খুঁজুন
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

সাংবাদিক ও ‘সনাতনী স্বেচ্ছাসেবক’ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ পলাশ সেনকে ঘিরে নানা প্রশ্ন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক ও ‘সনাতনী স্বেচ্ছাসেবক’ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ পলাশ সেনকে ঘিরে নানা প্রশ্ন।

সাংবাদিক ও ‘সনাতনী স্বেচ্ছাসেবক’ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ পলাশ সেনকে ঘিরে নানা প্রশ্ন।

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

চট্টগ্রাম নগরীতে নিজেকে কখনো সাংবাদিক, কখনো সনাতনী স্বেচ্ছাসেবক, আবার কখনো বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পলাশ সেন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে প্রতারণা, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার মতো একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও অভিযোগে বলা হচ্ছে, পলাশ সেনের নাম ও পরিচয় নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি নিজের পরিচয় পরিবর্তন করে ‘সেন পলাশ’ নাম ব্যবহার শুরু করেন।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, একজন হিন্দু যুবকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করে দেওয়ার কথা বলে পলাশ সেন বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। অভিযোগকারীর দাবি, টাকা নেওয়ার পরও এনআইডি করে দেওয়া হয়নি এবং টাকা ফেরত চাইলে ওই যুবককে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।

 

এ ঘটনায় টাকা লেনদেনের একটি স্ক্রিনশটও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে স্ক্রিনশটটির সত্যতা, লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, এনআইডি তৈরি করে দেওয়ার নামে কারও কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে সেটি প্রতারণার আওতায় পড়ে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

 

অভিযোগ রয়েছে, পলাশ সেন বিভিন্ন সময় নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। এমনকি রাতের বেলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোন করে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।

 

তবে তিনি কোন গণমাধ্যমে কর্মরত, তার পদবি কী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার বর্তমান সম্পর্ক কী—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

 

এ কারণে তার সাংবাদিক পরিচয়ও যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে যদি কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা নেন কিংবা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন, তাহলে সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

 

পলাশ সেনকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে রাজনৈতিক সহিংসতায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ওই সময় চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেট, চকবাজার, বহদ্দারহাট ও বাকলিয়া এলাকায় সংঘটিত বিভিন্ন সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় পলাশ সেন উপস্থিত ছিলেন।

 

একটি ভাইরাল পোস্টে তাকে হেলমেট পরা অবস্থায় হাতে লাঠি এবং কোমরে অস্ত্র সদৃশ বস্তু নিয়ে অবস্থান করার অভিযোগ করা হয়েছে। পোস্টটিতে দাবি করা হয়, তিনি কথিতভাবে হামলায় অংশ নিয়েছিলেন এবং সে সময় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এখনো আছেন।

 

পলাশ সেনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া একটি দাঙ্গা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এক মাসেরও বেশি সময় কারাগারে থাকার অভিযোগও রয়েছে।

 

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মামলায় গ্রেপ্তারের পর তিনি কারাগারে ছিলেন এবং পরবর্তীতে জামিনে বা আইনগত প্রক্রিয়ায় মুক্তি পান।

 

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, কারাগারে যাওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা করেছিলেন ড. কুশল বরণ চক্রবর্তী। এমনকি পরবর্তীতেও তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

 

পলাশ সেনকে ঘিরে আরেকটি অভিযোগ হলো-তিনি বিভিন্ন সময় সনাতনী সম্প্রদায়ের সেবা ও বিভিন্ন ধর্মীয় বা সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করেন।

 

অভিযোগকারীদের দাবি, কখনো সাংবাদিক, কখনো সনাতনী সংগঠনের কর্মী কিংবা স্বেচ্ছাসেবক পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে কোন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, কোন উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে এবং সেই অর্থের কী হয়েছে-এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও নথি প্রকাশ করা হয়নি।

 

পলাশ সেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠন ও পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে।

 

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কখনো সাংবাদিকতার পরিচয়, কখনো ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার পরিচয় এবং কখনো ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়।

 

পলাশ সেনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কোতোয়ালী, চকবাজার, বাকলিয়া ও চান্দগাঁও থানার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

 

একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, কোতোয়ালী থানার এক কর্মকর্তার সঙ্গে পলাশ সেনের বিশেষ সখ্যতা রয়েছে এবং তাদের একসঙ্গে থাকা কিছু ছবিও রয়েছে।

 

অভিযোগকারীদের প্রশ্ন-যদি পলাশ সেনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বা অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা কী নেওয়া হয়েছে এবং কোনো কর্মকর্তা তাকে সুবিধা দিয়েছেন কি না, তা তদন্ত করা হয়েছে কি না।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পলাশ সেন নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘সেন পলাশ’ ব্যবহার শুরু করেন।

 

অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তিনি পরিচয় পরিবর্তন করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাই একাধিকবার ফোন দিলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নির্বাচনের পর প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, ঐক্যবদ্ধ ঠাকুরগাঁও গড়ার অঙ্গীকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
নির্বাচনের পর প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, ঐক্যবদ্ধ ঠাকুরগাঁও গড়ার অঙ্গীকার

নির্বাচনের পর প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, ঐক্যবদ্ধ ঠাকুরগাঁও গড়ার অঙ্গীকার

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও

নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন।নির্বাচনের পরদিন সকালে তিনি ছুটে যান নির্বাচনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জনাব দেলোয়ার হোসেনের বাসভবনে। সেখানে দুজনের মধ্যে হয় কুশল বিনিময়। এ সময় পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এলাকার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।একটি সুন্দর ও উন্নত ঠাকুরগাঁও গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন। পাশাপাশি জনসেবার ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

