খুঁজুন
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

নাগরিক সেবা চার্টার ঝুলছে, সেবা নেই: এক সহকারী কর্মকর্তা দিয়ে চলছে ২৯ বছর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
নাগরিক সেবা চার্টার ঝুলছে, সেবা নেই: এক সহকারী কর্মকর্তা দিয়ে চলছে ২৯ বছর

নাগরিক সেবা চার্টার ঝুলছে, সেবা নেই: এক সহকারী কর্মকর্তা দিয়ে চলছে ২৯ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

 

একজন সহকারী কর্মকর্তা দিয়েই ২৯ বছর ধরে চলছে বান্দরবানের থানচি উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম। কার্যালয়ের দেয়ালে ঝুলছে দৃষ্টিনন্দন নাগরিক সেবা চার্টার। তবে চার্টারে উল্লেখিত অধিকাংশ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দুর্গম এলাকার তরুণ-তরুণীরা।

 

তীব্র জনবল সংকটে দীর্ঘদিন ধরে একজন কর্মকর্তা দিয়েই চলছে গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি দপ্তরের দাপ্তরিক ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে।উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দপ্তরটিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুমোদিত পদ রয়েছে মোট সাতটি। ১৯৯৭ সালে কার্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জনবল পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।বর্তমানে সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম ফারুক একাই দাপ্তরিক ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। গত ৩১ আগস্ট উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় পরিচয় পর্বে জানা যায়, আলীকদম উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল রহমানকে থানচি কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ভৌগোলিক দূরত্ব ও দুর্গমতার কারণে তিনি নিয়মিত থানচি কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারেন না বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।বুধবার ০২ সেপ্টেম্বর দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়,একজন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: গোলাম ফারুক ২০২০ সাল থেকে ৬ বছর যাবৎ একা চালিয়ে আসছে বলে দাবী করেন।তবে কার্যালয়ের দেয়ালে ঝুলছে নাগরিক সেবা চার্টার। সেখানে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যুবক-যুবতীদের কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে বাস্তবে এসব সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। পাশাপাশি ঋণের জন্য আবেদন করতে গেলে জনবল সংকটের কারণে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়।দুর্গম বড় মদক এলাকার বাসিন্দা ও সদ্য মাস্টার্স শেষ করা উশৈসিং মারমা বলেন, “দুর্গম এলাকা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অফিসে এসে অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। চার্টারে সুন্দর সুন্দর সেবার কথা লেখা থাকলেও বাস্তবে আমরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছি না। দ্রুত জনবল নিয়োগ দেওয়া না হলে পাহাড়ের বেকার যুবকদের মধ্যে হতাশা বাড়তে পারে।”স্থানীয় তরুণী দিপিকা ত্রিপুরা বলেন, “যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজে কিছু করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু অফিসে এসে মাত্র একজন কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়। তিনি দাপ্তরিক কাজের চাপ সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ বা ঋণের বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া কঠিন। শুধু চার্টার ঝুলিয়ে রাখলে হবে না, বাস্তবে এর সেবা নিশ্চিত করতে হবে।”সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম ফারুক বলেন, “আমি একা হলেও যতটুকু সম্ভব কার্যক্রম পরিচালনা করছি। তবে দপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম ও পরিসংখ্যান সম্পর্কে তথ্য অধিকার আইনের আবদেন গ্রহণ ও তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে না দেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য আলীকদম উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কাছ থেকে নেওয়া যেতে পারে।এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে থানচি উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আলীকদম উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল রহমান বলেন, আমি আলীকদমের যোগদান করেছি মাত্র দুই মাস হয়েছে। থানচি উপজেলা অতিরিক্ত দায়িত্ব পেযেছি মাত্র তিন দিন হলো। আমাদের কার্যালয়ের সকল তথ্য আপনাদের ( সাংবাদিকদের) না দেয়ার জন্য নিশেধাজ্ঞা নেই। আলীকদমের এনজিও একটা মেটিং ছিল সেখানে সময় দিয়েছিলাম, আমি যুব ঋণ বিকরনের জন্য আগামি ১০ হতে ১৫ সেপ্টেম্বর আসবো তখন সাংবাদিকদের সাথে পরিচয় হবে এবং তথ্য দেবো।স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী যুবকদের দাবি, শুধু দেয়ালে নাগরিক সেবা চার্টার ঝুলিয়ে রাখলেই হবে না; চার্টারে উল্লেখিত সেবাগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। থানচির মতো পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, নিষ্ক্রিয় যুব ক্লাবগুলো সচল এবং প্রশিক্ষণ ও ঋণ কার্যক্রম জোরদার করতে মাননীয় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী রাজ পুত্র সাচিংপ্রু জেরী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নির্বাচনের পর প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, ঐক্যবদ্ধ ঠাকুরগাঁও গড়ার অঙ্গীকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
নির্বাচনের পর প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, ঐক্যবদ্ধ ঠাকুরগাঁও গড়ার অঙ্গীকার

নির্বাচনের পর প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, ঐক্যবদ্ধ ঠাকুরগাঁও গড়ার অঙ্গীকার

মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও

নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন।নির্বাচনের পরদিন সকালে তিনি ছুটে যান নির্বাচনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জনাব দেলোয়ার হোসেনের বাসভবনে। সেখানে দুজনের মধ্যে হয় কুশল বিনিময়। এ সময় পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এলাকার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।একটি সুন্দর ও উন্নত ঠাকুরগাঁও গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন। পাশাপাশি জনসেবার ক্ষেত্রে সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

 

