“বান্দরবান কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন ভবনে শুধু ঝুলছে তালা, নেই কোনো দায়িত্বরত কর্মকর্তার দেখা”।
বান্দরবান কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন ভবনে শুধু ঝুলছে তালা, নেই কোনো দায়িত্বরত কর্মকর্তার দেখা।
বান্দরবান প্রতিনিধি:
ঘন্টার পর ঘন্টা পার হয়ে গেলেও বান্দরবান কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন বা বিএডিসি অফিসের প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অফিস চলার কথা থাকলেও, দপ্তরের করিডোর যেন এক পরিত্যক্ত ভবন। রুমের বাইরে নেমপ্লেটে কর্মকর্তাদের নাম থাকার কথা থাকলেও নেই কোন নেমপ্লেট এবং ভেতরে নেই কারো উপস্থিতি।
এ বিষয়ে অফিসে মাস্টাররোলে দায়িত্বে থাকা একমাত্র ব্যাক্তি অমিত বড়ুয়ার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, সাত থেকে আট মাস যাবত আমি এখানে চাকরি করছি। সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আবু নাঈম এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আবু তৌসির নিয়মিত অফিস করেন না বললেই চলে। সহকারী প্রকৌশলী আর উপ-সহকারী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের ফোন নাম্বার খুঁজলে তিনি দিতে আপত্তি জানালে অন্যভাবে ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে তাদের সঙ্গে অনেকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ফোনে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, এই চিত্র শুধু আজকের নয়। দিনের পর দিন এভাবেই ‘অভিভাবকহীন’ হয়ে পড়ে আছে প্রতিষ্ঠানটি। দাপ্তরিক কাজে চরম স্থবিরতায় পাহাড়ের কৃষি ক্ষুদ্র সেচ ব্যবস্থা আজ হুমকির মুখে। কর্মকর্তাদের দেখা না পাওয়ায় মিলছে না প্রয়োজনীয় পরামর্শ কিংবা উন্নত মানের সরকারি দপ্তরে পরামর্শ । সরকারি সুযোগ-সুবিধা সাধারণ কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর বদলে তা আজ এই তালাবদ্ধ কক্ষেই বন্দি হয়ে আছে।
একটি সরকারি অফিসের দরজা যখন সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ থাকে, তখন প্রশ্ন ওঠে কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে। বান্দরবানের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে যে প্রতিষ্ঠানের অগ্রণী ভূমিকা রাখার কথা ছিল, সেই বিএডিসি ক্ষুদ্র সেচ অফিস আজ নিজেই এক অচেনা বদ্ধ দুয়ারে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি এর সমাধান দেবে, নাকি কৃষকদের এভাবেই দরজায় কড়া নেড়ে ফিরে যেতে হবে?”
অনতিবিলম্বে এই অরাজকতা দূর করে অফিস সচল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী কৃষকেরা।


আপনার মতামত লিখুন
Array