খুঁজুন
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

রাজপথে নতুন জোট, ডিসেম্বর ঘিরে ক্ষমতার পালাবদলের আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
রাজপথে নতুন জোট, ডিসেম্বর ঘিরে ক্ষমতার পালাবদলের আলোচনা

রাজপথে নতুন জোট, ডিসেম্বর ঘিরে ক্ষমতার পালাবদলের আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস জনগণ। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যাঁদের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে তাঁরাই রাষ্ট্রের বৈধ সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে আবার নির্বাচন হয় এবং ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়।

 

তবে সরকারের নীতি, কর্মকাণ্ড কিংবা প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিবাদে রাজপথে আন্দোলন করাও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ। বিরোধী দল ও নাগরিকদের সরকারের সমালোচনা এবং দাবি আদায়ে আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে। প্রশ্ন তৈরি হয় তখনই, যখন নির্বাচনের বাইরে রাজপথের কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়।

 

সম্প্রতি ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখী পদযাত্রা এই বিতর্ককে সামনে এনেছে। দীর্ঘ সড়কজুড়ে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি এবং সমাবেশে দেওয়া বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। জোটের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ছয় দফা দাবির মধ্যে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার মতো বিষয় রয়েছে।

 

এসব দাবির অনেকগুলোই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে সরকারকে এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে দাবিগুলো বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং সেই দাবিকে কেন্দ্র করে সরকার পরিবর্তনের সময়সীমা নির্ধারণ নিয়েই মূল বিতর্ক।

 

বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগম কোনো দলের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও মাঠের শক্তির পরিচয় দিতে পারে। তবে একটি নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা দিয়ে পুরো দেশের জনমত নির্ধারণ করা যায় না। কারণ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত দেন।

 

রাজপথের আন্দোলন এবং নির্বাচনের ভোট—দুটিই গণতান্ত্রিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, কিন্তু তাদের ভূমিকা এক নয়। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে কোনো দাবি মানতে চাপ দেওয়া যেতে পারে; অন্যদিকে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নির্ধারণ করেন কে সরকার পরিচালনা করবেন।

 

এই দুইয়ের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে গেলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

 

এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদের ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার পতনের বক্তব্যের পর ‘ডিসেম্বর’ এখন রাজনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হয়ে উঠেছে। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বানও ছিল।

 

অন্যদিকে এনসিপির নেতা নাহিদ ইসলাম ছয় দফা দাবিকে এক দফায় রূপ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে কর্মসূচিতে আলোচনা হয়েছে। আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও এসেছে জোটের নেতাদের কাছ থেকে।

 

এ অবস্থায় ডিসেম্বরের সময়সীমা বাস্তবে কী অর্থ বহন করছে, সেটিই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এটি কি সরকারকে চাপ দেওয়ার রাজনৈতিক কৌশল, নাকি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে ক্ষমতা পরিবর্তনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত—তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

 

রাজনৈতিক বক্তব্যে ‘ফ্যাসিবাদ’ শব্দটির ব্যবহার সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব, নাগরিক সেবা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি কিংবা সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের অসন্তোষ থাকতেই পারে। এসব বিষয়ে সরকারের সমালোচনা করাও স্বাভাবিক।

 

তবে সরকারের কোনো নীতি বা প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে সরাসরি ‘ফ্যাসিবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ ফ্যাসিবাদ একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ধারণা। রাজনৈতিক বিতর্কে শব্দটির অতিরিক্ত ব্যবহার হলে এর অর্থ ও গুরুত্ব দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

একই সঙ্গে যারা কর্তৃত্ববাদ বা প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তুলছেন, ক্ষমতায় গেলে তাঁরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা স্বাধীন রাখবেন—সেটিও জনগণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

 

১১ দলীয় জোটের কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন সমীকরণ নিয়েও আলোচনা তৈরি করেছে।

 

জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটির ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া দলটির রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করতে হলে দলটিকে রাজনৈতিক আচরণ, প্রতিষ্ঠান ও জবাবদিহির প্রশ্নে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

 

অন্যদিকে জুলাইয়ের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠে আসা এনসিপি শুরু থেকেই প্রচলিত দলীয় রাজনীতির বাইরে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথা বলেছে। পরিবারতন্ত্র, দখলদারিত্ব ও প্রচলিত ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিও তাদের বক্তব্যে এসেছে।

 