এ সময় ঠাকুরগাঁওয়ের সার্বিক উন্নয়নে দল-মত নির্বিশেষে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তাঁরা।রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও এলাকার মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার এই উদ্যোগ স্থানীয় রাজনীতিতে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তা বহন করে।

 

একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও সুন্দর ঠাকুরগাঁও গড়ার প্রত্যয়ে—প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, উন্নয়নই হোক সবার অঙ্গীকার

লামার নুনারবিবিরিতে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
লামার নুনারবিবিরিতে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

লামার নুনারবিবিরিতে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মুহাম্মাদ আলমগীর লামা বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা সদর ইউনিয়নের নুনারবিবিরিতে মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) নুনারবিবির বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নুনারবিবির যুব সংঘের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়সার হামিদের পক্ষে এসআই শাকিল আহমেদ । বিশেষ অতিথি ছিলেন ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম, ইউপি সদস্য আবু সুফিয়ান ও সমাজসেবক মো. শামসুল হক।

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবক মো. জয়নাল আবেদীন।

 

সভায় মাদকের ভয়াবহতা, এর সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষতিকর প্রভাব এবং যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষায় জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পরিবার, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

বন্দরে জাকির হত্যা মামলা: তিন বছরেও নেই অগ্রগতি, প্রধান আসামি জেলে থাকলেও বহাল তবিয়তে সহযোগীরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
বন্দরে জাকির হত্যা মামলা: তিন বছরেও নেই অগ্রগতি, প্রধান আসামি জেলে থাকলেও বহাল তবিয়তে সহযোগীরা

বন্দরে জাকির হত্যা মামলা: তিন বছরেও নেই অগ্রগতি, প্রধান আসামি জেলে থাকলেও বহাল তবিয়তে সহযোগীরা

ক্রাইম রিপোটার

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে চাঞ্চল্যকর ১৯ বছর বয়সী তরুণ মোঃ জাকির হোসেন হত্যাকাণ্ডের তিন বছর পার হতে চললেও মামলার দৃশমান কোনো অগ্রগতি নেই। মূল আসামিদের একজন কারাগারে থাকলেও অন্য আসামিরা অধরা থাকায় চরম হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে নিহতের অসচ্ছল পরিবার। এর পাশাপাশি অর্থাভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কায় বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নিহতের দরিদ্র পিতা।

 

মামলার এজাহার ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত জাকির হোসেনের বাবা মোঃ আলম বাদশা পেশায় একজন ব্যাটারিচালিত মিশুকচালক। মূল বাড়ি লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার দীঘলটারী এলাকায় হলেও পরিবার নিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন কদমরসূল কলেজ মাঠ এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

 

২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে জাকির তাঁর বাবার ব্যাটারিচালিত মিশুকটি নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। স্বজনরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি এবং মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর, ১১ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে বন্দর থানার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের মোহনপুর এলাকার একটি ছোট ডোবার পানিতে স্থানীয়রা একটি মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলম বাদশা নিজের ছেলের নিথর দেহ শনাক্ত করেন।

 

নিহতের গলার বাঁ পাশে, বাঁ চোখে এবং ডান গালে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পুলিশ গিয়ে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। ছেলেকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ বাবার।

 

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল আমলি আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর: ১১)। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— ১. সুমন কুমার সূত্রধর (৩৬): পিতা- হরিপদ চন্দ্র সূত্রধর, সাং- একরামপুর বাজার (সালাম মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া), বন্দর, নারায়ণগঞ্জ। (বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন) ২. মোঃ শাহিন (২১): পিতা- মোঃ আজিজুল, সাং- একরামপুর ইস্পাহানি, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ। ৩. মোঃ সিয়াম রহমান (২৬): পিতা- মৃত হাবিবুর রহমান, সাং- ৩৬৫ নং শাহসুজা রোড (পাইকপাড়া), নারায়ণগঞ্জ। এছাড়াও মামলায় আরও ৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

 

পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, মামলার ২ নম্বর আসামি সুমন কুমার সূত্রধর বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে রয়েছেন। তবে মামলার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অন্য এজাহারভুক্ত আসামি- মোঃ শাহিন ও মোঃ সিয়াম রহমানসহ অজ্ঞাত সহযোগীরা এখনো অধরা। আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় এবং তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় মামলার বিচার প্রক্রিয়া থমকে গেছে।

 

একজন সাধারণ মিশুকচালক হিসেবে নিহতের বাবা আলম বাদশার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে মামলার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, “পোলাটারে নির্মমভাবে কুপাইয়া মাইরা ফেললো। এক আসামি জেলে থাকলেও বাকিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ, টাকা-পয়সার অভাবে ঠিকমতো আইনি লড়াই চালাতে পারছি না। তার ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিচার বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”

 

নিহত জাকির হোসেনের পরিবার বিন্দুমাত্র রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত না হয়ে নিরপেক্ষ বিচারিক প্রক্রিয়ার আকুতি জানিয়েছেন। অর্থাভাবে জর্জরিত পরিবারটির একটাই দাবি- মামলার বর্তমান অবস্থা ও অগ্রগতি সম্পর্কে বাদিপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করা হোক। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।অসহায় পরিবারটিকে সরকারি আইনগত সহায়তা (লিগ্যাল এইডের) আওতাভুক্ত করে বিনামূল্যে আইনি সুবিধা প্রদান করা হোক।

 

নিঃস্ব এই বাবা-মায়ের একটাই চাওয়া-টাকার অভাব কিংবা প্রভাবশালীদের প্রভাবে যেন ১৯ বছরের তরুণ জাকির হত্যার বিচার ভেস্তে না যায়, তারা আদালতের মাধ্যমে ঘাতকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।