খুঁজুন
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ই-পেপার |
ads

ধর্ষণকারীদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০২৫, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
ধর্ষণকারীদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন।

ধর্ষণকারীদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন।

 

কামাল উদ্দিন জয় কক্সবাজার প্রতিনিধি।

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ উখিয়া উপজেলা শাখা এবং উখিয়া উপজেলা ছাত্র জনতার যৌথ উদ্যোগ ধর্ষণকারীর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে মানববন্ধন উখিয়া শহীদ প্রঙ্গান থেকে উপজেলা গেইট পর্যন্ত মশা’ল মিছিল হয়।
এখন এ থেকে বের হয়ে আসতে ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং জন সাধারণের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সিনিয়র সভাপতি ও উখিয়া ছাত্র জনতার পক্ষ থেকে ফারুক আল ফারাবী বলেন, বর্তমানে যা চলতেছে তাতে নিজেকে পুরুষ হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জা লাগছে। এ সময়ে ধর্ষণের মতো ঘটনা মনে হয় আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগকেও হার মানাবে। এই ধর্ষকদের জনসম্মুখে শাস্তি দিতে হবে। কোনো ধর্ষণকারীর জায়গা এই বাংলার মাটিতে হবে না। তার পাশাপাশি মা, বোনদের পর্দা’র প্রতি আরও সচেতন হতে হবে। এবং আমাদের উখিয়া’র শান্তি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলেই। ২৪ই শে জুলাই আগস্টের মতো উখিয়া’র ছাত্র সমাজ এ-ই ধূসর কে বাংলা’র জমিন থেকে আবার ও বিতাড়িত করতে বাধ্য হবে।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র অধিকার পরিষদ উখিয়া উপজেলার ,সাধারণ সম্পাদক, শাহ ইকবাল। সাংগঠনিক সম্পাদক- মোঃ- ইসমাঈল,। ছাত্র জনতা পক্ষ থেকে উপস্থিতি ছিলেন, সাঈদ মোবারক,সাগর চৌধুরী, তানহা,ঊর্মি আক্তার, মোঃ- আয়াছ ও অসংখ্য ছাত্র প্রতিনিধি।

উখিয়ায় পৃথক মামলায় ৩ আসামি গ্রেফতার, আদালতে সোপর্দ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
উখিয়ায় পৃথক মামলায় ৩ আসামি গ্রেফতার, আদালতে সোপর্দ

উখিয়ায় পৃথক মামলায় ৩ আসামি গ্রেফতার, আদালতে সোপর্দ

কামাল উদ্দিন জয় কক্সবাজার প্রতিনিধি

 

কক্সবাজারের উখিয়া থানা পুলিশের অভিযানে পৃথক মামলায় তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে একজন সিআর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, একজন নিয়মিত মামলার আসামি এবং একজন রিমান্ড শেষে আসামি রয়েছেন।

 

উখিয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬) থানার পুলিশের পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতার তিন আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

 

থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারদের মধ্যে সিআর ওয়ারেন্টের একজন আসামি, নিয়মিত মামলার একজন আসামি এবং রিমান্ড শেষে একজন আসামি রয়েছেন। সর্বমোট তিনজনকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে উখিয়া থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ভাত দেওয়ার মুরোদ নেই, কিল মারার গোঁসাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অসম্মানী ভাতা ও জামানতের জুলুম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
ভাত দেওয়ার মুরোদ নেই, কিল মারার গোঁসাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অসম্মানী ভাতা ও জামানতের জুলুম

ভাত দেওয়ার মুরোদ নেই, কিল মারার গোঁসাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অসম্মানী ভাতা ও জামানতের জুলুম

এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী:

 

গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো তৃণমূল পর্যায়। একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের চাবিকাঠি নিহিত থাকে তার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার ওপর। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা কিংবা সিটি কর্পোরেশন—এই স্তরগুলো সরাসরি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা এক চরম বৈপরীত্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের দীর্ঘদিনের দাবি—সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে, নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথকে সংকুচিত করতে প্রার্থীর জামানতের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি বাংলা প্রবাদের সেই রূঢ় সত্যকেই স্মরণ করিয়ে দেয়—‘ভাত দেওয়ার মুরোদ নেই, কিল মারার গোঁসাই’। অর্থাৎ, অধিকার বা সুযোগ দেওয়ার যোগ্যতা ও সদিচ্ছা না থাকলেও, দায়িত্ব চাপানো এবং শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে কর্তাব্যক্তিদের উৎসাহের কোনো কমতি নেই।

