খুঁজুন
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

জ্বালানি তেলের বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কমানোর উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
জ্বালানি তেলের বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কমানোর উদ্যোগ

জ্বালানি তেলের বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কমানোর উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

জ্বালানি তেলের সরবরাহব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন করতে নীতিগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি ও বাজারজাত করার সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি খাতকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পেট্রোলিয়াম ব্যবসায় যুক্ত করার সুযোগ রেখে নতুন একটি নীতিমালা তৈরির দায়িত্ব বিপিসিকে দেওয়া হয়েছে। নীতিমালা প্রণয়নের পর তা বাস্তবায়নের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

বর্তমানে দেশের পরিশোধিত ও অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের আমদানি, মজুত, বণ্টন ও বাজারজাতকরণের বড় অংশই বিপিসির নিয়ন্ত্রণে। দেশে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ টন পরিশোধিত ও অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করা হয়। বেসরকারি খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দেশে জ্বালানি তেল পরিশোধন বা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাদের উৎপাদিত জ্বালানি খুচরা বাজারে সরাসরি বিক্রির সুযোগ নেই। এসব জ্বালানি বিপিসির কাছে বিক্রি করতে হয়।

 

বর্তমান ব্যবস্থায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ফার্নেস অয়েল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য সরাসরি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি ও বাজারজাতকরণের সুযোগ সীমিত।

 

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, বেসরকারি খাতকে নিয়ন্ত্রিত পরিসরে জ্বালানি ব্যবসায় যুক্ত করা হলে দেশের জ্বালানি মজুতের অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হতে পারে। একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান টার্মিনাল, সংরক্ষণাগার, পরিবহনব্যবস্থা ও বিনিয়োগও কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি তেলের আমদানি ও বিতরণে একক নিয়ন্ত্রণ থাকায় বিভিন্ন সময়ে তেল চুরি, অপচয় ও ভেজালের অভিযোগ উঠেছে। বাজারে একাধিক প্রতিষ্ঠান কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতায় যুক্ত হলে এসব অনিয়ম কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এর আগে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে দেশের এলপিজির চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাত পূরণ করছে। জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রিতভাবে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে সরবরাহব্যবস্থায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য অধ্যাপক এম তামিম ভারতের উদাহরণ দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ অংশগ্রহণে জ্বালানি বাজার উদারীকরণের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। তবে তাঁর মতে, বাজার উন্মুক্ত করার পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

 

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। তাঁদের মতে, বিপিসির পরিবর্তে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) হাতে মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হলে বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা আসতে পারে।

 

ইতোমধ্যে বসুন্ধরা গ্রুপসহ অন্তত তিনটি প্রতিষ্ঠান জ্বালানি তেল আমদানি ও বাজারজাতকরণের ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আরও বেসরকারি বিনিয়োগকারী এ খাতে আসতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

 

তবে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাজার নিয়ন্ত্রণ, মূল্য স্থিতিশীলতা, আমদানির মান, মজুত সক্ষমতা এবং ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির পাশাপাশি কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে নতুন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রুহিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব ৩ পরিবার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রুহিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব ৩ পরিবার

রুহিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব ৩ পরিবার

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের রাজারামপুর এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩টি পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ২.২০ মিনিটের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন, ওই এলাকার মৃতঃ সিরাজ উদ্দিনের তিন ছেলে নাসিরুল ইসলাম (৪০), নজমুল ইসলাম (৩৭) ও আবু জাহেদ (৩৫)। স্থানীয়রা জানান, বেলা ২.২০ মিনিটের সময় হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে তারা দ্রুত এগিয়ে আসেন। স্থানীয় জনতার এবং বোদা উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এ অগ্নিকাণ্ডে তিন পরিবারের নগদ অর্থসহ আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিকে খবর পেয়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বার, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপন, রাজাগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাংবাদিক মোঃ আহসান হাবিব মাস্টার এবং রুহিয়া উপজেলা মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানান।

রুহিয়ায় বেগুন চাষে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
রুহিয়ায় বেগুন চাষে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা

রুহিয়ায় বেগুন চাষে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় লাল তীর জাতের বেগুন চাষ করে বাম্পার ফলন ও কাক্সিক্ষত দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। এখানকার উৎপাদিত বেগুন স্থানীয় চাহিদাপূরণের পাশাপাশি ঢাকা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। সরেজমিনে রুহিয়া উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের টাঙ্গন ব্রিজ সংলগ্ন উত্তর বঠিনা চাঁদপুর ক্যাম্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায় নদীর তীরঘেঁষে চলছে বেগুন কেনাবেচার ব্যস্ততা। পাইকাররা সরাসরি মাঠ থেকেই কৃষকদের কাছ থেকে বেগুন সংগ্রহ করছেন। কথা হয় স্থানীয় কৃষক লোকমান, সোহান, জব্বার মাস্টার ও মনসুরের সঙ্গে। তারা জানান, চলতি মৌসুমে লাল তীরের বেগুন আবাদ করে বেশ ভালো মুনাফা পাচ্ছেন। কৃষক লোকমান বলেন, আমি এবার দেড় বিঘা জমিতে লাল তীর বীজের বেগুন চাষ করেছি। এতে আমার মোট খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত ৮০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছি। ক্ষেতে যে পরিমাণ বেগুন রয়েছে, তাতে সব মিলিয়ে সর্বমোট ৩ লাখ টাকার বেগুন বিক্রি হবে বলে আশা করছি। এতে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিট লাভ থাকবে। একই এলাকার কৃষক আবু কালাম, সাদেক হোসেন ও জালালসহ আরও অনেকেই জানান, লাল তীর জাতের বেগুনের ফলন ও বাজার দর দুটোই ভালো পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে রুহিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নাসিরুল আলম জানান, কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের বেগুনসহ নানা জাতের সবজি চাষে নিয়মিত উৎসাহিত ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে বাজারে বেগুনের উপযুক্ত দাম থাকায় কৃষকরা ভালো লাভ করতে পারছেন। তিনি আরও জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি ও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

রুহিয়ায় মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান স্মরণে ফুটসাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
রুহিয়ায় মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান স্মরণে ফুটসাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

রুহিয়ায় মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান স্মরণে ফুটসাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও

ক্রীড়ায় শক্তি, ‘ক্রীড়ায় বল মাদক ছেড়ে খেলায় চল’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান স্মৃতি ফুটসাল ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ (দ্বিতীয় মৌসুম)-এর খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাদ জুম্মা রাজাগাঁও ইউনিয়নের আসাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ৩নং রাজাগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদলের উদ্যোগে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমানের সন্তান ও রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপন টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। খেলা শেষে আসাননগর ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য দেন আব্দুল জব্বার, সভাপতি, রুহিয়া উপজেলা বিএনপি, নুরুল ইসলাম নুরু, সভাপতি, রাজাগাঁও ইউনিয়ন বিএনপি, আহসান হাবীব মাস্টার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, রাজাগাঁও ইউনিয়ন বিএনপি, মোস্তবা রাফিত মাহী, সাধারণ সম্পাদক, ঠাকুরগাঁও জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, দেলোয়ার হোসেন দেলু, আহ্বায়ক, রুহিয়া উপজেলা ছাত্রদল, মহসিন আলী, সভাপতি, রাজাগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদল, আখিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক, রাজাগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদল টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো পরিচালনা করেন বিপুল দাস ও রমজান আলী। খেলার মাঠে ধারাবিবরণী দিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার তপু।