খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

জিয়ার বিশ্বমঞ্চ থেকে তারেকের নতুন বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ণ
জিয়ার বিশ্বমঞ্চ থেকে তারেকের নতুন বাংলাদেশ

জিয়ার বিশ্বমঞ্চ থেকে তারেকের নতুন বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেই মঞ্চে বাংলাদেশের ইতিহাসের তিনটি ভিন্ন সময় যেন এক বিন্দুতে এসে মিলিত হতে যাচ্ছে। চার দশকের বেশি সময় আগে যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বব্যবস্থার বৈষম্য, দারিদ্র্য ও উন্নয়নবঞ্চিত মানুষের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, পরে একই আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এবার সেই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের হয়ে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তাঁর এই ভাষণ জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আনুষ্ঠানিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

 

এই ঘটনাকে শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফর বা নিয়মিত কূটনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখলে এর ঐতিহাসিক মাত্রাটি পুরোপুরি ধরা পড়বে না। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা, বৈশ্বিক ন্যায়বিচার নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন এবং একটি রাজনৈতিক পরিবারের তিন প্রজন্মের আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিতির ধারাবাহিকতা।

 

গল্পটির প্রথম অধ্যায় শুরু হয়েছিল ১৯৮০ সালে।

 

সে বছরের ২৬ আগস্ট নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তখন বিশ্ব অর্থনীতি ছিল গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। তেলের মূল্যবৃদ্ধি, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণ ও অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের মধ্যে বৈষম্য আন্তর্জাতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। সেই প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমান প্রশ্ন তুলেছিলেন—বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন ও সহযোগিতার এত প্রতিশ্রুতির পরও কেন পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্য ও ক্ষুধার মধ্যে পড়ে থাকবে?

 

তাঁর সেই প্রশ্ন কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা থেকে উঠে আসেনি। এর পেছনে ছিল সে সময়কার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন-ভাবনার বড় বিতর্ক।

 

একদিকে ছিল আধুনিকায়ন তত্ত্ব। ডব্লিউ. ডব্লিউ. রস্টোর ‘স্টেজেস অব ইকোনমিক গ্রোথ’ বা প্রবৃদ্ধির পর্যায় তত্ত্বের মতো ধারণায় মনে করা হতো, উন্নয়নশীল দেশগুলো যদি উন্নত বিশ্বের অনুসৃত অর্থনৈতিক কাঠামোর পথে এগোয় এবং প্রয়োজনীয় পুঁজি, প্রযুক্তি ও বৈদেশিক সহায়তা পায়, তাহলে তারা ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক ‘টেক-অফ’-এর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে।

 

অন্যদিকে নির্ভরশীলতা তত্ত্ব বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোর ভেতরে কেন্দ্র ও প্রান্তের অসম সম্পর্ককে সামনে নিয়ে আসে। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কাঠামোগত বৈষম্যের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষে নিজেদের অবস্থান বদলানো কঠিন হয়ে পড়ে।

 

এই বিতর্কের আন্তর্জাতিক প্রতিফলন ছিল ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে ঘোষিত নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বা এনআইইও। পরবর্তী সময়ে উত্তর-দক্ষিণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। ১৯৮০ সালের জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনেও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও নতুন অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

বাংলাদেশ তখন ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত, দারিদ্র্যপীড়িত ও খাদ্যসংকটে থাকা একটি নবীন রাষ্ট্র। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের অভিঘাত তখনো গভীর। প্রায় সাড়ে নয় কোটি মানুষের দেশটির সামনে খাদ্য উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

 

এই বাস্তবতায় জিয়াউর রহমানের বক্তব্যে উঠে আসে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ন্যায্য অংশীদারির প্রশ্ন। তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, উন্নয়ন সহায়তা, ঋণ, জ্বালানি ও বাজারসুবিধার ক্ষেত্রে অধিকতর ন্যায্য ব্যবস্থা চেয়েছিলেন। দরিদ্র দেশগুলোর ওপর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের চাপ কমাতে উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে—এমন ধারণাও তিনি সামনে আনেন।

 

