খুঁজুন
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

দুর্নীতির অভিযোগে একের পর এক নাম, তদন্তের মুখে ইউনূস সরকারের সময়কাল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
দুর্নীতির অভিযোগে একের পর এক নাম, তদন্তের মুখে ইউনূস সরকারের সময়কাল

দুর্নীতির অভিযোগে একের পর এক নাম, তদন্তের মুখে ইউনূস সরকারের সময়কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

একটি সরকারের পতন বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তার রেখে যাওয়া সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের হিসাব-নিকাশ শুরু হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার কর্মকাণ্ড নিয়ে যখন একের পর এক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ-বাণিজ্য ও অর্থপাচারের অভিযোগ সামনে আসে, তখন প্রশ্ন ওঠে—এসবের কতটা সত্য?

 

 

 

 

সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়টি জানান।

 

 

 

 

এই অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে শুধু একজন সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তই শুরু হলো না; একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের দাবিও নতুন করে সামনে এসেছে।

 

 

 

 

দুদকের কাছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের একটি অংশ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি ঘিরে।

 

 

 

 

অভিযোগ অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের অধীন ৩৮ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নতুন কর্মস্থলে পদায়নের বিনিময়ে ৭৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। একই অভিযোগে ১৫০ সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য দেড় কোটি টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দের জায়গায় পদায়নের জন্য আরও ২ কোটি টাকা নেওয়ার দাবি করা হয়েছে।

 

 

 

 

প্রশ্ন হচ্ছে—এই অর্থ যদি সত্যিই লেনদেন হয়ে থাকে, তাহলে অর্থের উৎস ও গন্তব্য কোথায়? কার মাধ্যমে টাকা নেওয়া হয়েছে? সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতির নথিতে কোনো অস্বাভাবিকতা ছিল কি না?

 

 

 

 

দুদকের অনুসন্ধানেই এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে।

 

 

 

 

দুদক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ জমা পড়েছে।

 

 

 

 

এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন, ঢাকা ওয়াসার এমডি নিয়োগ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অর্থ লেনদেন, সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন এবং বিদেশে সম্পদ রাখার মতো বিষয়।

 

 

 

 

তবে অভিযোগ জমা পড়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। ফলে প্রতিটি অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রয়োজন নথিপত্র, ব্যাংক হিসাব, অর্থ লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই।

 

 

 

 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ২৫ শতাংশ অর্থ উপদেষ্টাকে দিতে হতো—এমন অভিযোগ করা হয়েছে।

 

 

 

 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কথিত প্রেস সেক্রেটারি মাহফুজ আলম এই কমিশন-সংক্রান্ত কার্যক্রম তদারক করতেন।

 

 

 

 

অভিযোগটি সত্য হলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত দুর্নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।

 

 

 

 

তাই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর অনুমোদন, বরাদ্দ, ঠিকাদার নির্বাচন, বিল পরিশোধ এবং অর্থ ছাড়ের নথি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

 

 

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামের নিয়োগ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

 

 

 

 

অভিযোগকারীদের দাবি, এই নিয়োগের জন্য মোট ১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। এর মধ্যে ৮ কোটি টাকা দুবাইয়ের আল-আনসারি মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে পাঠানো এবং ২ কোটি টাকা নগদ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

 

 

 

 

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এমন কোনো অর্থ লেনদেনের আর্থিক প্রমাণ আছে কি না।

 

 

 

 

ব্যাংক হিসাব, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক বিবরণী এবং যোগাযোগের তথ্য যাচাই করা হলে অভিযোগটির সত্যতা বা অসত্যতা নির্ণয় করা সম্ভব।

 

 

 

 

২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ এজাজকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

 

 

 

 

এই নিয়োগের ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০ কোটি টাকা নগদ এবং সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিয়মিত ১০ শতাংশ কমিশনের শর্তে নিয়োগটি দেওয়া হয়েছিল।

 

 

 

 

