খুঁজুন
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

মাতৃভূমির আর এক ইঞ্চি জমিও রোহিঙ্গাদের আবাসনের জন্য নয়।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
মাতৃভূমির আর এক ইঞ্চি জমিও রোহিঙ্গাদের আবাসনের জন্য নয়।

মাতৃভূমির আর এক ইঞ্চি জমিও রোহিঙ্গাদের আবাসনের জন্য নয়।

এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী:

 

সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘ মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশে আরও জমি বা নতুন ক্যাম্প স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশ কি তাদের বাপের দেশ? একটি সার্বভৌম ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিজের নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে। তাই সরকারের তরফ থেকে জাতিসংঘের এ আবেদন সরাসরি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর এক ইঞ্চি জমিও রোহিঙ্গাদের আবাসনের জন্য দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের মূল অবস্থান হলো রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও মিয়ানমাকেই করতে হবে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনেই নিহিত। বাংলাদেশ সরকার বরাবরই সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে আসছে যে, তারা আর কোনো নতুন জমি বরাদ্দ দেবে না। শরণার্থী বোঝা ভাগাভাগি করতে এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ভয়াবহ জাতিগত নিধন ও সহিংসতার শিকার হয়ে ২০১৭ সাল থেকে ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তৎকালীন সময়ে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই সাময়িক আশ্রয় একটি দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে। গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, সামাজিক ভারসাম্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এই বিপুল জনগোষ্ঠীর বোঝা অত্যন্ত প্রকট হয়ে উঠেছে।

 

বিশ্বব্যাপী অনেক উন্নত ও কম জনবহুল দেশ রয়েছে এমন যৌক্তিক প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে আসাই স্বাভাবিক। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (টঘঐঈজ) প্রতি বছরই কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক শরণার্থীকে তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন (জবংবঃঃষবসবহঃ) করে থাকে। তবে এর বাস্তব চিত্র বেশ হতাশাজনক। বৈশ্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ২৫ লাখেরও বেশি শরণার্থীর পুনর্বাসন প্রয়োজন। কিন্তু উন্নত দেশগুলোর বেঁধে দেওয়া সীমিত কোটা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে প্রতি বছর এ পুনর্বাসনের হার মাত্র ৭ শতাংশের কাছাকাছি। এ ছাড়াও, আসিয়ান (অঝঊঅঘ) সদস্যভুক্ত অনেক দেশ যারা জনবহুল নয়, তারাও বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে আশ্রয় দিতে অনাগ্রহী। ফলে উন্নত বিশ্বে পুনর্বাসন একটি দীর্ঘমেয়াদী, ধীরগতির ও সীমিত প্রক্রিয়া, যা দিয়ে রাতারাতি ১২ লাখ রোহিঙ্গার সমস্যা সমাধান করা অসম্ভব। বাংলাদেশ সরকার ও সাধারণ মানুষের একটাই দাবি এ দীর্ঘায়িত সংকট আর বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী সমাধান হলো তাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নতুন করে জমি খোঁজার আবদার না করে, মিয়ানমারের ওপর কার্যকর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে। রাখাইনে এমন অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যেন রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সসম্মানে নিজ ভিটায় ফিরে যেতে পারে।

 

শুধুমাত্র বাংলাদেশের কাঁধে এই বিশাল মানবিক দুর্যোগের দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া কোনো ন্যায়সঙ্গত সমাধান হতে পারে না। বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। রোহিঙ্গা তরুণ সমাজ যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, তার জন্য তাদের শিক্ষা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি, বিশ্ব সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে যেন তারা তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বোঝা বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ এবং নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে। এ সংকট সমাধানে অতীতের সফল কূটনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নীতি একটি উজ্জ্বল ও কার্যকর দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে আসে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার উত্তরসূরি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও এ সংকট সমাধানে শহীদ জিয়ার সেই বিচক্ষণ ও দূরদর্শী নীতি অবলম্বন করতে হবে।

 

