খুঁজুন
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

মাতৃভূমির আর এক ইঞ্চি জমিও রোহিঙ্গাদের আবাসনের জন্য নয়।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
মাতৃভূমির আর এক ইঞ্চি জমিও রোহিঙ্গাদের আবাসনের জন্য নয়।

মাতৃভূমির আর এক ইঞ্চি জমিও রোহিঙ্গাদের আবাসনের জন্য নয়।

এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী:

 

সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘ মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশে আরও জমি বা নতুন ক্যাম্প স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশ কি তাদের বাপের দেশ? একটি সার্বভৌম ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিজের নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে। তাই সরকারের তরফ থেকে জাতিসংঘের এ আবেদন সরাসরি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর এক ইঞ্চি জমিও রোহিঙ্গাদের আবাসনের জন্য দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের মূল অবস্থান হলো রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও মিয়ানমাকেই করতে হবে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনেই নিহিত। বাংলাদেশ সরকার বরাবরই সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে আসছে যে, তারা আর কোনো নতুন জমি বরাদ্দ দেবে না। শরণার্থী বোঝা ভাগাভাগি করতে এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ভয়াবহ জাতিগত নিধন ও সহিংসতার শিকার হয়ে ২০১৭ সাল থেকে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তৎকালীন সময়ে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই সাময়িক আশ্রয় একটি দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, সামাজিক ভারসাম্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এই বিপুল জনগোষ্ঠীর বোঝা অত্যন্ত প্রকট হয়ে উঠেছে।

 

বিশ্বব্যাপী অনেক উন্নত ও কম জনবহুল দেশ রয়েছে এমন যৌক্তিক প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে আসাই স্বাভাবিক। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (টঘঐঈজ) প্রতি বছরই কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক শরণার্থীকে তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন (জবংবঃঃষবসবহঃ) করে থাকে। তবে এর বাস্তব চিত্র বেশ হতাশাজনক। বৈশ্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ২৫ লাখেরও বেশি শরণার্থীর পুনর্বাসন প্রয়োজন। কিন্তু উন্নত দেশগুলোর বেঁধে দেওয়া সীমিত কোটা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে প্রতি বছর এ পুনর্বাসনের হার মাত্র ৭ শতাংশের কাছাকাছি। এ ছাড়াও, আসিয়ান (অঝঊঅঘ) সদস্যভুক্ত অনেক দেশ যারা জনবহুল নয়, তারাও বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে আশ্রয় দিতে অনাগ্রহী। ফলে উন্নত বিশ্বে পুনর্বাসন একটি দীর্ঘমেয়াদী, ধীরগতির ও সীমিত প্রক্রিয়া, যা দিয়ে রাতারাতি ১২ লাখ রোহিঙ্গার সমস্যা সমাধান করা অসম্ভব। বাংলাদেশ সরকার ও সাধারণ মানুষের একটাই দাবি এ দীর্ঘায়িত সংকট আর বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী সমাধান হলো তাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নতুন করে জমি খোঁজার আবদার না করে, মিয়ানমারের ওপর কার্যকর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে। রাখাইনে এমন অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যেন রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সসম্মানে নিজ ভিটায় ফিরে যেতে পারে।

 

শুধুমাত্র বাংলাদেশের কাঁধে এই বিশাল মানবিক দুর্যোগের দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া কোনো ন্যায়সঙ্গত সমাধান হতে পারে না। বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। রোহিঙ্গা তরুণ সমাজ যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য তাদের শিক্ষা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি, বিশ্ব সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে যেন তারা তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বোঝা বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ এবং নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে। এ সংকট সমাধানে অতীতের সফল কূটনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নীতি একটি উজ্জ্বল ও কার্যকর দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে আসে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার উত্তরসূরি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও এ সংকট সমাধানে শহীদ জিয়ার সেই বিচক্ষণ ও দূরদর্শী নীতি অবলম্বন করতে হবে।

 

