“লামা উপজেলার ফাইতং ইটভাটায় জ্বালানি লাকড়ি সরবরাহে কোটি টাকার চাঁদা—স্বচ্ছতা কোথায়”?
লামা উপজেলার ফাইতং ইটভাটায় জ্বালানি লাকড়ি সরবরাহে কোটি টাকার চাঁদা—স্বচ্ছতা কোথায়?
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং এলাকায় ইটভাটাগুলোতে জ্বালানি লাকড়ি সরবরাহকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, “ফাইতং লাকড়ি সমিতি” নামে একটি সংগঠন প্রতি মন লাকড়ির ওপর ৭ টাকা করে চাঁদা আদায় করে থাকে।
ইটভাটা সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, একটি মৌসুমে প্রায় ১ কোটি মন লাকড়ি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেই হিসাবে চাঁদার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭ কোটি টাকা—যা একটি বিশাল অঙ্কের অর্থ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বিপুল পরিমাণ অর্থের একটি বড় অংশ বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে ভাগ-বাঁটোয়ারা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, লামা থানা, বনবিভাগ এবং বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি এই অর্থ থেকে সুবিধা পেয়ে থাকেন। যদিও এসব অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মোট আদায়কৃত অর্থের প্রায় ৫০ শতাংশ প্রশাসন “ম্যানেজ” করতেই ব্যয় হয় বলে ধারণা করা হয়। তবে বাকি বিপুল অঙ্কের টাকা কোথায় যায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।
এখানেই উঠেছে বড় প্রশ্ন—
এই ৭ কোটি টাকার চাঁদা কি এলাকার উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখছে? স্থানীয় অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা পরিবেশ সংরক্ষণে এর কোনো দৃশ্যমান প্রভাব নেই বলেই অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। ফলে অনেকের ধারণা, এই অর্থের বড় অংশই ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। চাঁদা আদায়ের বৈধতা, অর্থের উৎস ও ব্যয়ের খাত—সব কিছুই স্বচ্ছতার আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এই ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফাইতংয়ের ইটভাটাগুলোতে জ্বালানি লাকড়ি সরবরাহকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই অর্থনৈতিক প্রবাহ শুধু একটি বাণিজ্যিক বিষয় নয়; এটি এখন জনস্বার্থ, সুশাসন এবং স্বচ্ছতার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। সঠিক তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এখন সময়ের দাবি।


আপনার মতামত লিখুন
Array