খুঁজুন
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

খাবার নাকি বিষ? ভোক্তার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি আর কতদিন—জাহাঙ্গীর আলম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
খাবার নাকি বিষ? ভোক্তার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি আর কতদিন—জাহাঙ্গীর আলম

“খাবার নাকি বিষ? ভোক্তার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি আর কতদিন—জাহাঙ্গীর আলম

প্রতিনিধি মুহাম্মদ আকতার উদ্দিন

চট্টগ্রাম মহানগরীর ব্যস্ততম সড়ক, বাণিজ্যিক এলাকা কিংবা আবাসিক পাড়া—চোখের সামনে সারি সারি হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বেকারি, ফাস্টফুডের দোকান। কোথাও ঝকঝকে সাজসজ্জা, কোথাও আধুনিক নাম ও বাহারি বিজ্ঞাপন। বাইরে থেকে দেখলে সবই যেন পরিপাটি। কিন্তু সেই খাবারের পেছনের রান্নাঘর, সংরক্ষণব্যবস্থা কিংবা ব্যবহৃত কাঁচামালের দিকে তাকালেই কি একই চিত্র দেখা যায়? সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানের তথ্য অন্তত সেই নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।

 

মানুষ বাইরে খাবার খায় প্রয়োজনেই। কর্মব্যস্ত নগরজীবনে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ হোটেল-রেস্টুরেন্টের খাবারের ওপর নির্ভর করেন। কেউ অফিসের ব্যস্ততায়, কেউ ব্যবসায়িক কাজে, কেউ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে, কেউবা পরিবার নিয়ে। একজন ক্রেতা যখন একটি খাবারের দোকানে প্রবেশ করেন, তখন তিনি ধরে নেন—টাকা দিয়ে যে খাবারটি কিনছেন, সেটি নিরাপদ এবং মানুষের খাওয়ার উপযোগী। কিন্তু যদি সেই বিশ্বাসের আড়ালে থাকে পচা খাবার, মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ, পোড়া তেল, অপরিষ্কার রান্নাঘর কিংবা কাঁচা ও রান্না করা খাবার পাশাপাশি সংরক্ষণের মতো অনিয়ম, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—ভোক্তার নিরাপত্তা কোথায়?

 

সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা অধিকারবিষয়ক অভিযানে এমন বেশ কিছু অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে পচা খাদ্য উপকরণ, কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ মাংস, সবজি, ফল বা দই, কোথাও নিম্নমানের উপকরণ কিংবা অননুমোদিত রং ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে পোড়া তেলে খাবার তৈরির পাশাপাশি কাঁচা ও রান্না করা খাবার একই স্থানে সংরক্ষণের মতো বিষয়ও উঠে এসেছে। কোথাও আবার অপরিচ্ছন্ন পাত্র, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ কিংবা পোকামাকড়ের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযানের পর এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটিকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের জরিমানাও করা হয়েছে।

 

একটি সাম্প্রতিক অভিযানে নগরের ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে মোট ৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্য একটি অভিযানে চকবাজারের একটি ফুড কোর্টের চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগেও নগরের বিভিন্ন এলাকায় খাবারের প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জরিমানার ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ বিষয়টি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং নগরের খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নিয়মিত নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথাই এসব অভিযান সামনে নিয়ে আসছে।

 

তবে এখানেই শেষ নয়; বরং এখান থেকেই শুরু হওয়া উচিত আরও বড় প্রশ্নের।

 

জরিমানা করার পর কী হয়?

 

একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হলো, জরিমানার টাকা সরকারি কোষাগারে গেল, অভিযান শেষ হলো—তারপর? প্রতিষ্ঠানটি কি পরদিন থেকে স্থায়ীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলল? রান্নাঘর কি পরিচ্ছন্ন হলো? মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ কি আর ব্যবহার করা হলো না? পোড়া তেল কি বাদ দেওয়া হলো? কাঁচা ও রান্না করা খাবারের জন্য পৃথক সংরক্ষণব্যবস্থা তৈরি হলো? নাকি কয়েকদিন পর আবারও আগের চিত্র ফিরে এল?

 

এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই আসলে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ধারণ করবে।

 

কারণ জরিমানা শাস্তির একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু জনস্বাস্থ্য রক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। একজন মানুষ পচা বা দূষিত খাবার খেয়ে অসুস্থ হলে তার কষ্টের মূল্য কোনো জরিমানার অঙ্ক দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। তার চিকিৎসা ব্যয়, কর্মঘণ্টার ক্ষতি, পরিবারের দুশ্চিন্তা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি—এসবের দায় কে নেবে?