এখানে তাঁর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল আত্মনির্ভরতার ধারণা। তাঁর কাছে আত্মনির্ভরতা মানে বিশ্বের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়; বরং নিজেদের উৎপাদন ও সক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় সমান মর্যাদায় অংশ নেওয়া।

 

অর্থাৎ একদিকে তিনি বৈশ্বিক সহযোগিতা ও ন্যায্য বাণিজ্যের দাবি তুলেছেন, অন্যদিকে দেশের কৃষি, খাদ্য উৎপাদন ও নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এই দুইয়ের সমন্বয় তাঁর আন্তর্জাতিক বক্তব্যকে একটি স্বতন্ত্র মাত্রা দিয়েছিল।

 

জিয়াউর রহমানের সেই বক্তব্যের প্রায় ১৩ বছর পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর ৪৮তম সাধারণ অধিবেশনে তাঁর ভাষণের মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়।

 

এরপর ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারক অধিবেশন, ২০০২ সালে শিশু বিষয়ক বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম সাধারণ অধিবেশনের বিভিন্ন আয়োজনে তিনি বক্তব্য দেন। অর্থাৎ ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতিসংঘ মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অবস্থান ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার ধারাবাহিকতা তৈরি করে।

 

এবার সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হচ্ছে তৃতীয় প্রজন্ম।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তিনি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ভাষণ দেবেন। সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় স্থান পাবে।

 

এই বিষয়গুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়, ১৯৮০ সালের বাংলাদেশের সঙ্গে ২০২৬ সালের বাংলাদেশের বাস্তবতার পার্থক্য কতটা।

 

জিয়াউর রহমানের সময় আন্তর্জাতিক ন্যায়ের আলোচনায় প্রধান প্রশ্ন ছিল খাদ্য, তেল, বাণিজ্য, উন্নয়ন সহায়তা ও অর্থনৈতিক বৈষম্য। চার দশক পর সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, কার্বন নিঃসরণ, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল বৈষম্য, জলবায়ু অর্থায়ন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো নতুন বাস্তবতা।

 

বিশেষ করে জলবায়ু বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু।

 

২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে ‘Climate Action and the Just Transition’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন। পরদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি নিছক পরিবেশনীতি নয়। উপকূলীয় এলাকার মানুষের বসতি, কৃষি, পানির নিরাপত্তা, জীবিকা এবং অভিবাসনের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

 

বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অংশ তুলনামূলকভাবে খুবই কম। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের ঝুঁকি দেশটির জন্য অনেক বেশি। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা, নদীভাঙন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি—এসবের সম্মিলিত প্রভাব বাংলাদেশের উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে।

 

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, শুধু ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। ফলে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য দায়বণ্টনের প্রশ্ন বাংলাদেশের কূটনীতিতে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

এখানেই ১৯৮০ সালের উন্নয়ন-ন্যায়ের প্রশ্নটি নতুন রূপে ফিরে আসে। তখন প্রশ্ন ছিল দরিদ্র দেশগুলোর জন্য ন্যায্য বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহায়তা নিশ্চিত করা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনে তুলনামূলকভাবে কম অবদান রেখেছে, তাদের অভিযোজনের ব্যয় কে বহন করবে এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও অর্থায়ন কীভাবে নিশ্চিত হবে?

 

প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন সামনে আসছে।

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো ও নতুন প্রযুক্তি বিশ্ব অর্থনীতির চরিত্র দ্রুত বদলে দিচ্ছে। কিন্তু প্রযুক্তির সুফল সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত নয়। উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষতা, অবকাঠামো ও অর্থায়নে বৈষম্য তৈরি হলে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নতুন ধরনের কেন্দ্র-প্রান্ত সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। ফলে প্রযুক্তিতে ন্যায়সংগত প্রবেশাধিকার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দাবি হয়ে উঠছে।

 

তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরের আরেকটি বড় বিষয় রোহিঙ্গা সংকট।

 

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। প্রায় নয় বছর ধরে এই জনগোষ্ঠীর বড় অংশ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থান করছে। ফলে সংকটটি এখন আর কেবল মানবিক সহায়তার বিষয় নয়; এর সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নও যুক্ত হয়েছে।

 

২০২৬ সালে জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন মেটাতে ৭১০.৫ মিলিয়ন ডলারের আবেদন জানিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

