“সেবার নামে প্রতারণা: বান্দরবানে ইপসা এনজিও সংস্থার শাখায় জাল নোট ছড়ানোর অভিযোগ”।
সেবার নামে প্রতারণা: বান্দরবানে ইপসা এনজিও সংস্থার শাখায় জাল নোট ছড়ানোর অভিযোগ।
বান্দরবান প্রতিনিধি:
পাহাড়ের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্লোগান নিয়ে বান্দরবানে কার্যক্রম শুরু করেছিল বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইপসা। কিন্তু সেই সেবার আড়ালেই এবার মিলল বড় ধরনের জালিয়াতির খবর। সংস্থাটির নির্দিষ্ট ব্যাংকিং শাখার মাধ্যমে গ্রাহকদের মাঝে জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।
বরাবরের মতো ইপসা-র স্থানীয় শাখার হিসাব রক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান সংস্থাটির টাকা লেনদেন এর বিষয় নিয়ে স্থানীয় ইউসিবি ব্যাংক শাখায় গেলে সেখানেই বাঁধে বাধাবিপত্তি তার হাতের মুঠোয় থাকা টাকার নোটগুলোর মধ্যে ধরা পড়ে জাল নোট। পরে স্থানীয় ইউসিবি ব্যাংক শাখার এক কর্মকর্তা তাকে জাল নোট এর বিষয়ে অবগত করলে তিনি এ বিষয়ে অস্বীকৃতি জানান এবং জাল নোট এর বিষয়ে অজ্ঞ সাজার চেষ্টা করলে সেখানে একপর্যায়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরে সেখানে স্থানীয় ইউসিবি ব্যাংক শাখার এক কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ধরা পড়া জাল নোট টি পাঞ্চ করে সমস্যা সমাধান করে দেন। তবে এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য। স্থানীয়রা বলছেন, সেবার নামে এমন প্রতারণা করার চেয়ে সেবা না করাই উত্তম।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এনজিওর সংস্থা সেবার ওপর সাধারণ মানুষের নির্ভরতা বেশি। কিন্তু সেখানে যদি জাল নোটের পাচার বা সরবরাহ ঘটে, তবে তা পুরো জেলার অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি। এ ঘটনার পেছনে আসন্ন ঈদুল আজহার উপলক্ষে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানিয়েছেন: এনজিও যদি সেবার নামে জাল টাকা ছড়ায়, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এই এনজিও শাখার কার্যক্রম খতিয়ে দেখা এবং এর পেছনে যারা আছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা।
এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে রোয়াংছড়ি বাস স্টেশন এলাকায় ইপসা-র স্থানীয় শাখার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে বিষয়টি তারা অভ্যন্তরীণ ভাবে খতিয়ে দেখছেন বলে জানান। অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, জাল নোটের বিষয়টি আমাদের নজরে এখনো আসেনি যদি ঘটনা সঠিক হয়ে থাকে তবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাহাড়ের সাধারণ ও সরল মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে সেবার নামে এমন জালিয়াতি কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করছেন বান্দরবানবাসী। জাল নোট ছড়ানোর এই উৎসের গভীরে গিয়ে দ্রুত তদন্ত শেষ করা এবং জড়িতদের শাস্তির মুখোমুখি করাই এখন সময়ের দাবি।


আপনার মতামত লিখুন
Array