 

একজন ভোক্তা খাবার কিনে রান্নাঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন না। তিনি দেখতে পারেন না মাংসটি কতদিন ধরে রাখা হয়েছে, সবজিটি তাজা কি না, তেল কতবার ব্যবহার করা হয়েছে, ফ্রিজের তাপমাত্রা ঠিক আছে কি না কিংবা রান্নার পাত্রটি কতটা পরিষ্কার। তিনি প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশ্বাস করেই খাবার খান। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কেউ যদি নিম্নমানের বা অনিরাপদ খাবার পরিবেশন করেন, তাহলে সেটি শুধু ব্যবসায়িক অনৈতিকতা নয়—এটি ভোক্তার মৌলিক নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুতর বিষয়।

 

চট্টগ্রামের মতো বন্দরনগরী ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নগরে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ নগরের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন। দেশ-বিদেশের মানুষও এই নগরে আসেন। ফলে এখানকার খাদ্যব্যবস্থার মান শুধু স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য নয়, নগরের সামগ্রিক ভাবমূর্তির সঙ্গেও সম্পর্কিত।

 

প্রশ্ন হলো, একটি শহরে শত শত খাবারের প্রতিষ্ঠান থাকলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের রান্নাঘর ও খাদ্য সংরক্ষণব্যবস্থা কি নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে? যেসব প্রতিষ্ঠান একবার জরিমানা হয়েছে, তাদের পুনরায় পরিদর্শন করা হচ্ছে কি? একই ধরনের অনিয়ম পুনরাবৃত্তি হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত নজরদারি কতটা কার্যকর? এসব প্রশ্নের উত্তর সাধারণ মানুষ জানার অধিকার রাখেন।

 

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও রেস্টুরেন্টগুলোর রান্না, খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কিন্তু এর সাফল্য নির্ভর করবে সময়সীমা শেষ হওয়ার পর কী হচ্ছে তার ওপর। নির্দেশনা দেওয়ার চেয়ে নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেটিই বড় কথা।

 

অভিযানের সময় ক্যামেরার সামনে রান্নাঘর পরিষ্কার করে রাখলেই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। দরকার প্রতিদিনের স্বাস্থ্যবিধি, নিয়মিত তদারকি এবং ব্যবসায়ীদের নিজেদের দায়িত্ববোধ।

 

ব্যবসা করা অপরাধ নয়। লাভ করাও অপরাধ নয়। বরং একটি ভালো রেস্টুরেন্ট বা বেকারি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, মানুষের প্রয়োজন মেটায় এবং অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু লাভের জন্য যদি খাবারের মান কমানো হয়, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয় কিংবা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি করা হয়, তখন ব্যবসা আর কেবল ব্যবসা থাকে না—তা জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিতে পরিণত হয়।

 

এখানে ব্যবসায়ীদের বিবেকের প্রশ্নও আছে।

 

একজন ক্রেতা হয়তো বুঝতে পারছেন না তার প্লেটে পরিবেশিত খাবারের উপকরণ কতটা নিরাপদ। কিন্তু খাবার প্রস্তুতকারী জানেন তিনি কী ব্যবহার করছেন। ক্রেতা জানেন না তেলটি কতবার ব্যবহার করা হয়েছে; রান্নাঘরের দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানেন। ভোক্তা জানেন না ফ্রিজে রাখা খাবারটির মেয়াদ শেষ হয়েছে কি না; ব্যবসায়ী জানেন। তাই তথ্যের এই অসমতার জায়গায় ব্যবসায়ীর দায়িত্ব আরও বেশি।

 

শুধু প্রশাসনের ভয়েই নয়, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।

 

একই সঙ্গে ভোক্তারও দায়িত্ব আছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার না খাওয়া, খাবারের মান নিয়ে সন্দেহ হলে অভিযোগ করা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য দেওয়া দরকার। তবে ভোক্তাকে সচেতন করার পাশাপাশি প্রশাসনিক নজরদারি শক্তিশালী করাও জরুরি। কারণ একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে একটি রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরের ভেতরের প্রতিটি বিষয় পরীক্ষা করা সম্ভব নয়।

 

চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাম্প্রতিক অভিযানগুলো তাই কেবল কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানার খবর হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এসব অভিযান নগরের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোথায় দুর্বলতা রয়েছে, সেটি দেখারও একটি সুযোগ। অভিযান থেকে তথ্য নিতে হবে, পুনরাবৃত্ত অনিয়মের কারণ খুঁজতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

 