 

এ সময় ঠাকুরগাঁওয়ের সার্বিক উন্নয়নে দল-মত নির্বিশেষে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তাঁরা।রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও এলাকার মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার এই উদ্যোগ স্থানীয় রাজনীতিতে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তা বহন করে।

 

একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও সুন্দর ঠাকুরগাঁও গড়ার প্রত্যয়ে—প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, উন্নয়নই হোক সবার অঙ্গীকার

লামার নুনারবিবিরিতে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
লামার নুনারবিবিরিতে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

লামার নুনারবিবিরিতে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মুহাম্মাদ আলমগীর লামা বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা সদর ইউনিয়নের নুনারবিবিরিতে মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) নুনারবিবির বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নুনারবিবির যুব সংঘের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়সার হামিদের পক্ষে এসআই শাকিল আহমেদ । বিশেষ অতিথি ছিলেন ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম, ইউপি সদস্য আবু সুফিয়ান ও সমাজসেবক মো. শামসুল হক।

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবক মো. জয়নাল আবেদীন।

 

সভায় মাদকের ভয়াবহতা, এর সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষতিকর প্রভাব এবং যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবার, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

বন্দরে জাকির হত্যা মামলা: তিন বছরেও নেই অগ্রগতি, প্রধান আসামি জেলে থাকলেও বহাল তবিয়তে সহযোগীরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
বন্দরে জাকির হত্যা মামলা: তিন বছরেও নেই অগ্রগতি, প্রধান আসামি জেলে থাকলেও বহাল তবিয়তে সহযোগীরা

বন্দরে জাকির হত্যা মামলা: তিন বছরেও নেই অগ্রগতি, প্রধান আসামি জেলে থাকলেও বহাল তবিয়তে সহযোগীরা

ক্রাইম রিপোটার

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে চাঞ্চল্যকর ১৯ বছর বয়সী তরুণ মোঃ জাকির হোসেন হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পার হতে চললেও মামলার দৃশমান কোনো অগ্রগতি নেই। মূল আসামিদের একজন কারাগারে থাকলেও অন্য আসামিরা অধরা থাকায় চরম হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে নিহতের অসচ্ছল পরিবার। এর পাশাপাশি অর্থাভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কায় বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নিহতের দরিদ্র পিতা।

 

মামলার এজাহার ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত জাকির হোসেনের বাবা মোঃ আলম বাদশা পেশায় একজন ব্যাটারিচালিত মিশুকচালক। মূল বাড়ি লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার দীঘলটারী এলাকায় হলেও পরিবার নিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন কদমরসূল কলেজ মাঠ এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

 

২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে জাকির তাঁর বাবার ব্যাটারিচালিত মিশুকটি নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। স্বজনরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি এবং মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর, ১১ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে বন্দর থানার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের মোহনপুর এলাকার একটি ছোট ডোবার পানিতে স্থানীয়রা একটি মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলম বাদশা নিজের ছেলের নিথর দেহ শনাক্ত করেন।

 

নিহতের গলার বাঁ পাশে, বাঁ চোখে এবং ডান গালে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশ গিয়ে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। ছেলেকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ বাবার।

 

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল আমলি আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর: ১১)। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— ১. সুমন কুমার সূত্রধর (৩৬): পিতা- হরিপদ চন্দ্র সূত্রধর, সাং- একরামপুর বাজার (সালাম মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া), বন্দর, নারায়ণগঞ্জ। (বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন) ২. মোঃ শাহিন (২১): পিতা- মোঃ আজিজুল, সাং- একরামপুর ইস্পাহানি, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ। ৩. মোঃ সিয়াম রহমান (২৬): পিতা- মৃত হাবিবুর রহমান, সাং- ৩৬৫ নং শাহসুজা রোড (পাইকপাড়া), নারায়ণগঞ্জ। এছাড়াও মামলায় আরও ৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

 

পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, মামলার ২ নম্বর আসামি সুমন কুমার সূত্রধর বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে রয়েছেন। তবে মামলার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অন্য এজাহারভুক্ত আসামি- মোঃ শাহিন ও মোঃ সিয়াম রহমানসহ অজ্ঞাত সহযোগীরা এখনো অধরা। আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় এবং তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় মামলার বিচার প্রক্রিয়া থমকে গেছে।

 

একজন সাধারণ মিশুকচালক হিসেবে নিহতের বাবা আলম বাদশার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে মামলার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, “পোলাটারে নির্মমভাবে কুপাইয়া মাইরা ফেললো। এক আসামি জেলে থাকলেও বাকিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ, টাকা-পয়সার অভাবে ঠিকমতো আইনি লড়াই চালাতে পারছি না। তার ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিচার বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

 

নিহত জাকির হোসেনের পরিবার বিন্দুমাত্র রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়ার আকুতি জানিয়েছেন। অর্থাভাবে জর্জরিত পরিবারটির একটাই দাবি- মামলার বর্তমান অবস্থা ও অগ্রগতি সম্পর্কে বাদিপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করা হোক। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।অসহায় পরিবারটিকে সরকারি আইনগত সহায়তা (লিগ্যাল এইডের) আওতাভুক্ত করে বিনামূল্যে আইনি সুবিধা প্রদান করা হোক।

 

নিঃস্ব এই বাবা-মায়ের একটাই চাওয়া-টাকার অভাব কিংবা প্রভাবশালীদের প্রভাবে যেন ১৯ বছরের তরুণ জাকির হত্যার বিচার ভেস্তে না যায়, তারা আদালতের মাধ্যমে ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।