১৯৭৮ সালে মিয়ানমারের (তৎকালীন বার্মা) সামরিক জান্তা ‘কিং ড্রাগন অপারেশন’ চালিয়ে আড়াই লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করেছিল। সেটিই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বড় রোহিঙ্গা সংকট। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অত্যন্ত সাহসিকতা, জাতীয় আত্মমর্যাদা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির সমন্বয়ে এ সংকটের সমাধান করেছিলেন। রোহিঙ্গা সংকট কেবল একটি মানবিক সমস্যা নয়, এটি বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতি এবং নিরাপত্তার জন্য একটি টাইম বোম। এ সংকট সমাধানে অতীতের দুর্বল ও তোষামোদি কূটনীতি ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমান দেখিয়ে গেছেন কীভাবে আত্মমর্যাদা ও বিচক্ষণ কূটনীতির মাধ্যমে মিয়ানমারকে নতজানু করে নিজ নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করা যায়।

 

বাংলাদেশ মানবিকতার পরিচয় দিয়ে গত এক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যে উদারতা দেখিয়েছে, তার কোনো বিকল্প নেই। তবে এই বোঝা চিরকাল বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই জাতিসংঘের উচিত নতুন জমির দাবি বাদ দিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আরো জোরালো ও কার্যকর ভূমিকা পালন করা। বাংলাদেশ কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের স্থায়ী আবাসভূমি হতে পারে না এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই এই সংকটের একমাত্র এবং চূড়ান্ত সমাধান।

 

গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিছু এনজিও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে গোপনে প্রচারণা চালায় যাতে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা রোহিঙ্গাদের মনে ভয় তৈরি করে এবং নাগরিকত্বের শতভাগ নিশ্চয়তা ছাড়া ফিরে না যাওয়ার জন্য উসকানি দেয়। বাস্তবসম্মত ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসনের চেয়ে অবাস্তব শর্ত জুড়ে দিয়ে প্রক্রিয়াটিকে জটিল করে তোলার পেছনে এনজিওদের একাংশের হাত রয়েছে। এনজিওগুলোর অস্তিত্ব এবং তহবিল মূলত নির্ভর করে চলমান সংকটের ওপর। রোহিঙ্গা সংকট যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীর কাছ থেকে তত বেশি ফান্ড বা অনুদান আসবে। অভিযোগ রয়েছে, এ ফান্ডের একটি বিশাল অংশ এনজিও কর্মকর্তাদের উচ্চ বেতন, বিলাসবহুল জীবনযাপন, গাড়ি ভাড়া এবং প্রশাসনিক কাজেই শেষ হয়ে যায়। ফলে সংকট সমাধান বা প্রত্যাবাসনের চেয়ে সংকট টিকিয়ে রাখাই অনেক এনজিওর অঘোষিত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।

 

মানবিক সহায়তা অবশ্যই প্রশংসনীয়, কিন্তু তা যদি কোনো দেশের জাতীয় নিরাপত্তা এবং একটি স্থায়ী সংকটের সমাধানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশ সরকারকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওগুলোর আর্থিক লেনদেন, কার্যক্রম এবং তাদের মোটিভ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। যেসব সংস্থা প্রত্যাবাসন বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত, তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সংকট জিইয়ে রাখা নয়, বরং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই হোক সমস্ত আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংস্থার একমাত্র লক্ষ্য। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৫লক্ষাধিক রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও জাতীয় নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশাল চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন এদের ভরণপোষণের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে কক্সবাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকার বাজার ব্যবস্থা, দ্রব্যমূল্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস যেমন কৃষি এবং পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে ঘন পাহাড়ি বনভূমি কেটে রোহিঙ্গাদের জন্য ক্যাম্প ও ঝুপড়ি ঘর তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাপক বনভূমি ধ্বংস হয়েছে এবং জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। পাহাড় কাটার ফলে প্রতি বর্ষায় সেখানে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া লক্ষাধিক মানুষের প্রতিদিনের জ্বালানি কাঠের জোগান দিতে গিয়ে আশেপাশের সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে, যা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করছে।

 

ক্যাম্পগুলোতে আধিপত্য বিস্তার, বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের অন্তর্দ্বন্দ্ব, খুন, অপহরণ এবং চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। এ ছাড়াও ইয়াবা ও আইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের অবৈধ চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাংলাদেশের যুবসমাজের নৈতিক ও শারীরিক ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ অপরাধ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ভীষণভাবে ব্যাহত করছে।

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। মিয়ানমার থেকে আগত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী বাংলাদেশের ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। অবৈধভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট তৈরির মতো গুরুতর অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

