খুঁজুন
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

জিয়ার বিশ্বমঞ্চ থেকে তারেকের নতুন বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ণ
জিয়ার বিশ্বমঞ্চ থেকে তারেকের নতুন বাংলাদেশ

জিয়ার বিশ্বমঞ্চ থেকে তারেকের নতুন বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সেই মঞ্চে বাংলাদেশের ইতিহাসের তিনটি ভিন্ন সময় যেন এক বিন্দুতে এসে মিলিত হতে যাচ্ছে। চার দশকের বেশি সময় আগে যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিশ্বব্যবস্থার বৈষম্য, দারিদ্র্য ও উন্নয়নবঞ্চিত মানুষের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, পরে একই আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এবার সেই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের হয়ে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তাঁর এই ভাষণ জিয়া পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আনুষ্ঠানিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

 

এই ঘটনাকে শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফর বা নিয়মিত কূটনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে দেখলে এর ঐতিহাসিক মাত্রাটি পুরোপুরি ধরা পড়বে না। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা, বৈশ্বিক ন্যায়বিচার নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন এবং একটি রাজনৈতিক পরিবারের তিন প্রজন্মের আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিতির ধারাবাহিকতা।

 

গল্পটির প্রথম অধ্যায় শুরু হয়েছিল ১৯৮০ সালে।

 

সে বছরের ২৬ আগস্ট নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তখন বিশ্ব অর্থনীতি ছিল গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। তেলের মূল্যবৃদ্ধি, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণ ও অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের মধ্যে বৈষম্য আন্তর্জাতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। সেই প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমান প্রশ্ন তুলেছিলেন—বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন ও সহযোগিতার এত প্রতিশ্রুতির পরও কেন পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্য ও ক্ষুধার মধ্যে পড়ে থাকবে?

 

তাঁর সেই প্রশ্ন কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা থেকে উঠে আসেনি। এর পেছনে ছিল সে সময়কার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন-ভাবনার বড় বিতর্ক।

 

একদিকে ছিল আধুনিকায়ন তত্ত্ব। ডব্লিউ. ডব্লিউ. রস্টোর ‘স্টেজেস অব ইকোনমিক গ্রোথ’ বা প্রবৃদ্ধির পর্যায় তত্ত্বের মতো ধারণায় মনে করা হতো, উন্নয়নশীল দেশগুলো যদি উন্নত বিশ্বের অনুসৃত অর্থনৈতিক কাঠামোর পথে এগোয় এবং প্রয়োজনীয় পুঁজি, প্রযুক্তি ও বৈদেশিক সহায়তা পায়, তাহলে তারা ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক ‘টেক-অফ’-এর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে।

 

অন্যদিকে নির্ভরশীলতা তত্ত্ব বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোর ভেতরে কেন্দ্র ও প্রান্তের অসম সম্পর্ককে সামনে নিয়ে আসে। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কাঠামোগত বৈষম্যের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষে নিজেদের অবস্থান বদলানো কঠিন হয়ে পড়ে।

 

এই বিতর্কের আন্তর্জাতিক প্রতিফলন ছিল ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে ঘোষিত নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বা এনআইইও। পরবর্তী সময়ে উত্তর-দক্ষিণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। ১৯৮০ সালের জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনেও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও নতুন অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

বাংলাদেশ তখন ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত, দারিদ্র্যপীড়িত ও খাদ্যসংকটে থাকা একটি নবীন রাষ্ট্র। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের অভিঘাত তখনো গভীর। প্রায় সাড়ে নয় কোটি মানুষের দেশটির সামনে খাদ্য উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

 

এই বাস্তবতায় জিয়াউর রহমানের বক্তব্যে উঠে আসে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ন্যায্য অংশীদারির প্রশ্ন। তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, উন্নয়ন সহায়তা, ঋণ, জ্বালানি ও বাজারসুবিধার ক্ষেত্রে অধিকতর ন্যায্য ব্যবস্থা চেয়েছিলেন। দরিদ্র দেশগুলোর ওপর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের চাপ কমাতে উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে—এমন ধারণাও তিনি সামনে আনেন।

 

এখানে তাঁর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল আত্মনির্ভরতার ধারণা। তাঁর কাছে আত্মনির্ভরতা মানে বিশ্বের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়; বরং নিজেদের উৎপাদন ও সক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় সমান মর্যাদায় অংশ নেওয়া।

 

অর্থাৎ একদিকে তিনি বৈশ্বিক সহযোগিতা ও ন্যায্য বাণিজ্যের দাবি তুলেছেন, অন্যদিকে দেশের কৃষি, খাদ্য উৎপাদন ও নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এই দুইয়ের সমন্বয় তাঁর আন্তর্জাতিক বক্তব্যকে একটি স্বতন্ত্র মাত্রা দিয়েছিল।