১৯৭৮ সালে মিয়ানমারের (তৎকালীন বার্মা) সামরিক জান্তা ‘কিং ড্রাগন অপারেশন’ চালিয়ে আড়াই লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করেছিল। সেটিই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বড় রোহিঙ্গা সংকট। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অত্যন্ত সাহসিকতা, জাতীয় আত্মমর্যাদা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির সমন্বয়ে এ সংকটের সমাধান করেছিলেন। রোহিঙ্গা সংকট কেবল একটি মানবিক সমস্যা নয়, এটি বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতি এবং নিরাপত্তার জন্য একটি টাইম বোম। এ সংকট সমাধানে অতীতের দুর্বল ও তোষামোদি কূটনীতি ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমান দেখিয়ে গেছেন কীভাবে আত্মমর্যাদা ও বিচক্ষণ কূটনীতির মাধ্যমে মিয়ানমারকে নতজানু করে নিজ নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করা যায়।

 

বাংলাদেশ মানবিকতার পরিচয় দিয়ে গত এক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যে উদারতা দেখিয়েছে, তার কোনো বিকল্প নেই। তবে এই বোঝা চিরকাল বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই জাতিসংঘের উচিত নতুন জমির দাবি বাদ দিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আরো জোরালো ও কার্যকর ভূমিকা পালন করা। বাংলাদেশ কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের স্থায়ী আবাসভূমি হতে পারে না এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই এই সংকটের একমাত্র এবং চূড়ান্ত সমাধান।

 

গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিছু এনজিও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে গোপনে প্রচারণা চালায় যাতে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা রোহিঙ্গাদের মনে ভয় তৈরি করে এবং নাগরিকত্বের শতভাগ নিশ্চয়তা ছাড়া ফিরে না যাওয়ার জন্য উসকানি দেয়। বাস্তবসম্মত ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসনের চেয়ে অবাস্তব শর্ত জুড়ে দিয়ে প্রক্রিয়াটিকে জটিল করে তোলার পেছনে এনজিওদের একাংশের হাত রয়েছে। এনজিওগুলোর অস্তিত্ব এবং তহবিল মূলত নির্ভর করে চলমান সংকটের ওপর। রোহিঙ্গা সংকট যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীর কাছ থেকে তত বেশি ফান্ড বা অনুদান আসবে। অভিযোগ রয়েছে, এ ফান্ডের একটি বিশাল অংশ এনজিও কর্মকর্তাদের উচ্চ বেতন, বিলাসবহুল জীবনযাপন, গাড়ি ভাড়া এবং প্রশাসনিক কাজেই শেষ হয়ে যায়। ফলে সংকট সমাধান বা প্রত্যাবাসনের চেয়ে সংকট টিকিয়ে রাখাই অনেক এনজিওর অঘোষিত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।

 

মানবিক সহায়তা অবশ্যই প্রশংসনীয়, কিন্তু তা যদি কোনো দেশের জাতীয় নিরাপত্তা এবং একটি স্থায়ী সংকটের সমাধানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশ সরকারকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওগুলোর আর্থিক লেনদেন, কার্যক্রম এবং তাদের মোটিভ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যেসব সংস্থা প্রত্যাবাসন বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত, তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সংকট জিইয়ে রাখা নয়, বরং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই হোক সমস্ত আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংস্থার একমাত্র লক্ষ্য। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৫লক্ষাধিক রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশাল চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন এদের ভরণপোষণের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে কক্সবাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকার বাজার ব্যবস্থা, দ্রব্যমূল্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস যেমন কৃষি এবং পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে ঘন পাহাড়ি বনভূমি কেটে রোহিঙ্গাদের জন্য ক্যাম্প ও ঝুপড়ি ঘর তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাপক বনভূমি ধ্বংস হয়েছে এবং জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। পাহাড় কাটার ফলে প্রতি বর্ষায় সেখানে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া লক্ষাধিক মানুষের প্রতিদিনের জ্বালানি কাঠের জোগান দিতে গিয়ে আশেপাশের সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে, যা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করছে।

 

ক্যাম্পগুলোতে আধিপত্য বিস্তার, বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের অন্তর্দ্বন্দ্ব, খুন, অপহরণ এবং চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। এ ছাড়াও ইয়াবা ও আইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের অবৈধ চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাংলাদেশের যুবসমাজের নৈতিক ও শারীরিক ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ অপরাধ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ভীষণভাবে ব্যাহত করছে।