 

বর্তমান ও ভবিষ্যতের নেতৃত্ব হিসেবে তারেক রহমানকে শহীদ জিয়ার সেই ‘জাতীয়তাবাদী ও দূরদর্শী’ নীতিকেই ধারণ করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ শক্তির সাথে ভারসাম্য বজায় রেখে এবং দেশের অভ্যন্তরে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তোলার মাধ্যমেই কেবল এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব

 

লেখক: মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটি সিনিয়র সহ সভাপতি বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম ও চেয়ারম্যান পালং খালী ইউপি, উখিয়া, কক্সবাজার।

সেনেগালে যুব অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
সেনেগালে যুব অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

সেনেগালে যুব অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বান্দরবানের বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে সেনেগালের রাজধানী ডাকারে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের চতুর্থ যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন বান্দরবানের উদীয়মান তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা। দেশের হয়ে এমন ঐতিহাসিক এক আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর এই অংশগ্রহণের খবরে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানসহ সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ ও উদীয়মান তরুণদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

 

বাংলাদেশ বক্সিং দলের হয়ে বিশ্বমানের এই ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ নয়ন ত্রিপুরার ক্রীড়াজীবনে এক অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দেশসেরা ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বিকেএসপি (BKSP)-র সঙ্গে যুক্ত এই তরুণ বক্সার নিজের অদম্য মেধা, শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার এই গৌরব অর্জন করেছেন।

 

যুব অলিম্পিকের টিকিট পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা বলেন, “যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম বড় একটি স্বপ্ন পূরণ। বিকেএসপির কোচ ও সংশ্লিষ্ট সকলের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং আমার কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজ আমি এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি। পাহাড়ি এলাকার সীমিত সুযোগ-সুবিধাকে পেছনে ফেলে আমি দেশের লাল-সবুজের পতাকা বিশ্বমঞ্চে উড্ডীন করতে চাই। সবার কাছে দোয়া ও আশির্বাদ প্রার্থী, যেন রিংয়ে নিজের সেরাটা দিয়ে দেশের জন্য একটি সম্মানজনক পদক উপহার দিতে পারি।”

 

পাহাড়ঘেরা বান্দরবান কেবল রূপসী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্যই পরিচিত নয়, বরং অদম্য সম্ভাবনাময় ক্রীড়া প্রতিভার এক অপার আধার হিসেবেও নিজের পরিচয় গড়ে তুলছে। নানা প্রতিকূলতা ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাস্বচ্ছতার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এ অঞ্চলের তরুণেরা খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বারবার নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। সুশীল সমাজ ও স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, নয়ন ত্রিপুরার এই আন্তর্জাতিক যাত্রা পার্বত্য অঞ্চলের উদীয়মান ক্রীড়াবিদদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং পাহাড়ি এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় আসার ক্ষেত্রে বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

 

যুব অলিম্পিকের মতো বৈশ্বিক মর্যাদাপূর্ণ আসরে অংশগ্রহণ একজন ক্রীড়াবিদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা অর্জনের সেরা সুযোগ। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে নয়নের উপস্থিতি দেশের উদীয়মান বক্সিং অঙ্গনকে এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে পেশাদার খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।

 

নয়ন ত্রিপুরার এই অর্জন বান্দরবানবাসীকে গর্বিত করেছে। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা—আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি নিজের সর্বসেরাটা উজাড় করে দিয়ে দেশের সম্মান ও লাল-সবুজের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবেন। তাঁর এই বৈশ্বিক যাত্রা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত বা বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সাফল্য নয়, বরং পুরো বান্দরবান ও পার্বত্য অঞ্চলের তরুণ সমাজের জন্য এক দারুণ উদ্দীপনার উদাহরণ।

 

বিশ্বমঞ্চে নয়ন ত্রিপুরার হাত ধরে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা আরও উঁচুতে উড্ডীন হোক এবং শুভকামনা রইল যেন তিনি দেশের জন্য গৌরবময় সাফল্য বয়ে নিয়ে আসতে পারেন—এমনটাই প্রত্যাশা বান্দরবানসহ সমগ্র দেশবাসীর।

সেনেগালে যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বান্দরবানের তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
সেনেগালে যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বান্দরবানের তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

