সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্বের পথযাত্রী জিয়ারুলের বাঁচার আকুতি ১৯ লাখ টাকার প্রয়োজন।
সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্বের পথযাত্রী জিয়ারুলের বাঁচার আকুতি ১৯ লাখ টাকার প্রয়োজন।
মোঃ শফিকুল ইসলাাম স্টাফ রিপোর্টার ঠাকুরগাঁও:
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া ইউনিয়নের ঘনিবিষ্ণপুর গ্রামের দিনমজুর জিয়ারুল (৪৩) এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে শয্যাশায়ী। মেরুদণ্ড ভেঙে বর্তমানে তিনি পঙ্গুত্বের পথে এবং তার জীবন-মৃত্যুর লড়াই চলছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারটি এখন সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর মোহাম্মদ আলীর পুত্র জিয়ারুল পেশায় একটি পাওয়ার ট্রিলারের হেলপার। ৫ সদস্যের অভাবের সংসারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রতিদিনের মতো খড়ি বোঝাই একটি পাওয়ার ট্রিলারে করে গন্তব্যে যাওয়ার পথে ঠাকুরগাঁওয়ের এনামুল পাম্পের বিপরীতে একটি দ্রুতগামী মরণঘাতী ট্রাক ট্রিলারটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রিলারটি উল্টে জিয়ারুল খড়ির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, দুর্ঘটনায় তার কোমর ও মেরুদণ্ড ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় রংপুরের সেন্ট্রাল ক্লিনিকে নিউরো সার্জন ডা. রাজকুমারের তত্ত্বাবধানে তার একটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসক জানিয়েছেন, রোগীকে ৪ মাস নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর যদি হাড় জোড়া না লাগে, তবে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার বড় হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। সহায়-সম্বল হারিয়ে পরিবারটি এখন নিঃস্ব জিয়ারুলের স্ত্রী বিলকিস বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
চিকিৎসায় ইতিমধ্যে আমাদের ৫ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। এর মধ্যে ৩ লাখ টাকা মানুষের কাছ থেকে চেয়ে এবং বাকি ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করেছি। তবুও আমার স্বামী বিছানায় পড়ে ছটফট করছে, উঠে বসার শক্তিটুকুও নেই।জিয়ারুলের ছোট ভাই রেজাউল করিম জানান, বড় ভাইকে ঢাকা নিয়ে চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা আরও প্রায় ১৯ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে তাদের আর কোনো অর্থ বা চিকিৎসার খরচ চালানোর মতো সামর্থ্য নেই। এ বিষয়ে ১নং রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল হক বাবু বলেন, জিয়ারুল আমার নিকটতম প্রতিবেশী। তার এই করুণ অবস্থা সম্পর্কে আমি অবগত আছি। তাকে সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি প্রত্যয়ন পত্র দেওয়া হয়েছে। সামর্থ্যবান সকলকে এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করছি। একটি সম্ভাবনাময় জীবন ও ৫ সদস্যের পরিবারটিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে জিয়ারুলের স্বজনরা সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে আর্থিক সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন। সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম (বিকাশ ও নগদ) ০১৭৭০৮৫৩২১১ (রেজাউল করিম – রোগীর ছোট ভাই)


আপনার মতামত লিখুন
Array