 

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং পৌরসভার মাঠপর্যায়ে দিনরাত কাজ করা এই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যে মাসিক সুযোগ-সুবিধা বা সম্মানী দেওয়া হয়, তা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য এবং এক প্রকার ‘অসম্মানী’র শামিল। অথচ রাষ্ট্রে মন্ত্রী, এমপি, রাষ্ট্রপতি এবং সরকারি আমলাদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা প্রতিনিয়ত আকাশচুম্বী করা হচ্ছে। এই চরম প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।

 

স্থানীয় সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের বাস্তব অবস্থা

 

একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য হলেন গ্রামীণ জনপদের প্রধান ভরসাস্থল। গভীর রাতে কোনো বাড়িতে চুরি হলে, পারিবারিক সহিংসতা ঘটলে কিংবা আকস্মিক দুর্যোগ দেখা দিলে গ্রামবাসী সবার আগে মেম্বার-চেয়ারম্যানের দরজায় কড়া নাড়ে। সরকারি ত্রাণ বিতরণ, রাস্তাঘাট সংস্কার, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, সালিশ-বিচার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সব মৌলিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব পালন করেন এই জনপ্রতিনিধিরা।

 

অথচ, এই বিপুল দায়িত্বের বিপরীতে তাদের যে আর্থিক সম্মানী দেওয়া হয়, তা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় চরম প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। একজন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) মাসে যে সামান্য সরকারি ভাতা পান, তা দিয়ে বর্তমান যুগে একটি সাধারণ পরিবারের কয়েক দিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচও মেটানো সম্ভব নয়। সম্মানী ভাতার এই ঘাটতির কারণে অনেক সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি মাঠপর্যায়ে রাজনীতিতে আসতে দ্বিধাবোধ করেন। অথচ রাষ্ট্র তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ব্যাপারে বরাবরই উদাসীন।

 

সম্মানী বৃদ্ধির উদাসীনতা বনাম অর্থনৈতিক বাস্তবতা

 

বিগত বছরগুলোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন স্কেল কয়েক গুণ বেড়েছে। দফায় দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে তাদের মহার্ঘ ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে এই চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। তাদের সম্মানী বাড়ানোর ফাইল আমলাতান্ত্রিক জটিলতার লাল ফিতায় বন্দি হয়ে থাকে।

 

বর্তমান বাজারে যেখানে চাল, ডাল, তেলসহ প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, সেখানে একজন জনপ্রতিনিধিকে নামমাত্র সম্মানীতে ২৪ ঘণ্টা জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকতে বাধ্য করা এক ধরনের রাষ্ট্রীয় শোষণ। সম্মানীর এই অপ্রতুলতার কারণে অনেক সময় জনপ্রতিনিধিদের পরোক্ষভাবে দুর্নীতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। রাষ্ট্র যখন তাদের জীবনযাত্রার ন্যূনতম ব্যয় নির্বাহের ব্যবস্থা করে না, তখন ‘ভাত দেওয়ার মুরোদ নেই’—এই বাক্যটিই চরমভাবে সত্য হয়ে ওঠে।

 

জামানত বৃদ্ধির প্রস্তাব: নির্বাচনী ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণ

 

জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কোনো নামগন্ধ না থাকলেও, নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের টাকা এক লাফে কয়েক গুণ বৃদ্ধির প্রস্তাব বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। যুক্তি দেওয়া হয়, নির্বাচনে ‘অপেশাদার’ বা ‘অপ্রয়োজনীয়’ প্রার্থীর সংখ্যা কমাতেই এই পদক্ষেপ। কিন্তু এটি আসলে একটি অগণতান্ত্রিক এবং বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত।

 

জামানত বৃদ্ধির এই প্রবণতা তৃণমূলের রাজনীতিকে সম্পূর্ণভাবে বিত্তশালীদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাবে। গ্রামীণ জনপদে অনেক সৎ, ত্যাগী এবং জনগণের প্রিয় সমাজসেবক রয়েছেন, যাদের আর্থিক সচ্ছলতা নেই কিন্তু মানুষের জন্য কাজ করার প্রবল সদিচ্ছা রয়েছে। জামানতের অঙ্ক আকাশচুম্বী হলে এই সৎ মানুষগুলো নির্বাচনের মাঠে নামার সাহসই পাবেন না। ফলে স্থানীয় নির্বাচনগুলো কেবল কোটিপতি, কালো টাকার মালিক এবং পেশিশক্তিধারীদের একচেটিয়া খেলার মাঠে পরিণত হবে।

