খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

“আজ রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি দিবস, বিচার ও ক্ষতিপূরণের আশায় হাজারো শ্রমিক”।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
“আজ রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি দিবস, বিচার ও ক্ষতিপূরণের আশায় হাজারো শ্রমিক”।

আজ রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি দিবস, বিচার ও ক্ষতিপূরণের আশায় হাজারো শ্রমিক।

 

নিউজ ডেস্ক:

 

সাভারের রানা প্লাজা ধসের সেই ভয়াবহ দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এখনো এক গভীর ক্ষতের মতো রয়ে গেছে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল বেলা, আটতলা এই বাণিজ্যিক ভবনটি হঠাৎ ধসে পড়ে, মুহূর্তেই পরিণত হয় হাজারো মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার এক বিভীষিকাময় ঘটনায়। আজও সেই ঘটনার স্মৃতি ভুলতে পারেননি বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরা এবং নিহতদের পরিবার। প্রতিবছর এই দিনে তারা ন্যায়বিচার ও যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি নিয়ে স্মরণ করে সেই করুণ দিনটি।

 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ভবনটিতে কাজ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ কাঁপুনি অনুভূত হয়। শুরুতে অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো ভবনটি ধসে পড়ে।

 

একজন বেঁচে যাওয়া শ্রমিক বলেন,

 

“আমরা কাজ করছিলাম, হঠাৎ মনে হলো মাটি কাঁপছে। এরপর আর কিছু মনে নেই। যখন জ্ঞান ফিরলো, তখন চারপাশে শুধু ধুলো আর মানুষের আর্তনাদ।”

 

আরেকজন শ্রমিক বলেন, “আমি দুই দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে ছিলাম। আমার পাশেই আমার সহকর্মীরা মারা যাচ্ছিল। কেউ পানি চাইছিল, কেউ চিৎকার করছিল, কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারিনি।”

এই দুর্ঘটনায় ১,১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং দুই হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন। অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে যান। গার্মেন্টস শ্রমিকদের পাশাপাশি ভবনের দোকানদার, অফিস কর্মচারী এবং অন্যান্য কর্মরত মানুষও এতে প্রাণ হারান।

একজন আহত শ্রমিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আমার দুই পা এখনো ঠিকভাবে কাজ করে না। আগে কাজ করে সংসার চালাতাম, এখন অন্যের সাহায্য ছাড়া চলতে পারি না।”

নিহত আবুল কালামের পরিবার জানায়, “আমাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়েছি। আজও আমরা তার ক্ষতিপূরণ পাইনি। শুধু কাগজে-কলমে আশ্বাস পেয়েছি।

 

ধসের পরপরই শুরু হয় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উদ্ধার অভিযান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল একযোগে কাজ করে ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষ উদ্ধারে। টানা কয়েকদিন ধরে চলা এই অভিযানে অনেককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বহু মানুষ আর কখনো ফিরে আসেননি।

একজন উদ্ধারকর্মী বলেন, “আমরা যখন ভেতরে যেতাম, তখন শুধু কান্নার শব্দ শুনতাম। অনেককে জীবিত বের করতে পারলেও অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।”

 

ঘটনার পর আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনা হয়। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতা কোম্পানি ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিছু ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হলেও এখনো অনেক পরিবার অভিযোগ করেন, তারা পূর্ণ ন্যায্যতা পাননি।

 

ভুক্তভোগী নার্গিস আক্তারের পরিবারের সদস্য বলেন,

 

“আমাদের বলা হয়েছিল দ্রুত বিচার হবে, ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। কিন্তু বছর পার হয়ে গেলেও আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি শুনছি, বাস্তবতা বদলায়নি।”

 

 

 

 

অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

 

 

 

 

আজও রানা প্লাজার স্থানে দাঁড়ালে শুধু ধ্বংসস্তূপের স্মৃতি নয়, হাজারো স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার ইতিহাস মনে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের অনেকেই এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।

 

 

 

 