 

বাংলাদেশের অবস্থানও দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার—রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই হতে হবে। প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই। জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই অবস্থান আবারও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনের আরেকটি বিশেষ দিক বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ২ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ৯৯ ভোট পান। এর মধ্য দিয়ে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হয়েছেন।

 

ফলে একই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেবেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বাংলাদেশের জন্য এই সমাপতন কূটনৈতিকভাবে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

 

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের জাতিসংঘ অধিবেশনকে জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের আন্তর্জাতিক উপস্থিতির একটি ধারাবাহিকতা হিসেবেও দেখা যায়।

 

১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের সামনে ছিল যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখা, খাদ্য ও দারিদ্র্যের সংকট মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ন্যায্য অংশীদারি নিশ্চিত করার প্রশ্ন।

 

১৯৯০-এর দশক ও পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের সময়ে বাংলাদেশের সামনে ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রপরিচয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে সক্রিয় উপস্থিতির প্রশ্ন।

 

আর ২০২৬ সালে তারেক রহমানের সামনে রয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বৈশ্বিক বাস্তবতা—জলবায়ু সংকট, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, রোহিঙ্গা সংকট, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কার।

 

এই তিনটি সময়কে পাশাপাশি রাখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়—পরিবর্তিত হয়েছে প্রশ্নের ধরন, কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে।

 

১৯৮০ সালে যে কণ্ঠ বৈশ্বিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে উন্নয়নশীল বিশ্বের ন্যায্য অধিকারের কথা বলেছিল, পরবর্তী সময়ে সেই আন্তর্জাতিক উপস্থিতির ধারাবাহিকতা বহন করেছেন খালেদা জিয়া। এবার সেই ইতিহাসের তৃতীয় অধ্যায়ে প্রবেশ করছেন তারেক রহমান।

 

তাঁর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ তাই একই সঙ্গে অতীতের উত্তরাধিকার এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশার একটি সংযোগস্থল। তবে ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণ শেষ পর্যন্ত কতটা নতুন নীতিগত দিকনির্দেশনা দেয়, বাংলাদেশের বৈশ্বিক অগ্রাধিকারগুলো কীভাবে উপস্থাপিত হয় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সেই অবস্থান কতটা কার্যকর সহযোগিতায় রূপ নেয়—সেটিই হবে এই সফরের বাস্তব তাৎপর্য নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

জাতিসংঘের মঞ্চে সেদিন উচ্চারিত হবে বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের প্রশ্নগুলো—গণতন্ত্র, উন্নয়ন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, প্রযুক্তিতে সমতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও একটি কার্যকর বহুপক্ষীয় বিশ্বব্যবস্থা।

 

জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের এই আন্তর্জাতিক যাত্রায় তাই ২৪ সেপ্টেম্বর শুধু একটি তারিখ নয়; এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসের তিনটি ভিন্ন সময়কে একই বৈশ্বিক মঞ্চে যুক্ত করার একটি মুহূর্ত। অতীতের অভিজ্ঞতা সঙ্গে নিয়ে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ কী বার্তা দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে বিশ্ব।

সরকারি ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল, উৎপাদন হবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
সরকারি ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল, উৎপাদন হবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

সরকারি ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল, উৎপাদন হবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

নিউজ ডেস্ক:

বৈশ্বিক অস্থিরতা ও বৈরী পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বর্তমানে বাড়তি চাপের মুখে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং বিকল্প জ্বালানি উৎসের ব্যবহার সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে বড় ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

 

কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন সারা দেশের ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারি অবকাঠামোর অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এ উদ্যোগকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় কর্মপরিকল্পনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচিটির বিস্তারিত তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

 

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৭০ কোটি টাকা সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণ করার পাশাপাশি জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

 

মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মসূচির আওতায় শুধু রাজধানী বা বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের সরকারি স্থাপনাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

 

জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের ভবন; স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) মাঠপর্যায়ের কার্যালয়; বিভিন্ন অঞ্চলের ওয়াসা (WASA) কার্যালয়; জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভবন; দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্র, হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টার।

 