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। মিয়ানমার থেকে আগত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী বাংলাদেশের ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। অবৈধভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট তৈরির মতো গুরুতর অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

 

বর্তমান ও ভবিষ্যতের নেতৃত্ব হিসেবে তারেক রহমানকে শহীদ জিয়ার সেই ‘জাতীয়তাবাদী ও দূরদর্শী’ নীতিকেই ধারণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ শক্তির সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে এবং দেশের অভ্যন্তরে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমেই কেবল এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব

 

লেখক: মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটি সিনিয়র সহ সভাপতি বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম ও চেয়ারম্যান পালং খালী ইউপি, উখিয়া, কক্সবাজার।

চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকা থেকে কিশোরী নিখোঁজ, থানায় জিডি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকা থেকে কিশোরী নিখোঁজ, থানায় জিডি

চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকা থেকে কিশোরী নিখোঁজ, থানায় জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানাধীন ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের ২নং মাইলের মাথা এলাকা থেকে কৃষ্ণা দে (১৫) নামে এক কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর (সোমবার) বিকাল ৩টার দিকে সে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার মা মেঘনা রাণী দাশ বন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ১৫৫৫, তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০২৬) করেছেন।

 

জিডি সূত্রে জানা যায়, কৃষ্ণা দে রাজকুমার দে ও মেঘনা রাণী দাশের মেয়ে। সে একজন শিক্ষার্থী ও অবিবাহিত। পরিবারের স্থায়ী ঠিকানা কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নের হিন্দুপাড়া। বর্তমানে তারা চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকায় বসবাস করছেন।

 

নিখোঁজ কিশোরীর বিবরণ:

 

– নাম: কৃষ্ণা দে

 

– বয়স: আনুমানিক ১৫ বছর

 

– উচ্চতা: ৪ ফুট ৬ ইঞ্চি

 

– ওজন: ৪৫ কেজি

 

– গায়ের রং: শ্যামলা

 

– চুল: ছোট

 

– নাক: লম্বা

 

– চোখ:কালো

 

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষ্ণার সন্ধান পেলে বা তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে অনুগ্রহ করে নিকটস্থ থানা বা বন্দর থানা, সিএমপি, চট্টগ্রামে যোগাযোগ করতে হবে। এ বিষয়ে পুলিশ ও পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। নিখোঁজ কিশোরীর সন্ধান পেলে তথ্য জানাতে পারেন নিম্নোক্ত হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে- 01863247759

টেকনাফে সড়কের ব্রিজ বন্ধ করে দিয়ে দোকান নির্মাণ বর্ষামৌসুমে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার আশংকা জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
টেকনাফে সড়কের ব্রিজ বন্ধ করে দিয়ে দোকান নির্মাণ বর্ষামৌসুমে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার আশংকা জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

টেকনাফে সড়কের ব্রিজ বন্ধ করে দিয়ে দোকান নির্মাণ বর্ষামৌসুমে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার আশংকা জনমনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

 নিউজ ডেস্ক:

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা আলী খালী রাস্তার মাথায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ সংযোগ সড়কে নির্মাণ করা একটি ব্রিজের ৩ টি মিনি ব্রিজের মধ্য থেকে ১ টি মিনি ব্রিজের  মুখ বন্ধ করে দিয়ে তার উপরে ঢালাই দিয়ে দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

 

সরেজমিন গিয়ে দেখাযায় আলীখালী রোডের প্রবেশদ্বার সড়কের ব্রিজটিকে বর্ষা মৌসুমের প্রবল বর্ষনের পানি চলাচলের উপযোগী করে ৩ টি মিনি ব্রিজ দিয়ে  নির্মাণ করেছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জনাগেছে স্থানীয় জাফর আলমের ছেলে  প্রভাবশালী আবুল হোছাইন রাতের অন্ধকারে একটি মিনি ব্রিজের মূখ ঢালাই দিয়ে বন্ধ করে ব্রিজটির উপর দোকান নির্মাণ কাজ প্রক্রিয়াধীন রেখেছে।

 

