খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

রাজপথে নতুন জোট, ডিসেম্বর ঘিরে ক্ষমতার পালাবদলের আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
রাজপথে নতুন জোট, ডিসেম্বর ঘিরে ক্ষমতার পালাবদলের আলোচনা

রাজপথে নতুন জোট, ডিসেম্বর ঘিরে ক্ষমতার পালাবদলের আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস জনগণ। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যাঁদের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে তাঁরাই রাষ্ট্রের বৈধ সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে আবার নির্বাচন হয় এবং ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়।

 

তবে সরকারের নীতি, কর্মকাণ্ড কিংবা প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিবাদে রাজপথে আন্দোলন করাও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ। বিরোধী দল ও নাগরিকদের সরকারের সমালোচনা এবং দাবি আদায়ে আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। প্রশ্ন তৈরি হয় তখনই, যখন নির্বাচনের বাইরে রাজপথের কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়।

 

সম্প্রতি ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখী পদযাত্রা এই বিতর্ককে সামনে এনেছে। দীর্ঘ সড়কজুড়ে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি এবং সমাবেশে দেওয়া বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। জোটের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ছয় দফা দাবির মধ্যে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার মতো বিষয় রয়েছে।

 

এসব দাবির অনেকগুলোই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে সরকারকে এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে দাবিগুলো বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং সেই দাবিকে কেন্দ্র করে সরকার পরিবর্তনের সময়সীমা নির্ধারণ নিয়েই মূল বিতর্ক।

 

বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগম কোনো দলের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও মাঠের শক্তির পরিচয় দিতে পারে। তবে একটি নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা দিয়ে পুরো দেশের জনমত নির্ধারণ করা যায় না। কারণ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত দেন।

 

রাজপথের আন্দোলন এবং নির্বাচনের ভোট—দুটিই গণতান্ত্রিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, কিন্তু তাদের ভূমিকা এক নয়। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে কোনো দাবি মানতে চাপ দেওয়া যেতে পারে; অন্যদিকে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নির্ধারণ করেন কে সরকার পরিচালনা করবেন।

 

এই দুইয়ের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে গেলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

 

এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদের ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার পতনের বক্তব্যের পর ‘ডিসেম্বর’ এখন রাজনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হয়ে উঠেছে। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বানও ছিল।

 

অন্যদিকে এনসিপির নেতা নাহিদ ইসলাম ছয় দফা দাবিকে এক দফায় রূপ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে কর্মসূচিতে আলোচনা হয়েছে। আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও এসেছে জোটের নেতাদের কাছ থেকে।

 

এ অবস্থায় ডিসেম্বরের সময়সীমা বাস্তবে কী অর্থ বহন করছে, সেটিই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এটি কি সরকারকে চাপ দেওয়ার রাজনৈতিক কৌশল, নাকি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে ক্ষমতা পরিবর্তনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত—তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

 

রাজনৈতিক বক্তব্যে ‘ফ্যাসিবাদ’ শব্দটির ব্যবহার সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব, নাগরিক সেবা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি কিংবা সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের অসন্তোষ থাকতেই পারে। এসব বিষয়ে সরকারের সমালোচনা করাও স্বাভাবিক।

 

তবে সরকারের কোনো নীতি বা প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে সরাসরি ‘ফ্যাসিবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ ফ্যাসিবাদ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ধারণা। রাজনৈতিক বিতর্কে শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার হলে এর অর্থ ও গুরুত্ব দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

একই সঙ্গে যারা কর্তৃত্ববাদ বা প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তুলছেন, ক্ষমতায় গেলে তাঁরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা স্বাধীন রাখবেন—সেটিও জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

 

১১ দলীয় জোটের কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন সমীকরণ নিয়েও আলোচনা তৈরি করেছে।

 

জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটির ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া দলটির রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করতে হলে দলটিকে রাজনৈতিক আচরণ, প্রতিষ্ঠান ও জবাবদিহির প্রশ্নে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

