খুঁজুন
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

সাতকানিয়ায় ইউএনওকে ঘিরে অপপ্রচার, নেপথ্যে কি সুবিধা না পাওয়ার ক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
সাতকানিয়ায় ইউএনওকে ঘিরে অপপ্রচার, নেপথ্যে কি সুবিধা না পাওয়ার ক্ষোভ

সাতকানিয়ায় ইউএনওকে ঘিরে অপপ্রচার, নেপথ্যে কি সুবিধা না পাওয়ার ক্ষোভ

সাতকানিয়া চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

 

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের দায়িত্ব পালনকাল নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রচারণা ও অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা বা তদবির রক্ষা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই স্বার্থান্বেষী মহল এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন এখন জোরালোভাবে সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র ও সাবেক প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।

 

একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে সমালোচনা বা ভিন্নমত থাকতেই পারে। তবে নিয়মনীতি ও সরকারি বিধিবিধানের কারণে কোনো প্রভাবশালী মহলের আবদার বা সুপারিশ প্রত্যাখ্যাত হলে তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে নানা ধরনের প্রচারণা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সাতকানিয়ায় দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রভাবশালী মহল থেকে নানা সুপারিশ এলেও ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান তা সব সময় গ্রহণ করেননি। বিশেষ করে বন্যা মোকাবিলা, ত্রাণ বিতরণ, উপজেলা ক্রীড়া কমিটি গঠন, উন্নয়ন প্রকল্প এবং টিউবওয়েল বরাদ্দের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা দলীয় সুপারিশের চেয়ে প্রশাসনিক নিয়মকে প্রাধান্য দেওয়ায় একটি সুবিধাভোগী মহলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়।

 

সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যার সময় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমেও বিভিন্ন পক্ষের চাপ ছিল। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নিয়ম অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণের অবস্থান নেওয়ায় প্রশাসন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দলীয় কর্মীদের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ রাখেনি। ফলে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা না পেয়ে একটি পক্ষ প্রশাসনের ওপর অসন্তুষ্ট হয়। এছাড়া স্থানীয় এক সাংবাদিক সংগঠনের সভাপতি পরিচয়ে দুই ধাপে ৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও চাল নেওয়ার পর আরও ত্রাণের বাড়তি চাহিদা প্রশাসন প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয় বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ত্রাণ বিতরণের রেজিস্টার ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা জরুরি।

 

উপজেলা ক্রীড়া কমিটি গঠন নিয়েও স্থানীয় মহলের সঙ্গে প্রশাসনের মতবিরোধ দেখা দেয়। একটি বিতর্কিত ব্যক্তিকে কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়নের প্রস্তাব প্রশাসন কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় অসন্তোষ আরও বাড়ে। পাশাপাশি, অবৈধ মাটি-বালু ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক তদবির উপেক্ষা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ায় স্বার্থান্বেষী মহলটি আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

 

সাবেক প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তিতে লিপ্ত কিছু ব্যক্তি ও নামধারী সাংবাদিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব গুজব ও অপপ্রচারে অংশ নিয়েছেন। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও লেনদেনের তথ্য ছাড়া এ ধরনের গুরুতর অভিযোগকে একপেশেভাবে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া সমীচীন নয়।

 

সাতকানিয়ায় ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতির জটিল সময়ে ইউএনও এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে খোন্দকার মাহমুদুল হাসানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলা, ভূমি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর মাঠপর্যায়ের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। বিদায়লগ্নে তাঁর একটি বক্তব্য—“আমি যদি সাতকানিয়ায় না আসতাম, অনেক কিছুই আমার অজানা থেকে যেত। এমনকি একটি গোষ্ঠীর চেহারা সম্পর্কেও অজানা থেকে যেতাম”—নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা আলোচনা চললেও একে কেবল ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে দেখা যায় না।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা এই ধারাবাহিক প্রচারণা কি গঠনমূলক সমালোচনা, নাকি সুবিধা না পাওয়ার ক্ষোভ—সেটি স্পষ্ট হওয়া দরকার। প্রশাসনের কোনো কার্যক্রমে অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ যেমন প্রমাণের সাপেক্ষে খতিয়ে দেখা উচিত, তেমনি ব্যক্তিগত আক্রোশ বা স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হলেও তা জনস্বার্থেই উন্মোচন করা প্রয়োজন।

 

আবেগ বা সামাজিক মাধ্যমের গুজবের ওপর নির্ভর না করে ত্রাণ বিতরণের তালিকা, উন্নয়ন প্রকল্পের কাগজপত্র, ক্রীড়া কমিটির প্রস্তাব এবং প্রশাসনিক আদেশের মতো দালিলিক প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে সত্য উদঘাটন করাই এখন সবচেয়ে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।

রুহিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব ৩ পরিবার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রুহিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব ৩ পরিবার

রুহিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব ৩ পরিবার

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের রাজারামপুর এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩টি পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ২.২০ মিনিটের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন, ওই এলাকার মৃতঃ সিরাজ উদ্দিনের তিন ছেলে নাসিরুল ইসলাম (৪০), নজমুল ইসলাম (৩৭) ও আবু জাহেদ (৩৫)। স্থানীয়রা জানান, বেলা ২.২০ মিনিটের সময় হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে তারা দ্রুত এগিয়ে আসেন। স্থানীয় জনতার এবং বোদা উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এ অগ্নিকাণ্ডে তিন পরিবারের নগদ অর্থসহ আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিকে খবর পেয়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বার, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপন, রাজাগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাংবাদিক মোঃ আহসান হাবিব মাস্টার এবং রুহিয়া উপজেলা মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানান।

রুহিয়ায় বেগুন চাষে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
রুহিয়ায় বেগুন চাষে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা

রুহিয়ায় বেগুন চাষে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় লাল তীর জাতের বেগুন চাষ করে বাম্পার ফলন ও কাক্সিক্ষত দাম পেয়ে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। এখানকার উৎপাদিত বেগুন স্থানীয় চাহিদাপূরণের পাশাপাশি ঢাকা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। সরেজমিনে রুহিয়া উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের টাঙ্গন ব্রিজ সংলগ্ন উত্তর বঠিনা চাঁদপুর ক্যাম্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায় নদীর তীরঘেঁষে চলছে বেগুন কেনাবেচার ব্যস্ততা। পাইকাররা সরাসরি মাঠ থেকেই কৃষকদের কাছ থেকে বেগুন সংগ্রহ করছেন। কথা হয় স্থানীয় কৃষক লোকমান, সোহান, জব্বার মাস্টার ও মনসুরের সঙ্গে। তারা জানান, চলতি মৌসুমে লাল তীরের বেগুন আবাদ করে বেশ ভালো মুনাফা পাচ্ছেন। কৃষক লোকমান বলেন, আমি এবার দেড় বিঘা জমিতে লাল তীর বীজের বেগুন চাষ করেছি। এতে আমার মোট খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত ৮০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছি। ক্ষেতে যে পরিমাণ বেগুন রয়েছে, তাতে সব মিলিয়ে সর্বমোট ৩ লাখ টাকার বেগুন বিক্রি হবে বলে আশা করছি। এতে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিট লাভ থাকবে। একই এলাকার কৃষক আবু কালাম, সাদেক হোসেন ও জালালসহ আরও অনেকেই জানান, লাল তীর জাতের বেগুনের ফলন ও বাজার দর দুটোই ভালো পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে রুহিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নাসিরুল আলম জানান, কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের বেগুনসহ নানা জাতের সবজি চাষে নিয়মিত উৎসাহিত ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চলতি মৌসুমে বাজারে বেগুনের উপযুক্ত দাম থাকায় কৃষকরা ভালো লাভ করতে পারছেন। তিনি আরও জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি ও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

রুহিয়ায় মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান স্মরণে ফুটসাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
রুহিয়ায় মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান স্মরণে ফুটসাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

রুহিয়ায় মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান স্মরণে ফুটসাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও

ক্রীড়ায় শক্তি, ‘ক্রীড়ায় বল মাদক ছেড়ে খেলায় চল’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান স্মৃতি ফুটসাল ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ (দ্বিতীয় মৌসুম)-এর খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাদ জুম্মা রাজাগাঁও ইউনিয়নের আসাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ৩নং রাজাগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদলের উদ্যোগে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমানের সন্তান ও রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপন টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। খেলা শেষে আসাননগর ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য দেন আব্দুল জব্বার, সভাপতি, রুহিয়া উপজেলা বিএনপি, নুরুল ইসলাম নুরু, সভাপতি, রাজাগাঁও ইউনিয়ন বিএনপি, আহসান হাবীব মাস্টার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, রাজাগাঁও ইউনিয়ন বিএনপি, মোস্তবা রাফিত মাহী, সাধারণ সম্পাদক, ঠাকুরগাঁও জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, দেলোয়ার হোসেন দেলু, আহ্বায়ক, রুহিয়া উপজেলা ছাত্রদল, মহসিন আলী, সভাপতি, রাজাগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদল, আখিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক, রাজাগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদল টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো পরিচালনা করেন বিপুল দাস ও রমজান আলী। খেলার মাঠে ধারাবিবরণী দিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার তপু।