শিক্ষার্থী নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে কঠোর বিচার দাবি
শিক্ষার্থী নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে কঠোর বিচার দাবি
প্রতিনিধি: মুহাম্মদ আকতার উদ্দিন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্বলবুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আকতার উদ্দিন।
তিনি বলেন, একজন অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে তা অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মুহাম্মদ আকতার উদ্দিন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটি শিশুর নিরাপদে শিক্ষা গ্রহণ ও বেড়ে ওঠার স্থান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের নানা অভিযোগ সামনে আসছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে বিষয়টি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থী নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তবে একই সঙ্গে অভিযোগ উঠলেই তদন্তের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিরও আইনগত অধিকার রক্ষা করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সন্তানরা শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রতিষ্ঠানে যায়। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের নয়; অভিভাবক, প্রশাসন ও সমাজের প্রতিটি মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রতি যেকোনো ধরনের নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে হবে।
মুহাম্মদ আকতার উদ্দিন বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বিবেচনা না করে তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে নির্দোষ কোনো ব্যক্তি যেন মিথ্যা অভিযোগে হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ কামনা করেন।


আপনার মতামত লিখুন
Array