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবহৃত ছাদে আধুনিক সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে। উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহার করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডেও যুক্ত করা যাবে।

 

তিনি আরও জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সংবলিত চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

 

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের ২৭ জানুয়ারির মধ্যে পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি ভবনের ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হলে একদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিরূপ প্রভাবও কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

স্থানীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক সরকারি ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদকে একটি সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় আনার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে সরকারি স্থাপনায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার একটি কাঠামো গড়ে উঠতে পারে।

পটিয়া থেকে ৫১৪৮, এস আলমের সময়ে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগের চিত্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ
পটিয়া থেকে ৫১৪৮, এস আলমের সময়ে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগের চিত্র

পটিয়া থেকে ৫১৪৮, এস আলমের সময়ে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগের চিত্র

নিউজ ডেস্ক

সুনির্দিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ইসলামী ব্যাংকে ৮ হাজার ৫৪২ জনকে নিয়োগ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত এই ঘটনা ঘটে। নিয়োগ পাওয়া ১০ হাজার ৮৩২ জনের মধ্যে বড় অংশই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এই প্রক্রিয়ায়।

 

এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কিংবা লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। নিয়োগপ্রাপ্তদের বড় একটি অংশই চট্টগ্রামের, বিশেষ করে সাইফুল আলম ওরফে এস আলমের জন্মস্থান পটিয়ার বাসিন্দা।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে ইসলামী ব্যাংকের ওই সময়কার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। পরিদর্শন প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকে মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৫৫১। এর মধ্যে ২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয় ১০ হাজার ৮৩২ জনকে। ওই সময় ব্যাংকটি এস আলমের নিয়ন্ত্রণে ছিল। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪৬৬ জন ছিলেন লেটারাল এন্ট্রির মাধ্যমে এবং ১০ হাজার ৩৩৬ জন সরাসরি প্রবেশ পর্যায়ে নিয়োগ পান।

 

ইসলামী ব্যাংকের প্রচলিত নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী, বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার বিধান ছিল। প্রার্থীদের আবেদন করার জন্য অন্তত ১৫ দিন সময় দেওয়ার পাশাপাশি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হতো। উভয় পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়া নিয়োগের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতো।

 

কিন্তু ২০১৭ সালে ব্যাংকের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তনের পর এই প্রক্রিয়ার ব্যত্যয় ঘটে। ওই সময় ৮ হাজার ৫৪২ জনকে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে নিয়মসিদ্ধ করার জন্য ওই সময়ে ইসলামী ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়। নীতিমালার ৭.০৪ ধারায় নতুন করে বলা হয়, ‘জরুরি প্রয়োজন’ দেখা দিলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনবলের প্রয়োজন অনুযায়ী এন্ট্রি লেভেল ও লেটারাল এন্ট্রি গ্রেডে কর্মী নিয়োগ দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু আনুষ্ঠানিকতা শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়।

 

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে মূল নিয়োগবিধির ৭.০১ ধারা কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছে। ওই ধারায় বিভিন্ন গ্রেডে নিয়োগের জন্য অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন করার জন্য কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যাংকের কার্যক্রম সচল রাখতে সাধারণত সীমিতসংখ্যক লেটারাল এন্ট্রি বা বিশেষায়িত কারিগরি পদে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকে সেই বিধান ব্যবহার করে প্রবেশনারি পর্যায়েই ছয় হাজারের বেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা অস্বাভাবিক।

 

