ছাত্রদল থেকে বিএনপির তৃণমূল—লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব পদে আলোচনায় এস.এম. আবু সাঈদ চৌধুরী টিটু
ছাত্রদল থেকে বিএনপির তৃণমূল—লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব পদে আলোচনায় এস.এম. আবু সাঈদ চৌধুরী টিটু
মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে পথচলা। এরপর কলেজ, উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিএনপির রাজনীতিতে একের পর এক সাংগঠনিক দায়িত্ব। দীর্ঘ ৩২ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় আন্দোলন-সংগ্রাম, দলীয় কর্মসূচি এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা।
মামলা-হামলা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকা। এবার সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব/সাধারণ সম্পাদক পদে নেতৃত্বের প্রত্যাশা করছেন এস.এম. আবু সাঈদ চৌধুরী (টিটু)।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির কাছে সদস্য সচিব পদে প্রত্যাশা জানিয়ে নিজের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন তিনি। জীবনবৃত্তান্তে ছাত্রদল থেকে শুরু করে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়কার নানা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
ছাত্রদল থেকে বিএনপির মূলধারায়
আবু সাঈদ চৌধুরী টিটুর রাজনৈতিক উত্থানের শুরু ছাত্রদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্রদলের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন শেষে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি।
তাঁর দেওয়া জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, তিনি বার আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব এবং সাধারণ সম্পাদক/সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক পাঠাগার সম্পাদক ও নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তী সময়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক দায়িত্বে আসেন টিটু। পদুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব, লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির দুইবারের সদস্য ও দুইবারের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের তথ্য তাঁর জীবনবৃত্তান্তে রয়েছে।
এ ছাড়া ২০২১-২০২৫ মেয়াদে লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুঃসময়ে মাঠে ছিলাম
রাজনীতির সুসময় নয়, দলের দুঃসময়কেই নিজের রাজনৈতিক পরীক্ষার সময় হিসেবে দেখছেন টিটু। তাঁর অনুসারীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।
সদস্য সচিব পদে নিজের প্রত্যাশা জানিয়ে আবু সাঈদ চৌধুরী টিটু বলেন, দলের জন্য দীর্ঘ ৩২ বছর একটানা রাজনীতি করেছি। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। দায়িত্ব পেলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপিকে আরও শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত করতে কাজ করব।
তিনি বলেন, ব্যক্তিগত পদ-পদবির জন্য নয়, দলের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করাই আমার মূল লক্ষ্য। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক, আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিজেকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে চাই।
মামলা-হামলার রাজনীতিও তুলে ধরেছেন
নিজের রাজনৈতিক জীবনের বর্ণনায় মামলা, হামলা ও হয়রানির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন টিটু। তাঁর জীবনবৃত্তান্তে দাবি করা হয়েছে, বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন সময় মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি।
জীবনবৃত্তান্তে আরও দাবি করা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশের বিভিন্ন থানায় মামলা দায়েরের ঘটনায় লোহাগাড়া থানায় করা মামলায় তাঁকে ১ নম্বর আসামি করা হয়েছিল।
তাঁর জীবনবৃত্তান্তের তথ্য অনুযায়ী, লোহাগাড়া থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে বা ছিল। এর মধ্যে চারটি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন এবং দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
টিটুর হাতে অনেক নেতাকর্মীর রাজনৈতিক হাতেখড়ি
টিটুর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও সাংগঠনিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে আমিরাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রনেতা এস.এম. সাহাবউদ্দিন বলেন, আবু সাঈদ চৌধুরী টিটু দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলের দুঃসময়ে তিনি নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল থেকে শুরু করে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর হাত ধরে অনেক নেতাকর্মী রাজনীতিতে এগিয়ে এসেছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। দলের প্রতি আনুগত্য, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তার কারণে তিনি নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত মুখ।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন ও সদস্য সচিব রমজানুল কবির জয় বলেন, এস.এম. আবু সাঈদ চৌধুরী টিটু দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা। দলের কঠিন সময়ে তিনি নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন এবং তৃণমূলকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তাঁর অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বিবেচনায় আমরা মনে করি, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে টিটু যোগ্য নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবেন।
নেতৃত্ব বাছাইয়ে নজর তৃণমূলের দিকে
লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠনকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপিতে এখন নেতৃত্বের সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সদস্য সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কারা আসছেন, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে আলোচনা। পদপ্রত্যাশীরাও নিজেদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক সক্ষমতা ও তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো সামনে আনছেন।
এই সমীকরণে আবু সাঈদ চৌধুরী টিটুর নামও ব্যাপক আলোচনায় রয়েছে। ছাত্রদল থেকে বিএনপির মূলধারায় দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, বিভিন্ন পর্যায়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে উপজেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসতে চাইছেন তিনি।
তবে শেষ পর্যন্ত লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব/সাধারণ সম্পাদক পদে কে দায়িত্ব পাচ্ছেন, সেই সিদ্ধান্ত দলীয় ক


আপনার মতামত লিখুন
Array