এতে করে আসন্ন  বর্ষা মৌসুমে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতাসৃষ্টি করে জন দূর্ভোগ তৈরির আশংকা রয়েছে । বর্ষা মৌসুমে প্রবল বর্ষনে পাহাড়ী ঢলের পানি যথাযথ চলাচল করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশংকা প্রকাশ করছে ভুক্তভোগীরা।

 

এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

 

একটি বাস্তবমূখী ব্রিজের মূখ বন্ধ করে দিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কের পাশে দোকান নির্মাণ কতটুকু যুক্তিযুক্ত এনিয়ে ভাবিয়ে তুলেছে সচেতন মহল কে। এই বিষয়ে তদন্ত পূর্বক  দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

এব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রুকুনুজ্জামান বলেছেন এ বিষয়টি দেখার জন্য আগামীকাল অফিস থেকে লোক যাবে যদি কোন অসঙ্গতি দেখা যায় তাহলে যারা একাজের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

অভিযুক্ত আবুল হোছাইনের সাথে  যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে ব্রিজের মূখ বন্ধ করে নাই বলে জানালে ও পরে  যদি বন্ধ হয়ে থাকে তাহলে খুলেদেয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান।###

বান্দরবানের থানচিতে মহিলা ফুটবল দলের সংবর্ধনা: মাদক ও অবক্ষয় রোধে খেলাধুলার বিকল্প নেই—পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
বান্দরবানের থানচিতে মহিলা ফুটবল দলের সংবর্ধনা: মাদক ও অবক্ষয় রোধে খেলাধুলার বিকল্প নেই—পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু

বান্দরবানের থানচিতে মহিলা ফুটবল দলের সংবর্ধনা: মাদক ও অবক্ষয় রোধে খেলাধুলার বিকল্প নেই—পার্বত্যমন্ত্রী সাচিং প্রু

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, এমপি বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদের মাদকের নেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে খেলাধুলার প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহ যুগাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের বিদ্যালয়গুলোতে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন বাড়িয়ে ছেলেমেয়েদের সুস্থতা রক্ষায় পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করছেন। মন্ত্রী বলেন, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে খেলাধুলার বিকল্প নেই।

 

আজ সন্ধ্যায় বান্দরবানের দুর্গম অঞ্চল থানচি উপজেলার মিনি স্টেডিয়ামে বলিপাড়া বিজিবি ৩৮ ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে ‘থানচি মহিলা ফুটবল দলের সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী আরও বলেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গণে তরুণদের পাশাপাশি মহিলা খেলোয়াড়রাও দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনছে। মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মহিলা ক্রীড়াবিদরা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও ফুটবল খেলায় তাদের দারুন পারফরম্যান্স প্রদর্শন করছে। মন্ত্রী সাচিং প্রু আরও বলেন, তরুণসমাজকে মাদক ও নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। স্কুল পর্যায় থেকে যদি নিয়মিত ক্রীড়াচর্চার সুযোগ নিশ্চিত করা যায়, তবে এই নারী খেলোয়াড়দের মধ্যে নেতৃত্ব গুণাবলী, শৃঙ্খলাপরায়ণতা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির মানসিকতা গড়ে উঠবে। এভাবেই দেশের মহিলা ক্রীড়াবিদদের খেলাধুলায় আরও দক্ষ করে গড়ে তুলে বাংলাদেশের কৃতিত্ব অর্জনের পথকে আরও সুগম করতে হবে।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে থানচি মহিলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের উষ্ণ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। মন্ত্রী সাচিং প্রু বিজয়ী খেলোয়াড়দের সংবর্ধিত করেন এবং তাদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন। সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী পর্ব শেষে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় একটি জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন মন্ত্রী।

 

উক্ত অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সহধর্মিনী মমচিং, থানচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল রুবায়েত জামিল, বলিপাড়া বিজিবি ৩৮ ব্যাটালিয়ান এর সিও ইয়াসিন আরাফাত, রুমা বিজিবির অধিনায়ক হাসান শাহরিয়ার, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বীর মুক্তিযোদ্ধা মংশৈহ্লা চৌধুরী, সাবেক থানচি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খামলাই ম্রোসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।