 

জিয়াউর রহমানের সেই বক্তব্যের প্রায় ১৩ বছর পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর ৪৮তম সাধারণ অধিবেশনে তাঁর ভাষণের মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়।

 

এরপর ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারক অধিবেশন, ২০০২ সালে শিশু বিষয়ক বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম সাধারণ অধিবেশনের বিভিন্ন আয়োজনে তিনি বক্তব্য দেন। অর্থাৎ ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতিসংঘ মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অবস্থান ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার ধারাবাহিকতা তৈরি করে।

 

এবার সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হচ্ছে তৃতীয় প্রজন্ম।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তিনি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ভাষণ দেবেন। সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় স্থান পাবে।

 

এই বিষয়গুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়, ১৯৮০ সালের বাংলাদেশের সঙ্গে ২০২৬ সালের বাংলাদেশের বাস্তবতার পার্থক্য কতটা।

 

জিয়াউর রহমানের সময় আন্তর্জাতিক ন্যায়ের আলোচনায় প্রধান প্রশ্ন ছিল খাদ্য, তেল, বাণিজ্য, উন্নয়ন সহায়তা ও অর্থনৈতিক বৈষম্য। চার দশক পর সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন, কার্বন নিঃসরণ, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল বৈষম্য, জলবায়ু অর্থায়ন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো নতুন বাস্তবতা।

 

বিশেষ করে জলবায়ু বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু।

 

২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে ‘Climate Action and the Just Transition’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন। পরদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত ঝুঁকি নিয়ে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি নিছক পরিবেশনীতি নয়। উপকূলীয় এলাকার মানুষের বসতি, কৃষি, পানির নিরাপত্তা, জীবিকা এবং অভিবাসনের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

 

বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অংশ তুলনামূলকভাবে খুবই কম। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের ঝুঁকি দেশটির জন্য অনেক বেশি। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা, নদীভাঙন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি—এসবের সম্মিলিত প্রভাব বাংলাদেশের উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে।

 

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, শুধু ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। ফলে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য দায়বণ্টনের প্রশ্ন বাংলাদেশের কূটনীতিতে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

এখানেই ১৯৮০ সালের উন্নয়ন-ন্যায়ের প্রশ্নটি নতুন রূপে ফিরে আসে। তখন প্রশ্ন ছিল দরিদ্র দেশগুলোর জন্য ন্যায্য বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহায়তা নিশ্চিত করা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনে তুলনামূলকভাবে কম অবদান রেখেছে, তাদের অভিযোজনের ব্যয় কে বহন করবে এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও অর্থায়ন কীভাবে নিশ্চিত হবে?

 

প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন সামনে আসছে।

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো ও নতুন প্রযুক্তি বিশ্ব অর্থনীতির চরিত্র দ্রুত বদলে দিচ্ছে। কিন্তু প্রযুক্তির সুফল সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত নয়। উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষতা, অবকাঠামো ও অর্থায়নে বৈষম্য তৈরি হলে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও নতুন ধরনের কেন্দ্র-প্রান্ত সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। ফলে প্রযুক্তিতে ন্যায়সংগত প্রবেশাধিকার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দাবি হয়ে উঠছে।

 

তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরের আরেকটি বড় বিষয় রোহিঙ্গা সংকট।

 

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। প্রায় নয় বছর ধরে এই জনগোষ্ঠীর বড় অংশ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থান করছে। ফলে সংকটটি এখন আর কেবল মানবিক সহায়তার বিষয় নয়; এর সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নও যুক্ত হয়েছে।

 

২০২৬ সালে জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন মেটাতে ৭১০.৫ মিলিয়ন ডলারের আবেদন জানিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

 

বাংলাদেশের অবস্থানও দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার—রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই হতে হবে। প্রত্যাবাসন হতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই। জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই অবস্থান আবারও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনের আরেকটি বিশেষ দিক বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ২ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ৯৯ ভোট পান। এর মধ্য দিয়ে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হয়েছেন।

 

ফলে একই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেবেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বাংলাদেশের জন্য এই সমাপতন কূটনৈতিকভাবে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

 

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের জাতিসংঘ অধিবেশনকে জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের আন্তর্জাতিক উপস্থিতির একটি ধারাবাহিকতা হিসেবেও দেখা যায়।

 

১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের সামনে ছিল যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখা, খাদ্য ও দারিদ্র্যের সংকট মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ন্যায্য অংশীদারি নিশ্চিত করার প্রশ্ন।

 

১৯৯০-এর দশক ও পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের সময়ে বাংলাদেশের সামনে ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রপরিচয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে সক্রিয় উপস্থিতির প্রশ্ন।

 