 

‘কিল মারার গোঁসাই’ মানসিকতার প্রতিফলন

 

সুযোগ-সুবিধা না বাড়িয়ে কেবল কড়াকড়ি আর আর্থিক বোঝা চাপানোর এই নীতিই হলো ‘কিল মারার গোঁসাই’ মানসিকতা। রাষ্ট্র জনপ্রতিনিধিদের কাজের মূল্যায়ন করবে না, তাদের সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দেবে না, কিন্তু তাদের ওপর নিয়মের বেড়াজাল আর খরচের বোঝা ঠিকই চাপিয়ে দেবে।

 

যদি কোনো প্রার্থীকে নির্বাচনে দাঁড়াতেই বিপুল অঙ্কের টাকা জামানত দিতে হয়, তবে নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রধান লক্ষ্যই থাকবে যেকোনো উপায়ে সেই নির্বাচনী খরচ এবং জামানতের টাকা সুদে-আসলে উসুল করা। এর ফলে গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতি আরও জ্যামিতিক হারে বাড়বে। টিআর, কাবিখা, বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতার কার্ড বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও ঘুষের লেনদেন আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে। কর্তারা আইন করে জামানত বাড়াচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু এর পরোক্ষ চাবুকটি গিয়ে পড়বে সাধারণ জনগণের পিঠেই।

 

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয়

 

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো সমতা। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার এবং নির্বাচিত হওয়ার সমান অধিকার রয়েছে। জামানত বৃদ্ধির এই প্রস্তাব মূলত দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত রাজনৈতিক কর্মীদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে ছিটকে ফেলার এক সুক্ষ্ম চক্রান্ত। এটি দেশের সংবিধান নির্দেশিত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। যখন অর্থই যোগ্যতার প্রধান মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেখানে গণতন্ত্রের বদলে ‘ধনিকতন্ত্র’ বা ‘প্লুটোক্রেসি’ প্রতিষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় এই ধনিকতন্ত্রের প্রবেশ ঘটলে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যাবে।

 

করণীয় ও উত্তরণের পথ

 

এই আত্মঘাতী নীতি থেকে সরে এসে রাষ্ট্রকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও কল্যাণমুখী নীতি গ্রহণ করতে হবে:

 

১. সম্মানী পুনর্বিন্যাস: বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সংগতি রেখে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী ভাতা সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে।

 

২. জামানত যৌক্তিকীকরণ: জামানতের পরিমাণ এমন পর্যায়ে রাখতে হবে যেন কোনো সৎ ও যোগ্য নাগরিক আর্থিক অনটনের কারণে প্রার্থী হওয়া থেকে বঞ্চিত না হন।

 

৩. কাঠামোগত সংস্কার: স্থানীয় সরকারকে সত্যিকারের স্বাধীন ও স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা নিজস্ব আয়ের উৎস তৈরি করতে পারে এবং আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতা কমে।

 

৪. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের কাজের কঠোর তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

 

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে জনপ্রতিনিধিদের পেটে খিদে রেখে তাদের কাছ থেকে সততা আশা করা বোকামি। ‘ভাত দেওয়ার মুরোদ’ না দেখিয়ে কেবল ‘কিল মারার’ নীতি গ্রহণ করলে তৃণমূলের রাজনীতিতে সৎ মানুষের আকাল দেখা দেবে। কালো টাকা আর পেশিশক্তির দাপটে সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থলটুকু ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই সুশাসনের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকারকে এই বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। জামানত বৃদ্ধির জুলুম বন্ধ করে জনপ্রতিনিধিদের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক হওয়াই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

 

আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনগণের ভোটাধিকার ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকবে। তাই সাধারণ মানুষের স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামানত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য নির্বাচন কমিশন ও সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের উত্থাপিত দাবিসমূহ দ্রুত বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

লেখক: মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব, সিনিয়র সহ-সভাপতি বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটি ও চেয়ারম্যান পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ, উখিয়া, কক্সবাজার।

রাজকীয় আয়োজনের অনন্য ঠিকানা আইসিসিবিতে বসছে এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাজকীয় আয়োজনের অনন্য ঠিকানা আইসিসিবিতে বসছে এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার

রাজকীয় আয়োজনের অনন্য ঠিকানা আইসিসিবিতে বসছে এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার

নিউজ ডেস্ক

 

