“বদলি নীতিমালার তোয়াক্কা নেই: বান্দরবান সদরেই ২০ বছর পার করলেন এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমানুর”।
বদলি নীতিমালার তোয়াক্কা নেই: বান্দরবান সদরেই ২০ বছর পার করলেন এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমানুর।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে একই জেলায় কর্মরত রয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর বান্দরবান সদর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমানুর রহমান। এর আগে তিনি এলজিইডির জেলা কার্যালয় এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখায়ও দায়িত্ব পালন করেছেন।
সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও নিজের দপ্তরের ই-জিপি (E-GP) টেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস, পছন্দের ঠিকাদারদের অনলাইনে ই-জিপি ফরম পূরণে সহযোগিতা করে কাজ পাইয়ে দেওয়া, টেন্ডার সিন্ডিকেট গঠন এবং উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এইসব বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আমি বান্দরবান জেলায় ২০ চাকরি করছি তাতে আপনার সমস্যা কি? আমি এই প্রসঙ্গে আপনার সাথে কথা বলতে পারবো না। আপনার বেশি সমস্যা থাকলে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে যান বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।”
সম্প্রতি তার তদারকিতে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের হলুদিয়া থেকে ভাগ্যকুল পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার এবং তিনটি গাইড ওয়াল নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়ক সংস্কারকাজে নির্ধারিত মানের বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। কংকরের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে পুরোনো ও ভাঙা ঢালাইয়ের অংশ এবং নিম্নমানের ইটের খোয়া। অনেক স্থানে পুরোনো ঢালাইয়ের অংশ উঠিয়ে সরাসরি কংক্রিটের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা গেছে, যা নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
এছাড়া গাইড ওয়াল নির্মাণকাজেও মানসম্মত উপকরণ ব্যবহারে ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত না করে দ্রুত প্রকল্প শেষ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “কাজে কোনো নিয়ম-নীতি মানা হচ্ছে না। নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ করা হচ্ছে।” তারা আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজশেই এসব অনিয়ম চলছে।
এদিকে এলজিইডির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ৩ কোটি ৮২ লাখ ৮৯ হাজার টাকার এ সংস্কারকাজ তার পছন্দের ঠিকাদার শাজাহান মিয়া ও মো. ইউনুসকে পাইয়ে দেওয়া হয়। পরে তার প্রশ্রয়ে ওই দুই ঠিকাদার নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন
Array