আর ২০২৬ সালে তারেক রহমানের সামনে রয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বৈশ্বিক বাস্তবতা—জলবায়ু সংকট, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, রোহিঙ্গা সংকট, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কার।

 

এই তিনটি সময়কে পাশাপাশি রাখলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়—পরিবর্তিত হয়েছে প্রশ্নের ধরন, কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে।

 

১৯৮০ সালে যে কণ্ঠ বৈশ্বিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে উন্নয়নশীল বিশ্বের ন্যায্য অধিকারের কথা বলেছিল, পরবর্তী সময়ে সেই আন্তর্জাতিক উপস্থিতির ধারাবাহিকতা বহন করেছেন খালেদা জিয়া। এবার সেই ইতিহাসের তৃতীয় অধ্যায়ে প্রবেশ করছেন তারেক রহমান।

 

তাঁর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ তাই একই সঙ্গে অতীতের উত্তরাধিকার এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশার একটি সংযোগস্থল। তবে ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণ শেষ পর্যন্ত কতটা নতুন নীতিগত দিকনির্দেশনা দেয়, বাংলাদেশের বৈশ্বিক অগ্রাধিকারগুলো কীভাবে উপস্থাপিত হয় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সেই অবস্থান কতটা কার্যকর সহযোগিতায় রূপ নেয়—সেটিই হবে এই সফরের বাস্তব তাৎপর্য নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

জাতিসংঘের মঞ্চে সেদিন উচ্চারিত হবে বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের প্রশ্নগুলো—গণতন্ত্র, উন্নয়ন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, প্রযুক্তিতে সমতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও একটি কার্যকর বহুপক্ষীয় বিশ্বব্যবস্থা।

 

জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের এই আন্তর্জাতিক যাত্রায় তাই ২৪ সেপ্টেম্বর শুধু একটি তারিখ নয়; এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসের তিনটি ভিন্ন সময়কে একই বৈশ্বিক মঞ্চে যুক্ত করার একটি মুহূর্ত। অতীতের অভিজ্ঞতা সঙ্গে নিয়ে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ কী বার্তা দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে বিশ্ব।

বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় ট্রাকভর্তি ওষুধসহ ৩জন আটক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় ট্রাকভর্তি ওষুধসহ ৩জন আটক

বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় ট্রাকভর্তি ওষুধসহ ৩জন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর অধীনস্থ তুমব্রু বিওপির আভিযানিকদল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী কাস্টমস মোড় এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি ট্রাকের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিজিবি সদস্যরা ট্রাকটি থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ জব্দ করে এবং পাচারের সাথে জড়িত ৩ জনকে আটক করে। জব্দকৃত ওষুধের আনুমানিক সিজারমূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা।

 

আটক ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার পুরাতন পল্লান পাড়া গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে মোঃ হারুন মিয়া, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার উত্তর ঘুমধুম বড়ুয়া পাড়া গ্রামের বিপন বড়ুয়ার ছেলে জিদান বড়ুয়া এবং কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার টিএনটি এলাকার মোঃ জয়নালের ছেলে মোঃ আকছার।

 

আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ জানা যায়, তারা ওষুধগুলো মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করে নিয়ে যাচ্ছিল। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত ওষুধসহ অন্যান্য মালামালের তালিকা প্রস্তুত ও যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পাহাড়ের ৩ কমিটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর বিবৃতির জবাবে সচেতন নাগরিক সমাজের যৌথ প্রতিবাদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
পাহাড়ের ৩ কমিটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর বিবৃতির জবাবে সচেতন নাগরিক সমাজের যৌথ প্রতিবাদ

পাহাড়ের ৩ কমিটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর বিবৃতির জবাবে সচেতন নাগরিক সমাজের যৌথ প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তিন কমিটি নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বিবৃতি দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, নির্বাহী কমিটি ও পরামর্শক কমিটি গঠনের সরকারি প্রজ্ঞাপন ঘিরে ৫১/৫২ জন বুদ্ধিজীবী ও নাগরিকের একাংশের বিবৃতির জবাবে ১০২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এই যৌথ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষে আহ্বায়ক কাজী মোঃ মজিবর রহমান জানান, বর্তমান সরকার পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা নিরসন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বস্তরের জনগোষ্ঠীর সুষম উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে অত্যন্ত গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার প্রদান করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করতেই সরকার এই গঠনমূলক প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

 

যৌথ বিবৃতিতে সচেতন নাগরিক সমাজ উল্লেখ করে, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ সুফল পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি-বাঙালি সকল সাধারণ মানুষ যাতে সমানভাবে ভোগ করতে পারেন, সেজন্য প্রশাসনিক দক্ষতা ও বাস্তবমুখী তদারকি জোরদার করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। সরকারের এই প্রশাসনিক উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি ঘটানো, গুম-খুন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ করা এবং সাধারণ নাগরিকের জীবন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় কমিটি গঠন এবং অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কাঠামোর সহায়তায় এ সংস্কার কাজ পরিচালনাকে অহেতুক “সামরিকায়ন” বা “আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্ব” বলে আখ্যায়িত করা বাস্তবতার অপলাপ এবং নৈরাজ্য জিইয়ে রাখার পুরনো কৌশল মাত্র।

