বান্দরবান জনস্বাস্থ্য নির্বাহী প্রকৌশলীর সহযোগিতায় টয়লেট ও সেফটি টাংকির নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য নির্বাহী প্রকৌশলীর সহযোগিতায় টয়লেট ও সেফটি টাংকির নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ।
নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:
বান্দরবান পৌর এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এডিবির অর্থায়নে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ১৪শ’ টয়লেট নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। দৃশ্যমান এসব অনিয়মের ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এডিবির অর্থায়নে বান্দরবান পৌর এলাকায় মোট ১ হাজার ৪০০টি টয়লেট নির্মাণের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই কাজটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করছেন ‘লাকী এন্টারপ্রাইজ’ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার মো. নাছির। এবং কাজের তদারকি করছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. সাদ্দাম হোসেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিয়মবহির্ভূতভাবে নামমাত্র মূল্যের নিম্নমানের ইট, বালুর পরিবর্তে মাটি, পুরনো রড আর সিমেন্ট ও রাবিশে ভরা কংক্রিট সাথে ছলিম বিহীন ঢালাই কাজ চালানো হচ্ছে। এছাড়া নির্মাণকাজে সরকারের নির্ধারিত শিডিউল বা প্রাক্কলন (এস্টিমেট) মানা হচ্ছে না। ঢালাইয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে সিমেন্ট ও ভালো মানের খোয়া না দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার পাঁয়তারা চলছে। প্রকল্পের ব্যাবহারিত সামগ্রী ইট, বালু, সিমেন্ট ও কংক্রিট, এবং সেফটি ট্যাংকি আনা নেয়ার কাজে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিজ অর্থায়নে শ্রমিক ব্যাবহার না করে উপকারভোগী বাড়ির সদস্যদের দ্বারা জোরপূর্বক ভাবে বহনের কাজ চালিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ড্রাইভার মুসলিম উদ্দিন।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, তড়িঘড়ি করে কাজ করার সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়লেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রভাবশালী মহলের প্রভাব দেখিয়ে স্থানীয়দের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন।
একটি জনকল্যাণমূলক ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে এমন নয়ছয় ও অনিয়ম চলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
তাদের দাবি, সঠিকভাবে তদারকি না করায় ঠিকাদাররা ইচ্ছেমতো নিম্নমানের কাজ করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোঃ সাদ্দাম হোসেন জানান: নির্মাণাধীন প্রকল্পের কাজে কোনো ধরণের অনিয়ম হচ্ছে না। আমার উপস্থিতিতে তদারকির মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে যোগাযোগ করুন।
এ বিষয়ে নামে প্রকাশে অনিচ্ছুক জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান: ঠিকাদারের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকল্পের কাজে নানা অনিয়ম ও নয়ছয় চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে প্রকল্পের ঠিকাদার মোঃ নাছির উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করার পরও ফোনে পাওয়া যায়নি।
তবে এ বিষয়ে প্রকল্পের ঠিকাদার মোঃ নাছির উদ্দিনের ম্যানেজার কাজল সেন জানান: প্রকল্পের কাজে কোনো প্রকার অনিয়মের সুযোগ নেই। আমাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে আমি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে জানান: আমি যতটুকু জানি এবং সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি প্রকল্পের কাজে কোনো ধরণের অনিয়ম হচ্ছে না বরং আমার হস্তক্ষেপে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কাজ চলছে। তবে কাজের অনিয়মের বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে এ বিষয়ে আরো স্থানীয় এক মহিলা জানান: কাজের অনিয়মের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর বরাবর বারবার অবগত করার পরও দীর্ঘ এক মাস পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত ব্যবস্থা না নেয়ায় অভিযোগ তুলেছেন নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।
এদিকে, সরকারি এই মেগা প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন বান্দরবান পৌরবাসী।


আপনার মতামত লিখুন
Array