সেনেগালে যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বান্দরবানের তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে সেনেগালে ডাকার অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের চতুর্থ যুব অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন বান্দরবানের তরুণ বক্সার নয়ন ত্রিপুরা। তাঁর এই অংশগ্রহণের খবর বান্দরবানসহ পার্বত্য অঞ্চলের ক্রীড়াপ্রেমী ও তরুণদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

 

বাংলাদেশ বক্সিং দলের হয়ে আন্তর্জাতিক এই ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়ার সুযোগ নয়ন ত্রিপুরার ক্রীড়াজীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বিকেএসপির সঙ্গে যুক্ত এই তরুণ বক্সার নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন।

 

পাহাড়ঘেরা বান্দরবান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির পাশাপাশি সম্ভাবনাময় তরুণদের জন্যও পরিচিত। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এ অঞ্চলের তরুণেরা খেলাধুলা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। নয়ন ত্রিপুরার এই আন্তর্জাতিক যাত্রা পার্বত্য অঞ্চলের তরুণ ক্রীড়াবিদদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

 

যুব অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণ একজন ক্রীড়াবিদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একই সঙ্গে এ ধরনের অংশগ্রহণ দেশের বক্সিং অঙ্গনকে এগিয়ে নেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

 

নয়ন ত্রিপুরার এই অর্জনকে ঘিরে বলেন , বান্দরবানবাসীর প্রত্যাশা—আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি নিজের সেরাটা তুলে ধরবেন এবং দেশের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখবেন। তাঁর এই যাত্রা সফল হলে তা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবেই নয়, বরং বান্দরবান ও পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকবে।

 

বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নয়ন ত্রিপুরার এই যাত্রা সফল হোক—এমনটাই প্রত্যাশা সবার। তাঁর হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল হোক বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা, গৌরবান্বিত হোক বান্দরবান।

 

নয়ন ত্রিপুরা ও বাংলাদেশ বক্সিং দলের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা।

বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে মন্ত্রীর মতবিনিময়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে মন্ত্রীর মতবিনিময়

বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে মন্ত্রীর মতবিনিময়

মো. আরিফ, বান্দরবান প্রতিনিধি;

বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, খেলাধুলার প্রসার এবং স্থানীয় ক্রীড়াবিদদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী।

 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টায় বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বান্দরবান হিল রানার্সসহ ফুটবল, ক্রিকেট, কারাতে, বক্সিং, উশু, দাবা, কাবাডি ও হকির সঙ্গে যুক্ত ক্রীড়াবিদ ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বান্দরবান জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম।

 

সভায় মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার, নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করতে সরকার কাজ করছে। বান্দরবানে স্টেডিয়াম সংস্কার ও নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ক্রীড়াবিদেরা যাতে সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

তিনি আরও বলেন, স্টেডিয়ামগুলোর উন্নয়ন হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বাড়বে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।

 

জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা বলেন, জেলার বিভিন্ন খেলার উন্নয়ন, ক্রীড়াবিদদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং খেলাধুলার পরিবেশ উন্নত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

 

সভায় বান্দরবান হিল রানার্সের সভাপতি ডা. শান্তনু দাশ বলেন, কিশোর-তরুণসহ সব বয়সী মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে হিল রানার্স কাজ করছে। তিনি সবাইকে নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।

 

তিনি আরও জানান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দুটি ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বান্দরবান হিল রানার্সের ১০ থেকে ১২ জন সদস্য।

 

বান্দরবান ফুটবল রেফারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিমুল দাশ বলেন, রেফারিদের কাজের সুবিধার জন্য বান্দরবানে একটি পৃথক কক্ষ প্রয়োজন। এ ছাড়া স্থানীয় রেফারিদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ ও সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।

 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবর রশিদ ও সা শৈ প্রু, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য (ক্রীড়া) কাজী নিরুতাজ বেগম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সিনিয়র সহসভাপতি উম্মে কুলসুম লীনা, বান্দরবান হিল রানার্সের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ, বান্দরবান বক্সিং একাডেমির চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুর রশিদ বাচ্চু, জেলা ফুটবলের সিনিয়র কোচ মো. শহীদুল রহমান (সোহেল) এবং বান্দরবান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের সদস্যরা।

 

এ সময় ক্রীড়াবিদ ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।