 

অন্যদিকে জুলাইয়ের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠে আসা এনসিপি শুরু থেকেই প্রচলিত দলীয় রাজনীতির বাইরে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা বলেছে। পরিবারতন্ত্র, দখলদারিত্ব ও প্রচলিত ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিও তাদের বক্তব্যে এসেছে।

 

এখন জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একই কর্মসূচিতে এনসিপির অংশগ্রহণের ফলে তাদের ‘নতুন রাজনীতি’র অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক জোট ও কৌশল পরিবর্তন স্বাভাবিক হলেও সেই পরিবর্তন তাদের ঘোষিত রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটি সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।

 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তির ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। অতীতে বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘিরে নানা বিতর্ক সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।

 

তবে একটি দেশের সরকার পরিবর্তন বা রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মূল সিদ্ধান্ত দেশের জনগণের হাতেই থাকা উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিযোগিতা, আন্দোলন, নির্বাচন ও ক্ষমতার পরিবর্তন—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হওয়া প্রয়োজন দেশের নাগরিকদের মতামত ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।

 

ডিসেম্বরকে ঘিরে অলি আহমদের দেওয়া সময়সীমা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন আনে কি না, তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে। কিন্তু এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সরকার পরিবর্তনের পথটি কী হবে।

 

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী দলের জয়-পরাজয় একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। বিরোধী দল আন্দোলন করবে, সরকারের সমালোচনা করবে এবং জনগণের সমর্থন চাইবে—এটাই স্বাভাবিক। একইভাবে জনগণ নির্বাচনের সময় ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের দল বা প্রার্থীকে বেছে নেবেন।

 

তাই রাজপথে বড় সমাবেশ যেমন রাজনৈতিক শক্তির প্রকাশ, তেমনি ভোটের বাক্সও জনমতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশ। রাজপথের আন্দোলন যদি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রতিস্থাপন করে, তাহলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে।

 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাই ‘ডিসেম্বর’ কেবল একটি সম্ভাব্য সময়সীমার নাম নয়; এটি আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কে? জনগণ ও তাদের ভোট, নাকি রাজপথের রাজনৈতিক শক্তি? গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য এই প্রশ্নের উত্তরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তামাক চাষ নিরুৎসাহিতকরণ ও বিকল্প ফসল চাষে উদ্বুদ্ধকরণে রোয়াংছড়িতে উঠান বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
তামাক চাষ নিরুৎসাহিতকরণ ও বিকল্প ফসল চাষে উদ্বুদ্ধকরণে রোয়াংছড়িতে উঠান বৈঠক

তামাক চাষ নিরুৎসাহিতকরণ ও বিকল্প ফসল চাষে উদ্বুদ্ধকরণে রোয়াংছড়িতে উঠান বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান:

 

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের নাছালং পাড়ায় তামাক চাষ নিরুৎসাহিতকরণ এবং তামাকের বিকল্প ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে এক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ সুমন কুমার বসাক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নোয়াপতং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব চনুমং মারমা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রোয়াংছড়ি উপজেলার উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মোঃ এহসানুল হক।

 

এ সময় এলাকার তামাক চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। বক্তারা তামাক চাষের ফলে মাটি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব এবং তামাক চাষে কৃষকের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তামাকের পরিবর্তে ধান, শাকসবজি, ফলমূলসহ বিভিন্ন লাভজনক ও পুষ্টিকর ফসল চাষের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। পাহাড়ি এলাকার মাটি ও জলবায়ু উপযোগী বিকল্প ফসল চাষের মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে এগিয়ে আসার জন্য কৃষকদের আহ্বান জানানো হয়।

 

উঠান বৈঠকে স্থানীয় তামাক চাষিরা তাঁদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা তামাক চাষ থেকে বেরিয়ে এসে বিকল্প ও লাভজনক ফসল চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তার বিষয়ে কৃষকদের আশ্বস্ত করেন।

 

অনুষ্ঠানে চারজন গণমাধ্যমকর্মী, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