দেশ-বিদেশ ভ্রমণের নানা আয়োজন, পর্যটন পণ্য ও সেবার প্রদর্শনী এবং পর্যটন বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে রাজধানীর বুকে শুরু হতে যাচ্ছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (এটিএফ)। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা বসবে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড ও ৩০০ ফুট সড়কসংলগ্ন সুবিশাল ও নান্দনিক ভেন্যু ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি)।

 

আধুনিক স্থাপত্য, সুবিশাল পরিসর, উন্নত অবকাঠামো, পর্যাপ্ত পার্কিং এবং একই কমপ্লেক্সে নানা ধরনের আয়োজনের সুযোগ- সব মিলিয়ে রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ভেন্যু হিসেবে ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে আইসিসিবি। আর সেই আভিজাত্যপূর্ণ আয়োজনের মঞ্চেই এবার দেশের পর্যটন খাতের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার।

 

তিন দিনব্যাপী মেলাটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে।

 

রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝেও প্রশস্ততা, আধুনিকতা ও আভিজাত্যের এক অনন্য সমন্বয় আইসিসিবি। বড় আন্তর্জাতিক মেলা থেকে শুরু করে করপোরেট সেমিনার, বাণিজ্যিক প্রদর্শনী, পণ্য মেলা, কনসার্ট, পর্যটন মেলা, বিয়ের অনুষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন- বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য এখানে রয়েছে একাধিক হল, উন্মুক্ত স্থান এবং প্রয়োজনীয় নানা সুবিধা।

 

একই কমপ্লেক্সে এত বড় পরিসরে বিচিত্র ধরনের আয়োজনের সুযোগ রাজধানীতে খুবই বিরল। বিশাল হল, খোলা মাঠ, রেস্টুরেন্ট, মসজিদ, পার্কিং সুবিধা ও সুবিন্যস্ত প্রবেশপথ—সবকিছু মিলিয়ে আইসিসিবি কেবল একটি কনভেনশন সেন্টার নয়; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ইভেন্ট ডেস্টিনেশন।

 

বিপুলসংখ্যক অতিথি ও দর্শনার্থীর গাড়ি পার্কিংয়ের সুযোগও আইসিসিবির অন্যতম বড় সুবিধা। বড় কোনো আয়োজনের ক্ষেত্রে যাতায়াত ও পার্কিং ব্যবস্থাপনায় এই সুবিধা আয়োজক ও দর্শনার্থী—উভয়ের জন্যই বাড়তি স্বস্তি তৈরি করে।

 

এখানে রয়েছে হেরিটেজ রেস্টুরেন্ট, বড় উন্মুক্ত মাঠ, মসজিদসহ নানা সুবিধা। ফলে কোনো আয়োজনকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটতে হয় না। একই কমপ্লেক্সে খাবার, নামাজ, প্রদর্শনী, অনুষ্ঠান ও বিনোদনের সুযোগ থাকায় পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় ও আকর্ষণীয়।

 

বড় আয়োজনের জন্য একাধিক হল

 

অনুষ্ঠানের ধরন, অতিথির সংখ্যা এবং আয়োজকদের প্রয়োজন বিবেচনায় আইসিসিবিতে রয়েছে বিভিন্ন আকারের একাধিক হল। বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে শুরু করে তুলনামূলক ছোট করপোরেট বা সামাজিক অনুষ্ঠান- প্রায় সব ধরনের আয়োজনের জন্যই রয়েছে উপযোগী পরিসর।

 

হল-১-এ প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনের আসনব্যবস্থা রয়েছে। হল-২ ও হল-৩-এ প্রায় ১ হাজার ৬০০ জন করে এবং হল-৪-এ প্রায় ৩ হাজার ২০০ জনের ধারণক্ষমতা রয়েছে। হল-৫-এ প্রায় ৬০০ জন এবং হল-৬ বা এক্সপো জোনে প্রায় ১৫ হাজার লোকের অনুষ্ঠান করা যায়।

 

আয়োজনের ধরন অনুযায়ী এসব হলের ভাড়াও ভিন্ন। সাধারণ হিসাবে হল-১, হল-২ ও হল-৩-এর ভাড়া প্রায় ৪ লাখ টাকা করে; হল-৪-এর ভাড়া প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা, হল-৫-এর প্রায় ২ লাখ। তবে অনুষ্ঠান, সময় ও অন্যান্য সেবার ওপর ভিত্তি করে ভাড়ার পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।

 

আইসিসিবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর বিশাল পরিসরের এক্সপো সেন্টার । এখানে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের একসঙ্গে বসার ব্যবস্থা করা যায়। ফলে বৃহৎ কনসার্ট, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন, বড় করপোরেট অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের আয়োজনের জন্য এটি বিশেষভাবে উপযোগী।

 

বৃহৎ পরিসরের এই অবকাঠামোই আইসিসিবিকে রাজধানীর অন্যান্য ইভেন্ট ভেন্যু থেকে আলাদা করেছে। একই সঙ্গে একাধিক হল ব্যবহার করে বড় কোনো আন্তর্জাতিক আয়োজন পরিচালনার সক্ষমতাও রয়েছে এখানে।

 

এবার পর্যটনের আন্তর্জাতিক মিলনমেলা

 

এমন একটি বহুমুখী ও বৃহৎ পরিসরের ভেন্যুতেই এবার বসছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার। সোমবার রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পর্যটন বিচিত্রার সম্পাদক ও এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে এবারের মেলায় বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। আইসিসিবির তিনটি হলে প্রায় ৩০০টি বুথে নিজেদের পর্যটন পণ্য ও সেবা তুলে ধরবে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

 

মেলায় হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, এয়ারলাইনস, সরকারি-বেসরকারি পর্যটন প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি দূতাবাস ও মিশন অংশ নেবে। পর্যটন পণ্য ও সেবার প্রদর্শনীর পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার।

 

এবারের মেলায় বিশেষ আয়োজন হিসেবে থাকছে ‘ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ শোকেজ’, ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম শোকেজ’ এবং ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট শোকেজ’। পাশাপাশি থাকছে বিটুবি সেশন, সেমিনার, ডেস্টিনেশন প্রেজেন্টেশন, প্যানেল আলোচনা, প্রোডাক্ট প্রমোশন ও নেটওয়ার্কিংয়ের আয়োজন।

 

প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ, নেপাল ও ফিলিপাইনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হবে।

 

এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল বলেন, ‘এটিএফ ২০২৬ দেশি-বিদেশি পর্যটন অংশীজনদের মধ্যে ব্যবসায়িক সংযোগ, পর্যটন পণ্যের প্রচার এবং বাংলাদেশে পর্যটন বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

 

প্রধান অতিথি মো. সামীমুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে এ ধরনের আন্তর্জাতিক মেলা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটিএফ বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে সহায়ক হবে।

 

তিনি আরও বলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় মেলাটির অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন মেলায় সার্বিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ করবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মালদ্বীপ ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিসহ মেলার বিভিন্ন অংশীদার ও স্পনসর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

 

দেশ-বিদেশের পর্যটন প্রতিষ্ঠান, এয়ারলাইনস, হোটেল, রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এবারের এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার শুধু পর্যটন পণ্য প্রদর্শনের আয়োজন নয়; এটি একই সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, বিনিয়োগ, পর্যটন প্রচার ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম।

 

আর এত বড় আয়োজনের জন্য আইসিসিবির মতো সুবিশাল ও বহুমুখী ভেন্যু বেছে নেওয়া আয়োজনের ব্যাপ্তিকেই তুলে ধরে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, বিশাল পার্কিং, একাধিক হল, উন্মুক্ত স্থান, খাবার ও অন্যান্য সুবিধা—সবকিছু মিলিয়ে আইসিসিবি বড় আয়োজনকে শুধু ধারণই করে না, বরং সেটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতায় রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

 

প্রতিবছর দেশি-বিদেশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলা, বাণিজ্যিক প্রদর্শনী, করপোরেট অনুষ্ঠান, সেমিনার ও সম্মেলনের আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে আইসিসিবি। পর্যটন মেলাসহ নানা থিমভিত্তিক মেলা ও প্রদর্শনীও এখানে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে, বিশেষ করে শুক্রবার, এখানে গাড়ির হাটও বসে—যা ভেন্যুটির বহুমুখী ব্যবহারের আরেকটি দৃষ্টান্ত।

 

সব মিলিয়ে রাজধানীর বুকে আইসিসিবি যেন আয়োজনের এক বিশাল জগৎ—যেখানে আধুনিক স্থাপত্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রশস্ততা, আভিজাত্য, প্রযুক্তিনির্ভর সুবিধা ও বহুমাত্রিক ব্যবহারের সুযোগ। আর সেই রাজকীয় আয়োজনের ঠিকানাতেই আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিনের জন্য মিলিত হবে দেশ-বিদেশের পর্যটনশিল্পের অংশীজনেরা।