একজন প্রতিবন্ধী শ্রমিক জাহানারা বলেন “আমি এখন কাজ করতে পারি না। পরিবার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। সরকারের কাছ থেকে যদি স্থায়ী সহায়তা পেতাম, তাহলে বাঁচতে পারতাম।”

 

 

 

 

প্রতিবছর এই দিনে শ্রমিক সংগঠন, মানবাধিকার কর্মী এবং সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের দাবি নিয়ে রাস্তায় নামেন। তারা বলেন, শুধুমাত্র স্মরণ নয়, বাস্তব বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

 

 

 

 

একজন শ্রমিক নেতা বলেন,

 

“রানা প্লাজা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি ছিল অবহেলা ও দুর্নীতির ফল। দোষীদের শাস্তি না হলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা কখনোই নিশ্চিত হবে না।”

 

 

 

 

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে এক বড় শিক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরবর্তীতে ভবন নিরাপত্তা, শ্রমিক অধিকার এবং কারখানা পরিদর্শনে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এখনো অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে।

একজন শ্রম বিশেষজ্ঞ বলেন,

 

“শুধু আইন তৈরি করলেই হবে না, তার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। না হলে এ ধরনের ঘটনা আবারও ঘটতে পারে।”

 

রানা প্লাজা ধস কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি ছিল হাজারো মানুষের জীবন ও স্বপ্নের করুণ সমাপ্তি। আজও সেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে। প্রতিবছর এই দিনে তারা শুধু স্মরণ করে না, বরং আবারও মনে করিয়ে দেয়—মানব জীবনের মূল্য কোনোভাবেই অবহেলা করার নয়।

 

বেঁচে থাকা শ্রমিকদের কণ্ঠে আজও একই দাবি প্রতিধ্বনিত হয়—“আমরা শুধু সহানুভূতি নয়, চাই ন্যায়বিচার।”

সাতকানিয়ায় সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ: নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ কৃষকদের।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
সাতকানিয়ায় সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ: নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ কৃষকদের।

সাতকানিয়ায় সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ: নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ কৃষকদের।

 সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থান গড়লাখালের একাংশে একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো কৃষক ও সাধারণ মানুষ। বছরের পর বছর ধরে সাঁতার কেটে বা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে তাদের।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, কেঁওচিয়া ইউনিয়নের গড়লাখালের ওপারে কৃষকদের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি রয়েছে। প্রতিদিন চাষাবাদ ও কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার জন্য কৃষকদের এই খাল পার হতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেতু না থাকায় স্থানীয় কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে গাছ ও বাঁশ দিয়ে একটি নড়বড়ে সেতু তৈরি করে যাতায়াত করতেন। কিন্তু চলতি মৌসুমের পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় সেই অস্থায়ী সেতুটিও পানিতে তলিয়ে যায় এবং পুরোপুরি ভেসে যায়। ফলে কৃষকদের চলাচলের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

 

স্থানীয় কৃষকরা জানান, কেঁওচিয়া ১ ও ২নং ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থানের একটি বড় পরিসরে সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। সেতুর জন্য তাঁরা জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে বহুবার ঘুরেছেন, ধরনা দিয়েছেন। কিন্তু কেউ তাঁদের দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসেনি। চলতি বছর বন্যায় তাঁদের তৈরি করা পুরোনো সেতুটি ভেসে যাওয়ার পর চরম বিপাকে পড়েন তাঁরা। বাধ্য হয়ে কৃষকরা ফের নিজেদের পকেটের টাকা ও স্বেচ্ছাশ্রমে নতুন করে এই বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন। ফসল ঘরে তোলার সময় এই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহন করতে গিয়ে তাঁদের নাভিশ্বাস ওঠে।

 

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সেতু নির্মাণের জায়গা পরিদর্শন করেছেন কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মহসিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য রফিক উদ্দীন লাভলু, আবদু রহিমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণ।

 

পরিদর্শনকালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মহসিন বলেন, “এলাকার কৃষকদের যাতায়াত ও চাষাবাদের চরম দুর্ভোগের বিষয়টি আমি স্বচক্ষে দেখেছি। কৃষকদের এই দুর্দশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। গড়লাখালের এই অংশে কৃষকদের সুবিধার্থে একটি স্থায়ী বা ছোট সেতু নির্মাণের জন্য আমি আমার জায়গা থেকে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

