খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

জীবনসংগ্রামের পাশে সেলাই মেশিন, বদলের অপেক্ষায় ৪০ পরিবার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৩ অপরাহ্ণ
জীবনসংগ্রামের পাশে সেলাই মেশিন, বদলের অপেক্ষায় ৪০ পরিবার

জীবনসংগ্রামের পাশে সেলাই মেশিন, বদলের অপেক্ষায় ৪০ পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

 

সবুজ পাহাড় আর আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে বান্দরবানের প্রত্যন্ত জনপদে বসবাস করা মানুষের জীবন সহজ নয়। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, সীমিত কর্মসংস্থান এবং কৃষিনির্ভর জীবিকার কারণে অনেক পরিবারকে প্রতিনিয়ত নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বহু পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস জুম চাষ। কিন্তু প্রকৃতি ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল এই আয়ে সারা বছর সংসারের প্রয়োজন মেটানো কঠিন।

 

এই বাস্তবতার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে পরিবারের নারী ও শিক্ষার্থীদের ওপর। সংসারের সীমিত আয় দিয়ে খাবার, চিকিৎসা ও পড়াশোনার খরচ মেটাতে গিয়ে অনেকেরই নিজের জন্য আলাদা কোনো আয়ের সুযোগ থাকে না। অথচ তাঁদের অনেকেরই রয়েছে কাজ শেখার আগ্রহ এবং নিজের আয় দিয়ে পরিবারকে সহযোগিতা করার স্বপ্ন।

 

এমন কিছু স্বপ্নবাজ নারীর পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। সংগঠনটির উদ্যোগে বান্দরবানের আলীকদম ও সদর উপজেলার ৪০ জন অসচ্ছল নারীকে তিন মাসব্যাপী বিনা মূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি করে সেলাই মেশিন। ফলে প্রশিক্ষণ নেওয়া নারীদের জন্য দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

সম্প্রতি আলীকদম ও বান্দরবান সদর উপজেলা হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা, বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহেদ পারভেজ, বান্দরবান জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল হক বাচ্চু, বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামানসহ স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

 

পড়াশোনার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হতে চান চামমুম

 

আলীকদম উপজেলার মারানপাড়ার চামমুম ম্রোর জীবন কেটেছে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে। তিন ভাই ও আট বোনের বড় পরিবারের এই তরুণী বর্তমানে আলীকদম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা রেংকাই ম্রো জুম চাষ করেন। তাঁর আয় দিয়েই পরিবারের এত সদস্যের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হয়।

 

বড় পরিবারের কারণে ছোটবেলা থেকেই অভাবের বাস্তবতা দেখেছে চামমুম। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত হওয়ায় নিজের প্রয়োজনের খরচ মেটানোর জন্যও তাকে পরিবারের ওপর নির্ভর করতে হয়।

 

এই পরিস্থিতিতে একটি কাজ শেখার সুযোগ খুঁজছিল চামমুম। সেলাই প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর সেই সুযোগ তৈরি হয়েছে। শুধু প্রশিক্ষণ নয়, বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে একটি সেলাই মেশিনও পেয়েছে সে।

 

চামমুমের ভাষায়, পরিবারের সদস্য অনেক। বাবার জুম চাষের আয় দিয়ে সংসারের সব প্রয়োজন মেটানো কঠিন। সেলাই শেখার সুযোগ পেয়ে সে খুশি। এখন পড়াশোনার পাশাপাশি সেলাই করে নিজের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সহযোগিতা করতে চায়।

 

তার কাছে সেলাই মেশিনটি কেবল একটি যন্ত্র নয়; নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি সুযোগ।

 

বাবার অসুস্থতার মধ্যেও থামেনি লাইজুর পড়াশোনা

 

আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের লাইজু আক্তারের জীবনেও অভাব ও দায়িত্বের চাপ কম নয়। লামা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী ছয় বোনের একজন।

 

প্রায় ১৩ বছর আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে লাইজুর বাবা প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন। এরপর থেকেই পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। বাবার নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের বড় বোনদেরই সংসারের দায়িত্ব নিতে হয়।

 

বড় বোনদের সহযোগিতায় লাইজুর পড়াশোনা চলছে। তবে নিজের সব প্রয়োজনের জন্য পরিবারের দিকে তাকিয়ে থাকতে চায় না সে। তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের কিছু খরচ চালায়।

 

এর মধ্যেই সেলাই শেখার সুযোগ পায় লাইজু। তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে একটি সেলাই মেশিনও পেয়েছে সে। এখন টিউশনের পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ করে আয় করার পরিকল্পনা করছে।

 

লাইজু মনে করে, বাবার অসুস্থতার কারণে পরিবারের ওপর যে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, নিজের আয় দিয়ে তার কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন তার।

 