আরও বলা হয়েছে, ওই সময় ব্যাংকে বড় ধরনের জনবল সংকট ছিল—এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি। বরং বিজ্ঞপ্তি ছাড়া যে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়, তা ব্যাংকের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ছিল বলে সে সময়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এস আলমের নিয়ন্ত্রণকালে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ৮ হাজার ৯৯ জন। এর মধ্যে ৫ হাজার ১৪৮ জনই পটিয়ার বাসিন্দা। পটিয়া এস আলমের জন্মস্থান হওয়ায় এই নিয়োগের ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করায় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের প্রার্থীদের আবেদন ও প্রতিযোগিতার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। এর ফলে চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী নিয়োগ পাওয়ায় ব্যাংকে একটি কেন্দ্রীভূত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে দেশের অন্যান্য এলাকার যোগ্য প্রার্থীরা চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তি ও লিখিত পরীক্ষা ছাড়া কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভিন্ন একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল বলে পরিদর্শনে তথ্য পাওয়া গেছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংককে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহের জন্য এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের পটিয়ার বাড়ি এবং চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ কার্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের বাক্স রাখা হতো। এসব বাক্সে ‘পটিয়া জেনারেল’, ‘পটিয়া ক্যাশ’, ‘পুরুষ জেনারেল-সাতকানিয়া-লোহাগাড়া’, ‘পুরুষ ক্যাশ-গন্ডামারা-বাঁশখালী’, ‘মহিলা-ক্যাশ’, ‘নারী’ ও ‘ডিপ্লোমা’সহ বিভিন্ন পরিচয় লেখা থাকত।

 

এসব বাক্সে জমা পড়া সিভি থেকে পছন্দের প্রার্থীদের পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হতো। এরপর প্রধান কার্যালয় থেকেই তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

 

ইসলামী ব্যাংকের ২৬টি প্রবেশনারি অফিসার ব্যাচের মধ্যে ২৪তম ব্যাচের নিয়োগে নিয়োগবিধি অনুসরণ করা হয়নি বলে প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ব্যাচের নিয়োগে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।

 

২০১৯ সালের শুরুতে চট্টগ্রাম থেকে ৮৪০ জন প্রার্থীর একটি তালিকা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরে তাদের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগকে। পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৬৩ জন।

 

ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী পাস নম্বর ছিল ৫০ শতাংশ। কিন্তু ওই নম্বর অর্জন করতে পারেন মাত্র ৩৬ জন। এরপর পাস নম্বর কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। এর ফলে ৫৫২ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৩০৪ জন।

 

এ ছাড়া লিখিত পরীক্ষা না দিয়েই আরও ১২ জনকে শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে তালিকার প্রথম ১৭৮ জন এবং লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ১২ জনসহ মোট ১৯০ জনকে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাকি ১২৬ জনকে পাঠানো হয় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে। এই প্রার্থীদের সবাই চট্টগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

 

ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া ১৯০ জনের মধ্যে ১৮৪ জন পরে চাকরিতে যোগ দেন।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আরও বেশ কিছু পদে নিয়োগবিধি না মানার তথ্য পাওয়া গেছে।

 

এই সময়ে ২ হাজার ২৩২ জন ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (জেনারেল) নিয়োগ দেওয়া হয়, কিন্তু এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) পদে ২ হাজার ৮২৮ জন এবং ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার পদে ৫০১ জনকে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়।

 

লেটারাল এন্ট্রির ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় ৪৬৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ২৬৪ জনই চট্টগ্রাম জেলার প্রার্থী।

 

পরিদর্শনের সময় ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ঢাকায় কর্মরত ওই সময়ের ১০ কর্মকর্তার লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়।

 

তাদের সবাই জানান, তারা সিভি জমা দিয়ে লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন। এর মধ্যে দুইজন কোনো ধরনের মৌখিক পরীক্ষাও দেননি বলে লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন।

 

কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তারা সুগন্ধা আবাসিক এলাকা ও পাঁচলাইশে অবস্থিত এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের বাড়ি এবং চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ কার্যালয়ে রাখা বাক্সে সিভি জমা দিয়েছিলেন। সেখানেই তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং পরে যোগদানপত্রও দেওয়া হয় বলে তারা জানান।

 

শুধু সাধারণ কর্মী নিয়োগ নয়, উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও নিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ না করার তথ্য পাওয়া গেছে।

 

ইসলামী ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক বা ডিএমডি পদে নিয়োগ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আগের পদে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। একই সঙ্গে যোগদানের আগে মোট ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত রয়েছে।

 

কিন্তু এস আলম ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আকিজ উদ্দিন মাত্র আট বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিয়ে ডিএমডি পদে পদোন্নতি পান। ডিএমডি হওয়ার আগে আগের পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন থাকলেও তার ছিল মাত্র এক বছর চার মাসের অভিজ্ঞতা।

 

