রুমায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত: বিচার চেয়ে চার যুবকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি
রুমায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত: বিচার চেয়ে চার যুবকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি
বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা
বান্দরবানের রুমা উপজেলার ১নং পাইন্দু ইউনিয়নের -১ নং ওয়ার্ডের তংমক পাড়া এলাকায় এক মারমা কিশোরীকে একই সম্প্রদায়ের চার যুবক মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে জোরপূর্বক ওষুধ সেবন করিয়ে গর্ভপাত করানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্তরা হলেন- ক্যহ্লাচিং মারমা-র ছেলে ক্যসিংনু মারমা, ঞোচিংঅং মারমা-র ছেলে উহাইমং মারমা, মংচ মারমা-র ছেলে সিংহ্লা মারমা ও মৃত মংচহ্লা মারমা-র ছেলে উশৈনু মারমা।
ভুক্তভোগী কিশোরীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে ক্যহ্লাচিং মারমার ছেলে ক্যসিং নু মারমা তাকে ধর্ষণ করেন। পরদিন উহাইমং মারমা ও সিংহ্লা মারমা এবং পরবর্তীতে উশৈনু মারমা নামে এক যুবকও তাকে ধর্ষণ করেছেন বলে ভুক্তভোগী কিশোরী অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, উশৈনু মারমা একজন সন্তানের বাবা।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বক্তব্য অনুজায়ি ঘটনার প্রায় চার মাস পর উহাইমং মারমা তাকে এক পাতা গর্ভপাতের ট্যাবলেট দেন। ওই ট্যাবলেট খাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে বিষয়টি তার মা-বাবার কাছে প্রকাশ পেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বান্দরবানে পাঠানো হয়।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন থাকার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। পরে কিশোরীকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসার মাধ্যমে তার গর্ভধারণ ও পরবর্তী জটিলতার বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায় বলে তারা দাবি করেছেন। পাড়াবাসীর কাছ থেকেও বিষয়টি সম্পর্কে তারা জানতে পেরেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি ওয়ার্ড সদস্য মংছো মারমার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ স্থাপনে সমস্যার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি অবগত তবে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার বা স্বজনদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত তাকে কিছুই জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কিশোরীর বাবা গত -১২ সেপ্টেম্বর রুমা থানায় গিয়ে মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়াকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রায় দুই দিন আগে রুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি তাকে ফোনে অবহিত করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। মামলা বা লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন
Array