মাসিংচিংয়ের স্বপ্ন পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর

 

বান্দরবান সদর উপজেলার রেনীং পাড়ার মাসিংচিং মার্মাও সেলাই মেশিন পাওয়া ৪০ নারীর একজন। লোটাস শিশু সদন আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর বাবা থোয়াইচিংনু মার্মা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি হিসেবে কর্মরত।

 

দুই বোনের পরিবারে সীমিত আয়ের মধ্যেই তাঁদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি একটি দক্ষতা অর্জনের ইচ্ছা ছিল মাসিংচিংয়ের।

 

সেলাই প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর এখন নিজের একটি মেশিনও রয়েছে তার হাতে। এই মেশিন ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আয় করতে চায় সে। নিজের পড়াশোনার খরচে সহযোগিতা করার পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখে মাসিংচিং।

 

মায়ের অনুপস্থিতিতে মেসাইনুর লড়াই

 

বান্দরবান সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মেসাইনু মার্মার জীবনেও রয়েছে সংগ্রামের গল্প। তাঁর মা অনেক আগেই মারা গেছেন। বাবা সাবাই উ মার্মা কৃষিকাজ করে সংসার চালান।

 

বাবার সীমিত আয়ের ওপর নির্ভর করেই মেসাইনুর পড়াশোনা চলছে। পরিবারের আর্থিক বাস্তবতা তাঁকে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। তাই পড়াশোনার পাশাপাশি একটি কাজ শেখার সুযোগকে তিনি নিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন।

 

তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পাওয়ায় এখন সেই দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি সেলাই করে আয় করে বাবার আর্থিক চাপ কিছুটা কমাতে চান মেসাইনু।

 

শ্যামলীর পরিবারেও স্বচ্ছলতার অপেক্ষা

 

এই উদ্যোগের আরেক উপকারভোগী শ্যামলী তঞ্চঙ্গ্যা বান্দরবান সরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাবা কদম তঞ্চঙ্গ্যা খুব বেশি আয় করতে পারেন না। পরিবারের ব্যয় মেটাতে এনজিওতে কর্মরত ভাইয়ের আয়ের ওপরও নির্ভর করতে হয় তাঁদের।

 

এই বাস্তবতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন শ্যামলী। ভবিষ্যতে নিজের আয়ে পরিবারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছা তাঁর।

 

সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন পাওয়ার পর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি পথ তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারলে পরিবারে আর্থিকভাবে অবদান রাখা সম্ভব হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর।

 

প্রশিক্ষণের সঙ্গে মেশিন, তাই তৈরি হলো কাজের সুযোগ

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু সেলাই মেশিন বিতরণ করলে অনেক ক্ষেত্রেই সেটি দীর্ঘমেয়াদে কাজে লাগানো সম্ভব হয় না। এ কারণে মেশিন দেওয়ার আগে নারীদের তিন মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁরা সেলাইয়ের মৌলিক কাজ শেখার পাশাপাশি মেশিন ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন।

 

আয়োজকদের মতে, সীমিত আয়ের পরিবার, কর্মসংস্থানের অভাব এবং সংসারের নানা দায়িত্বের কারণে অনেক নারী আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পান না। তাঁদের একটি ব্যবহারিক দক্ষতা শেখানোর পাশাপাশি সেই দক্ষতা কাজে লাগানোর উপকরণ দেওয়া হলে নিজেদের আয়ের পথ তৈরি করা সহজ হয়।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, প্রান্তিক অঞ্চলের নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন দেওয়ার উদ্যোগ সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং তাঁরা অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে পারবেন।

 

বান্দরবান সদর থানার ওসি মো. শাহেদ পারভেজও উদ্যোগটির প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, প্রত্যন্ত এলাকার নারীদের বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন দেওয়া তাঁদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথে সহায়তা করবে।

 

বান্দরবান জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল হক বাচ্চু বলেন, শুধু মেশিন বিতরণ নয়, তার আগে তিন মাসের বিনা মূল্যের প্রশিক্ষণ দেওয়াটিও গুরুত্বপূর্ণ। এতে উপকারভোগীরা মেশিন ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করেছেন। ফলে সেলাই মেশিন তাঁদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যম হতে পারে।

 

বসুন্ধরা শুভসংঘ বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি উয়ই সিং মার্মা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের অনেক নারী নানা সীমাবদ্ধতার কারণে কাজের সুযোগ পান না। তাঁদের দক্ষ করে তুলতে পারলে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

 

একটি মেশিন, একটি পরিবারের নতুন সম্ভাবনা

 

সেলাই মেশিন পাওয়া ৪০ নারীর বড় একটি অংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর। তাঁদের মধ্যে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও রয়েছেন। কারও বাবা জুম চাষ করেন, কারও বাবা কৃষিকাজ করেন, আবার কারও পরিবারে অসুস্থতা বা সীমিত আয়ের কারণে সংসার চালানোই কঠিন।