আমরা এমন একটি ব্যবস্থা চাই যেখানে কোনো রেস্টুরেন্টে অভিযান চালানোর জন্য অভিযোগ জমা পড়ার অপেক্ষা করতে হবে না; নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে অনিয়ম আগেই শনাক্ত হবে। এমন একটি ব্যবস্থা চাই যেখানে শুধু জরিমানা নয়, সংশোধন বাস্তবায়নের অগ্রগতিও দেখা হবে। এমন একটি ব্যবস্থা চাই যেখানে ভালো প্রতিষ্ঠানগুলো উৎসাহিত হবে এবং বারবার অনিয়ম করা প্রতিষ্ঠানগুলো আইনের আওতায় আরও কার্যকরভাবে জবাবদিহির মুখোমুখি হবে।

 

কারণ খাবার কোনো সাধারণ পণ্য নয়। খাবারের সঙ্গে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সরাসরি জড়িত।

 

একজন মানুষ দিনের পর দিন পরিশ্রম করে উপার্জিত টাকা দিয়ে খাবার কিনছেন। সেই খাবার যদি তার সুস্থ থাকার বদলে অসুস্থতার কারণ হয়, তাহলে এর চেয়ে বড় ভোক্তা-অবিচার আর কী হতে পারে?

 

আমরা চাই না চট্টগ্রামের কোনো মা-বাবা সন্তানকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে গিয়ে ফিরে এসে হাসপাতালের পথে ছুটুন। আমরা চাই না একজন শ্রমজীবী মানুষ দিনের উপার্জনের টাকা খাবারে খরচ করে পরদিন চিকিৎসার জন্য আরও বেশি টাকা ব্যয় করুন। আমরা চাই না একটি পরিবারের আনন্দের খাবার অসুস্থতার কারণ হয়ে উঠুক।

 

তাই এখন সময় এসেছে প্রশ্ন করার—নিরাপদ খাবার কোথায়? ভোক্তার জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি আর কতদিন?

 

অভিযান হোক, জরিমানা হোক, আইন প্রয়োগ হোক—কিন্তু তার সাথে থাকতে হবে স্থায়ী সমাধান। খাদ্য ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হতে হবে, প্রশাসনকে নিয়মিত নজরদারি করতে হবে এবং ভোক্তাকে সচেতন হতে হবে। এই তিন পক্ষের সম্মিলিত দায়িত্ব ছাড়া নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

 

সবশেষে একটি কথা মনে রাখা দরকার—আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে হয়তো কোনো অনিয়মের তাৎক্ষণিক দায় এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব, কিন্তু মানুষের ক্ষতি, মানুষের অধিকার এবং মানুষের আমানতের দায় এড়িয়ে যাওয়া যায় না। একজন বিশ্বাসী মানুষের কাছে সেই জবাবদিহি শুধু রাষ্ট্রের কাছে নয়, মহান আল্লাহর কাছেও।

 

একটি জরিমানার রসিদ হয়তো অপরাধের আইনি মূল্য নির্ধারণ করতে পারে; কিন্তু একজন অসুস্থ মানুষের কষ্টের মূল্য নির্ধারণ করতে পারে না।

 

তাই প্রয়োজন এমন একটি খাদ্যব্যবস্থা, যেখানে ব্যবসা থাকবে, মুনাফা থাকবে, কিন্তু মানুষের স্বাস্থ্যকে মুনাফার বলি হতে হবে না।

 

নিরাপদ খাবার কোনো বিলাসিতা নয়—এটি মানুষের অধিকার। আর সেই অধিকার নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; এটি ব্যবসায়ীর নৈতিক দায় এবং রাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্যগত দায়িত্বও।

বান্দরবানে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার চার পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ ফ্রি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০০ অপরাহ্ণ
বান্দরবানে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার চার পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ ফ্রি

বান্দরবানে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার চার পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ ফ্রি

বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন শহর বান্দরবানে আগত পর্যটকদের জন্য বিশেষ ছাড় ও উপহার ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। দিবসটি উপলক্ষে আগামীকাল ২৭ই সেপ্টেম্বর (রবিবার) জেলার জনপ্রিয় চারটি পর্যটনকেন্দ্রে কোনো ধরনের প্রবেশ ফি নেওয়া হবে না। এর ফলে প্রতিটি পর্যটকের ২০০ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক পর্যটন দিবস উপলক্ষে আগামীকাল রবিবার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসন পরিচালিত পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রবেশ সম্পূর্ণ ফ্রি বা মওকুফ থাকবে নীলাচল, মেঘলা, চিম্বুক, এবং প্রান্তিক লেক।

প্রতিবছর বিশ্ব পর্যটন দিবসটি আনন্দদায়ক ও স্মরণীয় করে রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বছর জেলা প্রশাসনের এই যুগোপযোগী পদক্ষেপে পর্যটকরা পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই এসব দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন। পাহাড়ি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি একটি দারুণ আনন্দের খবর।

সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ আশা করছে, এই বিশেষ দিনটিতে বান্দরবানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাবে এবং ভ্রমণপিপাসুরা স্বাচ্ছন্দ্যে পাহাড়ের রূপ উপভোগ করতে পারবেন।