পরবর্তীতে এজাজের বিরুদ্ধে পশুর হাট ইজারা, ই-রিকশা প্রকল্প, সম্পত্তি ও দোকান বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

 

 

 

 

তদন্তের ক্ষেত্রে তাই শুধু নিয়োগের সময়কার সিদ্ধান্ত নয়, পরবর্তী সময়ে প্রশাসক হিসেবে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

 

 

 

 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার টেন্ডার নিষ্পত্তি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

 

 

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব টেন্ডারে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়েছে এবং কথিত প্রেস সেক্রেটারি বিভিন্ন টেন্ডারে প্রভাব বিস্তার করেছেন।

 

 

 

 

এখানে তদন্তের জন্য একটি বড় প্রশ্ন—কোন কোন প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হয়েছে এবং কোন প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যাদেশ পেয়েছে?

 

 

 

 

প্রতিটি টেন্ডারের দরপত্র, মূল্যায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত, কার্যাদেশ, বিল পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা বিশ্লেষণ করলে কোনো সিন্ডিকেট বা যোগসাজশের অস্তিত্ব থাকলে তা শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

 

 

 

 

সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়েও আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

 

 

 

 

অভিযোগকারীদের দাবি, সারাদেশে জেলা প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি ৪৮টি ডিও লেটার দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৩৬ জনকে পরবর্তীতে ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

 

 

 

আরও অভিযোগ করা হয়েছে, জেলা অনুযায়ী ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।

 

 

 

 

এ ধরনের অভিযোগ যাচাইয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে—কোন কর্মকর্তার পক্ষে কখন ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে, সেই কর্মকর্তা কীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আর্থিক অবস্থানে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটেছে কি না—তা পর্যালোচনা করা।

 

 

 

 

আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব প্রকাশের পর তার সম্পদ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়। পরবর্তীতে ক্রিপ্টোকারেন্সি, দুবাইয়ে বিনিয়োগ এবং সুইজারল্যান্ডে ব্যাংক হিসাব থাকার দাবিও সামনে আসে।

 

 

 

 

এসব দাবির সত্যতা এখনো আলাদা করে প্রমাণিত নয়।

 

 

 

 

তবে যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকালে তার সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, তাহলে দেশীয় ও বিদেশি সম্পদের উৎস যাচাই করা দুর্নীতি অনুসন্ধানের স্বাভাবিক অংশ।

 

 

 

 

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ বৃদ্ধির পরিসংখ্যানও এ প্রসঙ্গে আলোচনায় এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশিদের মোট জমা অর্থকে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অর্থ হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। প্রয়োজন হবে ব্যক্তি-নির্দিষ্ট আর্থিক তথ্য।

 

 

 

 

দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত যদি সত্যিই বিস্তৃত হয়, তাহলে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কর্মকাণ্ডও এর বাইরে থাকার কথা নয়—এমন দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

 

 

 

 

গ্রামীণ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিদেশি বিনিয়োগ, সরকারি অনুমোদন এবং বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার বিষয় নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

 

 

 

 

অভিযোগের একটি অংশে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে ফ্রান্সের গ্রামীণ ক্রেডিট এগ্রিকল ফাউন্ডেশনে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা নতুন বিনিয়োগ হয়েছে। একই সময়ে গ্রামীণ আমেরিকায় প্রায় ১২০ কোটি টাকার বিনিয়োগ বাড়ার কথাও বলা হয়েছে।

 

 

 

 

এখন তদন্তের প্রশ্ন—এই অর্থ কোথা থেকে এসেছে? বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি? সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হিসাবপত্রে অর্থের উৎস কী দেখানো হয়েছে?