 

তাঁদের প্রত্যেকের গল্প আলাদা হলেও স্বপ্ন প্রায় একই—পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, নিজের প্রয়োজনের কিছুটা নিজে মেটানো এবং সুযোগ পেলে পরিবারকে সহযোগিতা করা।

 

সেলাই মেশিন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ এখনো সীমিত। এমন উদ্যোগ যদি ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে শুধু কয়েকটি পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন নয়, নারীদের মধ্যে আত্মনির্ভরতার মানসিকতাও আরও শক্তিশালী হবে।

 

চামমুম, লাইজু, মাসিংচিং, মেসাইনু কিংবা শ্যামলী—প্রত্যেকের হাতে এখন একটি করে সেলাই মেশিন। তাঁদের কাছে এটি কেবল একটি উপহার নয়। কারও কাছে এটি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অবলম্বন, কারও কাছে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ, আবার কারও কাছে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রথম পুঁজি।

 

পাহাড়ের কঠিন বাস্তবতার মধ্যে তাই এই ৪০ নারীর হাতে সেলাই মেশিন পৌঁছে দেওয়া যেন নতুন এক সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা কতটা এগিয়ে যেতে পারবেন, তা সময়ই বলবে। তবে শুরুটা হয়েছে—নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে।

১০০ কিলোমিটার দূরে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম, লামাবাসীর তীব্র ক্ষোভ: দুই লাখ মানুুষের দুর্ভোগের আশঙ্কা, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
১০০ কিলোমিটার দূরে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম, লামাবাসীর তীব্র ক্ষোভ: দুই লাখ মানুুষের দুর্ভোগের আশঙ্কা, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

১০০ কিলোমিটার দূরে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম, লামাবাসীর তীব্র ক্ষোভ: দুই লাখ মানুুষের দুর্ভোগের আশঙ্কা, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

মোহাম্মদ আলমগীর লামা, বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামা উপজেলার সকল প্রকার রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত কার্যক্রম উপজেলা পর্যায় হইতে জেলা সদরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়াছে। দুর্গম পাহাড়ি যোগাযোগব্যবস্থা এবং জেলা সদরের সঙ্গে দীর্ঘ দূরত্বের কারণে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হইলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়িতে হইবে বলিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করিয়াছেন এলাকাবাসী। জনদুর্ভোগ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করিয়া পূর্বের ন্যায় লামা উপজেলা পর্যায়ে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালুর দাবি জানাইয়াছেন তাঁহারা।

 

জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি, ১৯০০-এর ২০ বিধি অনুযায়ী বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজমিন সুলতানা গত ২৬ অক্টোবর একটি আদেশ জারি করেন। আদেশে ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারির পূর্ববর্তী নির্দেশ বাতিল করিয়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লামা উপজেলার যাবতীয় রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত কার্যক্রম বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন শাখা হইতে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতদিন লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হইয়া আসিতেছিল।

 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৬ সালে লামা উপজেলায় বায়নাপত্র, সাব-কবলা, দানপত্র, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও চুক্তিনামাসহ বিভিন্ন ধরনের মোট ১ হাজার ২৬৩টি রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হইয়াছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই কার্যক্রম জেলা সদরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়িয়াছে।

 

স্থানীয়দের মতে, লামা উপজেলা হইতে বান্দরবান জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। পাহাড়ি ও দুর্গম সড়ক পাড়ি দিয়া একটি সাধারণ রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করিতেও অতিরিক্ত সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করিতে হইবে। বিশেষ করিয়া বয়স্ক, অসুস্থ ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বিষয়টি আরও দুর্ভোগের কারণ হইয়া দাঁড়াইবে।

 

লামা উপজেলার ৬ নম্বর রূপসীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, “লামা হইতে জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। ছোটখাটো রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত কাজের জন্যও অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করিয়া জেলা সদরে যাইতে হইবে। ইহাতে সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নানা ধরনের হয়রানির শিকার হইবেন।”

 

একই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করিয়া ৫ নম্বর সরই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, “প্রশাসনের উচিত বিষয়টি মানবিক ও বাস্তবসম্মত দৃষ্টিকোণ হইতে বিবেচনা করা। জনদুর্ভোগ কমাইতে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম দ্রুত পূর্বের নিয়মে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফিরাইয়া আনার জোর দাবি জানাইতেছি।”

 

এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, “রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম জেলা প্রশাসকের এখতিয়ারাধীন বিষয়। সরকারি দায়িত্ব অনুযায়ী আমরা কাজ করিতে বাধ্য। তবে লামা হইতে বান্দরবানের দূরত্ব বেশি হওয়ায় জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি বোধগম্য।”

 