অন্যদিকে ডিএমডি মিফতাহ উদ্দিনের মোট অভিজ্ঞতা ছিল ১৭ বছর, যেখানে নীতিমালায় ২০ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত ছিল। ডিএমডি হওয়ার আগে দুই বছরের অভিজ্ঞতার বিধান থাকলেও তার ছিল এক বছরের অভিজ্ঞতা।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের পর ইসলামী ব্যাংকের নীতিগত পরিবর্তনগুলো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সংযোজন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। একই সঙ্গে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এবং কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়ার বাধ্যবাধকতাও অনেক ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়নি।

 

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি যুক্ত থাকে না। এটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব বিষয়। তবে ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভূমিকা পালন করে। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর অনিয়ম পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও নির্দেশনা দেওয়া হবে।

 

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংঘটিত অনিয়ম তদন্তে চারটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ নিরীক্ষার দায়িত্ব দেয়। সেই নিরীক্ষাতেও এস আলমের সময়কার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

 

এই পরীক্ষা বন্ধের দাবিতে দুই কর্মী হাইকোর্টে রিট করেন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

 

এরপর ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) মাধ্যমে ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিশেষ দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার আয়োজন করে।

 

ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫ হাজার ৩৭৩ কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র ৪০২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী সবাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং চাকরিতে বহাল থাকেন।

 

অন্যদিকে ৪ হাজার ৯৭২ জন কর্মকর্তা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পরীক্ষায় অংশ নেননি। ব্যাংকের অভিযোগ, তাদের কয়েকজন পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী কর্মীদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন এবং ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। পাশাপাশি কর্মবিরতি, সড়ক বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগও ওঠে।

 

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব কর্মকাণ্ডকে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নীতিমালাবিরোধী হিসেবে বিবেচনা করে। পরিচালনা পর্ষদের পরামর্শ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে মানবসম্পদ নীতিমালা অনুসারে ৪ হাজার ৬৮৫ জনকে তিন মাসের বেতন পরিশোধ করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

 

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হোসাইন বলেন, ওই কর্মীদের নিয়োগ বৈধ না অবৈধ—শুধু এই বিবেচনায় তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়নি। তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় তারা নিয়োগ পেয়েছিলেন, সেখানে সার্ভিস রুল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করা হয়নি।

 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া পূর্ণ করার সুযোগ হিসেবে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা পরীক্ষায় অংশ নেননি এবং অন্যদেরও পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা দিয়েছেন। ফলে ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করায় তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্তের আওতায় দেখেছে বলে জানান তিনি।

লামায় ৬ বছরের শিশু ধর্ষণ: গ্রেফতার ২

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ পূর্বাহ্ণ
লামায় ৬ বছরের শিশু ধর্ষণ: গ্রেফতার ২

লামায় ৬ বছরের শিশু ধর্ষণ: গ্রেফতার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান

বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই কিশোরকে আটক করেছে আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ি।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেন,লামা থানার আওতাধীন আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম।

 

(২৩ সেপ্টেম্বর) রোজ বুধবার দুপুর দুই ঘটিকার দিকে আজিজনগর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড ইসলামপুরে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

 

আটক দুইকিশোর ইসলামপুর আতিক্কা পাড়া এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে নুরুল কবির (১৪) এবং আরেক জন নুরুল আমিন বৈদ্যের ছেলে নাজিমুল ইসলাম(১২)।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া যায়, দুপুর দুইটার দিকে খাওয়া দাওয়া শেষে ভিকটিমের মা ৬ বছরের মেয়েকে পাশের বাসায় রেখে মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলেকে মাদ্রাসা থেকে আনতে যায়। মেয়েটি বাড়ির পাশে অন্যান্য ছোট ছোট মেয়েদের সাথে খেলছিল। তখন অভিযুক্ত দুই কিশোর তাকে খেলা থেকে ডেকে নিয়ে পাশের একটি বাগানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।

 

মেয়েটির প্রচুর রক্তপাত হওয়ায় সাথে সাথে তাকে চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম।

 

সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)কায়সার হামিদ জানান, এই ঘটনায় দুই কিশোরকে আটক করা হয়েছে তাদের বিরুদ্বে আইনী কার্যক্রম চলমান।