 

স্থানীয়রা আশা করছেন, জনপ্রতিনিধিদের সদিচ্ছা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপে গড়লাখালে শীঘ্রই একটি পাকা সেতু নির্মিত হলে হাজারো কৃষকের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ চিরতরে লাঘব করবে।

রুহিয়ায় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
রুহিয়ায় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার।

রুহিয়ায় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার।

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও:

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় গৃহবধূকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে স্বামী সাদ্দাম হোসেন ৩০ কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। এর আগে নিহতের চাচা আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে নিহতের স্বামীসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে রুহিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি ঘটেছে রুহিয়া থানার ৩ নং রাজাগাঁও ইউনিয়নের রাজাগাঁও (যুগিপুকুর) এলাকায়। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩ বছর আগে উক্ত গ্রামের সফিকুল ইসলামের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩০) এর সঙ্গে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বৈকুন্ঠপুর গ্রামের মোঃ সাদেকুল ইসলামের মেয়ে আরিফা খাতুন (২১) এর সহিত পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই যৌতুকের জন্য আরিফার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন সাদ্দাম। বাবা-মায়ের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য সাদ্দাম ও তার পরিবারের লোকজন আরিফাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে আরিফা বাবার বাড়িতে চলে যান। পরবর্তীতে উভয় পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতিতে শালিস-বৈঠকের মাধ্যমে আপস-মিমাংসা করে আরিফাকে আবারও স্বামীর সংসারে পাঠানো হয়। তবে সংসার পুনরায় শুরু হলেও সাদ্দাম ও তার পরিবারের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তারা আবারও পূর্বের মতো ২ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে আরিফার ওপর নির্যাতন চালাতে থাকেন। পরবর্তীতে গত ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন আরিফা খাতুন। সাদ্দামের পরিবার বিষয়টিকে নিছক ‘আত্মহত্যা’ দাবি করলেও নিহতের বাবার পরিবারের অভিযোগ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে অথবা আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রুহিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদিউজ্জামান জানান, এ বিষয়ে পেনাল কোডের ৩০৬ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে যার মামলা নম্বর: ১১, তারিখ: ২৯/০৭/২০২৬)। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত স্বামী মোঃ সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বন্যায় ভেঙে বিলীন গোয়াজার পাড়া টু ছৈয়দাবাদ মাদ্রাসা সড়ক: চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাস।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
বন্যায় ভেঙে বিলীন গোয়াজার পাড়া টু ছৈয়দাবাদ মাদ্রাসা সড়ক: চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাস।

বন্যায় ভেঙে বিলীন গোয়াজার পাড়া টু ছৈয়দাবাদ মাদ্রাসা সড়ক: চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাস।

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের গোয়াজার পাড়া থেকে ছৈয়দাবাদ এমদাদুল উলুম দুদু ফকির সিনিয়র মাদ্রাসা পর্যন্ত যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সাম্প্রতিক বন্যায় মারাত্মকভাবে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বেহাল দশায় থাকা এই সড়কটির একটি বড় অংশ পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে ভেঙে পাশের বিলের সাথে মিশে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। ফলে সড়কটি দুই ভাগ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সব ধরনের যান চলাচল ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

 

জানা যায়, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের এটিই একমাত্র প্রধান সড়ক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ছৈয়দাবাদ এমদাদুল উলুম দুদু ফকির সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে সড়কের মাঝখানে বড় অংশ ভেঙে বিলীন হয়ে যাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি বা অসাবধানতায় যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কায় রয়েছে এলাকাবাসী।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না করায় এর আগে থেকেই বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল এবং ইট উঠে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। এর ওপর সাম্প্রতিক বন্যাকবলিত হয়ে সড়কের একাংশ সম্পূর্ণ ধসে যাওয়ায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ করেন তারা।

 

শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিচ্ছিন্ন করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।