অন্যদিকে, বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম হাসান বলেন, রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ জেলা প্রশাসকের এখতিয়ারাধীন। তিনি যেকোনো ইউএনওকে এই দায়িত্ব প্রদান কিংবা প্রত্যাহার করিতে পারেন। তবে বিষয়টি লইয়া জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করা হইবে বলিয়া তিনি আশ্বাস দেন।

 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানিবার জন্য বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজমিন সুলতানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হইলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁহার বক্তব্য পাওয়া যায় নাই।

 

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের যাতায়াতব্যবস্থা, আর্থিক সক্ষমতা ও নাগরিক সুবিধার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। অন্যথায় রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম জেলা সদরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি ভোগান্তি ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করিবে। তাই জনস্বার্থে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করিয়া লামায় পূর্বের ন্যায় রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালুর দাবি জানাইয়াছেন তাঁহারা।

বান্দরবান সদর সেনা জোনের উদ্যোগে বেতছড়া বাজার যুব সংঘকে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ
বান্দরবান সদর সেনা জোনের উদ্যোগে বেতছড়া বাজার যুব সংঘকে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান

বান্দরবান সদর সেনা জোনের উদ্যোগে বেতছড়া বাজার যুব সংঘকে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান

এলেক্স বড়ুয়া, বান্দরবান:

বান্দরবান, ০৩ নভেম্বর ২০২৬: পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সাধন এবং পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বেতছড়া বাজার যুব সংঘের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর সেনা জোন।

 

এরই ধারাবাহিকতায় আজ বান্দরবান সদর সেনা জোনের সম্মানিত জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়েম আহমেদ, পিএসসি-এর পক্ষ থেকে বেতছড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন বেতছড়া বাজার এলাকার যুবসমাজের হাতে একটি ফুটবল ও এক সেট জার্সি তুলে দেওয়া হয়। আসন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত ক্রীড়াচর্চায় উৎসাহিত করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

 

অনুষ্ঠানে জোন কমান্ডারের পক্ষে বেতছড়া ক্যাম্প কমান্ডার স্থানীয় যুবকদের হাতে ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন। এ সহযোগিতায় বেতছড়া বাজার যুব সংঘের সদস্যরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান সদর সেনা জোন স্থানীয় যুবসমাজের ইতিবাচক বিকাশ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বান্দরবান প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা জামায়াত আমীরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বই উপহার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
বান্দরবান প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা জামায়াত আমীরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বই উপহার

বান্দরবান প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা জামায়াত আমীরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বই উপহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

বান্দরবান প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ ০২ নভেম্বর (সোমবার) জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর জনাব এস এম আব্দুচ সালামের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এই সাক্ষাতে উভয়পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক কুশল বিনিময় এবং জেলার সামগ্রিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে বান্দরবান প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা জামায়াত আমীরের হাতে প্রেস ক্লাবের গৌরবময় ৪৯ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংবলিত ‘স্বর্ণালী’ স্মারক গ্রন্থটি উপহার দেওয়া হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও নবনির্বাচিত প্রেস ক্লাবের সদস্যদের বিশেষ ইসলামী বই উপহার দিয়ে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানানো হয়।

মতবিনিময় সভায় জেলা জামায়াতের আমীর এস এম আব্দুচ সালাম বলেন, “দেশ ও সমাজ গঠনে সাংবাদিকদের ভূমিকা অতুলনীয়। বিশেষ করে বান্দরবানের রুমা ও থানচিসহ বিভিন্ন দুর্গম উপজেলার আরও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন দরকার। এই এলাকার সম্ভাবনা ও সমস্যাগুলো বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও প্রচারণার মাধ্যমে তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সচেতন করতে হবে।”

সাক্ষাৎকালে বান্দরবান প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন: সভাপতি নাছিরুল আলম, সাবেক সভাপতি  আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, সহ-সভাপতি: মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিটন, সাধারণ সম্পাদক: এন এ জাকির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: রিজভী রাহাত, অর্থ সম্পাদক: মোহাম্মদ ইসহাক সহ অন্যান্য সদস্য সাংবাদিক মোহাম্মদ হোসাইন সম্রাট, ইয়াছিনুল হাকিম চৌধুরীসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর ও জেলা বারের সভাপতি এড. মুহাম্মদ আবুল কালাম, সেক্রেটারী: অধ্যাপক আবদুল আউয়াল, সহকারী সেক্রেটারী: অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা তাজ, আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন জেলা সভাপতি: অধ্যাপক হামেদ হাসান, জেলা যুব ও মিডিয়া বিভাগের সভাপতি: অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রেজাউল করিম, জেলা প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারী: ওবাইদুল হক এছাড়াও জামায়াত নেতা জামাল উদ্দীন ও আতিকুর রহমান প্রমুখ।

সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বান্দরবানের শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য যৌথ ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।