মামলা তুলে না নেওয়ায় বন্দরেই হত্যা: ইসলামী আন্দোলন নেতা বুলবুল নিহত, ‘কাটা সিফাত’সহ গ্রেপ্তার ৯।
মামলা তুলে না নেওয়ায় বন্দরেই হত্যা: ইসলামী আন্দোলন নেতা বুলবুল নিহত, ‘কাটা সিফাত’সহ গ্রেপ্তার ৯।
ক্রাইম রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মামলা তুলে না নেওয়াকে কেন্দ্র করে মো. বুলবুল নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শেখ সিফাত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। নিহত বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের বন্দর থানা শাখার আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি হত্যা মামলার বাদী ছিলেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় বন্দর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্থানীয়ভাবে ‘কাটা সিফাত’ নামে পরিচিত শেখ সিফাতসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবীগঞ্জ এলাকায় কয়েকজন সন্দেহভাজনের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করে বন্দর থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শেখ সিফাত ও তার সহযোগীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বন্দর থানার দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শেখ সিফাতসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গ্রেপ্তার শেখ সিফাত বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সহিংসতা, ছিনতাই ও হামলাসহ একাধিক অপরাধের অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগে সিফাত ও তার সহযোগীরা বন্দর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকারের ছেলেকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, ব্যাগভর্তি টাকা ছিনতাই এবং ঢালী বিরিয়ানি দোকানে হামলা চালিয়ে ক্যাশবাক্স লুটের মতো ঘটনায় জড়িত ছিল। এসব ঘটনায় সিফাত বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, বুলবুল হত্যার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগের পরও বুলবুল মামলা প্রত্যাহার না করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বন্দর থানার ওসি মো. জামাল উদ্দিন সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় দ্রুত এই অভিযান পরিচালনা করে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং বুলবুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন
Array