এখন জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একই কর্মসূচিতে এনসিপির অংশগ্রহণের ফলে তাদের ‘নতুন রাজনীতি’র অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক জোট ও কৌশল পরিবর্তন স্বাভাবিক হলেও সেই পরিবর্তন তাদের ঘোষিত রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটি সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।

 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তির ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। অতীতে বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘিরে নানা বিতর্ক সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।

 

তবে একটি দেশের সরকার পরিবর্তন বা রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মূল সিদ্ধান্ত দেশের জনগণের হাতেই থাকা উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিযোগিতা, আন্দোলন, নির্বাচন ও ক্ষমতার পরিবর্তন—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হওয়া প্রয়োজন দেশের নাগরিকদের মতামত ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।

 

ডিসেম্বরকে ঘিরে অলি আহমদের দেওয়া সময়সীমা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন আনে কি না, তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে। কিন্তু এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সরকার পরিবর্তনের পথটি কী হবে।

 

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী দলের জয়-পরাজয় একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। বিরোধী দল আন্দোলন করবে, সরকারের সমালোচনা করবে এবং জনগণের সমর্থন চাইবে—এটাই স্বাভাবিক। একইভাবে জনগণ নির্বাচনের সময় ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের দল বা প্রার্থীকে বেছে নেবেন।

 

তাই রাজপথে বড় সমাবেশ যেমন রাজনৈতিক শক্তির প্রকাশ, তেমনি ভোটের বাক্সও জনমতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক প্রকাশ। রাজপথের আন্দোলন যদি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রতিস্থাপন করে, তাহলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে।

 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাই ‘ডিসেম্বর’ কেবল একটি সম্ভাব্য সময়সীমার নাম নয়; এটি আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কে? জনগণ ও তাদের ভোট, নাকি রাজপথের রাজনৈতিক শক্তি? গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য এই প্রশ্নের উত্তরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কোঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত এডহক কমিটির সাথে সুধীজনদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
কোঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত এডহক কমিটির সাথে সুধীজনদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কোঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত এডহক কমিটির সাথে সুধীজনদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সাতকানিয়া চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

 

সাতকানিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কোঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত এডহক কমিটির সাথে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার সুধীজনদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের সার্বিক মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই সভার আয়োজন করা হয়।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এহেসান মৌলা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোঁওচিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাস্টার ফরিদুল আলম, সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও অভিভাবক প্রতিনিধি নাসির উদ্দীন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ শাহাদাত। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও অভিভাবকবৃন্দ।

 

সভায় বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, একটি আদর্শ ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক এবং পরিচালনা কমিটির সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। নবগঠিত এডহক কমিটি বিদ্যালয়ের কল্যাণে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ নবগঠিত কমিটির সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় উন্মুক্ত আলোচনায় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরে এডহক কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

সখিপুরে শাহনাজ নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু, বাবার দাবী হত্যা, স্বামী বলছে আত্মহত্যা, থানায় অপমৃত্যু মামলা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
সখিপুরে শাহনাজ নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু, বাবার দাবী হত্যা, স্বামী বলছে আত্মহত্যা, থানায় অপমৃত্যু মামলা

সখিপুরে শাহনাজ নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু, বাবার দাবী হত্যা, স্বামী বলছে আত্মহত্যা, থানায় অপমৃত্যু মামলা

মোঃ আঃ লতিফ মিয়া টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:

 

টাঙ্গাইলের সখিপুর ফাঁসিতে ঝুলে শাহনাজ (২৮) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে বলে জানা যায়।

 

গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুৃমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

 

গৃহবধূ শাহনাজ উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নের বানিয়ারসিট পূর্বপাড়া নুরজামাল এর স্ত্রী । নুরজামাল ওই গ্রামের মৃত সায়েম উদ্দিন এর ছেলে।

 

শাহনাজ উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের চকচকিয়া শ্রীপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের মেয়ে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনার দিন শাহনাজের স্বামীর পরিবার সখিপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং ময়না তদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলেও জানা যায়।

 

আরো জানা যায়, স্ত্রী শাহানাজের আকস্মিক এরকম মৃত্যুর পর স্বামী নুরজামালের আচরণে-অনুভূতিতে বিশেষ কোনো অনুশোচনার চিহ্ন পাওয়া যায় নাই। ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করার পর লাশটি পুলিশ আসার পূর্বেই স্বামীর পরিবারের সদস্যরা ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে ছিল বলে জানা যায়।

 

