমসা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। কাজের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যাতে কাজটি মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়।

 

পরিদর্শনকালে ঢেমশা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন

 

“দেশমাতৃকার টানে যিনি নিজের জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার চরম অসহায়ত্বের মুখে পড়েছিল। উপজেলা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে আজ তাদের জন্য একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত হতে চলেছে। আমরা স্থানীয় পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজটি তদারকি করছি, যেন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারটি দ্রুত একটি নিরাপদ ও সুন্দর ঘরে উঠতে পারে।”

 

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এই মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। দ্রুতই নির্মাণকাজ শেষ করে বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারটির হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পিসিপি রোয়াংছড়ি থানা শাখার ১৮তম বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
পিসিপি রোয়াংছড়ি থানা শাখার ১৮তম বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত।

পিসিপি রোয়াংছড়ি থানা শাখার ১৮তম বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত।

রোয়াংছড়ি,সংবাদদাতাঃ চিংনুমং মারমা।

 

আজ ৩০ জুলাই ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) “সকল প্রকার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বৃহত্তর আন্দোলনে জুম্ম ছাত্র সমাজ অধিকতর সামিল হউন” এই স্লোগানকে সামনে রেখে রোয়াংছড়ি টাউন হলে পিসিপি রোয়াংছড়ি থানা শাখার ১৮তম বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিল-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়।

 

উক্ত বার্ষিক শাখা সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বান্দরবান জেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক অংশৈ মং মারমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অন্তর চাকমা, পিসিপি বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি উশৈহ্লা মারমা প্রমুখ।

সম্মেলনে রোয়াংছড়ি থানা শাখার সভাপতি হ্লামংচিং মারমার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মনিলাল তঞ্চঙ্গ্যার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন থানা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অংশৈ সাই মারমা।

 

প্রধান অতিথি অংশৈ মং মারমা বলেন, দীর্ঘ ১৫/১৬ বছর আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন চুক্তি বাস্তবায়ন করেনি এবং বর্তমান বিএনপি সরকার আসতে না আসতে চুক্তি লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। এখানকার অঞ্চল সেনা ছাউনিতে ঘেরা, কিন্তু দেশের অন্যান্য জায়গায় কয়টি আর্মি ক্যাম্প দেখা যায়? অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামের বেলায় অগণিত ক্যাম্প রয়েছে। সামান্য রোয়াংছড়ি উপজেলাতেও প্রত্যক জায়গায় সেনা ক্যাম্প রয়েছে। প্রতিনিয়ত এখানকার মানুষ হয়রানি শিকার হচ্ছে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এইসব শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে তরুণদের রুখে দাঁড়াতে হবে। যে এই পাহাড়কে ভালোবাসবে এই মাটিকে ভালোবাসবে সে লড়াই সংগ্রামে ঠিকে থাকবে। তিনি তরুণদের লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

 

