বান্দরবান বাস স্টেশন এলাকায় সড়ক ও জনপথের জমি দখলের অভিযোগ মোঃ মহসিনের বিরুদ্ধে, পানি নিষ্কাশনে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা
বান্দরবান বাস স্টেশন এলাকায় সড়ক ও জনপথের জমি দখলের অভিযোগ মোঃ মহসিনের বিরুদ্ধে, পানি নিষ্কাশনে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:
বান্দরবান বাস স্টেশন এলাকায় সড়ক ও জনপথ সওজ অধিদপ্তরের অধিগ্রহণকৃত ভূমি দখল করে অবৈধভাবে দোতলা টিনশেড ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মোঃ সাত্তারের ছেলে মোঃ মহসিন উদ্দিনের বিরুদ্ধে। মহাসড়কের রাইট অব ওয়ে ROW এবং পার্শ্ববর্তী সংলগ্ন সড়ক বিভাগের জমিতে এই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ফলে জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তির পাশাপাশি মেস্কি খালের পানি নিষ্কাশন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযুক্ত মোঃ মহসিন উদ্দিনের কাছে অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এই জায়গাটি বান্দরবান জেলা পরিষদের বাজার ফান্ড থেকে লিস নিয়েছি। কিন্তু জায়গার কাগজ আছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জায়গার কাগজ জেলা যুবদলের নেতা মোঃ মাসুম এর কাছে আছে বলে নিশ্চিত করেছেন। মোঃ মহসিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরেজমিনে বান্দরবান জেলা পরিষদের বাজার ফান্ডের দায়িত্বরত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে সেখানে মোঃ মহসিনের নামে কোনো ধরণের বরাদ্দ বা লিস এর দেখা মেলেনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা জানান, এভাবে যদি প্রতিনিয়ত পানি নিস্কাশনের জায়গাজমি দখল বানিজ্য চলতেই থাকে তবে পর্যটন নগরী ও পাহাড়ি কন্যা বান্দরবান বারবার বন্যায় প্লাবিত হয়ে জেলার সৌন্দর্য হুমকির মুখে পড়বে। এখনই সময় এসেছে সংশ্লিষ্ট প্রসাশনের নিয়মিত তদারকি ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে জেলার সৌন্দর্য হুমকির মুখে ঠেলে না দিয়ে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল জীবনে ফিরিয়ে আনা। ইতিমধ্যে মেক্সি খাল উদ্ধারের জন্য স্থানীয় সচেতন মহলের মাধ্যমে বান্দরবান জেলা পরিষদ ও পৌর প্রশাসক বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের ২১+৬২০ মিটার চেইনেজে সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে এই পাকা ও টিনশেড দোতলা ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন মহাসড়কের জায়গায় এভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে স্থাপনা তৈরি করায় মহাসড়ক আইন, ২০২১-এর বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আইন অনুযায়ী, মহাসড়কের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে বা সরকারি অধিগ্রহণকৃত জমিতে পূর্বানুমতি ছাড়া যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া ঘটনাস্থল সংলগ্ন মেস্কি খালের ওপর এই অবৈধ দখলের নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় জলাবদ্ধতা ও মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অবৈধ এই স্থাপনা ৭ দিনের মধ্যে নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মো নাজিম উদ্দীন উপ সহকারী প্রকৌশলী বান্দরবান শাখা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা না হলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


আপনার মতামত লিখুন
Array