এদিকে এ বিষয়ে মৃত শাহনাজের বাবা আব্দুল আজিজ  জানান, গত প্রায় ১২ বছর পূর্বে  নূরজামালের সাথে আমার মেয়ের বিবাহ হয়। মাঝে মধ্যেই তাদের সাথে ঝগড়া বিবাদ হতো বলে আমার মেয়ে জানাত। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হলে সে সব বিষয় নিয়ে অনেক সালিশি বৈঠক হয়।

 

তিনি আরো জানান, আমার মেয়ে খুবই শান্ত স্বভাবের ছিল। ছোটখাটো অনেক ঘটনাই ঘটছে, কিন্তু আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে জানাইতো না। আমার মেয়ে সারাদিন কাজ করতো , স্বামীর গরু ও মুরগির খামার আমার মেয়েই সামলাতো। কাজ করতে করতে আমার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছিলো। আমার মেয়ে সংসারী ছিল। তার দুটি শিশু বাচ্চা রেখে সে কখনো আত্মহত্যা করতে পারে না।

 

শাহনাজের বাবা আরো বলেন, সাংসারিক বিষয়ের ভালো-মন্দ কোন বিষয়েই মেয়ের জামাই কোনো সংবাদ আমাদের জানাতোনা। এমনকি মেয়েকে আমাদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগও করতে দিত না।

 

মেয়ের জামাই ও তার পরিবারের লোকজন আমার মেয়ে সুস্থ -সবল শাহনাজের মাথায় সমস্যা এমন মিথ্যা অপবাদও দিচ্ছে। আমার মেয়েকে তারা হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে।

 

নিহত শাহনাজের স্বামী নুর জামাল ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে বলেন, শাহনাজের মাথায় সমস্যা ছিল। গত বৃহস্পতিবার শাহানাজ ঘরের ভেতর দড়ি দিয়ে ঝুলে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে।

 

এ বিষয়ে সখিপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর হোসেন জানান,  থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

রুমায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত: বিচার চেয়ে চার যুবকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
রুমায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত: বিচার চেয়ে চার যুবকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

রুমায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত: বিচার চেয়ে চার যুবকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

বান্দরবান প্রতিনিধি: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা

 

বান্দরবানের রুমা উপজেলার ১নং পাইন্দু ইউনিয়নের -১ নং ওয়ার্ডের তংমক পাড়া এলাকায় এক মারমা কিশোরীকে একই সম্প্রদায়ের চার যুবক মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে জোরপূর্বক ওষুধ সেবন করিয়ে গর্ভপাত করানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

 

অভিযুক্তরা হলেন- ক্যহ্লাচিং মারমা-র ছেলে ক্যসিংনু মারমা, ঞোচিংঅং মারমা-র ছেলে উহাইমং মারমা, মংচ মারমা-র ছেলে সিংহ্লা মারমা ও মৃত মংচহ্লা মারমা-র ছেলে উশৈনু মারমা।

 

ভুক্তভোগী কিশোরীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে ক্যহ্লাচিং মারমার ছেলে ক্যসিং নু মারমা তাকে ধর্ষণ করেন। পরদিন উহাইমং মারমা ও সিংহ্লা মারমা এবং পরবর্তীতে উশৈনু মারমা নামে এক যুবকও তাকে ধর্ষণ করেছেন বলে ভুক্তভোগী কিশোরী অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, উশৈনু মারমা একজন সন্তানের বাবা।

 

ভুক্তভোগী কিশোরীর বক্তব্য অনুজায়ি ঘটনার প্রায় চার মাস পর উহাইমং মারমা তাকে এক পাতা গর্ভপাতের ট্যাবলেট দেন। ওই ট্যাবলেট খাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে বিষয়টি তার মা-বাবার কাছে প্রকাশ পেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বান্দরবানে পাঠানো হয়।

 

পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন থাকার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর তারা ঘটনাটি জানতে পারেন। পরে কিশোরীকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসার মাধ্যমে তার গর্ভধারণ ও পরবর্তী জটিলতার বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায় বলে তারা দাবি করেছেন। পাড়াবাসীর কাছ থেকেও বিষয়টি সম্পর্কে তারা জানতে পেরেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি ওয়ার্ড সদস্য মংছো মারমার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ স্থাপনে সমস্যার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

অন্যদিকে, পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লামং মারমার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি অবগত তবে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার বা স্বজনদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত তাকে কিছুই জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

এদিকে, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে কিশোরীর বাবা গত -১২ সেপ্টেম্বর রুমা থানায় গিয়ে মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

এ বিষয়ে রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়াকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রায় দুই দিন আগে রুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি তাকে ফোনে অবহিত করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। মামলা বা লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।