উঠান বৈঠক শেষে নাছালং পাড়ায় ঝুম ধানের নমুনা শস্য কর্তন করা হয়। এ সময় পাহাড়ি কৃষির সম্ভাবনা, ঝুম চাষের আধুনিকায়ন এবং কৃষকের উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়।

 

তামাক চাষের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং কৃষকদের বিকল্প ফসল চাষে উৎসাহিত করার মাধ্যমে রোয়াংছড়ির পাহাড়ি কৃষিতে নিরাপদ, টেকসই ও লাভজনক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

রুহিয়ায় প্যারাগন ফার্মের বর্জ্যরে কারণে কৃষকদের ফসল নষ্টের অভিযোগ স্থায়ী সমাধানের দাবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
রুহিয়ায় প্যারাগন ফার্মের বর্জ্যরে কারণে কৃষকদের ফসল নষ্টের অভিযোগ স্থায়ী সমাধানের দাবি

রুহিয়ায় প্যারাগন ফার্মের বর্জ্যরে কারণে কৃষকদের ফসল নষ্টের অভিযোগ স্থায়ী সমাধানের দাবি

‎মোঃ শফিকুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় প্যারাগন শালবাহান লিমিটেডের বর্জ্য পদার্থ কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ার কারণে একাধিক কৃষকের ফসল নষ্ট হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রুহিয়া উপজেলার ৩ নম্বর রাজাগাঁও ইউনিয়নের খড়িবাড়ী শালবাহান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, পূর্বে এই মিলের আশেপাশের জমিতে ফসলের তেমন কোনো ক্ষতি না হলেও, সম্প্রতি ফার্মটিতে নতুন একটি জৈব সার কারখানা চালুর পর থেকেই এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এর আগে গত বছর বা তারও আগের ক্ষতিপূরণ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মতে, সাময়িক ক্ষতিপূরণ দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, এর একটি স্থায়ী ও কার্যকর প্রতিকার প্রয়োজন। ভুক্তভোগী কৃষক মোস্তাফিজুর, গুলজার, নাসিরুল, রুহুল আমিন ও হেলাল জানান, বর্জ্য পদার্থের প্রভাবে বর্তমানে তাদের প্রায় ৩ একর জমির করলা খেত নষ্ট হওয়ার পথে। এ বিষয়ে প্যারাগন শালবাহান ফার্মের ব্যবস্থাপক আব্দুল আলিম বলেন, কৃষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে একজন কৃষি কর্মকর্তা ফসলের মাঠ পরিদর্শন করেছেন। তিনি পরিদর্শনের বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিলে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি, এই সমস্যা সমাধানে কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যায় কি না, সেটিও তাদের বিবেচনায় রয়েছে।

বমুবিলছড়ি হেব্রন খ্রিস্টান স্কুলের আন্তঃশ্রেণি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২০ অপরাহ্ণ
বমুবিলছড়ি হেব্রন খ্রিস্টান স্কুলের আন্তঃশ্রেণি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

বমুবিলছড়ি হেব্রন খ্রিস্টান স্কুলের আন্তঃশ্রেণি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

মুহাম্মাদ আলমগীর লামা বান্দরবান প্রতিনিধি

 

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের হেব্রন খ্রিস্টান স্কুলের আন্তঃশ্রেণি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হেব্রন খ্রিস্টান স্কুল মাঠে এ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে বালক ও বালিকা দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসি, মালুমঘাট, চকরিয়ার সভাপতি মনতাজন ত্রিপুরা; বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন; উপদেষ্টা মো. নুরুল আবছার; শহীদ আবদুল হামিদ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল মোস্তফা; লামা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব চৌধুরী মো. সুজন; বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজানুল হক; ৪ নম্বর বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শফিকুর রহমান এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুপ্রভাত ত্রিপুরা।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হেব্রন খ্রিস্টান স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা স্মীতা ত্রিপুরা।

 

ফাইনাল খেলাকে ঘিরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।