রুহিয়ায় এ বি কিন্ডার গার্ডেন এন্ড মডেল স্কুলের সমাপনী পরীক্ষার ফলপ্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
রুহিয়ায় এ বি কিন্ডার গার্ডেন এন্ড মডেল স্কুলের সমাপনী পরীক্ষার ফলপ্রকাশ

রুহিয়ায় এ বি কিন্ডার গার্ডেন এন্ড মডেল স্কুলের সমাপনী পরীক্ষার ফলপ্রকাশ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় এ বি কিন্ডার গার্ডেন এন্ড মডেল স্কুলের সমাপনী পরীক্ষার ফলপ্রকাশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ ঘটিকায় এ বি কিন্ডার গার্ডেন এন্ড মডেল স্কুল প্রাঙ্গনে এ ফলপ্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অত্র বিদ্যালয়ের পরিচালক মোঃ আব্দুল আলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক মণ্ডলী ও অভিভাবক বৃন্দ।

 

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলাফল প্রকাশ করেন এবং অত্র বিদ্যালয়ের পরিচালক মোঃ আব্দুল আলিম বলেন, “গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমার বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষকের অবহেলার করনে কোমলমতি ছাত্রছাত্রী ক্ষতি হয় তহলে বদ্দাশ করব না। প্রয়োজনে আরো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে আমরা চাই প্রতিটি শিক্ষার্থী সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ভবিষ্যতে দেশের সম্পদ হোক।”এসময় তিনি অভিভাবকদের প্রতি তাদের সন্তানদের নিয়মিত স্কুলে পাঠান এবং পড়াশোনায় মনোযোগী করতে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান। মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

বে অব বেঙ্গল ম্যারাথনে সাফল্য পেলেন বান্দরবানের হিল রানার্সের দৌড়বিদরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০২ অপরাহ্ণ
বে অব বেঙ্গল ম্যারাথনে সাফল্য পেলেন বান্দরবানের হিল রানার্সের দৌড়বিদরা

বে অব বেঙ্গল ম্যারাথনে সাফল্য পেলেন বান্দরবানের হিল রানার্সের দৌড়বিদরা

মো. আরিফ, বান্দরবান প্রতিনিধি;

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কক্সবাজার ম্যারাথনে’ অংশ নিয়ে সাফল্য পেয়েছেন বান্দরবান হিল রানার্স কমিউনিটির দৌড়বিদেরা। প্রতিযোগিতার ১০ কিলোমিটার ভেটেরান ক্যাটাগরিতে সা অং প্রু মারমা (ক্যক্য) ১ম রানার আপ এবং ডা. শান্তানু দাশ ২য় স্থান অর্জন করেছেন।

 

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কক্সবাজার ম্যারাথনে অংশ নিয়ে সাফল্য পেয়েছেন বান্দরবান হিন রানার্স কমিটি প্রতিনিধিরা।

 

প্রতিযোগিতার ১০ কিলোমিটার ভেটেরান ক্যাটাগরিতে

 

১ম রানা আপ এবং ডা. ২য় স্থান অর্জন করেন।

 

আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টায় কক্সবাজারের ইনানী সৈকত থেকে ম্যারাথন শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রায় আড়াই হাজার দৌড়বিদ এতে অংশ নেন।

 

বান্দরবান থেকে হিল রানার্স কমিউনিটির প্রায় ৫-৬ জন দৌড়বিদ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

 

এর মধ্যে ১০ কিলোমিটার ভেটেরান ক্যাটাগরিতে সা অং প্রু মারমা (ক্যক্য) ও ডা. শান্তানু দাশ যথাক্রমে প্রথম রানার আপ ও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। রুপন চৌধুরী, সুজন দাশসহ বান্দরবানের আরও কয়েকজন দৌড়বিদ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সফলভাবে দৌড় শেষ করেন।

 

এর আগে গত ২১ আগস্ট ২০২৬ চট্টগ্রামের নোমান কলেজ রোডে অনুষ্ঠিত ‘চট্টমেট্রো হাফ ম্যারাথনে’ও সাফল্য পান বান্দরবান হিল রানার্সের দৌড়বিদ মো. ইকবাল হোসেন অনিক।

 

তিনি ৫ কিলোমিটার ক্যাটাগরিতে চার শতাধিক প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

 

হিল রানার্সের প্রতিনিধিরা বলেন, পাহাড়ি এলাকার তরুণদের মধ্যে দৌড় ও শরীরচর্চার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে তারা নিয়মিত জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।

 

ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ম্যারাথনে অংশ নিয়ে বান্দরবানের জন্য আরও ভালো ফলাফল অর্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।