অন্তর চাকমা বলেন, এই পাহাড়ের ইতিহাস শোষণ বঞ্চনার ইতিহাস। আমরা নানাভাবে সেই ব্রিটিশ আমল থেকে শোষণ নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছি। জুম্ম জনগণকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছে। লড়াই সংগ্রামে বহু কর্মী শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়নের শিকার হয়েও নিজেদের অবদান রেখে গেছে। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরে মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা সংসদে শোষণ বঞ্চনার কথা বলেছিলেন কিন্তু এই উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদ ইসলামী সম্প্রসারণবাদের শাসকগোষ্ঠী জুম্ম জনগণের দূর্দশা কথা কর্ণপাত করেনি। তারই বিপরীতে জুম্ম জনগণ এম এন লারমার নেতৃত্বে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অধিকারের আদায়ে প্রতিরোধ সংগ্রাম করেছে। যার ফলস্বরূপ বাংলাদেশ শাসকগোষ্ঠী ১৯৯৭সালে জুম্ম জনগণের সাথে চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু আজ ২৯টি বছর অতিক্রম হয়ে গেলেও কোনো সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রণী ভূমিকা রাখেনি। প্রতিনিয়ত এখনো পার্বত্য চট্টগ্রামে নানাভাবে নিপীড়ন নির্যাতন করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত জিজ্ঞাসাবাদ চেকিং এর মতো হয়রানি তল্লাশি ব্যাপকভাবে তারা অব্যাহত রেখেছে। এই পাহাড়ে নানাভাবে দমন-পীড়ন চালানোর জন্য এইখানে নানাভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, আমাদের জুম্ম জনগণের মধ্যে যে ঐক্য সংহতি বিনষ্ট করতে শাসকগোষ্ঠী নানাভাবে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। ‘ভাগ কর শাসন কর নীতি’ অবলম্বন করে জুম্মদের অস্তিত্বকে বিলুপ্ত করে দেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম্ম অধ্যুষিত অঞ্চল ছিল, সেই জুম্ম অধ্যুষিত অঞ্চলকে মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে বহিরাগতদের পুনর্বাসন করিয়ে জুম্মদের ভিটা-মাটি বেদখল করা হয়েছে। এছাড়াও কখনো সেনা ক্যাম্প সম্প্রসারণের নামে, কখনো উন্নয়নের নামে জুম্মদের ভূমি বেদখলের চিত্র আমরা এখনো দেখতে পায়। পাহাড়ের ভূমি সমস্যা এখনো বিরাজমান রয়েছে। চুক্তি মোতাবেক ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার কথা থাকলেও ভূমি কমিশনের কোনো কার্যক্রম অগ্রগতি সরকার করেনি। এইখানে অনেক সরকার শাসকের স্থানে এসেছে কিন্তু কোনো সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কেউ এগিয়ে আসেনি। তাই সকল ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনকে বৃহত্তর আন্দোলনে এই ছাত্র সমাজকে সামিল হয়ে লড়াই সংগ্রাম বেগবান করতে হবে।

 

উশৈহ্লা মারমা বলেন, একসময় আমাদের পালিয়ে পালিয়ে কাজ করতে হয়েছে, এখনো বিভিন্ন জায়গায় সেনা শাসনের অপতৎপরতায় পিসিপির কার্যক্রম ঠিকমতো করতে পারি না। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই ৭২ এর সংবিধানে বাঙালি বানিয়ে আমাদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হয়েছিলো। ঔপনিবেশিক শাসনের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামের শাসন ব্যবস্থা জারি রেখেছে। এখানে সেনা শাসনের যে তৎপরতা একদিকে উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদ চাপিয়ে দেওয়া, ইসলামী সম্প্রসারণ, নারী নির্যাতন, ধর্ষণের মতো কার্যক্রম পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসকগোষ্ঠী চলমান রেখেছে।

 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার আমাদের জুম্মদেরকে নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় শাসকগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত জুম্মদের ভূমি বেআইনীভাবে বেদখল করে যাচ্ছে। আরেক দিকে জুম্মদেরকে সংখ্যালঘু থেকে সংখ্যালঘুতে পরিণত করে জুম্মদের অস্তিত্ব চিরতরে মুছে দেওয়ার পায়তারা চালাচ্ছে। তিনি সংগঠনের আদর্শ লক্ষ্য ধারণ করে জুম্ম জাতির মুক্তির লড়াই সংগ্রাম জারি রাখার জন্য জুম্ম ছাত্র সমাজকে আহ্বান জানান।

 

কাউন্সিল অধিবেশনে মনিলাল তঞ্চঙ্গ্যা কে সভাপতি, চসিংথোয়াই মারমাকে সাধারণ সম্পাদক এবং অংসাপ্রু মারমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট রোয়াংছড়ি থানা শাখা কমিটি গঠন করা হয়। নবনির্বাচিত কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান পিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রেঙ ইয়ং ম্রো।