 

 

 

 

এসব প্রশ্নের উত্তর নথিপত্রের মাধ্যমেই বের করা সম্ভব।

 

 

 

 

ইউনূস সরকারের সময়ে গ্রামীণ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন সরকারি অনুমোদন ও সুবিধা পেয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

 

 

 

গ্রামীণ ইউনিভার্সিটির অনুমোদন, গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের জনশক্তি রপ্তানি লাইসেন্স এবং গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমোদন—এসব বিষয় আলোচনায় এসেছে।

 

 

 

 

এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের কর সুবিধা এবং ব্যাংকে সরকারের শেয়ারের হার ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

 

 

 

 

যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের প্রধান ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ স্বার্থসংশ্লিষ্টতা থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় স্বার্থের সংঘাত ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা উচিত।

 

 

 

 

আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে।

 

 

 

 

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি ছিল সাব-রেজিস্ট্রার বদলি।

 

 

 

 

অভিযোগকারীদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ১৮ মাসে নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে ২৮২ জনকে বদলি করা হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন অর্থের বিনিময়ে পছন্দের কর্মস্থলে বদলি হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

 

 

 

 

ভালো কর্মস্থলে বদলির জন্য ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত এবং সাধারণ বদলির ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের দাবিও রয়েছে।

 

 

 

 

এখানে প্রশ্ন হলো—এত বিপুল সংখ্যক বদলির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং বদলির আগে-পরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো মধ্যস্থতাকারীর যোগাযোগ ছিল কি না।

 

 

 

 

২০২৫ সালের ২ জুন দেশের বিভিন্ন আদালতের ২৫২ বিচারককে একযোগে বদলি করা হয়।

 

 

 

 

এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ করা হয়, বদলির পেছনে আর্থিক লেনদেনের একটি চক্র কাজ করেছে এবং এর সঙ্গে আসিফ নজরুলের সম্পৃক্ততা ছিল।

 

 

 

 

অভিযোগে কয়েক শ কোটি টাকা লেনদেনের দাবিও করা হয়েছে।

 

 

 

 

এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ফলে বিচারকদের বদলির সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

 

 

 

 

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন আসামির জামিন নিশ্চিত করার অভিযোগও রয়েছে।

 

 

 

 

তবে এই অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে নির্দিষ্ট মামলার তথ্য সামনে আনতে হবে। কোন মামলায় কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, কে আইনজীবী ছিলেন, কার মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে এবং কোনো অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন ঘটেছে কি না—এসবই তদন্তের বিষয় হতে পারে।

 

 

 

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় নতুন রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স অনুমোদন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

 

 

 

 

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময়ে ২৫২টি নতুন প্রতিষ্ঠানকে রিক্রুটিং লাইসেন্স দেওয়া হয়।

 

 

 

 

প্রশ্ন হচ্ছে—প্রতিটি প্রতিষ্ঠান কি নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করেছিল? লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব কাজ করেছে কি না? কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না?

 

 

 

 

লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।

 

 

 

 

সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও তার স্বামী আবু বকর সিদ্দিকীকেও ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে।

 

 

 

 

অভিযোগের একটি অংশে দাবি করা হয়, আবু বকর সিদ্দিকীর সঙ্গে সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের দীর্ঘদিনের পরিচয় ও পেশাগত সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক লেনদেনে মধ্যস্থতার অভিযোগও করা হয়েছে।

 

 

 

 

এ ছাড়া উপদেষ্টা হওয়ার পর রিজওয়ানা হাসান ও তার পরিবারের সম্পদ বেড়েছে—এমন দাবিও করা হয়েছে।

 

 

 

 

তবে এসব অভিযোগ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হবে সম্পদ বিবরণী, আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক হিসাব এবং সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল।

রুহিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব ৩ পরিবার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রুহিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব ৩ পরিবার

রুহিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব ৩ পরিবার

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের রাজারামপুর এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩টি পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ২.২০ মিনিটের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন, ওই এলাকার মৃতঃ সিরাজ উদ্দিনের তিন ছেলে নাসিরুল ইসলাম (৪০), নজমুল ইসলাম (৩৭) ও আবু জাহেদ (৩৫)। স্থানীয়রা জানান, বেলা ২.২০ মিনিটের সময় হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে তারা দ্রুত এগিয়ে আসেন। স্থানীয় জনতার এবং বোদা উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এ অগ্নিকাণ্ডে তিন পরিবারের নগদ অর্থসহ আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিকে খবর পেয়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বার, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপন, রাজাগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাংবাদিক মোঃ আহসান হাবিব মাস্টার এবং রুহিয়া উপজেলা মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানান।