 

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, পার্বত্য অঞ্চলের কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রতিনিধিত্ব সংকুচিত করার দূরভিসন্ধি সরকারের নেই। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে পাহাড়ের অস্থিতিশীলতা রোধ ও সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পার্বত্য অঞ্চলের তিনটি আসন থেকে প্রাপ্ত জনরায়ের ওপর ভিত্তি করেই সরকার জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে হাত দিয়েছে। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, গঠিত পরামর্শক ও নির্বাহী কমিটি আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে স্থানীয় উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি, নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার নিয়ে সুপারিশ পেশ করবে।

 

সচেতন নাগকিক সমাজের প্রতিনিধিরা আরও জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলোর অবৈধ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও বহিঃশত্রুর নানাবিধ অপতৎপরতা নস্যাৎ করতেই এই সুসংহত কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। সাধারণ উপজাতি কিংবা বাঙালি জনগোষ্ঠীর নাগরিক সুবিধা হরণ করার কোনো উদ্দেশ্য এতে নেই। নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের অঙ্গিকার রক্ষায় পাহাড়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

 

স্বাধীনতার পর থেকে পার্বত্য সমস্যা নিরসনে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকার সকল নাগরিকের মৌলিক সমস্যা সমাধানে তার একটি গতিশীল ও বাস্তবায়নযোগ্য আধুনিক রূপরেখা দাঁড় করাতে চায়। নিরাপত্তার বিষয়টিকে কেবল ‘নিরাপত্তার চশমা’ দিয়ে না দেখে, পাহাড়ে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের বেঁচে থাকার ন্যূনতম গ্যারান্টি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়।

 

পরিশেষে, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পাহাড়ে পুনরায় অস্থিতিশীলতা তৈরি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তারা। একই সাথে পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী শান্তিকামী উপজাতি ও বাঙালি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পাহাড়ের মূল সমস্যা সমাধানে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।

 

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আসিফ মিজান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. গোলাম রহমান ভূঁইয়া, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) হাসিনুর রহমান, লে: কর্নেল (অব:) খন্দকার ফরিদুল আকবর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবু তৈয়ব চৌধুরীসহ সমাজসেবী, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, উন্নয়নকর্মী ও পার্বত্য অঞ্চলের শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

বান্দরবানকে পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ: পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
বান্দরবানকে পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ: পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু

বান্দরবানকে পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ: পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত বান্দরবান পার্বত্য জেলাকে আন্তর্জাতিক মানের একটি পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বান্দরবান পৌরসভার চারপাশের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে এক ঝটিকা পরিদর্শন পরিচালনা করেছেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু, এমপি। পরিদর্শনকালে তিনি শহরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও পরিচ্ছন্নতা কাজের তাগিদ দিয়ে সংশ্লিষ্টদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।

 

সড়ক ও অবকাঠামো মেরামত: ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল রোড সংলগ্ন সড়কের খানাখন্দ এবং ভগ্নদশা দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।

 

৩ নং ওয়ার্ডের কালাঘাটা এলাকার চৌরাস্তা সংলগ্ন এলাকায় যত্রতত্র জমা হওয়া ময়লা-আবর্জনা ও আগাছা দেখে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা পরিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং যানজট নিরসনে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরকারি খাসজমি ও সড়কের ওপর গড়ে ওঠা সকল অবৈধ স্থাপনা দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপসারণ করে দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

রোয়াংছড়ি বাস টার্মিনাল এলাকার সুপেয় পানির সংকট, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নিম্নমানের যাত্রীসেবা দেখে দুঃখ প্রকাশ করে মন্ত্রী যাত্রীসাধারণের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।

 

পর্যটক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রধান ডাকঘরের নিকট থানচি বাস স্ট্যান্ড এবং রুমা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন পৃথক দুটি স্থানে অত্যাধুনিক ও পরিচ্ছন্ন ‘পাবলিক টয়লেট’ নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলার জেলা প্রশাসক মোঃ সানিউল ফেরদৌস, বান্দরবান স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এস এম মনজুরুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাতসহ জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা।

 

পরিদর্শন শেষে আশাবাদ ব্যক্ত করে পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, “সরকারের সঠিক পরিকল্পনা ও স্থানীয় জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতায় অতি দ্রুত বান্দরবান একটি পরিচ্ছন্ন, সুসংগঠিত ও মডেল পর্যটন নগরী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।”