রুহিয়ায় বেগুন চাষে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
রুহিয়ায় বেগুন চাষে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা

রুহিয়ায় বেগুন চাষে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় লাল তীর জাতের বেগুন চাষ করে বাম্পার ফলন ও কাক্সিক্ষত দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। এখানকার উৎপাদিত বেগুন স্থানীয় চাহিদাপূরণের পাশাপাশি ঢাকা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। সরেজমিনে রুহিয়া উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের টাঙ্গন ব্রিজ সংলগ্ন উত্তর বঠিনা চাঁদপুর ক্যাম্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায় নদীর তীরঘেঁষে চলছে বেগুন কেনাবেচার ব্যস্ততা। পাইকাররা সরাসরি মাঠ থেকেই কৃষকদের কাছ থেকে বেগুন সংগ্রহ করছেন। কথা হয় স্থানীয় কৃষক লোকমান, সোহান, জব্বার মাস্টার ও মনসুরের সঙ্গে। তারা জানান, চলতি মৌসুমে লাল তীরের বেগুন আবাদ করে বেশ ভালো মুনাফা পাচ্ছেন। কৃষক লোকমান বলেন, আমি এবার দেড় বিঘা জমিতে লাল তীর বীজের বেগুন চাষ করেছি। এতে আমার মোট খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত ৮০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছি। ক্ষেতে যে পরিমাণ বেগুন রয়েছে, তাতে সব মিলিয়ে সর্বমোট ৩ লাখ টাকার বেগুন বিক্রি হবে বলে আশা করছি। এতে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিট লাভ থাকবে। একই এলাকার কৃষক আবু কালাম, সাদেক হোসেন ও জালালসহ আরও অনেকেই জানান, লাল তীর জাতের বেগুনের ফলন ও বাজার দর দুটোই ভালো পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে রুহিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নাসিরুল আলম জানান, কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের বেগুনসহ নানা জাতের সবজি চাষে নিয়মিত উৎসাহিত ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে বাজারে বেগুনের উপযুক্ত দাম থাকায় কৃষকরা ভালো লাভ করতে পারছেন। তিনি আরও জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি ও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

রুহিয়ায় মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান স্মরণে ফুটসাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
রুহিয়ায় মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান স্মরণে ফুটসাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

রুহিয়ায় মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান স্মরণে ফুটসাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও

ক্রীড়ায় শক্তি, ‘ক্রীড়ায় বল মাদক ছেড়ে খেলায় চল’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান স্মৃতি ফুটসাল ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ (দ্বিতীয় মৌসুম)-এর খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাদ জুম্মা রাজাগাঁও ইউনিয়নের আসাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ৩নং রাজাগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদলের উদ্যোগে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমানের সন্তান ও রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপন টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। খেলা শেষে আসাননগর ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য দেন আব্দুল জব্বার, সভাপতি, রুহিয়া উপজেলা বিএনপি, নুরুল ইসলাম নুরু, সভাপতি, রাজাগাঁও ইউনিয়ন বিএনপি, আহসান হাবীব মাস্টার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, রাজাগাঁও ইউনিয়ন বিএনপি, মোস্তবা রাফিত মাহী, সাধারণ সম্পাদক, ঠাকুরগাঁও জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, দেলোয়ার হোসেন দেলু, আহ্বায়ক, রুহিয়া উপজেলা ছাত্রদল, মহসিন আলী, সভাপতি, রাজাগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদল, আখিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক, রাজাগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদল টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো পরিচালনা করেন বিপুল দাস ও রমজান আলী। খেলার মাঠে ধারাবিবরণী দিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার তপু।